নির্বাচনী খবর চট্টগ্রাম:

আমার লোকের ওপর হাত দিলে হাত কেটে ফেলবো, বাঁশখালীর ওসিকে এমপি মোস্তাফিজ।

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নানা কারনে-অকারনে বিতর্কিত বহু অপকর্মের হুতা
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের আ.লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এবার পুলিশের হাত কেটে ফেলবেন বলে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি তোফায়েল কে হুমকি দিলেন।
একটি মুঠোফোন অডিও রেকর্ডে তাঁকে বলতে শোনা যায়, আমার কোনো লোকের ওপর যদি হাত দেয়, তাহলে হাত কেটে ফেলব কিন্তু, বলে দিলাম।

উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নে তাঁর লোককে ধরতে পুলিশ কেন পাঠানো হলো প্রশ্ন করে মুঠোফোনে হাত কেটে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। বুধবার সংসদ সদস্য ও ওসি তোফায়েল আহমেদের মধ্যে এই কথোপকথন হয় বলে স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বাঁশখালী থানার ওসি তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমানের ৩ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের কথোপকথনের অডিও রেকর্ডটি গতকাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই কথোপকথনে সরল ইউনিয়নে সংসদ সদস্যের বাড়িতেও কেন পুলিশ গেছে, তার কৈফিয়তও চাওয়া হয় ওসির কাছে। পাশাপাশি নৌকার অনুসারী চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরীকেও যেন গ্রেপ্তার করা না হয়, এই হুঁশিয়ারিও ওসিকে দেন সংসদ সদস্য। মুজিবুল হক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। গত বছর ইউপি নির্বাচনের প্রচারণার সময় ইভিএমে নিজে টিপ মেরে ভোট নিয়ে ফেলবেন বলে বিতর্কিত হয়েছিলেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে পেটানোর হুমকি দিয়ে আবার সমালোচিত হন।

সবশেষ কয়েক দিন আগে বাঁশখালীতে ভোটকেন্দ্রে ঈগলের কোনো এজেন্ট ঢুকতে দেবেন বলে বক্তব্য দেন প্রচারণার সময়। বাঁশখালী আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। এখানে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র হিসেবে মুজিবুর রহমান ও আবদুল্লাহ কবির প্রতিদ্বীতা করছেন। নৌকার সঙ্গে মুজিবুর রহমানের ঈগল প্রতীকের প্রতিদ্বীতা হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

প্রচারণার শুরু থেকে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় প্রতীদ্বী প্রার্থীর মামলা গ্রহণ করায় ওসি তোফায়েলকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। এই ঘটনায় ওসি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। এবার ওসিকে ফোনে পুলিশের হাত কেটে ফেলার হুমকি দেন নৌকার প্রার্থী মোস্তাফিজ।ওসির সঙ্গে মোস্তাফিজুরের মুঠোফোন কথোপকথন তুলে ধরা হল-

মোস্তাফিজুর : ছনুয়া ইউনিয়নে এসআই হাফিজ (হাফিজুর রহমান) কেন গেছে?
ওসি : সে তো ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত থেকে চলে আসছে।
মোস্তাফিজুর : কী জন্য গেছে?
ওসি : ওটা তো আমাদের নিয়মিত ডিউটি করার জন্য। প্রত্যেক ইউনিয়নে একটা করে টিম যায়।
মোস্তাফিজুর : আমার কোনো লোকের ওপর যদি হাত দেয়, তাহলে হাত কেটে ফেলব কিন্তু। বলে দিলাম।
ওসি : দেবে না স্যার, আমি বলে দিচ্ছি।
মোস্তাফিজুর : ওখানে নাকি আমাদের লোকজন ধরার জন্য হাফিজ গেছে। আমাদের আলমগীর একটা আছে, তাকে খুঁজছে।
ওসি : না না স্যার ও তো নেই, ও অনেক আগে চলে আসছে।
মোস্তাফিজুর : এমনি ঘুরে-ফিরে, থাক অসুবিধা নেই। কিন্তু আমার কোনো লোকের ওপর হাত দিলে অসুবিধা হবে।
ওসি : অবশ্যই স্যার, আপনি যেভাবে বলবেন।
মোস্তাফিজুর : আপনি তো আমার ঘরেও পুলিশ পাঠিয়েছেন।
ওসি : স্যার আপনার সঙ্গে তো আমি কথা বললাম সেদিন। পুলিশ পাঠাইনি। আপনার বাড়িতে তো এমনি পুলিশ নিয়মিত যায়। ওখানে আপনার সঙ্গে ডিটেইল কথা বলছি। আরও আপনার সম্মান বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করছি, এমপি সাহেবের বাড়িতে সাদা পোশাকে গেছে।
মোস্তাফিজুর : কী জন্য আসছিল?
ওসি : কোনো কারণে না। কাউকে ধরার জন্য নয়।
মোস্তাফিজুর : চাম্বলের মুজিবের (ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী) ওপরও যাতে কোনো রকমের ইয়ে না হয়। ও ওখানে যেন কাজ করতে পারে, খেয়াল রাখিও।
ওসি : হবে না স্যার। অবশ্যই স্যার।
এই কথোপকথনের ব্যাপারে ওসি তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে ও সম্ভব হয়নি। তিনি বারবার ফোন কেটে দেন। জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কিছু শুনিনি। ওসি সাহেবও কিছু বলেননি।
তবে নাম প্রকাশ না করে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন চাম্বলের ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে প্রতিদ্বদ্বী প্রার্থী ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তাঁকে ধরার জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়।

মঙ্গলবার সংসদ সদস্যের বাড়িতেও পুলিশ যায়। পুলিশের হাত কেটে নেওয়ার বক্তব্যের ব্যাপারে প্রশ্নের জবাবে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, এগুলো আপনি তাঁকে (ওসি) জিজ্ঞাসা করেন। এতটুক বলে ফোন কেটে দেন। উল্লেখ্য, সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান নানা কারণে বারবার সমালোচিত হয়েছেন।

সংসদ সদস্য হয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে মারধর করে বিতর্কিত হন। তখন তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল। এরপর দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করার একটা ভিডিও ভাইরাল হয়। এরপর গত বছর অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে মিছিল করেন। এবার নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় মামলা করেছে নির্বাচন কমিশন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চসিকের ২ হাজার ২৬০ কোটি টাকার নতুন বাজেট বড় আয়ের উৎস ধরা হয়েছে ‘হাল কর ও অভিকর’, যার পরিমাণ ৪২৬ কোটি টাকা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাজেট ঘোষণা করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বাজেটের মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে ১২২ কোটি এবং মশকনিধনে রেকর্ড ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে কাঙ্খিত উন্নয়ন অনুদান ও নিজস্ব কর আদায় না হওয়ায় সংশোধিত বাজেটের আকার প্রায় ২২ দশমিক ৩৪ শতাংশ সংকুচিত করতে হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে প্রায় ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

বাজেট বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন,’নগরবাসীর আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটানোর প্রত্যাশায় ও চট্টগ্রাম মহানগরকে ক্লিন-গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাসযোগ্য নান্দনিক পর্যটন নগর হিসেবে প্রতিষ্ঠার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করছি।

সিটি কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান অনুমোদিত মোট জনবলের সংখ্যা মাত্র ৪ হাজার ২২৬ জন। মেয়র জানান, এই সামান্য জনবল দ্বারা নগরের প্রায় সত্তর লাখ নগরবাসীকে পূর্ণাঙ্গ ও বিভিন্ন সেবা প্রদান করা কোনোভাবেই সম্ভবপর নয়। যার কারণে যথাযথ নাগরিক-সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনকে বিভিন্ন সময়ে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়।

নতুন বাজেটে সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস ধরা হয়েছে চলতি অর্থবছরের ‘হাল কর ও অভিকর’, যার পরিমাণ ৪২৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে আদায় হয়েছিল মাত্র ৩১৫ কোটি টাকা।বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি খাতের পুঞ্জীভূত বকেয়া থেকে এবার ১৯৭ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল মাত্র ৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।অন্যান্য কর থেকে ১৮৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন সেবামূলক ফিস থেকে ১৪০ কোটি ২০ লাখ টাকা আয়ের লক্ষ্য রয়েছে।

নিজস্ব আয়ের বাইরে সরকারের উন্নয়ন অনুদান খাত থেকে এবার বড় অংকের প্রাপ্তি আশা করছে চসিক। এই খাতে ৯৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে এটি ১ হাজার ৪৪ কোটি টাকা আশা করা হলেও বরাদ্দ মিলেছিল ৮৮৭ কোটি ৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।

চসিকের ব্যয় খাতের বিবরণী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি টাকা সরাসরি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন বাজেটে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় নগরের উন্নয়নে সর্বোচ্চ ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর বাইরে চসিকের নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে ২১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ, নগরের রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও অবকাঠামো উন্নয়নে মোট ১ হাজার ৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা খরচ করা হবে। সিটি কর্পোরেশনের বিশাল কর্মকর্তা-কর্মচারী বাহিনীর বেতন-ভাতা ও পারিশ্রমিক বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে খরচ হয়েছিল ৩৩১ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এছাড়া নগরের সড়ক বাতি ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রয়োজনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পানি খাতে এবার ৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত সংশোধিত বাজেটে ছিল ৫২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। চসিকের বিভিন্ন ঠিকাদার ও খাতের পুরনো বকেয়া দেনা মেটাতে এবার ১৮৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাজেটের নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চসিকের নিজস্ব আয় বাড়ার ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি সরকারি উন্নয়ন অনুদানের ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা রাখা হয়েছে।চসিকের আয় খাতের বিবরণী অনুযায়ী, নতুন অর্থবছরে প্রারম্ভিক স্থিতি ধরা হয়েছে ৩৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এবার নিজস্ব উৎস থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্ষায় নগরের প্রধান দুর্ভোগ জলাবদ্ধতা দূর করতে নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১২২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সর্বশেষ (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এই খাতে মূল বরাদ্দ ছিল ৭৫ কোটি টাকা। তবে বছর শেষে সংশোধিত বাজেটে এ খাতে প্রকৃত খরচ করা হয়েছিল ৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, বিগত বছরের খরচের তুলনায় এবার জলাবদ্ধতা নিরসনে বরাদ্দ প্রায় ৪৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ডেঙ্গুর প্রকোপ ও মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে আগামী অর্থবছরের জন্য মশকনিধন খাতে রেকর্ড ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর আগের (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এই খাতে মূল বরাদ্দ রাখা হয়েছিল মাত্র ৯ কোটি টাকা। তবে বছর শেষে চসিক খরচ করতে পেরেছিল মাত্র ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। সেই তুলনায় এবার মশা মারার বাজেটে প্রায় পাঁচগুণ বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আয় ও ব্যয়ের যাবতীয় হিসাব শেষে চসিকের তহবিলে ৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা বাজেটে উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। যেখানে গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ৪৭ কোটি ৩১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা।

চট্টগ্রামে চুরির ঘটনায় গ্রেফতার-২, উদ্ধার ১০ ভরি স্বর্ণালংকার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি বাসা থেকে ১২ ভরি স্বর্ণ চুরির ঘটনায় জড়িত দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মাহে আলম ওরফে শাহ আলম (৩০) এবং মো. মনির হোসেন (২৮)। পুলিশ বলছে, প্রধান অভিযুক্ত মাহে আলমের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি ও মাদক আইনে ১২টি মামলা রয়েছে। আকবরশাহ এলাকায় এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে এ সময় চুরি হওয়া প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) আকবরশাহ থানা পুলিশ এ তথ্য জানায়।

পুলিশ জানায়, গত ২০ জুলাই বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে আকবরশাহ এলাকার বিশ্ব কলোনির কে-ব্লকে উর্মিলা আক্তার নামের এক নারীর বাসায় এই চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা ওই বাসা থেকে ৩টি নেকলেস, ৩টি চেইন, ১টি ব্রেসলেট, ২টি চুড়ি, ৬ জোড়া কানের দুল ও ৮টি আংটিসহ মোট প্রায় ১২ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ৪ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গত ২৪ জুলাই আকবরশাহ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর সিএমপির পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় আকবরশাহ থানার একটি চৌকস দল তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গত সোমবার (২৭ জুলাই) পাহাড়তলী থানাধীন নেছারিয়া মাদ্রাসা গলি এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে মামলার এজাহারনামীয় আসামি মাহে আলম ও মনির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চুরির ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্য ও শনাক্ত মতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া ৩টি নেকলেস, ৩টি চেইন, ২টি চুড়ি, ৩ জোড়া কানের দুল এবং ২টি আংটিসহ মোট প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।

আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান জানান, উদ্ধার করা স্বর্ণালংকার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে। এছাড়া চুরি হওয়া বাকি মালামাল উদ্ধার এবং এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ