নৌকা ছাড়া কেউ এজেন্ট দিতে পারবে না’ আমতলী পৌর মেয়র।

বরগুনা প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চিরুনি অভিযান চালানো হবে। অন্য দলের কেউ কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পারবে না, ভোট দিতেও পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বরগুনায় আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আমতলী পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান। আওয়ামী লীগ নেতা মতিয়ার রহমানের ৩ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের এই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় তালতলীর গোডাউন সংলগ্ন কল বাড়িতে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বরগুনা-১ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুসহ জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজবি-উল কবির জোমাদ্দার। অতিথি হিসেবে না থাকলেও এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সফর সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত হয়ে সভায় বক্তব্য রাখেন আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিয়ার রহমান।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমতলী-তালতলী আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। চিরুনি অভিযান চালাব, যে চিরুনি অভিযানের মধ্য দিয়ে ওরা কোনো এজেন্ট দিতে পারবে না, ভোট তো দূরের কথা। খেলা শুরু করব ১৮ তারিখের পরে। খেলা শুরু করব। স্বতন্ত্রের নাম ভুলে গিয়ে ওরা বলবে শেখ হাসিনা, নৌকা, বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু।

মতিয়ার রহমান বক্তব্যে আরও বলেন, ‘উপজেলা কমিটি, পৌর কমিটি, ইউনিয়ন কমিটি, এমনকি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সেক্রেটারি; একজনও যদি নৌকার বিরুদ্ধে যেতে পারে তবে আমরা নির্বাচন থেকে সরে যাব।

বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের জৈষ্ঠ্য যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘মতিয়ার রহমানের এমন মন্তব্যের কারণে নির্বাচন কমিশন কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভোটাররা কেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়া নিয়ে শংকা তৈরি হবে।

বরগুনা-১ আসনের আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম সরোয়ার ফোরকান বলেন, ‘অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে কেন্দ্র এবার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। একইসঙ্গে নৌকার মনোনয়ন যারা পেয়েছেন, তাদের জনপ্রিয়তা যাচাইও হবে এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। কিন্ত দলীয় বর্ধিতসভায় মতিয়ার রহমান যে বক্তব্য রেখেছেন, এটা এক প্রকার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ও সাধারণ ভোটারদের হুমকি দেওয়া। তার এমন বক্তব্য কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও পেশিশক্তি প্রদর্শনের সামিল।

এ বিষয়ে জানতে বরগুনা আমতলী উপজলো আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিয়ার রহমানের মুঠোফোনে বলেন, ‘এজেন্ট দিতে পারবে না এটা আমি বলেছি। আমি বোঝাতে চেয়েছি, আমাদের দলীয় কেউ স্বতন্ত্রের এজেন্ট হতে পারবে না।

চিরুনি অভিযান প্রসঙ্গে মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমাদের দলের কেউ স্বতন্ত্রের পক্ষে কাজ করে কি-না সেটা জানতে চিরুনি অভিযান চালাব বলেছি।’ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের এজেন্ট খুঁজে পাবে না— এমন মন্তব্যের বিষয় তিনি বলেন, ‘যাদের সমর্থন নেই, তারা এজেন্ট তো খুঁজেই পাবে না।

বরগুনার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভাইরাল ভিডিও আমাদের নজরে এসেছে। তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীতে বিস্ফোরণে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে কনফিডেন্স লবণ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুর নবী (২৫) নামে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ জনে।

রবিবার (১৯ জুলাই) রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।নিহত নুর নবী বোয়ালখালী উপজেলার চরখিজিরপুর এলাকার সাতগড়িয়া পাড়ার নুরুচ্ছফার ছেলে। তিনি এক বছর চার মাস বয়সী এক পুত্র সন্তানের জনক।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই কনফিডেন্স লবণ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কয়েকজন চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বোয়ালখালীর আহলা-কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের মানুষের সেবা করার সুযোগ চান মো. কাউসার ফারুক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মী মো. কাউসার ফারুক স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচনে ১০ নং আহলা-কড়লডেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে জনগণের সমর্থন,ভালবাসা ও দোয়া চেয়েছেন।
মো. কাউসার ফারুক মরহুম হাবিবুর রহমান সওদাগরের পুত্র। তাঁর পিতা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সদস্য এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একজন সৈনিক ছিলেন।

তিনি জানান, ১৯৮৮ সালে ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি ছাত্র ইউনিয়ন বোয়ালখালী থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি এবং কানুনগোপাড়া স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৩ সালে তিনি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরবর্তীকালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে সাধারণ মানুষের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করেন।

রাজনীতির পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি আহলা সমাজ কল্যাণ সংস্থার সহ-সভাপতি, আল কোরআন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক, বোয়ালখালী ফোরাম, চট্টগ্রাম-এর সহ-সভাপতি, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং আহলা চাইল্ড কেয়ার একাডেমি পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষামূলক ও শিশুকিশোর সংগঠনের মাধ্যমে মানবকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সামাজিক উদ্যোগে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বোয়ালখালী উপজেলা ও ১০ নং আহলা-কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছেন।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জনগণের সমর্থন প্রত্যাশা করে মো. কাউসার ফারুক বলেন,আমি বিশ্বাস করি, জনপ্রতিনিধি হওয়া মানে ক্ষমতা নয়, বরং মানুষের সেবার দায়িত্ব গ্রহণ করা। জনগণ যদি আমাকে তাদের সেবার সুযোগ দেন, তাহলে একটি দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, শিক্ষাবান্ধব ও মানবিক ইউনিয়ন গড়ে তোলার জন্য সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে কাজ করব।”

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে সমান উন্নয়ন, যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থরক্ষা এবং আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গঠনে তিনি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান।

সবশেষে তিনি আহলা-কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের দোয়া, ভালোবাসা ও মূল্যবান সমর্থন কামনা করেন এবং বলেন, “আমি প্রতিশ্রুতি নয়, কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চাই। আপনাদের সমর্থনই হবে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও উন্নত ইউনিয়ন গড়ার শক্তি।

আলোচিত খবর

নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন ৩১ জুলাই পর্যন্ত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাচ্ছেন নিবন্ধিত না হওয়া নাগরিকরা। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন গ্রহণ করা হবে। ইসি জানিয়েছে, ২০০৮ সালের ৩১ জুলাই বা তার আগে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে তালিকাটি প্রদর্শন করা হবে। তালিকায় নাম বাদ পড়া বা তথ্যগত ভুল থাকলে সংশ্লিষ্টরা ২৪ আগস্ট পর্যন্ত নতুন অন্তর্ভুক্তি বা তথ্য সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। সব আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১০ আগস্ট খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর আপত্তি গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই শেষে ২৭ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রশিদ মিয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে আগস্টের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

বর্তমানে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন

আরও পড়ুন

সর্বশেষ