চট্টগ্রামে ওয়াসার প্রকল্পে ‘লুটের ফাঁদ’ দুদকের জালে উপজেলা চেয়ারম্যান।

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম:

বানিজ্য নগরী:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ওয়াসার প্রকল্পে সরকারি জমি অধিগ্রহণে ৫ কোটি টাকা ‘লুটের ফাঁদ’ বানানো সেই উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালে ফেঁসে যাচ্ছেন। সঙ্গে নাম এসেছে তার ছেলে মোহাম্মদ সরোয়ার করিমের ও। এরই মধ্যে তাদের সম্পদ বিবরণী জারির সুপারিশ করে দুদক প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে দুদকের চট্টগ্রাম অফিস।

জানা যায়, রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ থেকে পাঠানো অনুসন্ধান প্রতিবেদনটি এরই মধ্যে প্রধান কার্যালয়ে জমা হয়েছে। দুদক প্রধান কার্যালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দুই কোটি ৬৯ লাখ ৮ হাজার ৪৩৩ টাকার অবৈধ আয়ের তথ্য পেয়েছে দুদক। দুদকের ভাষায় ওই অবৈধ আয়কে ‘জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রেজাউল করিম চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মরহুম আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি একজন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ। ১৯৮১ সালে ফার্নিচার ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ওই ব্যবসা চলমান ছিল। ১৯৯৭ সালে বালি সরবরাহ ব্যবসা শুরু করেন, যা এখনো চলমান। ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ উপ-নির্বাচনে চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।প্রতিবেদনের শেষাংশে উল্লেখ করা হয়, ‘অনুসন্ধানকালে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, রেজাউল করিম ও ছেলে মোহাম্মদ সরোয়ার করিমের নামে ২;কোটি ৭৬ লাখ ৬৬ হাজার ২শ টাকা স্থাবর সম্পদ এবং ২৮ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭০ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৩ কোটি ৫ লাখ ৬২ হাজার ৭৭০ টাকার সম্পদ রয়েছে। তিনি ৫২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পারিবারিক ব্যয়সহ অন্য ব্যয় করেছেন। ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৭ হাজার ৭৭০ টাকা। এসব সম্পদ অর্জনের বিপরীতে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯৯ হাজার ৩৩৭ টাকা। এক্ষেত্রে তার গ্রহণযোগ্য মোট আয়ের চেয়ে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৬৯ লাখ ৮ হাজার ৪৩৩ টাকা বেশি, যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। এমতাবস্থায় অভিযোগ সংশ্লিষ্ট রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয় এবং তাদের নামে-বেনামে আর ও সম্পদ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে বিধায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(১) ধারা মোতাবেক সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সুপারিশ করে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করা হলো। দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে ২ কোটি ৭৬ লাখ ৬৬ হাজার ২শ টাকার স্থাবর সম্পদের মধ্যে ১৫টি রেজিস্ট্রি করা দলিলের নাম ও কেনা জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে ১০টি দলিলে ১০৩ দশমিক ৫৪৫ শতক জমি রেজাউল করিম নিজের নামে কিনেছেন। যার মূল্য তিনি দেখিয়েছেন দুই কোটি ৪৪ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৪ টাকা। রেজিস্ট্রি খরচসহ ওই জমির মূল্য দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে ২ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ২শ টাকা। অন্যদিকে ৫৮ লাখ ৫৬ হাজার টাকায় কেনা ৮৯ দশমিক ৩০ শতক জমি ৫ দলিলে রেজিস্ট্রি হয় ছেলে মোহাম্মদ সরোয়ার করিমের নামে। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে নিজের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বোয়ালিয়া মেরিন সার্ভিস অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন নামে চারটি ব্যাংক হিসাবে ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭০ টাকা জমা রয়েছে। পাশাপাশি রেজাউল করিমের নিজের নামে ২৪ লাখ টাকা মূল্যের একটি জিপ গাড়ির কথা উল্লেখ করা হয়। জানা যায়, চট্টগ্রাম ওয়াসার ভাণ্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের বোয়ালখালীর পূর্ব গোমদণ্ডী মৌজায় অধিগ্রহণের জমি অস্বাভাবিক মূল্যে হস্তান্তর করে দলিল গ্রহিতাদের বিরুদ্ধে অপ্রদর্শিত আয় প্রদর্শন করে অবৈধভাবে লাভবান হওয়াসহ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক। ২০২৩ সালের ৯ মার্চ তারিখে দুদক প্রধান কার্যালয়ের ০৪.০১.১৫০০.৬২২.০১.০৩৮.২৩.চট্ট-১/৯৫০৭ পত্রের আলোকে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক জুয়েল মজুমদারকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর রেজাউল করিম ও তার স্ত্রী সন্তানদের নামে সম্পদ আছে কিনা তা যাচাই করার জন্য অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা জুয়েল মজুমদার বিভিন্ন তপসিলি ব্যাংক, ডাক বিভাগ, বিআরটিএ, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা, বোয়ালখালী ভূমি অফিস, চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে চিঠি দেন। পরবর্তীসময়ে এসব সরকারি দপ্তর থেকে পাওয়া কাগজপত্র পর্যালোচনা করে বোয়ালখালী উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাজার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সত্যতা পায় দুদক। এরপর আরও সম্পদ আছে কি না, যাচাই করার জন্য সম্পদ বিবরণী জারির সুপারিশ করে প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাৎ বলেন, ‘বোয়ালখালী উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান একটি গোপনীয় বিষয়। এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া সম্ভব নয়। ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদের উপ-নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়ী হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম। এলাকায় তিনি ‘রাজা’ নামে পরিচিত। এর আগে ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় রেজাউল করিম তার মালিকানাধীন কৃষি জমির পরিমাণ দেখান ১০৩ দশমিক ৫৪৫ শতক। যার মূল্য তিনি দেখিয়েছেন ২ কোটি ৪৪ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৪ টাকা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রেজাউল করিম রাজা এসব জমির পুরোটাই কিনেছেন ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪ মাসের মধ্যে। ৮টি আলাদা দাগের সব জমিই বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গোমদণ্ডী মৌজায় পাশাপাশি লাগানো। বোয়ালখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মীরা পাড়া এলাকায় অবস্থান এসব কৃষিজমির। ওই জায়গায়ই হওয়ার কথা ছিল চট্টগ্রাম ওয়াসার দেড় হাজার কোটি টাকার ভাণ্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের গোমদণ্ডী অংশের ওয়াটার রিজার্ভার। যেখান থেকে পুরো বোয়ালখালী পৌরসভায় পানি সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। ওয়াসার প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, পূর্ব গোমদণ্ডী মৌজার বিএস ১৫১৮৮,১৫১৯৫ এবং বিএস ১৫২১৪,১৫২১৯ মোট ১৩ দাগে ২ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করার কথা ছিল। এর মধ্যে ৮ দাগে ১ একরের বেশি জায়গা কিনে নেন রেজাউল করিম রাজা। পাশাপাশি তার কেনা জমিগুলোর পাশেই পরবর্তীসময়ে ৫৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকায় ৪টি দলিলে ২৫ দশমিক ৪৫ শতক জমি কেনা হয় ছেলে সরোয়ার করিমের নামে। এসব কৃষিজমি পূর্ব গোমদণ্ডী এলাকায় হলেও রেজাউল করিম রাজার বাড়ি বোয়ালখালী উপজেলার একেবারে শেষপ্রান্তের শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে। এ বিষয়ে ভাণ্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম বলেন, প্রকল্পের বিষয়ে দুদক আমাদের কাছ থেকে কিছু জানতে চায়নি। জমি অধিগ্রহণটা জেলা প্রশাসন রিলেটেড। জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে জমি অধিগ্রহণ করে দেওয়া হয়। ওখানে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা আমাদের জানার কথা নয়। এর আগে তিনি বলেছিলেন, পূর্ব গোমদণ্ডী মৌজায় পানির রিজার্ভারটি করার প্রকল্প প্রস্তাবনা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে গোমদণ্ডীতে রিজার্ভার না করার সিদ্ধান্ত হয়। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসন থেকে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বাতিল করে আমাদের চিঠি দিয়েছে। বোয়ালখালী উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাজা বলেন, ‘আমার কোনো গোপন সম্পদ নেই। দুদক আমার বিষয়টি অনুসন্ধান করছে। তারা (দুদক) আমার কাছে যে যে ডকুমেন্ট চেয়েছিল,সবই জমা দিয়েছি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে অভিযানে মিলল সাড়ে ১৪ লাখ টাকার ইয়াবা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম রেলওয়ে রেলস্টেশনে অভিযান চালিয়ে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের এক স্টুয়ার্ডের ব্যাগ থেকে ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৭। মঙ্গলবার র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, আটক মাহাবুর রহমানের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে অবস্থান নেয় র‌্যাবের একটি দল। তাদের কাছে তথ্য ছিল, কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের এক স্টুয়ার্ড ইয়াবার একটি চালান বহন করছেন। বিকেল ৪টা ২ মিনিটে ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছালে ‘জ’ বগি থেকে নামার সময় স্টুয়ার্ড মো. মাহাবুর রহমান (২০) র‌্যাব সদস্যদের দেখে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে আটক করা হয়। তিনি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার নলছিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

পরে তার সঙ্গে থাকা একটি কালো কাঁধের ব্যাগ তল্লাশি করে কালো পলিথিনে মোড়ানো ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করতে হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাহসী মানুষদের যথাযথ মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, নারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে এই ঐতিহাসিক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। তাই এই আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং শহীদ ও আহতদের সম্মান রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে নগরীর কাজীর দেউরী সেনা কল্যাণ কনভেনশন সেন্টারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ আয়োজিত শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। সঞ্চালনা করেন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ এর যুগ্ম সম্পাদক আহমদ আব্দুল্লাহ আল সাহেদ।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে ছাত্রদের সামনের সারিতে রেখে আমরা পেছন থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি। শেখ হাসিনা যাতে আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক দলের নামে আখ্যায়িত করতে না পারে, সে কারণেই এই কৌশল গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে আমরা রাজপথে ছিলাম এবং আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছি।তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধদের দেখতে এবং শহীদদের মরদেহের খোঁজ নিতে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গিয়েছি। সেই সময় চিকিৎসকরাও অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

মেয়র বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার, আহত, পঙ্গু ও দৃষ্টিশক্তি হারানো যোদ্ধাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাদের সম্মান, পুনর্বাসন ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই, তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরদের মতোই জাতির সম্মানিত আসনে অধিষ্ঠিত থাকুক।তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল করি বলে সব কৃতিত্ব আমাদের, এমন দাবি করি না। জুলাই আন্দোলন ছিল সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম। এই ঐক্যের শক্তিই স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে। এখন প্রয়োজন নতুন বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা।

নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অবাধ ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মিথ্যা ও অপপ্রচারের রাজনীতি নয়, বাস্তবভিত্তিক উন্নয়নই এখন সময়ের দাবি।চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও জলাবদ্ধতামুক্ত নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান একদিনে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মদানের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে এই গণঅভ্যুত্থানের জন্ম হয়েছে।তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদ, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনের সাহসী অংশগ্রহণকারীদের স্মৃতি অম্লান রাখতেই এ আয়োজন। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।

আবুল হাশেম বক্কর বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীরা অসংখ্য মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তারা রাজপথ ছেড়ে যাননি। সেই দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতাই শেষ পর্যন্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।অনুষ্ঠানে ১২ জন শহিদ পরিবার এবং ১১০ জন আহত জুলাই যোদ্ধাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শহিদ ফয়সাল শান্তের বাবা, আমরা জুলাই যোদ্ধা চট্টগ্রামের সভাপতি ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম আবির, স্মৃতিচারণ করেন আহত জুলাই যোদ্ধা গাজী রাসেল, ওসমান কাশেমী, মো. লিটন, সোলাইমান স্বপন। আয়োজক কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন শহিদুল ইসলাম সজীব।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ