দেড়দশক পর মহাজোটের গ্যাঁড়াকলমুক্ত হয়েছে কুলাউড়া।

তিমির বনিক মৌলভীবাজার:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রায় দেড়দশক পরে মহাজোটের গ্যাঁড়াকলমুক্ত হয়েছে মৌলভীবাজার-২ সংসদীয় আসন। দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে এসেছেন হেভিওয়েট প্রার্থী আ’লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। তাই বিভক্তির কিংবা মনস্তাত্বিক দ্বন্ধ ভুলে নৌকার প্রশ্নে একত্র হয়েছে কুলাউড়া উপজেলা আ’লীগ। একের পর এক বর্ধিত কর্মী সভায় নিজেদের ঐক্যমতের জানান দিচ্ছেন উপজেলা ও ইউনিয়ন আ’লীগের নেতৃবৃন্দ। যা কুলাউড়া উপজেলা আ’লীগে একটি বিরল ঘটনা।

দীর্ঘদিন পর নিজ দলীয় প্রার্থী পেয়ে নেতা কর্মীরা মরুর পানি তৃপ্তির মতো আনন্দিত ও উৎসাহিত। আ’লীগ ছাড়াও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা কমীর্দের মতে, ২২ বছর পর নিজ দলীয় নেতার হাতে দলীয় প্রতীক নৌকা এসেছে। এই সুযোগ তারা হাত ছাড়া করতে চান না। তাই স্বতন্ত্রের ঘাটিতে সিঁধ কাটছেন তারা।

অন্য দিকে ইমেজ সষ্কট আর বারবার দল পরিবর্তনসহ নানা ঘটনায় ভোটের মাঠে জায়গা করে নিতে অনেকটা বেগ পেতে হচ্ছে নৌকার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীদের। আর ক্লিন ইমেজ নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন নৌকার প্রার্থী শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। আর এতে বিপাকে পড়েছেন শাহীন-সলমানসহ অন্যান্য প্রার্থীরা।

মৌলভীজার-২ সংসদীয় আসন কুলাউড়া ঘুরে দেখা যায়, দ্বাদশ নিবার্চনের জন্য নৌকার প্রার্থী শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের বিজয় নিশ্চিত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলা আ’লীগের নেতৃবৃন্দ। সাথে সরকারের উন্নয়নের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে কাজ করছে আ’লীগের অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

অন্য দিকে এ আসনে কেন্দ্রের মনোনীত প্রার্থীকে তৃণমূল গ্রহণ করে না, যদি তাদের প্রার্থী পছন্দ না হয়। এমন সমীকরনের দোলাচলে বিগত প্রায় ৩০ বছর। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। সাধারণ ভোটারদের কাছে আ’লীগের দলীয়প্রতীক নৌকার চেয়ে ‘ব্যাক্তি নাদেল’এর গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে বেশি।

শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ছাত্রলীগের রাজনীতি করে ধীরে ধীরে উঠে এসেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে। ১৯৮৬ সালে তিনি সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি হন। পরবর্তীতে সিলেট সরকারি কলেজ এবং এমসি কলেজে লেখাপড়াকালীন ছাত্রলীগের রাজনীতি করেন তিনি। পরে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হন। ১৯৯৩ সালে তিনি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৯৭ সালে হন সভাপতি। এরপর সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগে শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হন নাদেল। ২০০৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের পর তিনি সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কৌলায়।

এম এম শাহীন জাসদ থেকে একসময় বিএনপি নেতা। তারপর দলটির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। পরে বিএনপি’র চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া তাকে পুন:রায় দলে ফিরিয়ে নেন। কিন্তু ওয়ান ইলেভেন এর সময় তিনি যোগ দেন ঐ সময়ের কিংস পার্টি খ্যাত পিডিপিতে। আবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিকল্পধারা বাংলাদেশে যোগ দিয়ে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে কুলাউড়ায় নির্বাচন করে পরাজিত হন। এবার দ্বাদশ নিবার্চনে এ আসনে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন এম এম শাহীন।

বিএনপি থেকে মহাজোটে যোগ দেওয়া এই নেতা বিএনপির মনোনয়নে একবার ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে তিনবার এবং সর্বশেষ মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। এর মধ্যে দু’বার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এলাকায় নানা কারণে আলোচিত এম এ শাহীন একসময় জেলা বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন।

নিজ বাড়িতে এক মতবিনিময় সভায় তৃণমূল বিএনপির মনোনয়ন ফরম ছিঁড়ে টুকরা টুকরা করেন এম এম শাহীন। তখন নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘যে দলের মা নেই, বাপ নেই, ঠিকানা নেই…সেই দলে আমি যেতে চাইনি। কুলাউড়ার মানুষের স্বার্থে সেই দলের হয়ে নির্বাচন করতে চেয়েছিলাম। যেহেতু আপনারা সেটি চাননি, তাই আমি তৃণমূল বিএনপির মনোনয়ন ফরম ছিঁড়ে ফেললাম। আমি আর নির্বাচন করব না।’ যদিও পরদিন তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন।

আব্দুল মতিন: সাবেক এ সংসদ সদস্য বহুবার দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে নিবার্চন করেছেন। দ্বাদশ নিবার্চনে দলীয় মনোনয়ন চাননি তিনি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন তিনি। যদিও বয়সের ভারে নুহ্য মাঠেও নিষ্ক্রিয়।

শফি আহমদ সলমান: জাসদের রাজনীতি দিয়ে শুরু, পরে যোগদেন আ’ লীগে। সুবিধা বুঝে ২০১৬ সালে কুলাউড়া পৌর নিবার্চনে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়ে সৃষ্টি করেন বির্তক। পরাজিত হয়ে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রেনুকে পেঠানোর ঘটনায় বহিষ্কৃত হন দল থেকে। পরে নানা কৌশলে দলে ভিড়ে ২০১৯ সালের উপজেলা নিবার্চনে হন বিদ্রোহী প্রার্থী। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আবারও করা হয় দল থেকে বহিষ্কার। চেয়ারম্যান নিবার্চিত হয়ে ইউনিয়নে আ’লীগের নামে ‘সলমান বলয় আ’লীগ’ কমিটি গঠন শুরু করেন। এতে দেখা দেয় নানা বিশৃঙ্খলা। পরে ক্ষমা চেয়ে দলে ফিরে এলে উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি করা হয়। এবার দ্বাদশ নিবার্চনে আ’লীগের মনোনয়ন চান তিনি। না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধীতার ঘোষণা দেন।

মৌলভীবাজার-২ আসনে আ’লীগের প্রার্থী শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলসহ মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী এম এম শাহীন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল মতিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদত্যাগ করা কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এ কে এম সফি আহমদ সলমান জাতীয় পার্টির মাহবুবুল আলম ওরফে শামীম ও মো. আবদুল মালিক, ইসলামী ঐক্যজোটের আসলাম হোসাইন রহমানী, বিকল্পধারা বাংলাদেশের মো. কামরুজ্জামান, ইসলামী ঐক্যফ্রন্টের আবদুল মোত্তাকীন তামিম ও এনামুল হক মাহতাব এবং জাসদের প্রার্থী বদরুল হোসেন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৪৭২ জন।

কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগে বর্ধিতকর্মী সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে অদম্য রাব্বির গল্প পা দিয়ে লিখে এইচএসসিতে জিপিএ-৫

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিগত ১০ বছর আগে স্কুলে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় দু হাত হারানো রফিকুল ইসলাম রাব্বি সকল স্বাভাবিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাফল্য অর্জন করতে প্রস্তুত ছিলেন। এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি। বিশেষ করে পড়ালেখার প্রতি অদম্য ইচ্ছে ও অধ্যবসায় রাব্বিকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের সিঁড়িতে। দুই হাত না থাকার পরও তিনি দমে যাননি।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা মো. রাব্বি। দুই ভাইয়ের এক বোন। তার বোন রোকেয়া আকতারও এবার ভাটিয়ারী বিজয় সরনী কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। বোনও পাস করেছেন। তবে ফলাফলে তিনি রাব্বির চেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন। রাব্বির সাফল্যে খুশি পরিবার ও প্রতিবেশী।
চলতি বছর চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে চট্টগ্রাম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন রাব্বি।। এর আগে এসএসসিতেও একইভাবে পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন তিনি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথ আটকে রাখতে পারেনি।

জানা গেছে, রাব্বির পথচলা এত সহজ ছিল না। ২০১৬ সালে স্কুলে যাওয়ার সময় এক দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। তার দুই হাত কেটে ফেলতে হয়। তখন রাব্বি পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তেন। এর পরও দমে যাননি তিনি। পা দিয়ে লেখা অনুশীলন করতে থাকেন। একসময় তা রপ্ত করেন। এরপর পুনরায় স্কুলে যাওয়া শুরু করেন। এর মধ্যে কয়েকবছর নষ্ট হয় তার। তবুও ২০২৪ সালে এসএসসিতে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন রাব্বি। তখন পাড়া প্রতিবেশী বুঝতে পারেন রাব্বি হেরে যাওয়ার পাত্র নন।

পা দিয়ে লিখে এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন রাব্বি। তার অসাধারণ সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলের মানুষ তার পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন। কেউ পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, কেউ আবার নানা সহযোগিতার কথা জানান। তবে দুঃখজনকভাবে, সেই প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই বাস্তবে রূপ নেয়নি।

অভাব-অনটনের সংসারে রাব্বির এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে পরিবারের নিরলস সংগ্রাম। তার বাবা বজলুর রহমান ও মা দুজনেই দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করে সংসার চালান। সীমিত আয়ের মধ্যেও ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন তারা।তবে এই কঠিন পথচলায় কয়েকজন মানুষের সহযোগিতা রাব্বির জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) গবেষক ও চিকিৎসক ফেরদৌস কাদেরী ব্যক্তিগত উদ্যোগে তার পড়াশোনার ব্যয় বহন করে আসছেন। অন্যদিকে স্থানীয় শিক্ষক মো. ওসমান বিনা পারিশ্রমিকে তাকে কোচিং করিয়ে সহযোগিতা করছেন। ভবিষ্যৎ নিয়ে রাব্বির স্বপ্ন আরও বড়। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বিজ্ঞানী হতে চান তিনি।

২২ বছর পিছিয়ে গেল চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড, কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে উচ্চমাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে। এই বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থ। গতবার পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭। জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬ হাজার ৯৭ জন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণার সময় এ তথ্য জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আব্দুল মান্নান, সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন প্রমুখ।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেন। সব মিলিয়ে এবার পরীক্ষার্থী ছিলেন ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগরে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ। আর নগর বাদে জেলায় পাসের হার ৪৫ দশমিক ৫৯। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে রাঙামাটিতে পাসের হার ৩৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। খাগড়াছড়িতে ২৯ দশমিক ৮৫ ও বান্দরবানে ৪১ দশমিক ৪২। অন্যদিকে কক্সবাজার জেলায় পাসের হার ৪৩ দশমিক ৩৪।বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৪২। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫৪ দশমিক ১৪ ও মানবিকে ৩৮ দশমিক ৩১।

এদিকে গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে। গত ২২ বছরের মধ্যে এটিই বোর্ডটির সর্বনিম্ন পাসের হার। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় অর্ধেকের বেশি কমেছে।
বোর্ডের সংরক্ষিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এরপর ২০০৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৫ দশমিক ৫ শতাংশ। গত ২২ বছরে পাসের হার আর এত নিচে নামেনি। এমনকি করোনা-পরবর্তী ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৮০ দশমিক ৫০ শতাংশ।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী ছিলেন ৯৯ হাজার ৮৭৯ জন। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন। পাস করেছেন ৫০ হাজার ১৬৬ জন।পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে এবারও ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৪ হাজার ৬৭১ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছেন ২৯ হাজার ৮২২ জন। তাদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অন্যদিকে, ৪১ হাজার ৬৬৪ ছাত্রের মধ্যে পাস করেছেন ২০ হাজার ৩৪৪ জন। তাদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ।

এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৯৭ জন। ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১০ হাজার ২৬৯ জন। অর্থাৎ, দুই বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি থেকে কমে ৩ হাজারের নিচে নেমেছে। এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ১ হাজার ৫৯৬ জন এবং ছাত্র ১ হাজার ৩৩৩ জন।
এবার বোর্ডের অধীন ২৮৩টি কলেজের মধ্যে তিনটি কলেজের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। গত বছর এমন কলেজের সংখ্যা ছিল পাঁচটি। অন্যদিকে, শতভাগ পাস করেছে মাত্র ছয়টি কলেজ। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল আটটি এবং ২০২৪ সালে ১৩টি।এ ছাড়া এবার এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ২২ হাজার ১১৪ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার হয়েছেন ২৭ জন।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ