আজঃ সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬

ফ্রি-ল্যান্সিং বেকারত্ব সমস্যা দূর করে

ফ্রি-ল্যান্সিং করে প্রতিষ্ঠিত যুবায়ের প্রতিমাসে আয় করছেন লাখ টাকা

এস এম আলমগীর চাঁদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে বেকারত্ব সমস্যা অন্যতম সমস্যা । দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে এসে সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে । বাংলাদেশ ও এর ব্যাতিক্রম নয় ।বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেও একটা কাজের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অনেক শিক্ষিত বেকার। অনেক কেই দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে চাকুরী নামক সোনার হরিণ টি হাতের নাগালে না পাওয়ার কারনে । মাগুরা জেলার বড়ো শলই এলাকার অধীবাসি আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস ও মমতাজ বেগম দম্পতির ছেলে যুবায়ের হোসেন তেমনি এক যুবক, যে সংসারের অভাব অনটনের কারনে চাকুরীর আশায় ঘুরেছেন দ্বারে দ্বারে । কিন্তু মেলেনি কোনও উপযুক্ত কাজ । দুই ভাই এক বোন সহ পাঁচ জনের পরিবারে দু বেলা দু মুঠো খাবার জুটত না । আর্থিক অনটনের কারনে এক সময় লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়ে যুবায়ের আলীর
এ সময় যুবায়েরের মনে পরিকল্পনা আসে বর্তমান প্রযুক্তির যুগে ফ্রি ল্যান্সিং করে অনেক বেকার যুবক যুবতী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ।
কিন্তু কাজটা এতটা সহজ ছিল না । এর জন্য দরকার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটার ।
কিন্তু সেটা কেনার সামর্থ্য তার পরিবারের ছিল না । অবশেষে যুবায়েরের মা তার গলার চেইন বিক্রি করে দেন ছেলের কম্পিউটার কেনার আবদার পুরনের জন্য । মায়ের স্বর্ণের চেইন বিক্রি করা টাকায় কেনা হয় কম্পিউটার । প্রথমে তিনি ইউটিউব দেখে এবং প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বড়ো ভাইদের ধারনা নিয়ে তিনি শুরু করেন তার শখের ফ্রি ল্যান্সিং ।
পরবর্তীতে তিনি প্রশিক্ষণ এবং ইউটিউবের ভিডিও দেখে ফ্রি ল্যান্সার সম্পর্কে সব কিছু আয়ত্ত করেন ।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত ফ্রি ল্যান্সার যুবায়ের বলেন, বড়ো ভাইদের সহযোগিতায় প্রথমে তিনি শত টাকার কাজ দিয়ে শুরু করি ।তারপর ধীরে ধীরে বড়ো বড়ো কাজ আমার ভাগ্যে জুটতে থাকে । তারপর এই শাখায় ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে প্রায় দুই বছর সময় লেগে গেল ।
এখন তিনি দক্ষ ও প্রতিষ্ঠিত ফ্রি ল্যান্সার । মাসে আয় করেন লাখ টাকা । ফ্রি ল্যান্সিং থেকে আয়ের টাকায় যুবায়ের করেছেন বাড়ি, গাড়ি ।
জমিও কিনেছেন তিনি । যুবায়ের বর্তমানে মাগুরা বিহারীলাল শিকদার সরকারি মহাবিদ্যালযের সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র । বেকার সমস্যা যেখানে প্রকট সেখানে যুবায়ের ফ্রি ল্যান্সার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত যুবকের এক জীবন্ত উদাহারন ।
বর্তমানে শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে, তাদের দক্ষ জনসম্পদে পরিনত করার উদ্দেশ্যে, দক্ষ ফ্রি ল্যান্সার হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন অবিরাম।
ইতিমধ্যেই তার থেকে কাজ শিখে অনেকে ভাল আয় করছেন ।সফল ফ্রি ল্যান্সার যুবায়ের বলেন, আমি চাই দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকেরা শুধুমাত্র সরকারি চাকরির আশায় না ঘুরে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফ্রি ল্যান্সার হয়ে নিজে উদ্যোক্তা হয়ে কাজ করুক । তাহলেই বেকার সমস্যা অনেকাংশে লাঘব হবে । এবং বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ফের অনিশ্চয়তায় সিসিসিআই নির্বাচন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শীর্ষ ব্যবসায়িক সংগঠন চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) নির্বাচন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। দুপক্ষের আইনি বিরোধের কারণে উচ্চ আদালতের নির্দেশে নির্ধারিত ৪ এপ্রিলের নির্বাচনও স্থগিত হয়ে গেছে। তবে আদালত আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনালকে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
তথ্যটি নিশ্চিত করে রিটকারী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ বেলালের পক্ষে আইনজীবী আশফাকুর রহমান বলেন, আদালত আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনালকে বিরোধ নিষ্পত্তি করে সিদ্ধান্ত দিতে বলেছেন। পাশাপাশি হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশ আমলে না নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।

চেম্বার সূত্রে জানা যায়, ৩ মার্চ প্রায় পাঁচ মাস স্থগিত থাকার পর চট্টগ্রাম চেম্বারের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের নতুন তফশিল ঘোষণা করা হয়েছিল। তফশিল অনুযায়ী আগামী ৪ এপ্রিল নগরের আগ্রাবাদ এলাকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভোট গ্রহণের কথা ছিল। ২৬ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইনি মতামতের ভিত্তিতে সাধারণ ও সহযোগী গ্রুপের ১৮ জন পরিচালক নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে আদালতের নতুন আদেশে সেই নির্বাচনও স্থগিত হয়ে গেল।

এর আগে, গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের আটটি সংগঠনকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্দেশ দেয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল হাইকোর্টে রিট করেন এবং এফবিসিসিআইতেও অভিযোগ করেন।
রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ অক্টোবর হাইকোর্ট দুই শ্রেণিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে রুল জারি করেন এবং মন্ত্রণালয়ের ৪ সেপ্টেম্বরের চিঠির ওপর স্থগিতাদেশ দেন। পরে আপিলের পর ৩০ অক্টোবর আদালত দুই সপ্তাহের জন্য নির্বাচন স্থগিত করেন।

পরবর্তীতে গত ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ছয়টি টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের ছয় প্রতিনিধিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধেও আপিল করেন রিটকারী মোহাম্মদ বেলাল। সেই আপিলের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত এফবিসিসিআইয়ের ট্রাইব্যুনালে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন এবং মৌখিকভাবে বলেন, ৪ এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনে সাধারণ শ্রেণি থেকে ১২ জন, সহযোগী শ্রেণি থেকে ৬ জন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ৩ জন করে মোট ৬ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। এভাবে ২৪ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়। পরে নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে একজন সভাপতি ও দুজন সহসভাপতি নির্বাচিত হন।এবার টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ছয়জন পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে ছিলেন। তবে দুপক্ষের আইনি বিরোধের কারণে নির্ধারিত সময়েও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি এবং নতুন তফশিল ঘোষণার পরও তা আবার স্থগিত হয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম নগরে ৫ হাজার ৫৭৫ জন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেয়া হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে দলীয়করণের সুযোগ রাখা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যে এই নির্বাচনী ওয়াদা বাস্তবায়ন করে প্রমাণ করেছে যে, নেতৃত্ব ঠিক থাকলে সব সম্ভব। ফ্যামিলি কার্ড একটি স্মার্ট কার্ড। ভবিষ্যতে জাতীয় সব সুযোগ-সুবিধা এই কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া হবে।

এছাড়া কৃষকদের কল্যাণে ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ মওকুফ এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি কার্ডের মতো আরও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এয়ারপোর্ট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রথম পর্যায়ে চট্টগ্রাম নগরের ৫ হাজার ৫৭৫ জন নারীর হাতে এই কার্ড তুলে দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান উপস্থিত ছিলেন।

আমির খসরু বলেন, আমাদের সীমিত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আমরা এই ঝুঁকি নিয়েছি। এই কার্ড বিতরণে কোনো দলীয়করণের সুযোগ রাখা হয়নি। সরকারি কর্মকর্তারা নির্দ্বিধায় ও স্বাধীনভাবে কাজ করে হতদরিদ্রদের খুঁজে বের করেছেন।

তিনি বলেন, পরিবারের নারী প্রধানকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী না করলে আগামীর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মহিলারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিবারের সব দায়িত্ব পালন করলেও তাদের এই সেবার যথাযথ মূল্যায়ন আগে কখনো হয়নি। তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান ঘোষিত এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলোকে মূল্যায়নের জন্য গৃহকর্তীদের বেছে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা পৌঁছে যাচ্ছে, যা তাদের হাতে একটি অর্থনৈতিক শক্তি তৈরি করবে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ