চট্টগ্রাম:

ভাঙ্গারীর দোকানে হ্যান্ডকাফ কাটাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক।

চট্টগ্রাম অফিস:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভাঙ্গারীর দোকানে হ্যান্ডকাফ কাটাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক যুবককে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে তিনি কোন থানায় আটক হয়েছিলেন, হ্যান্ডকাফ পরে কোথায় থেকে তিনি হালিশহর এলাকায় এসেছিলেন তা জানতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনার রহস্য’ উদঘাটনে ব্যর্থ হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারায় আদালতে চালান করে।
চট্টগ্রামে হ্যান্ডকাফ কাটাতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা তরুণ
প্রসঙ্গত, গতকাল রাত পৌনে ৮টার দিকে নগরীর হালিশহর থানার বড়পোল সিএসডি গোডাউন রাস্তার মাথা থেকে একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. মনিরকে (২৫) আটক করেন।
হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় একটি ভাঙ্গারি দোকানের সামনে হ্যান্ডকাফ পরে ঘোরাফেরা করছিলেন মনির। আশেপাশের দোকানিদের সন্দেহ হলে তারা স্থানীয় ট্রাফিক সার্জেন্ট সুখেন দেবকে বিষয়টি জানান। ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে আটক করে হালিশহর থানায় খবর দেন। মনির জানান, তিনি হ্যান্ডকাফ কাটাতে গিয়েছিলেন। মনিরের বাড়ি বাগেরহাট জেলার সদর থানায়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) নিহাদ আদনান তাইয়ান বলেন, ‘মনিরের বিরুদ্ধে বাগেরহাটে দুটি চুরির মামলা রয়েছে এবং দুটি মামলায় তিনি জামিনে আছেন বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। কারা তাকে হাতকড়া পরিয়ে আটক করতে চেয়েছিল তা জানা যায়নি।
আমরা তাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি কিন্তু কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। তাই হাতকড়াটি জব্দ করে আমরা তাকে ১৫৪ ধারায় আদালতে চালান করেছি, বলেন তাইয়ান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মনির জানিয়েছেন, তিনি কিছু দিন আগে বাগেরহাট থেকে চট্টগ্রামে এসেছেন। গতকাল সন্ধ্যায় পুলিশ তাকে চুরির অভিযোগে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় কৌশলে তিনি পালান।
উল্লেখ্য, পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), উপপরিদর্শক (এসআই) এবং পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের থানা ও পুলিশ লাইন্সের স্টোর থেকে হাতকড়া ইস্যু করা হয়। এছাড়া থানার টহল পুলিশ দায়িত্বে যাওয়ার সময় ব্যক্তির নাম ও নম্বরের বিপরীতে হাতকড়া ইস্যু করা হয়। পুলিশের হাতকড়ায় খোদাই করে ‘পুলিশ’ লেখা থাকে এবং বাংলাদেশ পুলিশের মনোগ্রাম থাকে। তবে মনিরের কাছে পাওয়া হাতকড়ায় তেমন ছিল না। সিএমপির দুই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন এমন এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘অনেকের কাছে পুরানো হ্যান্ডকাফ আছে। আগে ঢাকার পলওয়েল মার্কেটে গিয়ে যে কেউ হ্যান্ডকাফ কিনতে পারতো, তবে সেই চিত্র এখন নেই। তিন-চার বছর আগে পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছে। নতুন হাতকড়া দেখলে পুলিশের কি না বোঝা যায়। পুলিশ ছাড়াও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও হাতকড়া রয়েছে। হাতকড়াসহ যেহেতু আসামি পালিয়ে এসেছে, তাই অনেকে চাকরি হারানোর ভয়ে এখন অনেকেই তথ্য গোপন করতে চাইবে, বলেন তারা।
পুলিশ কর্মকর্তা আদনান নিশ্চিত করেছেন, এটি পুলিশের হাতকড়া না। তিনি বলেন, আমরা সিএমপির ১৬টি থানায় খবর নিয়েছি, তারা জানিয়েছে কোনো আসামি হাতকড়াসহ পালিয়ে যায়নি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আন্দোলনের মধ্যেই অবশেষে হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি চুক্তি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক গুরুত্বপূর্ণ নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) অবশেষে দুবাইভিত্তিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দিয়ে পরিচালনার চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকাল তিনটায় ঢাকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ অডিটরিয়ামে ডিপি ওয়ার্ল্ড ও ইনভেস্ট বাংলাদেশ এই চুক্তি স্বাক্ষর করবে। বন্দর শ্রমিকরা এর প্রতিবাদে আগে থেকেই ঘোষণা দিয়েছিল ‘চুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই বন্দর অচল করে দেওয়া হবে’। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে মশাল মিছিলের কর্মসূচি রেখেছে শ্রমিকরা।

সরকারি এই উদ্যোগের প্রতিক্রিয়া জানতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব ইব্রাহিম খোকন ফোনে সাড়া দেননি। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুও ফোনে সাড়া দেননি। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে খুব সীমিত আয়োজন করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। যেখানে অতিথি থাকবেন একশজন। ৩০ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে চট্টগ্রাম থেকে। বাকিরা ঢাকার। অনুষ্ঠানে দুপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করবেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান এশা কাজিম।

শ্র্রমিকদের দাবি, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রধান প্রবেশদ্বার। আমদানি-রপ্তানির বড় অংশ এই বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার আগে এর অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও সার্বভৌমত্বের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। পৃথিবীর কোথাও কোনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর শতভাগ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার নজির নেই। চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি। তাই এ নিয়ে অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত দেশের জন্য বড় সংকট তৈরি করতে পারে। এরজন্য সরকারকে চরম মাশুল দিতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরে জেটি সরকারকে ঘুষি মারার অভিযোগে তদন্ত কমিটি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের ৮ নম্বর ইয়ার্ডে গাড়ির পাস নিয়ে তর্কের জেরে এক জেটি সরকারকে ঘুষি মারার অভিযোগ উঠেছে বন্দরের এক চেকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বন্দরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি তদন্তে মঙ্গলবার(৬ অক্টোবর) তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ঘটনায় মো. আতিকুর রহমান (৪৫) নামে ওই জেটি সরকার আহত হয়েছেন।
তবে কী কারণে জেটি সরকার ও চেকারের মধ্যে গাড়ির পাস নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত এবং হামলার ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
আহত মো. আতিকুর রহমান সিএন্ডএফ এজেন্ট মেসার্স টক ট্রেডের জেটি সরকার। ঘটনার পর তাকে প্রথমে চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, সোমবার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে আতিকুর রহমান বন্দরের ৮ নম্বর ইয়ার্ডে যান। সেখানে বন্দরের নিম্নমান বহিঃসহকারী (জেআরওএ) বা চেকার জুয়েলের সঙ্গে গাড়ির পাস নিয়ে তার তর্ক-বিতর্ক হয়।
তিনি বলেন, একপর্যায়ে চেকার জুয়েল দে আতিকুর রহমানকে ঘুষি মারেন। এতে তার চোখের নিচে জখম হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্দরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ কেফায়েত হামিম বলেন, ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজার মুহাম্মদ আনিস উদ্দিন আহাম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি দুপক্ষের সঙ্গে মীমাংসা করা হয়েছে। একইসঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ