চট্টগ্রামে ওয়াসার প্রকল্পে ‘লুটের ফাঁদ’ দুদকের জালে উপজেলা চেয়ারম্যান।

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম:

বানিজ্য নগরী:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ওয়াসার প্রকল্পে সরকারি জমি অধিগ্রহণে ৫ কোটি টাকা ‘লুটের ফাঁদ’ বানানো সেই উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালে ফেঁসে যাচ্ছেন। সঙ্গে নাম এসেছে তার ছেলে মোহাম্মদ সরোয়ার করিমের ও। এরই মধ্যে তাদের সম্পদ বিবরণী জারির সুপারিশ করে দুদক প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে দুদকের চট্টগ্রাম অফিস।

জানা যায়, রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ থেকে পাঠানো অনুসন্ধান প্রতিবেদনটি এরই মধ্যে প্রধান কার্যালয়ে জমা হয়েছে। দুদক প্রধান কার্যালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দুই কোটি ৬৯ লাখ ৮ হাজার ৪৩৩ টাকার অবৈধ আয়ের তথ্য পেয়েছে দুদক। দুদকের ভাষায় ওই অবৈধ আয়কে ‘জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রেজাউল করিম চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মরহুম আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি একজন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ। ১৯৮১ সালে ফার্নিচার ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ওই ব্যবসা চলমান ছিল। ১৯৯৭ সালে বালি সরবরাহ ব্যবসা শুরু করেন, যা এখনো চলমান। ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ উপ-নির্বাচনে চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।প্রতিবেদনের শেষাংশে উল্লেখ করা হয়, ‘অনুসন্ধানকালে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, রেজাউল করিম ও ছেলে মোহাম্মদ সরোয়ার করিমের নামে ২;কোটি ৭৬ লাখ ৬৬ হাজার ২শ টাকা স্থাবর সম্পদ এবং ২৮ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭০ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৩ কোটি ৫ লাখ ৬২ হাজার ৭৭০ টাকার সম্পদ রয়েছে। তিনি ৫২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পারিবারিক ব্যয়সহ অন্য ব্যয় করেছেন। ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৭ হাজার ৭৭০ টাকা। এসব সম্পদ অর্জনের বিপরীতে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯৯ হাজার ৩৩৭ টাকা। এক্ষেত্রে তার গ্রহণযোগ্য মোট আয়ের চেয়ে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৬৯ লাখ ৮ হাজার ৪৩৩ টাকা বেশি, যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। এমতাবস্থায় অভিযোগ সংশ্লিষ্ট রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয় এবং তাদের নামে-বেনামে আর ও সম্পদ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে বিধায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(১) ধারা মোতাবেক সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সুপারিশ করে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করা হলো। দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে ২ কোটি ৭৬ লাখ ৬৬ হাজার ২শ টাকার স্থাবর সম্পদের মধ্যে ১৫টি রেজিস্ট্রি করা দলিলের নাম ও কেনা জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে ১০টি দলিলে ১০৩ দশমিক ৫৪৫ শতক জমি রেজাউল করিম নিজের নামে কিনেছেন। যার মূল্য তিনি দেখিয়েছেন দুই কোটি ৪৪ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৪ টাকা। রেজিস্ট্রি খরচসহ ওই জমির মূল্য দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে ২ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ২শ টাকা। অন্যদিকে ৫৮ লাখ ৫৬ হাজার টাকায় কেনা ৮৯ দশমিক ৩০ শতক জমি ৫ দলিলে রেজিস্ট্রি হয় ছেলে মোহাম্মদ সরোয়ার করিমের নামে। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে নিজের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বোয়ালিয়া মেরিন সার্ভিস অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন নামে চারটি ব্যাংক হিসাবে ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭০ টাকা জমা রয়েছে। পাশাপাশি রেজাউল করিমের নিজের নামে ২৪ লাখ টাকা মূল্যের একটি জিপ গাড়ির কথা উল্লেখ করা হয়। জানা যায়, চট্টগ্রাম ওয়াসার ভাণ্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের বোয়ালখালীর পূর্ব গোমদণ্ডী মৌজায় অধিগ্রহণের জমি অস্বাভাবিক মূল্যে হস্তান্তর করে দলিল গ্রহিতাদের বিরুদ্ধে অপ্রদর্শিত আয় প্রদর্শন করে অবৈধভাবে লাভবান হওয়াসহ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক। ২০২৩ সালের ৯ মার্চ তারিখে দুদক প্রধান কার্যালয়ের ০৪.০১.১৫০০.৬২২.০১.০৩৮.২৩.চট্ট-১/৯৫০৭ পত্রের আলোকে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক জুয়েল মজুমদারকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর রেজাউল করিম ও তার স্ত্রী সন্তানদের নামে সম্পদ আছে কিনা তা যাচাই করার জন্য অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা জুয়েল মজুমদার বিভিন্ন তপসিলি ব্যাংক, ডাক বিভাগ, বিআরটিএ, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা, বোয়ালখালী ভূমি অফিস, চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে চিঠি দেন। পরবর্তীসময়ে এসব সরকারি দপ্তর থেকে পাওয়া কাগজপত্র পর্যালোচনা করে বোয়ালখালী উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাজার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সত্যতা পায় দুদক। এরপর আরও সম্পদ আছে কি না, যাচাই করার জন্য সম্পদ বিবরণী জারির সুপারিশ করে প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাৎ বলেন, ‘বোয়ালখালী উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান একটি গোপনীয় বিষয়। এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া সম্ভব নয়। ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদের উপ-নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়ী হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম। এলাকায় তিনি ‘রাজা’ নামে পরিচিত। এর আগে ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় রেজাউল করিম তার মালিকানাধীন কৃষি জমির পরিমাণ দেখান ১০৩ দশমিক ৫৪৫ শতক। যার মূল্য তিনি দেখিয়েছেন ২ কোটি ৪৪ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৪ টাকা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রেজাউল করিম রাজা এসব জমির পুরোটাই কিনেছেন ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪ মাসের মধ্যে। ৮টি আলাদা দাগের সব জমিই বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গোমদণ্ডী মৌজায় পাশাপাশি লাগানো। বোয়ালখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মীরা পাড়া এলাকায় অবস্থান এসব কৃষিজমির। ওই জায়গায়ই হওয়ার কথা ছিল চট্টগ্রাম ওয়াসার দেড় হাজার কোটি টাকার ভাণ্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের গোমদণ্ডী অংশের ওয়াটার রিজার্ভার। যেখান থেকে পুরো বোয়ালখালী পৌরসভায় পানি সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। ওয়াসার প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, পূর্ব গোমদণ্ডী মৌজার বিএস ১৫১৮৮,১৫১৯৫ এবং বিএস ১৫২১৪,১৫২১৯ মোট ১৩ দাগে ২ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করার কথা ছিল। এর মধ্যে ৮ দাগে ১ একরের বেশি জায়গা কিনে নেন রেজাউল করিম রাজা। পাশাপাশি তার কেনা জমিগুলোর পাশেই পরবর্তীসময়ে ৫৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকায় ৪টি দলিলে ২৫ দশমিক ৪৫ শতক জমি কেনা হয় ছেলে সরোয়ার করিমের নামে। এসব কৃষিজমি পূর্ব গোমদণ্ডী এলাকায় হলেও রেজাউল করিম রাজার বাড়ি বোয়ালখালী উপজেলার একেবারে শেষপ্রান্তের শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে। এ বিষয়ে ভাণ্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম বলেন, প্রকল্পের বিষয়ে দুদক আমাদের কাছ থেকে কিছু জানতে চায়নি। জমি অধিগ্রহণটা জেলা প্রশাসন রিলেটেড। জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে জমি অধিগ্রহণ করে দেওয়া হয়। ওখানে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা আমাদের জানার কথা নয়। এর আগে তিনি বলেছিলেন, পূর্ব গোমদণ্ডী মৌজায় পানির রিজার্ভারটি করার প্রকল্প প্রস্তাবনা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে গোমদণ্ডীতে রিজার্ভার না করার সিদ্ধান্ত হয়। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসন থেকে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বাতিল করে আমাদের চিঠি দিয়েছে। বোয়ালখালী উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাজা বলেন, ‘আমার কোনো গোপন সম্পদ নেই। দুদক আমার বিষয়টি অনুসন্ধান করছে। তারা (দুদক) আমার কাছে যে যে ডকুমেন্ট চেয়েছিল,সবই জমা দিয়েছি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মহানগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার প্রজননস্থল ধ্বংসে চসিকের অভিযান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) মেয়রের নির্দেশনায় নগরের ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে বিশেষ মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের মাধ্য মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি মশার লার্ভা নিধনে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ এবং নগরবাসীকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতন করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে মশার প্রজননস্থল সৃষ্টির জন্য দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হয়।

চসিক জানিয়েছে, নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম অব্যাহত থাকবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এদিকে, নগরবাসীকে বাড়ির আঙিনা, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চসিক। বিশেষ করে ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, পুরোনো টায়ার, ডাবের খোসাসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার ও জমে থাকা পানি অপসারণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যক্রমে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মশক ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহিসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে সিটি করপোরেশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।তিনি বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নগরবাসীকেও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাড়ি, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।তিনি আরও বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমিয়ে একটি নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে চায় চসিক। এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন ভবন নির্মাণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মেধাবীদের জন্য বৃত্তি চালুর পরিকল্পনা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নাঙ্গলমোড়া শামছুল উলুম ফাজিল মাদরাসার নবনির্বাচিত গভর্নিং বডির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের শিক্ষা ও ধর্মীয় ঐতিহ্যকে ধারণ করে আধুনিক, মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সভায় অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন ভবন নির্মাণ, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, বৃত্তি ও স্কলারশিপ চালুসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় মাদরাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন নবনির্বাচিত গভর্নিং বডির সভাপতি লায়ন সালাউদ্দীন আলী। সভায় মাদরাসার অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সদস্য-সচিব অধ্যক্ষ আলহাজ্ব ছালেহ আহমাদ আনছারী, বিদ্যোৎসাহী সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মুনশী, দাতা সদস্য দিদার আলম মুনশী, অভিভাবক সদস্য রহিমউদ্দিন রতু, তাজুল ইসলাম হৃদয়, নেজামুল হক, শিক্ষক প্রতিনিধি মোহাম্মদ হোসেন, সাইফুদ্দিন ও শামসুন নাহারসহ গভর্নিং বডির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে লায়ন সালাউদ্দীন আলী বলেন, নাঙ্গলমোড়া শামছুল উলুম ফাজিল মাদরাসা এ অঞ্চলের শিক্ষা ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত। এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি বর্তমান সময়ের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলাই নতুন গভর্নিং বডির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, শুধু ভবন নির্মাণ বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি এবং মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, মাদরাসার উন্নয়নে গভর্নিং বডি এককভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। এজন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। সবার পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে মাদরাসাটিকে একটি আধুনিক ও আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা করা হবে।

সভায় মাদরাসার সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ভবন নির্মাণ, বিদ্যমান স্থাপনার রিনোভেশন ও মেইনটেন্যান্স এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উন্নত ও নিরাপদ পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

একই সঙ্গে একাডেমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, যুগোপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ফলাফল পর্যবেক্ষণ এবং তাদের সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন আরও সহজ করতে ভবিষ্যতে বৃত্তি ও স্কলারশিপ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনাও সভায় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।

মাদরাসার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে হিসাব ও নিরীক্ষা কমিটি, উন্নয়ন কমিটি, আইন-শৃঙ্খলা কমিটি এবং শিক্ষা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন কমিটি গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এসব কমিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক, আর্থিক, উন্নয়ন ও একাডেমিক কার্যক্রম আরও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা ও তদারকির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নাঙ্গলমোড়া শামছুল উলুম ফাজিল মাদরাসা স্থানীয়ভাবে ইসলামি শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। সময়ের সঙ্গে ফাজিল পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। নতুন গভর্নিং বডি সেই ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করে আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে সমন্বয় ঘটাতে চায়।

সভা শেষে মাদরাসার শিক্ষক মণ্ডলীর সঙ্গে নবনির্বাচিত গভর্নিং বডির সদস্যদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষকরা মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম, অবকাঠামোগত প্রয়োজন, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে শিক্ষকরা গভর্নিং বডির সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

পরে মাদরাসার শিক্ষকবৃন্দ নবনির্বাচিত গভর্নিং বডির সভাপতি লায়ন সালাউদ্দীন আলীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। একই সঙ্গে গভর্নিং বডির অন্যান্য সদস্যদেরও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

উল্লেখ্য, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারিকৃত অনুমোদনপত্রে নাঙ্গলমোড়া শামছুল উলুম ফাজিল মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে সালাউদ্দীন আলী এবং বিদ্যোৎসাহী প্রতিনিধি হিসেবে আবু মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়নের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

সভায় মাদরাসাটিকে একটি আধুনিক, মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। ঐতিহ্যকে ধারণ করে শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং মেধাবীদের সহযোগিতার মাধ্যমে নাঙ্গলমোড়া শামছুল উলুম ফাজিল মাদরাসাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ