তিস্তার ধূ-ধূ বালুচরে রবিশস্য চাষে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন।

মো: আনোয়ার ডিমলা নিলফামারী প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নীলফামারী ও লালমনিরহাট দুই জেলায় প্রবাহিত তিস্তা নদীর ধু-ধু বালুচরে এখন সবুজের হাসি। যতদূর চোখ যায় সবুজ আর সবুজ। আর এ চকচকে বালুতে রবিশস্য চাষ করে রঙিন স্বপ্ন দেখছেন তিস্তা পাড়ের কৃষকরা।নীলফামারীর ডিমলা ও তৎসংলগ্ন জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা গেছে, তিস্তা নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা হাজার হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের রবি শস্য চাষ করা হচ্ছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের সাথে নুড়ি পাথর, কাকনযুক্ত বালি ও মাটি বয়ে আসায় দ্রুত তিস্তার তলদেশ ভরাট হয়ে গিয়ে অসংখ্য চর জেগে উঠেছে। বালুর সাথে পলি মাটির স্তর পড়ে এসব চরকে আবাদী করে তুলছে তিস্তা পারের মানুষ । পলি মিশ্রিত এসব চরে ভুট্টা, কাউন, মিষ্টি কুমড়া, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, বরবটি, মিষ্টি আলু, বাদাম, করলা, বেগুন, পুঁই শাক, লাউ শাক সহ বিভিন্ন রবিশস্য চাষের ধুম পড়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এসব চরে রবিশস্য চাষে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা। আর তাই যতদুর চোখ যায় এসব চরাঞ্চল শুধু সবুজ আর সবুজ।চরঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জনা গেছে, গত বর্ষা মৌসুমে তিস্তার চরে আমন ধান চাষ হয়নি। আমনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এলাকার কৃষকেরা তিস্তার চরে বিভিন্ন ধরনের রবিশস্য চাষ করেছেন ।ডিমলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের চর এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম ও হাফিজুল ইসলাম জানান, ধান, গম আবাদ করলে যে লাভ হয়, তার চেয়ে দ্বিগুণ লাভ হয় রবিশস্যে। বিশেষ করে ভুট্টা চাষ করে বেশি লাভ হয়ে। প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৪৫ মণ পর্যন্ত ভুট্টা হয়। যার মূল্য প্রায় ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা। আর ব্যয় হয় বিঘা প্রতি ১০-১২ হাজার টাকা। ভুট্টা ঘরে তোলার সময় পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সব ভুট্টা চাষি বেশ লাভবান হবেন।গোলমুন্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর বেড়ি বাঁধ এলাকার কৃষক আমিনুর রহমান জানান, আগে তিস্তার চরাঞ্চলের জমিগুলো পতিত ছিল। অন্য ফসলের আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় এসব জমিতে ফসল ফলানো হয়নি। এখন আধুনিক পদ্ধতিতে এসব চরে বিভিন্ন ফসল চাষ করা হচ্ছে। এতে ভালো ফলন এবং দামও পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।এ উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চল গুলোতে এ বছর রবিশস্যের ব্যাপক চাষ হয়েছে। পরিবেশ অনুকূলে থাকায় প্রতিটি চরাঞ্চলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। জলঢাকা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি এবং ডিমলাউপজেলার ৫টি ইউনিয়ন তিস্তা চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের চরের জমিতে বিভিন্ন প্রকার রবি শস্যের চাষ করেছেন। রবি শস্যকে ঘিরে নদী গর্ভে নিঃস্ব হওয়া হাজার হাজার মানুষ এখন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে। তিস্তার নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় জেগে উঠা ছোট বড় চরগুলোয় নিঃস্ব হওয়া পরিবারগুলো বাঁচার তাগিদে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছে ধুধু বালু চাষে। আর এসব চরে কৃষকেরা এখন রবি শস্য চাষ করে জীবিকার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছেন। এক্ষেত্রে এসব চাষীদের বিনামূল্যে সার-বীজ দিয়ে সহায়তাও করা হয়েছে। গত বন্যায় আমন ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় যে সমস্ত জমি পতিত ছিল সেগুলোতে আগাম জাতের রবিশস্য চাষ করতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হয়েছে।জলঢাকা উপজেলা কৃষি অফিসার সুমন আহমেদ এবং ডিমলা উপজেলার কৃষি অফিসার সেকেন্দার আলী জানিয়েছে, তিস্তার বুক চিরে জেগে ওঠা চরগুলোতে পলি মিশ্রিত মাটি থাকায় এগুলোতে পেয়াজ, রসুন, ভুট্টা, কাউন, মিষ্টি কুমড়া, বাদাম, মিষ্টি আলুর ফলন বেশ ভালো হয় তাই কৃষকরা এসব ফসল চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কম খরচে অধিক ফলন পাওয়ায় এবং লাভজনক হওয়ায় ভুট্টা আবাদের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন কৃষকরা

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পুরোনো শেড সংস্কার এবং আধুনিক ফিড মিল স্থাপন করা হলে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী আঞ্চলিক মুরগি খামারটি জনবল সংকটে ধুঁকছে। নগরীর আঞ্চলিক সরকারী এ মুরগী খামারে কম দামে ভালো মানের ডিম ও বাচ্চা কিনতে খামারি এবং সাধারণ মানুষের ভিড় থাকলেও অবকাঠামো ও জনবল সংকটে খামারের উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। নব্বইয়ের দশকে তৈরি মুরগির শেডগুলো এখন জরাজীর্ণ, চলছে জোড়াতালি দিয়ে। ১৯৯১ সালে বসানো ফিড মিলটিও পুরোনো হয়ে পড়েছে। বাজারে এখন অনেক অত্যাধুনিক ফিড মিল এলেও তিন দশকের পুরোনো মিল দিয়েই কাজ চালাতে হচ্ছে। তার ওপর রয়েছে জনবল সংকট। হ্যাচারি অ্যাটেনডেন্টের দুটি পদের দুটিই শূন্য। ফিড মিল অ্যাটেনডেন্টের তিনটি পদের মধ্যে একটি শূন্য। বাধ্য হয়ে একজন ট্রাক সহকারী অন্যের কাজ দেখে শিখেই ফিড মিলে কাজ চালাচ্ছেন।

তবে সংকটের মধ্যেও সীমিত সামর্থ্যে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন খামার কর্তৃপক্ষ। খামারে প্রতিটি মুরগি থেকে বছরে ১৮০টি করে মোট আট লাখ ১০ হাজার ডিম এবং সাড়ে তিন লাখ থেকে চার লাখ একদিনের বাচ্চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকে।

গত তিন অর্থবছরের হিসাবে দেখা যায়, খামারে উৎপাদন ও রাজস্ব আয় বেড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খামারে তিন লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৮টি বাচ্চা এবং পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার ৮৪০টি ডিম উৎপাদন হয়। পরের বছর (২০২৪-২৫) তা বেড়ে দাঁড়ায় তিন লাখ ৭৮ হাজার ৮৩১টি বাচ্চা ও ছয় লাখ ১৫ হাজার ১১৫টি ডিমে। আর সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চার লাখ সাত হাজার ৩২২টি বাচ্চা এবং ৮ লাখ ১৮ হাজার ২৭৩টি ডিম উৎপাদিত হয়েছে। উৎপাদন বাড়ায় সরকারের রাজস্ব আয়ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ৭৪ লাখ ৯৪ হাজার ৮৯৩ টাকা থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮৭ লাখ ১৫ হাজার ৯৫৫ টাকায় এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯৯ লাখ ৫৯ হাজার ৩৪৮ টাকায় পৌঁছেছে।

এর আগে প্রান্তিক খামারিদের সুবিধার্থে সরকারি ভর্তুকিতে সাশ্রয়ী মূল্যে ডিম ও একদিনের বাচ্চা সরবরাহের লক্ষ্যে ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নগরীর খুলশী আঞ্চলিক মুরগি খামার। মানসম্মত ডিম ও বাচ্চা দিয়ে ক্ষুদ্র খামারিদের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি বছরে প্রায় কোটি টাকা রাজস্ব আয় করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও জরাজীর্ণ অবকাঠামো, পুরোনো ফিড মিল ও জনবল সংকটে বর্তমানে ধুঁকছে সরকারি এই খামার। এতে স্থানীয় ক্ষুদ্র খামারিদের চাহিদার সিকিভাগও মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। দেশে সরকারি পর্যায়ে ঢাকার মিরপুরে একটি কেন্দ্রীয় মুরগির খামার রয়েছে।

আর আঞ্চলিক খামার আছে মাত্র দুটি-তা হলো চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে। খুলশীর এ আঞ্চলিক খামারে মিসরীয় ‘ফাওমি’ এবং আমেরিকান ‘রোড আইল্যান্ড রেড’ (আরআইআর) জাতের মুরগির একদিনের বাচ্চা উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে বাজারে ফাওমি জাতের মুরগির চাহিদা বেশি। খামারে উৎপাদিত বাচ্চা সীতাকুণ্ড, নোয়াখালী, কুমিল্লা, সিলেট ও রাঙামাটির সরকারি মুরগির খামারে সরবরাহ করা হয়। সেখানে দুই মাস পালনের পর সেগুলো ক্ষুদ্র খামারিদের কাছে বিক্রি করা হয়। সরকারি খামারগুলোতে দেওয়ার পর যেসব বাচ্চা বাকি থাকে, তা প্রতি রবিবার খুলশী আঞ্চলিক মুরগী খামার থেকে সরাসরি ক্ষুদ্র খামারিদের কাছে বিক্রি করা হয়। আর বাচ্চা ফোটানোর পর উদ্বৃত্ত ডিম প্রতি সপ্তাহের সোমবার সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করা হয়। একদিনের বাচ্চা নেয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আবেদন ফরমে আবেদন করতে হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে এই খামারে চার হাজার ৫০০টি লেয়ার মুরগি আছে। এর মধ্যে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার ২০০ মুরগি ডিম দেয়। বাজারদরের চেয়ে অর্ধেক দামে, মাত্র ৮ টাকা পিস হিসেবে এখানে ডিম বিক্রি হয়। অন্যদিকে, একদিনের প্রতিটি মুরগির বাচ্চার দাম বছরের নয় মাস রাখা হয় ১৫ টাকা। তবে শীতকালে (নভেম্বর থেকে জানুয়ারি) মুরগির চাহিদা ও উৎপাদন দুটোই কম থাকায় তখন বাচ্চার দাম রাখা হয় ১২ টাকা।

আঞ্চলিক মুরগি খামারের উপ-পরিচালক ডা. সৈয়দ মোহাম্মদ ওয়ারেস কামাল জানান, ক্ষুদ্র খামারিদের ডিম ও একদিনের বাচ্চার যে বিপুল চাহিদা রয়েছে, তার সিকিভাগও তারা পূরণ করতে পারছেন না। তিনি বলেন, খামারে জনবল সংকট প্রকট। বর্তমানে যারা শেড অনুযায়ী টেকনিক্যাল কাজগুলো করছেন, তারা আগামী ছয় মাসের মধ্যে অবসরে চলে যাবেন। নতুন করে জনবল নিয়োগ না হলে খামার চালানোই কঠিন হয়ে যাবে। তার মতে, দ্রুত শূন্য পদে জনবল নিয়োগ, পুরোনো শেড সংস্কার এবং আধুনিক ফিড মিল স্থাপন করা হলে খুলশীর এই সরকারি খামারের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।

দিনাজপুরে রাতের আঁধারে ৬ শত শিমগাছ কেটে ফেলেছে দুবৃত্তরা, কৃষক হাফিজুলের মাথায় হাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে রাতের আঁধারে এক কৃষকের প্রায় ৬শত শিমগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এতে আনুমানিক ৩ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হাফিজুল ইসলাম (৫০)। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার ৭ নম্বর দাউদপুর ইউনিয়নের মালদহ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে, এনিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হাফিজুল ইসলাম জানান, তিনি অনেক আশা নিয়ে ২৫ শতাংশ জমিতে ৬ শত শিমগাছ চাষ করেছিলেন। ফসল ফলানো পর্যন্ত তাঁর প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। গাছগুলোতে ইতিমধ্যেই বেশ ভালো ফলন এসেছিল। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী শিমগুলো বাজারজাত করতে পারলে প্রায় ৩ লাখ টাকার মতো বিক্রি হতো। এই ফসল বিক্রি করে পরিবারের আর্থিক চাহিদা মেটানোর স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। কিন্তু এক রাতেই কে বা কারা তাঁর সেই স্বপ্ন ও দীর্ঘদিনের হাড়ভাঙা পরিশ্রম কেটে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা শরিয়ত ইসলাম বলেন,একজন কৃষক অনেক কষ্ট ও পরিশ্রম করে মাঠে ফসল ফলান। রাতের আঁধারে এভাবে ফলন্ত গাছ কেটে ফেলা অত্যন্ত বর্বরোচিত ও দুঃখজনক। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানাই। অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা রাহেনা বেগম বলেন,কৃষকের ফসলই তাঁর আয়ের একমাত্র উৎস। এমন অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস জানান, উপজেলার মালদহ গ্রামে কৃষক হাফিজুল ইসলামের শিমগাছ কেটে ফেলার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলোচিত খবর

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে – জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন-দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রত্যেককে একে একে জবাব দেওয়া হবে। আজ ৭ নভেম্বর শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত শোভাযাত্রার আগে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর দেশের মানুষ মুক্তভাবে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের সুযোগ পেয়েছে। তবে দেশের বিরুদ্ধে আবারও একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অতীতের মতো এবারও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এ দেশের মানুষকে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা যাবেনা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল। স্বাধীনতার পেছনে মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। তারা সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রাখা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের সূচনা হয়। তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মেনে নিতে না পারা একটি মহল বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বারবার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আবারও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়েও জনগণের সেই অধিকার বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে অপশক্তিকে পরাজিত করেছে।তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলন শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, একই সঙ্গে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী শক্তিকেও দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের আন্দোলন ও অর্জন থামিয়ে রাখা যাবে না।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো আবারও একটি মহল দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বাধাগ্রস্ত করতে চায়। একই সঙ্গে জনগণের ভোটের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনা প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে জানে।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জাতীয় ঐক্যের ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব একে একে দেওয়া হবে। কোনো শক্তিই বাংলাদেশের মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ