আজঃ রবিবার ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

মিয়ানমারে টানা ১৪ ঘন্টা যুদ্ধে অস্ত্র সহ অর্ধ শতাধিক বিজিপি সদস্য আত্মসমর্পণ

মোহাম্মদ শাহ এমরান, টেকনাফ (কক্সবাজার)

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মার্টার শেল গুলাগুলি করার পর বিদ্রোহীদের সঙ্গে প্রচণ্ড সংঘর্ষ চলছে, সংঘর্ষ টানা ১৪ ঘন্টা একটানা যুদ্ধ করে সহ্য করতে না পেরে বাংলাদেশের অভ্যান্তরে প্রানের ভয়ে পালিয়ে এসেছে মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর ৫৬ জনের অধিক সীমান্ত রক্ষীবাহিনী সদস্যে। অনেকের সাথে দেখাগেছে অস্ত্র সহ পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যান্তরে তুমব্রু সীমান্ত বিজিবি ক্যাম্পে আশ্রয় দিয়েছে এক স্কুলে।

রাতভর সীমান্ত এলাকায় গুলাগুলি মার্টারশেল এর শব্দ টেকনাফ ও উখিয়া সীমানা এলাকায়। মিয়ানমার অভ্যান্তরে চলেছে এরকান আর্মি ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর তুমুল যুদ্ধ। যুদ্ধের একপর্যায়ে
সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর পালাতে থাকেন, পালাতে গিয়ে ভয়ে চলে আসে বাংলাদেশের অভ্যান্তরে তারা
সকালে তুমব্রুর কোনারপাড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। প্রথমে ১৪ জন আসলে পরপ দাফে দাফে ৬৩জন পালিয়ে আশে। স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও চিত্রে দেখা যায় মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ- বিজিপি সদস্যরা প্রানের ভয়ে আশ্রয় চাচ্ছিলেন। এসময় তাদের স্থানীয়রা নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবির ঘুনদুম তুমব্রু ক্যাম্পে নিয়ে যায়।

তুমব্রু সীমান্ত এলাকার স্থানীয়দের ধারণ করা আরেকটি ভিডিও চিত্রে আরাকান আর্মির কয়েকজন সদস্যকেও বাংলাদেশ অভ্যন্তরে ঢুকতে দেখা গেছে।
এদিকে রোববার টানা ১৪ ঘন্টা যুদ্ধ করে ভোররাত থেকে মিয়ানমার অভ্যন্তরে চলা তুমুল সংঘর্ষে সেখান থেকে ছোঁড়া গুলিতে এক বাংলাদেশী আহত হয়েছে। আহত বাংলাদেশী হলো তুমব্রু হিন্দু পাড়ার বাসিন্দা প্রবীন্দ্র ধর প্রকাশ (আম্বু) এক অসহায় বাংলাদেশী নাগরিক

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সীমান্ত এলাকায় বসবাস করা স্থানীয়রা এলাকা ছেড়ে চলে আসছেন নিরাপদ স্থানে। তারা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন। গতরাতে তুমুল গুলিবর্ষণ ও মর্টারশেল এর শব্দে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয় সীমান্ত এলাকায়।

জানা যায় বাংলাদেশের তুমব্রু সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমায় অভ্যান্তরে ৬৩ জনের অধিক জান্তা বাহিনীর আহত অবস্থায় বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে, তন্মধ্যে ২জন গুরুতর আহত তারা দুইজনকে বুজিবি পাহারায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন বাকিরা পার্শভর্তি হাসপাতালে চিকিৎসকধীন আছেন।
বান্দরবান জেলা প্রশাসন এক বিবৃতিতে বলেন ৬টি স্কুল বন্ধ ঘোষনা করা হয়, সীমান্ত বসবাসকারী কে অন্যত্রে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
বর্তমান আতঙ্কিত হয়ে মর্টারশেল এর শব্দে ভীতিকর পরিবেশ এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন অনেকে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে আরো ২৩ শিশু হাসপাতালে : হামের উপসর্গ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ২৩ শিশুকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া দুই শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে শনিবার পর্যন্ত চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ৯২ শিশু চিকিৎসাধীন। আর হাম শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৪১ জনে দাঁড়িয়েছে।এরমধ্যে সম্প্রতি এক শিশু মারা গেছে।
শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দৈনিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, শনিবার হাম শনাক্ত ও সন্দেহজনক ৯২ শিশু ভর্তি আছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছে ১৯ শিশু।নতুন করে এদিন হাম পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে কেউ না এলেও এ পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে ৪১৩টি। এরমধ্যে এখন পর্যন্ত ৪১ জনের হাম শনাক্ত হয়।

শিপিং সেক্টরে নতুন বাজার সৃষ্টিতে নাবিকগণ দূত হিসেবে কাজ করবে – নৌপরিবহন মন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি নতুন নাবিকদের দেশের সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে শিপিং সেক্টরে নতুন বাজার সৃষ্টিতে তাদের আরো সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে সমুদ্রগামী জাহাজে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে রেমিটেন্সের যোগান দিতে তারা দেশের দূত হিসেবে কাজ করবেন। শনিবার চট্টগ্রামে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট(এনএমআই)’র ২৮তম প্রি-সী রেটিংসদের শিক্ষা সমাপনী পাসিং আউটে প্রধান অতিথি বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
নৌ পরিবহন মন্ত্রী বলেন,শিক্ষা শুধু পূঁথিগত বিদ্যা নয় বরং জ্ঞান অর্জন এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সাধনের একটি পরিপূর্ণ স্তর হচ্ছে শিক্ষা। এ প্রতিষ্ঠান থেকে হাতে কলমে অর্জিত জ্ঞান দ্বারা নাবিকগণ সমুদ্রগামী জাহাজ চলাচল, জাহাজ ব্যবস্থাপনা ও পণ্য পরিবহনের আধুনিক পথিকৃত হিসেবে নিজেকে তুলে ধরবেন। তাদের আন্তরিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সমুদ্র পরিবহনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উন্নত বিশ^কে চ্যালেঞ্জ জানানোর পাশাপাশি উত্তরোত্তর সামনে এগিয়ে যাবে।

মন্ত্রী এনএমআই’র প্রশিক্ষণের গুণগত মানের প্রশংসা করে বলেন, প্রশিক্ষণ চলাকালীন শৃংখলা, কঠোর নিয়ম কানুন ও অনুশীলন, হাতে কলমে প্রদত্ত জ্ঞানের কারনে এটি আন্তর্জাতিক নৌ-সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মেরিটাইম সেফটি এজেন্সী কর্তৃক স্বীকৃতি প্রাপ্ত। এখানকার ক্যাডেটরা তাই পরিবার, দেশ ও জাতির সম্পদ।
নৌ মন্ত্রী বলেন, মেরিটাইম সেক্টরে দেশের মানসম্মত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ১৯৯২ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার একনেকে ‘ডেভেলপমেন্ট অব সীম্যান্স ট্রেনিং স্কুল’ প্রকল্প পাস করেন। প্রকল্পটি ১৯৯৩-৯৫ সময়কালে বাস্তবায়নের কারনে আজকে এখানে এতবড় আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ শুরুর পর থেকে আজ পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠান থেকে সাড়ে চার হাজার নাবিক সফলভাবে প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেছে। তাদের মধ্যে চার হাজার নাবিক দেশি-বিদেশি জাহাজে কর্মরত রয়েছে। তারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার মেরিটাইম খাতসহ সম্ভাবনাময় সকল ক্ষেত্রে কর্মসং¯’ান সৃষ্টির উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে। এজন্য যেখানে যা প্রয়োজন সরকার সকল সহযোগিতা প্রদানে বদ্ধ পরিকর।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মন্ত্রী কূচকাওয়াজ পরিবদর্শন করেন। প্রশিক্ষণের বিভিন্ন ট্রেডে ভাল ফলাফল করায় তিনি কয়েকজন নতুন নাবিককে ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করেন। এদের মধ্যে ইঞ্জিন বিভাগের রাব্বি ইসলাম কানন অলরাউন্ড নৈপুন্য প্রদর্শন করায় গোল্ড মেডেল অর্জন করেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় সেশনে মন্ত্রী বিভিন্ন শিপিং কোম্পানী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত পুরস্কার শ্রেষ্ঠ নাবিকদের হাতে তুলে দেন।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শফিউল বারী, ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন আতাউর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এ সময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যনা রিয়াল এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের এমডি কমডোর মাহমুদুল মালেকসহ সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ, দেশি-বিদেশি জাহাজ মালিক, প্রতিনিধি, শিপিং এজেন্ট ও নতুন নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

সমুদ্রপথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে ক্যাডেটরা প্রস্তুত: চট্টগ্রামে নৌ পরিবহনমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেরিটাইম খাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণরাই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দেশের সক্ষমতা তুলে ধরবে বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে ২৮তম ব্যাচের পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, শিক্ষা শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল লক্ষ্য শারীরিক ও মানসিক পূর্ণ বিকাশ।আপনারা শুধু ব্যক্তি নন, আপনারা জাতির সম্পদ। বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে গিয়ে আপনারা বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরবেন, দেশের সক্ষমতা ও স্মার্টনেস প্রদর্শন করবেন।যারা এই কোর্স সম্পন্ন করে সমুদ্রে যাবেন, তারা নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে শিখেছেন। জাহাজ ব্যবস্থাপনা কিংবা নৌ চলাচল-যেখানেই থাকুন না কেন, দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশই জলভাগ, যা একসময় ছিল দুর্গম। তবে আধুনিক বিশ্ব সেই সীমাবদ্ধতা জয় করেছে।

কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, একমাত্র অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেটভিত্তিক শিক্ষা অনেক সময় বেকারত্ব তৈরি করে। এর বিপরীতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা কর্মসংস্থানের পথ খুলে দেয়। ১৯৯০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত মেরিটাইম প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা থেকে ইতোমধ্যে হাজারো দক্ষ জনশক্তি তৈরি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ভবিষ্যতে এই খাত আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ক্যাডেটদের উদ্দেশে তিনি স্বাস্থ্য সচেতনতার কথাও উল্লেখ করেন। দীর্ঘসময় রোদে প্যারেড করার কারণে সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া অনুষ্ঠানে মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন। পাসিং আউট প্যারেডে অংশ নেওয়া ক্যাডেটদের শৃঙ্খলাবদ্ধ কুচকাওয়াজ ও দক্ষতা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ