আজঃ বৃহস্পতিবার ২৪ এপ্রিল, ২০২৫

ফ্রি-ল্যান্সিং বেকারত্ব সমস্যা দূর করে

ফ্রি-ল্যান্সিং করে প্রতিষ্ঠিত যুবায়ের প্রতিমাসে আয় করছেন লাখ টাকা

এস এম আলমগীর চাঁদ

তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে বেকারত্ব সমস্যা অন্যতম সমস্যা । দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে এসে সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে । বাংলাদেশ ও এর ব্যাতিক্রম নয় ।বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেও একটা কাজের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অনেক শিক্ষিত বেকার। অনেক কেই দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে চাকুরী নামক সোনার হরিণ টি হাতের নাগালে না পাওয়ার কারনে । মাগুরা জেলার বড়ো শলই এলাকার অধীবাসি আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস ও মমতাজ বেগম দম্পতির ছেলে যুবায়ের হোসেন তেমনি এক যুবক, যে সংসারের অভাব অনটনের কারনে চাকুরীর আশায় ঘুরেছেন দ্বারে দ্বারে । কিন্তু মেলেনি কোনও উপযুক্ত কাজ । দুই ভাই এক বোন সহ পাঁচ জনের পরিবারে দু বেলা দু মুঠো খাবার জুটত না । আর্থিক অনটনের কারনে এক সময় লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়ে যুবায়ের আলীর
এ সময় যুবায়েরের মনে পরিকল্পনা আসে বর্তমান প্রযুক্তির যুগে ফ্রি ল্যান্সিং করে অনেক বেকার যুবক যুবতী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ।
কিন্তু কাজটা এতটা সহজ ছিল না । এর জন্য দরকার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটার ।
কিন্তু সেটা কেনার সামর্থ্য তার পরিবারের ছিল না । অবশেষে যুবায়েরের মা তার গলার চেইন বিক্রি করে দেন ছেলের কম্পিউটার কেনার আবদার পুরনের জন্য । মায়ের স্বর্ণের চেইন বিক্রি করা টাকায় কেনা হয় কম্পিউটার । প্রথমে তিনি ইউটিউব দেখে এবং প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বড়ো ভাইদের ধারনা নিয়ে তিনি শুরু করেন তার শখের ফ্রি ল্যান্সিং ।
পরবর্তীতে তিনি প্রশিক্ষণ এবং ইউটিউবের ভিডিও দেখে ফ্রি ল্যান্সার সম্পর্কে সব কিছু আয়ত্ত করেন ।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত ফ্রি ল্যান্সার যুবায়ের বলেন, বড়ো ভাইদের সহযোগিতায় প্রথমে তিনি শত টাকার কাজ দিয়ে শুরু করি ।তারপর ধীরে ধীরে বড়ো বড়ো কাজ আমার ভাগ্যে জুটতে থাকে । তারপর এই শাখায় ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে প্রায় দুই বছর সময় লেগে গেল ।
এখন তিনি দক্ষ ও প্রতিষ্ঠিত ফ্রি ল্যান্সার । মাসে আয় করেন লাখ টাকা । ফ্রি ল্যান্সিং থেকে আয়ের টাকায় যুবায়ের করেছেন বাড়ি, গাড়ি ।
জমিও কিনেছেন তিনি । যুবায়ের বর্তমানে মাগুরা বিহারীলাল শিকদার সরকারি মহাবিদ্যালযের সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র । বেকার সমস্যা যেখানে প্রকট সেখানে যুবায়ের ফ্রি ল্যান্সার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত যুবকের এক জীবন্ত উদাহারন ।
বর্তমানে শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে, তাদের দক্ষ জনসম্পদে পরিনত করার উদ্দেশ্যে, দক্ষ ফ্রি ল্যান্সার হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন অবিরাম।
ইতিমধ্যেই তার থেকে কাজ শিখে অনেকে ভাল আয় করছেন ।সফল ফ্রি ল্যান্সার যুবায়ের বলেন, আমি চাই দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকেরা শুধুমাত্র সরকারি চাকরির আশায় না ঘুরে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফ্রি ল্যান্সার হয়ে নিজে উদ্যোক্তা হয়ে কাজ করুক । তাহলেই বেকার সমস্যা অনেকাংশে লাঘব হবে । এবং বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

এনসিটি বন্দরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা চায় জামায়াতে ইসলামী

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া বোধগম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন নগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর শাহজাহান চৌধুরী। শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আমরা বিদেশি বিনিয়োগ চাই। দেশের উন্নয়নের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ অপরিহার্য। কিন্তু সে বিনিয়োগ হোক গ্রিন ফিল্ডে। যেমন দেশের বিভিন্নস্থানে ইকোনোমিক জোনগুলোতে বিদেশিরা এসে বিনিয়োগ করছে। ঠিক তেমনি আমাদের বে টার্মিনাল হতে শুরু করে সীতাকুন্ড-মিরসরাই ও মাতারবাড়িতে প্রচুর বিনিয়োগের সুবিধা রয়েছে। সেখানে বিনিয়োগ আসুক। কিন্তু আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করা এনসিটি টার্মিনাল কেন বিদেশিদের দেওয়া হবে তা বোধগম্য নয়।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। এনসিটি বিদেশি কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রতিবাদে এবং বন্দরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নগর জামায়াতে ইসলামী।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নগর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর নজরুল ইসলাম, সেক্রেটারি নুরুল আমিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি খাইরুল বাশার, মোহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুছ ও মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালী, এ কে এম ফজলুল হক, সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ শফিউল আলম ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের অন্তবর্তী কমিটির সদস্য সচিব জাহেদুল করিম কচি।

শাহজাহান চৌধুরী বলেন, এনসিটি টার্মিনাল নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের কুনজর পড়েছিল এ টার্মিনালের ওপর। দেশের অন্যতম অর্থ পাচারকারী ও শেখ পরিবারের প্রধান অর্থ যোগানদাতা সালমান এফ রহমান ব্যাংকসহ দেশের লাভজনক সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে সর্বশেষ এনসিটি টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।যে পদ্ধতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করা পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল দিয়ে দেওয়া হয়েছে, সে একই পদ্ধতিতে এনসিটি টার্মিনালও বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার গভীর চক্রান্ত চলছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের লোকজন এনসিটি টার্মিনালকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তর করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে শাহজাহান বলেন, যদি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান না হতো, তাহলে এতদিনে এ টার্মিনালটিও বিদেশিদের হাতে চলে যেত। ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে গেলেও বিভিন্ন স্থানে ঘাপটি মেরে থাকা তাদের লোকজন, বর্তমান সরকারকে বিভ্রান্তিকর বিভিন্ন তথ্য দিয়ে দেশের রাজস্ব খাত শেষ করার জন্য এবং দেশের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হানার জন্য এনসিটি টার্মিনালকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তর করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফ্যাসিস্ট সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের ঘনিষ্ট কিছু লোকজন সরকারের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্ট সরকারের এজেন্ডা শেখ পরিবারের অর্থ যোগান দেওয়া অব্যাহত রাখার এবং বর্তমান সরকার ও ছাত্র জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ধুলিসাৎ করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে যড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।

এনসিটি টার্মিনাল বিদেশিদের কাছে গেলে বন্দরে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেবে জানিয়ে জামায়াতের এ নেতা বলেন, যদি এনসিটি বিদেশিদের হাতে দেয়া হয়, তাহলে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতি ও রাজনীতিতে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। সরকার বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মূদ্রা হতে বঞ্চিত হবে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে আঘাত হানবে। এনসিটিতে নিযুক্ত চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব দক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং ওই টার্মিনালে কর্মরত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ চাকুরিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা বৈধভাবে বিদেশে চলে যাবে।

পাঁচ হাজার কোটি টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিগুলো হস্তান্তরে চট্টগ্রাম বন্দরের ক্ষতি হবে ৪ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে। শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেবে। বৈদেশিক বাজারে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে এবং বর্তমান কর্মরত দক্ষ শ্রমিকদের মাঝে হতাশা বাড়বে।

সিইউএফএলে উৎপাদন বন্ধ, গ্যাস সংকট।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে (সিইউএফএল) উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে সিইউএফএল দৈনিক ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করতে সক্ষম।
কিন্তু গ্যাস সংকটে গত শুক্রবার সকাল থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

জানা যায়, সিইউএফএল দৈনিক ১ হাজার ২০০ মেট্টিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করতে দৈনিক ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। পাশাপাশি বার্ষিক ৩ লাখ ১০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদন করতে পারে সিইউএফএল।

সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের প্রধান উত্তম চৌধুরী বলেন, শুক্রবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৭টার থেকে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। গ্যাস সংকটের কারণে আমরা এখনও উৎপাদনে যেতে পারিনি। কবে নাগাদ কারখানা চালু হতে পারে সেব্যাপারে বলা যাচ্ছে না।এর আগে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৩ জানুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কারখানায় ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ ছিল বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

কালিয়াকৈরে ”হোপ ফর চিলড্রেন” এর উদ্যোগে বিনামূল্যে বীজ ও চারা বিতরণ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কালামপুর মডেল পাবলিক স্কুল মাঠে সোমবার সকালে
বিলিভার্স ইষ্টার্ন চার্চ কতৃক পরিচালিত হোপফর চিলড্রেনের উদ্যোগে ৭০ জন রেজিস্টার শিশুদের পরিবার ও উপকারভোগীদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রকারের বীজ, সার ও চারা বিতরণ করা হয়েছে।
বিলিভার্স ইস্টার্ন চার্চ এর ডিকন জয়দেব বর্মনের সভাপতিত্বে ও হোপ ফর চিলড্রেনের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর বাপ্পি খৃষ্টদাস এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হোপ ফর চিলড্রেন এর ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সজীব ত্রিপুরা, বিশেষ অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল সিএস কো-অর্ডিনেটর তপানা ত্রিপুরা,উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শওকত হোসেন,বিশিষ্ট সমাজসেবক শাহ আলম হোসেন।
এসময় প্রধান অতিথি বলেন হোপফর চিলড্রেন শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিয়ে কাজ করছে। কালামপুর গ্রামে রেজিস্ট্রার শিশু ও গরীব শিশুরা যাতে পুষ্টিকর খাবার পায় তার জন্য হোপ ফর চিলড্রেনের মাধ্যমে বাড়ির আঙিনায় শাক-সবজি চাষের জন্য বীজ বিতরন করা হয়েছে।
বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রশিক্ষণ প্রদান করে

আরও পড়ুন

সর্বশেষ