আজঃ বুধবার ২১ জানুয়ারি, ২০২৬

কিডনি চিকিৎসা সহজলভ্য করতে হবে:চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, দেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, অথচ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। চিকিৎসার ব্যয়ভার অধিকাংশ মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।তাই কিডনি চিকিৎসা সহজলভ্য করতে হলে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, কিডনি রোগের চিকিৎসায় অন্যতম প্রধান উপায় হলো ডায়ালাইসিস। কিন্তু চট্টগ্রামের মতো বড় শহরেও ডায়ালাইসিস সেন্টারের সংখ্যা সীমিত। এতে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং অনেকে সময়মতো চিকিৎসা পান না। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চায়, তাই আমরা চাই নগরীতে ডায়ালাইসিস সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হোক। তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে কম খরচে বা বিনামূল্যে ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও এ বিষয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

কিডনি রোগের অন্যতম কারণ সম্পর্কে সচেতনতার অভাবের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, শুরুতে এই রোগ ধরা না পড়লে পরবর্তীতে এটি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তাই কিডনি রোগের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষকে কিডনি রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে জানাতে হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত পানি পান করার গুরুত্ব বোঝাতে হবে। শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, শুধু কিডনি রোগ নয়, অন্যান্য জটিল রোগের চিকিৎসা সহজলভ্য করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। চট্টগ্রামে একটি অত্যাধুনিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে কিডনি রোগীদের জন্য বিশেষ সেবা নিশ্চিত করা হবে।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কিডনী রোগ বিভাগ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বৃহস্পতিবার বিশ্ব কিডনী দিবস ‘২০২৫ পালিত হয়েছে। এবারের কিডনী দিবসের প্রতিপাদ্য ’আপনার কিডনী কি সুস্থ? দ্রুত শনাক্ত করুন, কিডনী স্বাস্থ্য সুরক্ষা করুন।’
বিশ্ব কিডনী দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত কর্মচারীদের প্রাথমিক কিডনী রোগ সনাক্তকরন বিষয়ক সপ্তাহ ব্যাপী কর্মসূচী আগামী ১২ থেকে ১৭ এপ্রিল নেফ্রোলজি বিভাগে আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়াও কিডনী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বৈজ্ঞানিক সেমিনার, আলোচনা সভা, রেলি, হাসপাতালে আগত রোগী ও স্বজনদের মাঝে সচেতনতা মূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। আলোচনা সভা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের নতুন একাডেমিক ভবনের নিচতলায় কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়। কিডনী রোগ বিভাগ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা মো নুরুল হুদার সভাপতিত্বে উক্ত সেমিনারে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ ওমর ফারুক ইউসুফ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও কিডনী রোগ বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ইমরান বিন ইউনুস, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের

পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন ,চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ আব্দুর রব, চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা এম এ কাসেম, অধ্যাপক ডাঃ এ এম এম এহতেশামুল হক, ইউরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ কাজী মোঃ মনোয়ারুল করিম বাবর। আলোচনার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডাঃ মোঃ ফয়েজুর রহমান।

সেমিনারে এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেন ডা রোসান্না বিনতে কামাল। কিডনী রোগ বিভাগের বিগত বছরের কার্যক্রমগুলো তুলে ধরা ও পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা মেরিনা আরজুমান্দ।
সভাশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ মাহতাবুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নেফ্রোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শফিউল হায়দার রুশনী ও ডাঃ রফিকুল হাসান। নেফ্রোলজি বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ ইমরান বিন ইউনুস চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন থেকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হওয়ায় নেফ্রোলজি বিভাগের পক্ষ থেকে উনাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

সেমিনারে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত সকল শিক্ষক ও চিকিৎসকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সেমিনার শেষে রোগী ও সাধারণ জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বেলুন উড়িয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন। শোভাযাত্রা নতুন একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে গোলচত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পুরো অনুষ্ঠানে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন ডাঃ মোহাম্মদ আবদুল কাদের, ডাঃ জাহেদ উদ্দিন। উল্লেখ্য প্রতি বছর বিশ্বব্যাপি কিডনী রোগ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মার্চ মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার বিশ্ব কিডনী দিবস পালিত হয়ে থাকে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শাকসু নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদ ও অবিলম্বে নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা

‘শাকসু নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না’ , ‘হারার ভয়ে খেলে না, সেই কথা তো বলে না’, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান, শাকসু ব্যান’, ‘মব করে শাকসু, বন্ধ করা যাবে না’, ‘শাকসু আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’- এসব স্লোগান দেয়।

বিক্ষোবের সময় চবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম রনি বলেন, শাকসু নির্বাচন কয়েক দফা পেছালেও আজ একটি সুন্দর নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি ছাত্রসংগঠনের কারণে হাজারো শিক্ষার্থী এ নির্বাচনের উৎসব থেকে বঞ্চিত হল। ১৯৯০-৯১ সালেও তারা দায়িত্ব নিয়ে বিশ্ববিদ্যলয় ছাত্রসংসদগুলোর নির্বাচন বন্ধ করেছিল, এখন আবার একই চেষ্টা করছে। তারা সবচেয়ে বেশি ভয় পায় ছাত্রসংসদকে। নির্বাচন বন্ধ করতে যা করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সবার প্রতিবাদ করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের সঙ্গে আমাদের আন্দোলনের অতীত ইতিহাস আছে। তারা একসময় আমাদের সঙ্গে ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর তারা টেন্ডারবাজিতে জড়িয়েছে। আপনারা রাজনীতি করতে পারেন, কিন্তু কোনো সন্ত্রাসী বা স্বৈরাচারী শক্তিকে ক্যাম্পাসে জায়গা দিতে পারবেন না।

চবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, ৫ আগস্টের পর আমরা যে ত্যাগ স্বীকার করেছি, তা ছিল আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য। কিন্তু ছাত্রদল ও বিএনপি আবার পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যাচ্ছে। আমরা ভেবেছিলাম তারা অপরাজনীতির পথে যাবে না, অথচ সুযোগ পেলেই চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও হামলায় জড়াচ্ছে।

তাদের অন্তর্কোন্দলে দুই শতাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্ন হলো কারা আবার আওয়ামী সন্ত্রাসীদের রেজিম ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে ? প্রাতিষ্ঠানিক খুনের রাজনীতি তারাই শুরু করেছে। ডাকসুতে পরাজয়ের পর লজ্জা থাকলে তাদের ক্যাম্পাস ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তারা অপরাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। এ সময় তিনি অবিলম্বে শাকসু নির্বাচনের দাবি জানান।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এনসিপি চার সদস্যদের প্রতিনিধি দল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যদের প্রতিনিধি দল।১৯ জানুয়ারী সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এতে অংশ নেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা।

এসময় সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন উদ্বেগ জানান এনসিপি নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, গণভোটে “হ্যাঁ” এর পক্ষে এনসিপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা প্রচারণা করছেন।

এনসিপির নেতৃবৃন্দ নির্বাচন সম্পর্কিত কয়েকটি বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং নির্বাচনে যেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয় সে ব্যাপারে সরকারকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন সম্পর্কিত যেকোনো অভিযোগ ও পরামর্শ তাৎক্ষণিকভাবে সরকারকে জানাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে যে ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যায়, সরকার তা নেবে। কেউ যেন আইন অমান্য না করতে পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আলোচিত খবর

গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে প্রধান উপদেষ্টা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Oplus_131072

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গণভবনে তৈরি করা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

Oplus_131072

রাজনৈতিক দলের নেতা ও সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টাদের নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন তিনি।


রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা ও সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ ঘুরে দেখেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
ছবি: পিআইডি

আরও পড়ুন

সর্বশেষ