আজঃ সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

স্বতন্ত্রে হেভিওয়েট রয়েছে

চাঁদপুরে কাল ৩০ জনের ভোটের লড়াই শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে।। নির্বাচনের মাত্র একদিন বাকি

এস আর শাহ আলম, চাঁদপুর :

৩০ জনের নির্বাচনী লভাই চাঁদপুরে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁদপুরে ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবারের লভাই হবে আাওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে। শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা, পথসভা ও উঠোন বৈঠকের মধ্যে দিয়ে সকল প্রচার প্রচারণা শেষ করলো চাঁদপুর জেলার ৩০ জন পদ প্রার্থী , আর এই ৩০ জনই ভোট যুদ্ধের লড়াই করবে, কিন্তু এদের মধ্যে ৫ জনকে বেছে নিবে জেলার ভোটাররা, ভোটারদের স্বপ্ন পূরণে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের বিজয় করে জনগণের দায়িত্ব দিবেন। এমনটাই জেলা বাসির ইচ্ছে ও প্রত্যাশা, তবে কাকে বিজয় করবে বা কোন প্রতিকে ভোট দিবে, তাহা এখনো ভোটারদের মুখে ফুটে আসেনি, তার পরও মাঠ জরিপে চাঁদপুর ৫ টি আসনেই নৌকার বিজয় নিশ্চিত করবে দলীয় নেতাকর্মী।

এদিকে গত কয়েক দিন নির্বাচন উৎসবমুখর এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে চাঁদপুর জেলা রিটার্নিং অফিস পুরোদমে কাজ করেছেন। এবং ভোটাররা নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে কেন্দ্রে যাওয়ার সকল উৎসাহিত করেছিলেন। ফলে ভোটাররাও নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি ভোটের মাঠে থাকা এমপি প্রার্থী এবং তাদের পক্ষের নেতা-কর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণার সাথে ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করতে নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলটির নেতা-কর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

অপরদিকে বিএনপি-জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনসহ বেশকিছু রাজনীতিক দল নির্বাচনে না থাকায় ভোটের এ উৎসবে কিছুটা ভাটা পড়েছে। নির্বাচন হবে এটি সবাই জানলেও ভোট দেয়ার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে নেই তেমন কোনো উৎসাহ ও আগ্রহ। সাধারণত নির্বাচনের সময় ভোটারদের কদর বারে এমনটাই বলেন অনেকে, আর ভোটের পরে প্রার্থীদের দরজায় দারিয়ে কড়া নারতে নারতে অস্হির হন জনগন, তাহা বলতেও কাল কৃপন করেননি।

চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে ৩০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন । গত কয়েক দিনে প্রার্থীদের প্রচারণায় ছড়িয়ে পড়েছে ভোটের উত্তাপ। তবে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থীদের নির্বাচনী গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণা সবচাইতে বেশি পরিলক্ষিত ছিলো,

স্বতন্ত্রসহ অন্য প্রার্থীদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার মতো শক্তি তেমনটা দেখেন নি সাধারণ ভোটারা। তারা এই নির্বাচনে চাঁদপুরের পাঁচটি আসনেই নৌকার বিপুল বিজয়ের সম্ভাবনা দেখছেন। এবারের সংসদ নির্বাচনে ৫টি আসনে ভোটযুদ্ধে অংশ নিয়েছে ৩০ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে নৌকার প্রতিপক্ষ হিসেবে বিভিন্ন দলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন নৌকা বঞ্চিত একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা।

ভোটের মাঠে তারা নৌকা, ঈগল, ট্রাক প্রতীক নিয়ে লড়ে আসছেন । পাশাপাশি আছেন লাঙ্গল, মিনার, গোলাপ ফুল, মোমবাতি, মশাল, ফুলের মালাসহ অন্য প্রতীকের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।

চাঁদপুর জেলা নির্বাচন অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ হালনাগাদ ভোটার তালিকায় জেলার ৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ৫৬ হাজার ৬০৯ জন। এদের প্রায় অর্ধেকই নারী ভোটার। এদের সংখ্যা ১০ লাখ ৪৪ হাজার ৩২ জন । পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ১২ হাজার ৫৭৭ জন।

চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে ভোটার সংখ্যা ৩লাখ ২৫ হাজার ৭শ’ ৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩শ’ ৩১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪শ’ ২৮জন।

চাঁদপুর-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। এ আসন থেকে তিনি তিনবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে এ আসনে এবার নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ। এ আসনে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মনোনীত মোঃ সেলিম প্রধান চেয়ার ও জাসদ মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম মশাল প্রতীক নিয়ে। তবে আওয়ামী লীগের ড. সেলিম মাহমুদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নেই এখানে। তাঁর বিজয়ী হওয়া অনেকটাই নিশ্চিত বলছেন স্থানীয়রা।

চাঁদপুর-২ (মতলব দক্ষিণ ও মতলব উত্তর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৭ হাজার ২শ’ ২৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬ শ’ ৩৪ জন এবং নারী ভোটার হচ্ছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫ শ’ ৯৪ জন। অতীতে এই আসন থেকে যে দলের প্রতিনিধি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দলই সরকার গঠন করেছে। রাজধানীর সন্নিকটে হওয়ায় এই আসনের গুরুত্ব বেশি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েট নেতা ও সরকারের আমলাদের জন্মস্থান এখানে। প্রায় সব সরকারের আমলে এই আসন মন্ত্রী পেয়েছে। তাই উন্নয়নও হয়েছে ব্যাপক। আগামী নির্বাচনেও তেমনটা চান তারা। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন এ আসনেরই সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সহ-সভাপতি অ্যাডঃ রুহুল আমিন রুহুল। তাঁকে এবার দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি।এখানে নৌকার প্রার্থী আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মায়া চৌধুরীর জয়ী হবার সম্ভাবনা বেশি। অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির এমরান হোসেন মিয়া (লাঙ্গল), সুপ্রিম পার্টির মোহাম্মদ মনির হোসেন বেপারী (একতারা), স্বতন্ত্র এম. ইসফাক আহসান (ঈগল) ও জাসদের মোহাম্মদ হাছান আলী শিকদার (মশাল)।

চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর-হাইমচর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৮ হাজার ৯ শ’ ৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৩ হাজার ৮ শ’ ৯৩ জন । নারী ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯ জন। চাঁদপুর-৩ আসনটি বিভিন্ন কারণে বেশ আলোচিত। আসনটিতে বর্তমান এমপি ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদের কন্যা, বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও নারী শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকও। জেলা সদর থেকে তিনি টানা তিনবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। চতুর্থবারের মতো এমপি হবার লাইম লাইটে আছেন তিনি। একটি পৌরসভা, ২ টি উপজেলা ও ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত আসনটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ২৬২ তম আসন। চাঁদপুর সদর উপজেলা ও হাইমচর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী এলাকা।

চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের ডাঃ দীপু মনির নৌকা মার্কার বিপরীতে ভোটে লড়ছেন একই দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া (ঈগল) ও মোঃ রেদওয়ান খান বোরহান (ট্রাক)। ভোটাররা বলছেন, মূলত এ তিন জনের মধ্যেই হবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হবার লড়াই।

অন্য দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট মোঃ মহসীন খান (লাঙ্গল), বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের আবু জাফর মোঃ মাঈনুদ্দিন (মোমবাতি), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মোঃ মিজানুর রহমান (ফুলের মালা) ও জাকের পার্টির মোঃ কাওছার মোল্লা (গোলাপ ফুল)।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ ) আসনটি ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৯ হাজার ১২৯ জন । পুরুষ ভোটার হচ্ছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৬৮ জন। নারী ভোটার হচ্ছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩ শ’ ৬১ জন। চাঁদপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ)। আসনটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা বলে জেলায় পরিচিত। ভোটার সংখ্যাও বেশি। দেশ স্বাধীনের পর থেকে এ আসনটি বেশিরভাগ সময় বিএনপির দখলে থাকলেও ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে আসনটি হাতছাড়া হয়ে আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। মূলত এ আসনটিতে রয়েছে বিএনপির বড় ভোট ব্যাংক। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূইয়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় প্রেসক্লাবের তৎকালীন সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ শফিকুর রহমান বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন হারুন-অর রশিদকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবারও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নৌকার প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে আওয়ামী লীগের সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমানের সঙ্গে হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া (ঈগল), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) ড. মোহাম্মদ শাহজাহান (নোঙ্গর), জাতীয় পার্টির সাজ্জাদ রশিদ (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র জালাল আহমেদ (ট্রাক), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আব্দুল গনি (আম), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী (ফুলের মালা) ও তৃণমূল বিএনপির মোঃ আব্দুল কাদের (সোনালী আঁশ)।

চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫ শ’ ৬১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার হচ্ছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯ শ’ ৫১ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬ শ’ ১০ জন। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে টানা তিনবারের এমপি মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম। এবারো দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর সাহসিকতার জন্যে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীর উত্তম খেতাব প্রদান করে। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন। তিনি বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগেরই শীর্ষ নেতা গাজী মোঃ মাঈনুদ্দিন (ঈগল), মোঃ শফিকুল আলম (ট্রাক), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ-এর সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী (চেয়ার), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী (ফুলের মালা), জাসদের মনির হোসেন মজুমদার (মশাল) ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের আক্তার হোসেন (ছড়ি)। এই আসনে নৌকার মেজর রফিকের সাথে স্বতন্ত্রসহ অন্য প্রার্থীরা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে চান।

উল্লেখ্য, চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে ৮ উপজেলায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৭ শতাধিক। চাঁদপুর-১ (কচুয়া)-১০৯ টি, চাঁদপুর-২ (মতলব দক্ষিণ ও উত্তরে)-১৫৫ টি, চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর ও হাইমচরে)-১৬৫টি, চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জে)-১১৮টি ও চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) ১৫৩টি । এই জেলায় ২০০৯, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব আসনেই নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্যরা। জেলার ৭টি পৌরসভা ও ৮৯টি ইউনিয়ন রয়েছে। পরিশেষে রাঁত শেষে আগামী কালকের দিনের আলোতেই, বিজয়ী ভাগ্যবানরা নির্বাচিত হবেন, তাই সেটা দেখার অপেক্ষায় কে হবেন চাঁদপুর জেলার ৫ জন কর্ণধার,

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি : আমীর খসরু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস না করা একমাত্র দল হলো বিএনপি। দেশের মানুষ চায় না কোনো বিদেশি শক্তি এ দেশ পরিচালনা করুক। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি সরকারি কলেজ মাঠে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অনেকে ভাবছেন আন্দোলন শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একমাত্র বিএনপিই সেই দল, যারা গণতন্ত্রের প্রশ্নে কখনো আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ভোটের মাধ্যমে জনগণকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের বার্তা দিতে হবে।

দেশের সার্বভৌমত্ব ও বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কোনো বিদেশি শক্তির বাংলাদেশকে পরিচালনা করার কোনো সুযোগ নেই। এটাই বাংলাদেশের মানুষ চায়। এ দেশের জনগণ তাদের নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই গড়তে চায়, বাইরের কোনো ইশারা বা হস্তক্ষেপে নয়।

দেশের ক্রান্তিলগ্নে বিএনপির ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশ যখনই কোনো ক্রান্তিলগ্ন পার করেছে, তখনই এ দেশের মানুষ একটি দলের ওপরই ভরসা রেখেছে। আর সেই দলটি হচ্ছে শহীদ জিয়ার হাতে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি।

তিনি দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সালাউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর ও নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী প্রমুখ।

চট্টগ্রাম ত্রিমুখী লড়াইয়ে জমবে আট আসন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইছে জোরেশোরে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসায় চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও পাঁচলাইশ ) আসনের প্রার্থীরা প্রতিদিন মধ্যরাত পর্যন্ত প্রচারণা চালাচ্ছেন।সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে বিভিন্ন দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা ভোটারদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন।

চট্টগ্রাম শহরের লাগোয়া অতি গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও পাঁচলাইশ )সংসদীয় আসনটি। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন। নগরীর পাঁচটি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৮ হাজার ৭৪২ জন। বোয়ালখালী উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯৪ জন। জয়-পরাজয়ের নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বোয়ালখালী উপজেলা। তাই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি নজর দিচ্ছেন বোয়ালখালী উপজেলায়।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন এরশাদ উল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ডা. মো: আবু নাছের,১১-দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির প্রার্থী শাপলা কলি প্রতীকে জোবাইরুল হাসান আরিফ,বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট বৃহত্তর সুন্নী জোটের প্রার্থী মোমবাতি প্রতীকে সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান, ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী আপেল প্রতীকে মোহাম্মদ এমদাদুল হক এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকে মোহাম্মদ নুরুল আলম ৬ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।ভোটার মতে, এই আসনে ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রচারণায় এই ৩ প্রার্থীই দৃশ্যত এগিয়ে।

বোয়ালখালীবাসী মনে করছেন এবারের নির্বাচনে ত্রিমুখী হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সংখ্যালঘু, নারী ও তরুণ ভোটাররা নির্বাচনের টার্নিং পয়েন্ট। এরাই ভোটের সব হিসাব নিকাশ পাল্টে দিবে। তাই বিএনপি, জামায়াত ও বৃহত্তর সুন্নি জোট প্রার্থী নানা কৌশল নিয়ে ভোট পরিচালনা করছেন।

ত্রিমুখী ভোটের লড়াইয়ে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবু নাছের মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় ব্যালটে ও ভোটের ময়দানে থাকছে ‘দাঁড়িপাল্লা’। দলীয়ভাবে এনসিপির প্রার্থী শাপলা কলি প্রতীকে জোবাইরুল হাসান আরিফকে সমর্থন দিলেও স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ আবু নাছেরের পক্ষে মিছিল-সমাবেশ ও মাইকিং অব্যাহত রেখেছে। নির্বাচনী মাঠে ধানের শীষ ও মোমবাতির সঙ্গে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে জনমতে।

বৃহত্তর সুন্নী জোটের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান নতুন কালুরঘাট সেতুর নির্মাণ এবং কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়ে আইটি ফার্ম করে যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি তরুণ ভোটারদের মন জয় করছেন।

অন্যদিকে, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে এরশাদ উল্লাহ, দীর্ঘদিনের দলীয় ত্যাগ ও সাংগঠনিক শক্তিকে পুঁজি করে এগোচ্ছেন নির্বাচনী মাঠে।তিনি নারীদের ‘ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।তিনি বোয়ালখালী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের নিজের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন।

১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দিলেন জামায়াত আমির ডা.শফিকুর রহমান।স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ দাঁড়িপাল্লা নিয়ে মিছিল-সমাবেশ ও মাইকিং নিয়ে মাঠে আছেন। স্থানীয় ছেলে হিসেবে নাছেরের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাই এই আসনটিকে ত্রিমুখী সমীকরণে ফেলে দিয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সভা-সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাদের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও বৃহত্তর সুন্নী জোট মনোনীত প্রার্থী বিরামহীনভাবে পথসভা, উঠান বৈঠক ও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিন প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের প্রচার–প্রচারণায় বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর যোগ্যতা, সক্ষমতাসহ সব বিষয় চিন্তা করে সাধারণ ভোটাররা যোগ্য ব্যক্তিকে তাদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবেন।

নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ভোটের মাঠে ততই উত্তাপ বাড়ছে। কৌশলগত কারণে প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে নানা বক্তব্য দিলেও নির্বাচনী মাঠে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় সাধারণ ভোটাররা খুশি। এলাকাবাসী ভোটের পরিবেশ শান্ত রেখে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে প্রার্থীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

আলোচিত খবর

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা সংক্রান্ত কোনো চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। রোববার ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান – ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষ থেকে কিছুটা সময় চাওয়া হয়েছে। তবে সরকারের হাতে এখন মাত্র দুইটি কার্যদিবস বাকি রয়েছে। এই সীমিত সময়ের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলেই বিষয়টি এ পর্যায়ে এগোচ্ছে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ