আজঃ সোমবার ৯ মার্চ, ২০২৬

ফটিকছড়িতে উপজেলা নির্বাচনের হাওয়া,আ.লীগ থেকে প্রার্থী হচ্ছেন কারা।

মাসুদুল ইসলাম মাসুদ ফটিকছড়ি প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম জেলা:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশব্যাপী নির্বাচন কমিশন ঘোষিত আগামী উপজেলা নির্বাচনে হাওয়া বইতে শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলার বৃহত্তরও ফটিকছড়ি উপজেলার আনাচে কানাচে, সদ্য সমাপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতে না হতেই গ্রামেগঞ্জে হাওয়া এসে লাগলো উপজেলা নির্বাচনের। 

গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফটিকছড়িতে বিজয়ী হন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সাংসদ রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে খাদিজাতুল আনোয়ার সনি তার নিকটতম প্রতিদন্ধী ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করা হোসাইন মোহাম্মদ আবু তৈয়ব,সে-সময় দৃশ্যমান কোন দলীয় নেতাকর্মী আবু তৈয়বের পক্ষে মাটে দেখা নাগেলেও একযোগে নৌকা প্রতিকে কাজ করেছেন দুই পৌরসভার মেয়র ও অধিকাংশ ইউপি চেয়ারম্যানসহ দলীয় ব্যানারের অধিকাংশ সিনিয়র জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সবার আশা ছিল যদি দলীয় এমপি পেয়ে যায় তাহলে তাদের ত্যাগের মুল্যায়ন সরুপ হেভিওয়েট প্রার্থীরা নৌকা পাওয়ার দৌঁড়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে থাকবে। সেই হিসেবে সবাই নবনির্বাচিত দলীয় এমপিকে সর্বাত্মক সহযোগিতাসহ এলাকায় প্রচুর সময় শ্রম দিছেন ও দিয়েই আসছেন।

স্হানীয় সুত্রমতে জানা যায়, উপজেলা চেয়ারম্যান হোসাইন মোহাম্মদ আবু তৈয়ব সতন্ত্র সাংসদ প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করায় অনেকটা নিশ্চিত তিনি আর উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না, সে সুবাদে এতদিন পর্যন্ত নৌকা প্রতিক দৌঁড়ে এগিয়ে ছিলেন গতবারের বিজিত প্রার্থী ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন মুহুরী,উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য সৈয়দ বাকের, সহসভাপতি আবদুল কাইয়ুম, চেয়ারম্যান শাহীন, পাশাপাশি নাম আসে জেলা পরিষদ সদস্য আকতার মাহমুদ পারভেজ , যুবনেতা খাইরুল বশর, জেবুন নাহার মুক্তা সহ অনেকের নাম।

নির্বাচন কমিশন কতৃক ঘোষিত ও দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছেনা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা হওয়ার সাথে সাথেই হাওয়া পাল্টে যেতে শুরু করে ফটিকছড়িতে।
হঠাৎ করে আলোচনায় চলে আসেন এমপি খাদিজাতুল আনোয়ার সনির কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত সাবেক উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও বর্তমান উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বখতিয়ার সাইদ ইরান।

অপেক্ষাকৃত তরুণ হিসেবে যুব সমাজের মডেল হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। ভদ্র নম্র ও বিনয়ী হিসেবে তার আলাদা একটা সুনাম রয়েছে পথে প্রান্তরে। বিগত রাজনৈতিক জীবনে তার ক্যারিয়রে কোনো কলঙ্ক নেই। ক্লিন ইমেজ হিসেবে ওপরের মহলেও আলাদা একটা সুনাম রয়েছে তার। সব কিছু মিলিয়ে ভোটের মাঠের অবস্থান অন্যদের চেয়ে আলাদা বলে মনে করেন জনগণ।
অন্য দিকে ৮০/৯০ দশকের রাজনীতির জন্য ত্যাগ স্বীকার করা সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন মুহুরীও রয়েছে হিসাব নিকেশে। বিগত দ্বাদশ জাতীয় সংসদে শক্ত একটা ভূমিকা ছিল তার। দীর্ঘদিন দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসা মুহুরী উপজেলা জুড়ে রয়েছে তার জনসমর্থন আছে ভোট ব্যাংকও।

অন্য দিকে সৈয়দ বাকেরের রয়েছে বিশাল কর্মী বাহিনী। কর্মী বান্ধব হিসেবে রয়েছে আলাদা একটা পরিচিতি। সবকিছু চাপিয়ে সবাই তাকিয়ে আছে হাইকমান্ডের বিবেচনার দিকে।
এছাড়াও আরো প্রার্থী তালিকায় আছেন সাদ আনোয়ার সাদী,আবু তালেব বুলবুল, ছালামত উল্লাহ চৌধুরী শাহীন, এডভোকেট উত্তম কুমার মহাজন সহ আরো অনেকে।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে শোনা যাচ্ছে মহিলা পদে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রাজিয়া মাসুদ, শারমিন নূপুর সহ আরো কয়েকজন। তবে মূল তালিকা হতে সটকে পরলে অনেকেই ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে পারে বলে শুনা যাচ্ছে।
দু একটা গোপন বৈঠকও চলেছে বলে এলাকা সূত্রে জানা যায়। তবে ফলাফল অজানা।

বুলেটের গতিতে এগিয়ে চলা চট্টগ্রামে সরাসরি ভোটে জিতে আসা প্রথম নারী এম পি খাদিজাতুল আনোয়ার সনির রয়েছে কিছু হিসাব নিকাশ। কিছু অংক।  তার সিদ্ধান্তেও অনেক কিছু উলোটপালোট হতে পারে বলে সবাই আশাংকা করছে।মোটামুটি পুরো উপজেলায় চলছে সবার মাঝে চাপাগুন্জন। কে হবে আগামীর উপজেলা চেয়ার এর মালিক।
এরমধ্যেই রয়েছে মার্চের ৯ তারিখ দক্ষিণ ফটিকছড়ির ২ টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। সেটার ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু।
সংসদ সদস্য সনির নিজের ইউনিয়ন হিসেবে রয়েছে বাড়তি চাপ। ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন তার চাচা শিল্পপতি রৌশন। প্রার্থী হচ্ছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এর কাছের লোক হিসেবে পরিচিত বর্তমান চেয়ারম্যান শফিউল আজম। রয়েছে আ.লীগ নেতা রাশেদ কোম্পানি। ওপরদিকে আছে খিরাম ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। নৌকা প্রতিক না থাকায় সেখানেইও একাধিক প্রার্থীর নাম আসতেছে। তার মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান সৌরভ, আওয়ামী লীগ নেতা শহীদসহ অনেকে।
মোটামুটি সবমিলিয়ে বৃহত্তর ফটিকছড়ি উপজেলা এখন নির্বাচনী হাওয়ায় সরগরম বললেই চলে। এখন সবার চোখ কে হচ্ছেন আগামীর উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ও উপজেলা চেয়ারম্যান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মধ্যপ্রাচ্যে থেকে ছেড়ে আসা ১২টি জাহাজ পৌঁছেছে চট্টগ্রাম বন্দরে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর পেরিয়ে আসা ১২টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাছে। বাকি ৩টি এই সপ্তাহে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রণালি বন্ধ ঘোষণার আগেই এসব জাহাজ পথ অতিক্রম করে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো এবং পথে থাকা এসব জাহাজের মধ্যে ৪টিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), ২টিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং ৯টিতে সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার রয়েছে। সব মিলিয়ে ১৫টি জাহাজে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টন পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি জাহাজ ইতিমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে ইরান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে পণ্য আনা-নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের আগে যেসব জাহাজ ছেড়েছিল সেগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। কয়েকটি জাহাজ পথে রয়েছে। দুই একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালির ভেতরে বা কাছাকাছি বন্দরে আছে।
তিনি বলেন, সরকার, শিপিং লাইন, জাহাজ মালিক, পণ্যের মালিক, মেরিনাররা যুদ্ধের বিষয়টি মনিটরিং করছে। যদি হরমুজ প্রণালিতে হুমকি না থাকে জাহাজ চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে, যার বড় অংশই জ্বালানি পণ্য। তবে প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে নতুন জাহাজ আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং তেহরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কারণে হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে ইরাক, ইরান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব এই সাত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য আনা-নেওয়া হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রণালির পাশের দেশ ওমান থেকেও ওমান উপসাগরীয় পথে পরিবহন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। পারস্য উপসাগর থেকে এই প্রণালি পেরিয়ে ওমান উপসাগর, আরব সাগর, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর হয়ে বাংলাদেশে জাহাজ আসে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, কাতার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামে দুটি জাহাজ ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এ ছাড়া এলপিজি নিয়ে ‘সেভান’ নামে একটি জাহাজ রোববার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বুধবার ‘আল গালায়েল’ এবং সোমবার ‘লুসাইল’ নামে আরও দুটি জাহাজ বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে এই চার জাহাজে এলএনজি রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন। সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার, জিপসাম, চুনাপাথর ও পাথর নিয়ে আরও কয়েকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। এসব জাহাজে প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন কাঁচামাল রয়েছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আনা হয়েছে।২০২৪-২৫ অর্থবছরে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে, যার বড় অংশই জ্বালানি পণ্য।

এলএনজি জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম বলেন, লিব্রেথা’ নামে আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ এখনো হরমুজ প্রণালির ভেতরে রয়েছে। জাহাজটিতে এলএনজি বোঝাই করা হয়েছে এবং এটি প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় আছে। তবে পরবর্তী চালানগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরবরাহ সংকট এড়াতে সরকার খোলাবাজার থেকেও বেশি দামে দুই জাহাজ এলএনজি কিনেছে, যা এখনো বন্দরে পৌঁছায়নি।

চট্টগ্রামে নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের আত্মহত্যা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের আত্মহনন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাসাত্মক গল্প ভাইরাল হয়েছে। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে, স্ত্রীকে দামি জুতা কিনে দিতে না পারার হতাশা থেকে ওই যুবক গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তার স্বজন এবং পুলিশের সঙ্গে কথা জানা গেছে ভিন্ন কথা।

শুক্রবার দুপুরে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ১টার দিকে কামাল উদ্দিন (৪০) নামের এক যুবক নিউমার্কেটের সামনে আনারসের দোকান থেকে ছুরি নিয়ে নিজে গলায় চালিয়ে দেয়।রক্তাক্ত অবস্থায় আমাদের টহলটিম স্থানীদের সহযোগিতা চমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অস্ত্রোপচারে রক্ত প্রয়োজন হলে আমাদের সহকারী পুলিশ সুপার নুরে আলম মাহমুদ স্যার রক্ত প্রদান করেন। কিন্তু রাতেই কামাল মারা যান।নিহত কামাল উদ্দিনের বাড়ি ময়মনসিংহে, তিনি চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

তিনি বলেন, ওই যুবকের স্ত্রী ইপিজেডে চাকরি করেন। ঘটনার সময় স্ত্রী কামালের সঙ্গেই ছিলেন না। এস এম রিদুয়ান নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাতে আনারসের দোকান থেকে কামাল যখন ছুরি নিয়ে নিজের গলায় চালান তখন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশকে জানানো থেকে শুরু করে কামালের চিকিৎসা পর্যন্ত তিনি সঙ্গে ছিলেন।কামালের সঙ্গে কোনো নারী ছিল না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া গল্পটি মিথ্যা।

কামালের স্ত্রী তসলিমা আক্তার জানান, রাত ৮টার দিকে কামাল তার ভাগিনার কাছ থেকে হাত খরচের কিছু টাকা চায়। ভাগিনা তার মামাকে টাকা দিলে টাকা নিয়ে কামাল উধাও হয়ে যান। তাকে পতেঙ্গা এলাকায় আর দেখা যায়নি।ভোরে ফোন পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে এসে কামালকে মৃত দেখতে পান।
কামালের ভাগিনা সামাদ বলেন, আমার মামা পেশায় রাজমিস্ত্রির হেল্পার হিসেবে কাজ করতেন। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। মামা যখন আমার থেকে টাকা নিয়ে আসেন তখন মামি কারখানায় চাকরিতে ছিলেন। ঘটনার সঙ্গে মামির কোনো সম্পর্ক নেই। মামার চিকিৎসার জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিছুদিন ভালো থাকেন, তারপর আবার সমস্যা শুরু হয়।

আলোচিত খবর

চরম বিপাকে হাজার হাজার যাত্রী শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ৮ দিনে এই বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও সেখান থেকে আসা মোট ৮০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির যুদ্ধাবস্থায় দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও দোহার এয়ারফিল্ডগুলো গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে। শনিবার নতুন করে বাতিল হয়েছে আরো ১২টি ফ্লাইট। এই টানা ৮ দিন ধরে ফ্লাইট বাতিলে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী, যাদের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী শ্রমিক। অনেক যাত্রী দূর-দূরান্ত থেকে বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধাবস্থার কারণে দুবাই, আবুধাবি ও দোহার মতো গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডগুলো বন্ধ থাকায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এয়ারফিল্ডগুলো খুলে দিলেই পুনরায় নিয়মিত ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক প্রবাসী তাদের ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। যথাসময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে চাকরি হারানোর ভয় কাজ করছে তাদের মনে।অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে যারা দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন, তারা সেখানের এয়ারফিল্ডে আটকা পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়া বা রি-শিডিউল করা নিয়ে এয়ারলাইনস অফিসগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, শনিবার সারাদিনে ১২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার।এয়ার আরাবিয়ারের ২টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার। সালাম এয়ারের ১টি অ্যারাইভাল ও ১টি ডিপার্চার।
পুরো সূচি বিপর্যস্ত হলেও শনিবার সীমিত কিছু ফ্লাইট সচল রয়েছে। এর মধ্যে সালাম এয়ারের মাস্কাট-চট্টগ্রাম রুটে দুটি (ওভি-৪০১ ও ওভি-৪০২) এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মদিনা (বিজি-১৩৮) ও মাস্কাট (বিজি-১২২) থেকে আসা দুটি ফ্লাইট অবতরণ করেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ