আজঃ বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ, ২০২৬

নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন: চসিক মেয়র

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নগরবাসীর জন্য নিরাপদ পানি ও কার্যকর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা এবং কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।চট্টগ্রামে আয়োজিত “ওয়াশ ফর আরবান পুওর” প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের ফেইজ আউট ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গত মঙ্গলবার তিনি এ কথা বলেন। ওয়াটারএইড বাংলাদেশের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় এবং দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)-এর বাস্তবায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পটি ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হয়ে চলতি বছরের মার্চ মাসে সমাপ্ত হচ্ছে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করার কারণে নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আমাদের একটি সমন্বিত সিস্টেম গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সিটি কর্পোরেশন, প্রশাসন, উন্নয়ন সংস্থা ও সাধারণ জনগণ সবাই একসাথে কাজ করবে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, নগরের স্টেডিয়াম এলাকায় এবং পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় নাগরিকদের জন্য টয়লেট নির্মিত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্ভব হচ্ছে।

এভাবে জনবহুল এলাকাগুলোতে টয়লেট নির্মাণ করা হলে মানুষ উপকৃত হবে এবং পরিবেশ উন্নত হবে।
মেয়র বলেন, নগরের জনসাধারণের সুবিধার্থে সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জনস্বাস্থ্যবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তুলছে। ইতোমধ্যে নগরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপন করা হয়েছে, যাতে মায়েরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে শিশুদের দুধ পান করাতে পারেন। কর্ণফুলী সেতুর পাশসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নগরের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে জনগণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়ন সংস্থা ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একসঙ্গে কাজ করলে নগরবাসীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা ও স্যানিটেশন সুবিধা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, নগরীর এখনও অনেক এলাকায় নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটিকে সচেতন হয়ে নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে হবে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করতে হবে। এমন গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা আয়োজনের জন্য তিনি ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও ডিএসকে কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।কর্মশালায় ওয়াটারএইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম লিড বাবুল বালা প্রকল্পের অর্জন ও কার্যক্রম নিয়ে একটি উপস্থাপনা প্রদান করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব আশরাফুল আমিন বলেন, ডিএসকে ও ওয়াটারএইডের কাজের গুণগত মান ও নান্দনিকতা দেখে বোঝা যায় প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। ভবিষ্যতে পাহাড়ি এলাকা বাদ দিয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কাজ করলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি উপকৃত হবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী বলেন, আজকের উপস্থাপনাটি অত্যন্ত তথ্যবহুল। সমাজে এখনও নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ব্যক্তি সচেতনতার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সিনিয়র আর্কিটেক্ট বলেন, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও ডিএসকে গত তিন বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কাজের গুণগত মান অত্যন্ত ভালো এবং ভবিষ্যতে নিজেদের কার্যক্রমে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ রয়েছে।

ডিএসকে ঢাকার ওয়াশ বিভাগের পরিচালক এম. এ. হাকিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক আরেফাতুল জান্নাত।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম ওয়াসা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সমাজসেবা অধিদপ্তর, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, থানা শিক্ষা অফিস, পুলিশ প্রশাসন, ফার্মেসি প্রতিনিধি, স্কুল ও মাদ্রাসা প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, সিবিও প্রতিনিধি, হাইজিন হকার এবং স্বেচ্ছাসেবকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের সানমারে দেশীয় কাপড় পাকিস্তানি বলে বিক্রি, জরিমানা গুনল দুই প্রতিষ্ঠান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর জিইসি মোড় এলাকার সানমার ওশান সিটিতে দুইটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।বুধবার দুপুরে এ অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ।

তিনি জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ চোখের লেন্স বিক্রয় এবং অনুমোদিত বিভিন্ন প্রসাধনী বিক্রির অপরাধে রেড আর্থকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশি কাপড়কে পাকিস্তানি বলে বিক্রি এবং যথাযথ ভাইচার উপস্থাপন করতে না পারায় অ্যাঞ্জেলিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সিএমপি’র বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন এস ড্রাইভ’-এ গ্রেফতার-৪৫

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সিএমপি’র বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন
এস ড্রাইভ’-এ গ্রেফতার-৪৫
ছবি-৬
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পরিচালিত বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন এস ড্রাইভ’-এ নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২ জনই ছিনতাইকারী বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া ৯ জন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, ৬ জন জুয়াড়ি, ৩ জন মাদক কারবারি এবং ২ জন চাঁদাবাজ রয়েছে। বুধবার দুপুরে সিএমপির জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার আমিনুর রশিদের পাঠানো তথ্যে এ বিষয়টি জানা যায়।

জানা গেছে, অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলভার, ৯টি তাজা গুলি, একটি পিস্তল, একটি কাঠের বাটযুক্ত এসএমজি, দুটি এসএমজি ম্যাগাজিন, ৫০টি তাজা গুলিসহ একটি প্লাস্টিকের বুলেট কেইস, একটি মোটরসাইকেল, ব্যাগ ও মোবাইল ফোন এবং ১৮৭ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

সহকারী পুলিশ কমিশনার আমিনুর রশিদ বলেন, নগরে ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, মাদক কারবার ও অন্যান্য অপরাধ দমনে নিয়মিতভাবে এস ড্রাইভের মতো বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর থেকে বুধবার (১১ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত শেষ ২৪ ঘণ্টায় নগরের বিভিন্ন থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

এরমধ্যে কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে ৩ জন, সদরঘাট থেকে ৩ জন, চকবাজার থেকে ১ জন, বাকলিয়া থেকে ১ জন, বায়েজিদ থেকে ২ জন, পাঁচলাইশ থেকে ৩ জন, চান্দগাঁও থেকে ৫ জন, পাহাড়তলী থেকে ৩ জন, আকবরশাহ থেকে ৫ জন, হালিশহর থেকে ৪ জন, ডবলমুরিং থেকে ৬ জন, বন্দর থেকে ২ জন, ইপিজেড থেকে ১ জন, পতেঙ্গা থেকে ৫ জন এবং কর্ণফুলী থানা এলাকা থেকে ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

চট্টগ্রাম বন্দরে ৬ জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস শুরু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরে ৬ জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস
শুরু
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম বন্দরে থাকা ৬টি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস শুরু হয়েছে। আরও ৪টি জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় রয়েছে।বুধবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।এসব জাহাজে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল ও শিল্পকারখানার কাঁচামাল রয়েছে।

চলতি সপ্তাহের মধ্যে আরো চারটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় এসে পৌঁছাবে। সব মিলিয়ে আগামী দেড় মাসের সব ধরনের জ্বালানি পাইপলাইনে রয়েছে। তাই দ্রুত সংকটের কোনো শঙ্কা নেই। তবে নাশকতার আশঙ্কা আছে। দেশি—বিদেশি নানান অপশক্তি সংকটের সুযোগে জ্বালানিবাহী জাহাজে নাশকতা চালাতে পারে— এমন শঙ্কা থেকে বহির্নোঙরে অবস্থান করা জাহাজগুলোর বিশেষ নিরাপত্তা চেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডকে এসব জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। কারণ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর চারটি জ্বালানিবাহী জাহাজে পরপর রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে সংকটের শঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিতে এমন নাশকতার চেষ্টা হতে পারে বলে ধারণা বন্দরের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ