আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে ওয়াসার প্রকল্পে ‘লুটের ফাঁদ’ দুদকের জালে উপজেলা চেয়ারম্যান।

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম:

বানিজ্য নগরী:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ওয়াসার প্রকল্পে সরকারি জমি অধিগ্রহণে ৫ কোটি টাকা ‘লুটের ফাঁদ’ বানানো সেই উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালে ফেঁসে যাচ্ছেন। সঙ্গে নাম এসেছে তার ছেলে মোহাম্মদ সরোয়ার করিমের ও। এরই মধ্যে তাদের সম্পদ বিবরণী জারির সুপারিশ করে দুদক প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে দুদকের চট্টগ্রাম অফিস।

জানা যায়, রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ থেকে পাঠানো অনুসন্ধান প্রতিবেদনটি এরই মধ্যে প্রধান কার্যালয়ে জমা হয়েছে। দুদক প্রধান কার্যালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দুই কোটি ৬৯ লাখ ৮ হাজার ৪৩৩ টাকার অবৈধ আয়ের তথ্য পেয়েছে দুদক। দুদকের ভাষায় ওই অবৈধ আয়কে ‘জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রেজাউল করিম চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মরহুম আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি একজন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ। ১৯৮১ সালে ফার্নিচার ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ওই ব্যবসা চলমান ছিল। ১৯৯৭ সালে বালি সরবরাহ ব্যবসা শুরু করেন, যা এখনো চলমান। ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ উপ-নির্বাচনে চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।প্রতিবেদনের শেষাংশে উল্লেখ করা হয়, ‘অনুসন্ধানকালে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, রেজাউল করিম ও ছেলে মোহাম্মদ সরোয়ার করিমের নামে ২;কোটি ৭৬ লাখ ৬৬ হাজার ২শ টাকা স্থাবর সম্পদ এবং ২৮ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭০ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৩ কোটি ৫ লাখ ৬২ হাজার ৭৭০ টাকার সম্পদ রয়েছে। তিনি ৫২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পারিবারিক ব্যয়সহ অন্য ব্যয় করেছেন। ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৭ হাজার ৭৭০ টাকা। এসব সম্পদ অর্জনের বিপরীতে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯৯ হাজার ৩৩৭ টাকা। এক্ষেত্রে তার গ্রহণযোগ্য মোট আয়ের চেয়ে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৬৯ লাখ ৮ হাজার ৪৩৩ টাকা বেশি, যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। এমতাবস্থায় অভিযোগ সংশ্লিষ্ট রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয় এবং তাদের নামে-বেনামে আর ও সম্পদ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে বিধায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(১) ধারা মোতাবেক সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সুপারিশ করে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করা হলো। দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে ২ কোটি ৭৬ লাখ ৬৬ হাজার ২শ টাকার স্থাবর সম্পদের মধ্যে ১৫টি রেজিস্ট্রি করা দলিলের নাম ও কেনা জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে ১০টি দলিলে ১০৩ দশমিক ৫৪৫ শতক জমি রেজাউল করিম নিজের নামে কিনেছেন। যার মূল্য তিনি দেখিয়েছেন দুই কোটি ৪৪ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৪ টাকা। রেজিস্ট্রি খরচসহ ওই জমির মূল্য দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে ২ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ২শ টাকা। অন্যদিকে ৫৮ লাখ ৫৬ হাজার টাকায় কেনা ৮৯ দশমিক ৩০ শতক জমি ৫ দলিলে রেজিস্ট্রি হয় ছেলে মোহাম্মদ সরোয়ার করিমের নামে। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে নিজের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বোয়ালিয়া মেরিন সার্ভিস অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন নামে চারটি ব্যাংক হিসাবে ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭০ টাকা জমা রয়েছে। পাশাপাশি রেজাউল করিমের নিজের নামে ২৪ লাখ টাকা মূল্যের একটি জিপ গাড়ির কথা উল্লেখ করা হয়। জানা যায়, চট্টগ্রাম ওয়াসার ভাণ্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের বোয়ালখালীর পূর্ব গোমদণ্ডী মৌজায় অধিগ্রহণের জমি অস্বাভাবিক মূল্যে হস্তান্তর করে দলিল গ্রহিতাদের বিরুদ্ধে অপ্রদর্শিত আয় প্রদর্শন করে অবৈধভাবে লাভবান হওয়াসহ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক। ২০২৩ সালের ৯ মার্চ তারিখে দুদক প্রধান কার্যালয়ের ০৪.০১.১৫০০.৬২২.০১.০৩৮.২৩.চট্ট-১/৯৫০৭ পত্রের আলোকে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক জুয়েল মজুমদারকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর রেজাউল করিম ও তার স্ত্রী সন্তানদের নামে সম্পদ আছে কিনা তা যাচাই করার জন্য অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা জুয়েল মজুমদার বিভিন্ন তপসিলি ব্যাংক, ডাক বিভাগ, বিআরটিএ, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা, বোয়ালখালী ভূমি অফিস, চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে চিঠি দেন। পরবর্তীসময়ে এসব সরকারি দপ্তর থেকে পাওয়া কাগজপত্র পর্যালোচনা করে বোয়ালখালী উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাজার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সত্যতা পায় দুদক। এরপর আরও সম্পদ আছে কি না, যাচাই করার জন্য সম্পদ বিবরণী জারির সুপারিশ করে প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাৎ বলেন, ‘বোয়ালখালী উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান একটি গোপনীয় বিষয়। এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া সম্ভব নয়। ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদের উপ-নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়ী হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম। এলাকায় তিনি ‘রাজা’ নামে পরিচিত। এর আগে ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় রেজাউল করিম তার মালিকানাধীন কৃষি জমির পরিমাণ দেখান ১০৩ দশমিক ৫৪৫ শতক। যার মূল্য তিনি দেখিয়েছেন ২ কোটি ৪৪ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৪ টাকা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রেজাউল করিম রাজা এসব জমির পুরোটাই কিনেছেন ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪ মাসের মধ্যে। ৮টি আলাদা দাগের সব জমিই বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গোমদণ্ডী মৌজায় পাশাপাশি লাগানো। বোয়ালখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মীরা পাড়া এলাকায় অবস্থান এসব কৃষিজমির। ওই জায়গায়ই হওয়ার কথা ছিল চট্টগ্রাম ওয়াসার দেড় হাজার কোটি টাকার ভাণ্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের গোমদণ্ডী অংশের ওয়াটার রিজার্ভার। যেখান থেকে পুরো বোয়ালখালী পৌরসভায় পানি সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। ওয়াসার প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, পূর্ব গোমদণ্ডী মৌজার বিএস ১৫১৮৮,১৫১৯৫ এবং বিএস ১৫২১৪,১৫২১৯ মোট ১৩ দাগে ২ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করার কথা ছিল। এর মধ্যে ৮ দাগে ১ একরের বেশি জায়গা কিনে নেন রেজাউল করিম রাজা। পাশাপাশি তার কেনা জমিগুলোর পাশেই পরবর্তীসময়ে ৫৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকায় ৪টি দলিলে ২৫ দশমিক ৪৫ শতক জমি কেনা হয় ছেলে সরোয়ার করিমের নামে। এসব কৃষিজমি পূর্ব গোমদণ্ডী এলাকায় হলেও রেজাউল করিম রাজার বাড়ি বোয়ালখালী উপজেলার একেবারে শেষপ্রান্তের শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে। এ বিষয়ে ভাণ্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম বলেন, প্রকল্পের বিষয়ে দুদক আমাদের কাছ থেকে কিছু জানতে চায়নি। জমি অধিগ্রহণটা জেলা প্রশাসন রিলেটেড। জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে জমি অধিগ্রহণ করে দেওয়া হয়। ওখানে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা আমাদের জানার কথা নয়। এর আগে তিনি বলেছিলেন, পূর্ব গোমদণ্ডী মৌজায় পানির রিজার্ভারটি করার প্রকল্প প্রস্তাবনা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে গোমদণ্ডীতে রিজার্ভার না করার সিদ্ধান্ত হয়। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসন থেকে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বাতিল করে আমাদের চিঠি দিয়েছে। বোয়ালখালী উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাজা বলেন, ‘আমার কোনো গোপন সম্পদ নেই। দুদক আমার বিষয়টি অনুসন্ধান করছে। তারা (দুদক) আমার কাছে যে যে ডকুমেন্ট চেয়েছিল,সবই জমা দিয়েছি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জামায়াতের ঘাঁটিতে ‘পুরোনোর’ সাথে ‘নতুন’র লড়াই।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-১৫ আসনটি জামায়াতে ইসলামীর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আসন্ন নির্বাচনে আসনটিতে জামায়াত-বিএনপি প্রার্থী বিরামহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।এই আসনে জামায়াত এবার প্রার্থী করেছে দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য পোড়খাওয়া রাজনীতিক শাহজাহান চৌধুরীকে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন প্রথমবারের মতো নির্বাচনি লড়াইয়ে আসা নাজমুল মোস্তফা আমিন।
ভোটের মাঠের ‘পুরনো খেলোয়াড়’ শাহাজাহান চৌধুরীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক আর নবাগত নাজমুল মোস্তফা আমিনের ধানের শীষের প্রচার চলছে সমানতালে।

প্রথমবার খেলতে নেমে তরুণ নাজমুল বাজিমাত করবেন না-কি বয়সে প্রবীণ শাহজাহানের শিরোপা অক্ষুন্ন থাকবে- লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলাফল দেখার অপেক্ষায় আছেন সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার আপামর জনসাধারণ।
এদিকে প্রচারে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার মানুষের কাছে সেই নির্যাতনের কাহিনি তুলে কাতর কণ্ঠে ভোট প্রার্থনা করছেন শাহজাহান চৌধুরী। বিভিন্ন গণসংযোগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি শাহজাহান চৌধুরী, আমি বড় মজলুম, নির্যাতিত। সময়ে সময়ে নয়টি বছর আমি কারাগারে কাটিয়েছি। আমি জেলে থাকা অবস্থায় আমার মা আমাকে ছেড়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমি বড় ছেলে হিসেবে নিজের মাকে কবরে দেওয়ার সুযোগ পাইনি। আমাদের নেতারা ফাঁসির কাষ্ঠে গিয়েছেন।

আল্লামা সাঈদীকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে। আমি রাজপথে রক্ত দিয়েছি। আমি আপনাদের দুয়ারে এসেছি। আপনারা আমাকে ফেরত দেবেন না। অতীতে যেভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আপনারা ভোট দিয়ে আমাকে জয়ী করেছিলেন, আমি আবারও আপনাদের কাছে একটি ভোট ভিক্ষা চাই। আগামীদিনে আমি নিরাপদ, শান্তির সাতকানিয়া-লোহাগাড়া গড়ে তুলব। ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তাঘাট- আপনাদের যা যা প্রয়োজন, আমি আপনাদের পাশে থাকব।

অন্যদিকে নাজমুল মোস্তফা আমিনও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরে ভোটারদের নিজের দিকে টানার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি সন্ত্রাসমুক্ত সাতকানিয়া-লোহাগাড়া গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে উভয় প্রার্থীই বিরত আছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগে গিয়ে নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, ১৬ বছর আমি রাজপথে ছিলাম।

আওয়ামী লীগ আমার ওপর অনেক জুলুম করেছে। আমি ঘরে থাকতে পারিনি। রাজনীতিতে আমার ত্যাগের জন্য দেশনায়ক তারেক রহমান আমাকে এ আসনে প্রার্থী করেছেন। সাতকানিয়া ও লোহাগাড়াবাসীর কাছে আমার আকুল আবেদন, আপনারা গত ৩৬ বছরে এখানে বিভিন্ন প্রতীকের অনেক প্রার্থীকে দেখেছেন। এবার ধানের শীষে আপনাদের ভোট চাই। সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় আমি সন্ত্রাসের কবর রচনা করব। মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারবে, কথা দিচ্ছি। উন্নত, সমৃদ্ধ, আধুনিক এলাকা গড়ার জন্য আপনারা ধানের শীষে ভোট দিন।

ভোটের মাঠের কী অবস্থা— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধানের শীষ জনগণের প্রতীক। ধানের শীষ মানেই জোয়ার, ধানের শীষ মানেই ঘূর্ণিঝড়। ইনশাল্লাহ, আমি সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার সর্বস্তরের জনগণের বিপুল সাড়া পাচ্ছি। ধানের শীষ বিপুল ভোটে জয়ী হবে বলে আমি আশাবাদী। তবে এখানে সন্ত্রাসীদের দাপট দেখতে পাচ্ছি। তারা কিছু একটা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করেছি, তারা যেন ভোটের দিনের আগেই অবৈধ অস্ত্র, লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার করে এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে।

জানা গেছে, পুরো লোহাগাড়া উপজেলা ও সাতকানিয়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৫। এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৬ হাজার ৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭০ হাজার ৯১৫ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৪ জন। নির্বাচনে প্রার্থী মাত্র তিনজন। জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী ও বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমিনের সঙ্গে প্রার্থী হিসেবে আরও আছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শরীফুল আলম চৌধুরী।

তিনবার নির্বাচন করে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও গেল ২৫ বছরে চারটি সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রামের আলোচিত নেতা শাহজাহান চৌধুরীকে। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে জরুরি অবস্থায় এবং আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরের অধিকাংশ সময়ই তাকে জেলখানায় কাটাতে হয়েছে। অর্ধশতাধিক মামলার আসামি হয়েছিলেন। কারাগারের বাইরে থাকলেও দিন কাটাতে হয়েছে লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে।

এছাড়া শাহজাহান চৌধুরী ১৯৯১ সালে তরুণ বয়সে প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) হেভিওয়েট নেতা আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হলেও বিএনপির প্রার্থী অলি আহমদের কাছে পরাজিত হন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট থেকে এ আসনে প্রার্থী করা হয়েছিল শাহজাহান চৌধুরীকে। কিন্তু অলি আহমদ ওই আসনে নির্বাচন করতে অনড় অবস্থান নেন। ফলে জোট থেকে আসনটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

অলি আহমদ ধানের শীষে এবং শাহজাহান চৌধুরী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হন। নির্বাচনে তিনি অলি আহমদকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে আনেন।কিন্তু ২০০৭ সালে এক-এগারো প্রেক্ষাপট পরবর্তী জরুরি অবস্থায় শাহজাহান চৌধুরী গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। সেই মামলায় সাজা হলে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে পারেননি। পরে অবশ্য ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে সাজা বাতিল হয়। ওই নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আরেক জামায়াত নেতা আ ন ম শামসুল ইসলাম প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন।

২০১৪ সালে ‘একতরফাভাবে’ অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়নি। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নিয়ে প্রার্থী করে আ ন ম শামসুল ইসলামকে। বিতর্কিত ওই নির্বাচনে তাকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়নি। এর ফলে ২৫ বছর পর জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন নিয়ে আবারও ভোটের মাঠে এসেছেন শাহজাহান চৌধুরী।

অন্যদিকে নাজমুল মোস্তফা আমিন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। এর আগে তিনি দক্ষিণের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৬ বছরে দলের কঠিন দুঃসময়ে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দিয়ে ও মামলা মোকাবিলায় সহযোগিতা করে তিনি দলের ভেতর গ্রহণযোগ্যতা পান বলে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
নাজমুল মোস্তফা আমিন ছাড়া চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আরও তিনজন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

এরা হলেন- চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. মহিউদ্দিন, বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন ও মুজিবুর রহমান। নাজমুলকে প্রার্থী করা হলে তিনজন ও তাদের অনুসারীরা বিদ্রোহ করেছিলেন। কিন্তু হাইকমান্ডের নির্দেশে পরবর্তী সময়ে তিনজনই নাজমুলের পক্ষে কাজ করতে সম্মত হন। বর্তমানে আসনটিতে ধানের শীষের জয়ের জন্য নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে জেসিআইয়ের বিকাশে গঠিত হবে আগামী ভবিষ্যৎ : চসিক মেয়র।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

তরুণ উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক সংগঠন জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) চট্টগ্রাম-এর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জুনায়েদ আহমেদ রাহাতকে চেইন হ্যান্ডওভারের মাধ্যমে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগরের পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু মোহনা হলে এ অনুষ্ঠানে বিদায়ী পরিষদ তাদের দায়িত্ব পালনকালে অর্জিত সফলতা ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন এবং নতুন পরিষদ ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমএ) সভাপতি মো. আমিরুল হক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য উদ্যোক্তা ইসরাফিল খসরু, চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসএম সাইফুল আলম এবং পিএইচপি ফ্যমিলির পরিচালক ও মালয়েশিয়ার অনারারী কনসাল মোহম্মদ আকতার পারভেজ বিশেষ অতিথি ছিলেন।

প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে জেসিআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের বিকাশে গঠিত হবে আমাদের আগামী ভবিষ্যৎ।
পিএইচপি ফ্যমিলির পরিচালক মোহম্মদ আকতার পারভেজ বলেন, আমি চাই, জেসিআই চট্টগ্রামে একটি বড় অফিসের ব্যবস্থা করুক। উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে তারা বরাবরের মতো উল্লেখযোগ্য অবদান রাখুক।
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জুনায়েদ আহমেদ রাহাত বলেন, জেসিআই তরুণদের সংগঠন। এর ১৪ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আশা রাখি।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে জেসিআই চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণদের নিয়ে গঠিত এই আন্তর্জাতিক সংগঠন বিভিন্ন উদ্যোক্তা, সামাজিক এবং নৈতিক নেতৃত্ব গঠনের ক্ষেত্রে কাজ করে।
নবগঠিত কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন- আইপিএলপি: গোলাম সরোয়ার চৌধুরী। প্রেসিডেন্ট জুনায়েদ আহমেদ রাহাত, সেক্রেটারি জেনারেল মঈন উদ্দিন নাহিদ, নির্বাহী সহ সভাপতি ডা. জুয়েল রহমান, আল আমিন মেহেরাজ বাপ্পি। সহ-সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন সাদ বিন মুস্তাফিজ অনিন্দো, মো. সাদেক উর রহমান সাদাফ, অনিক চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার তাইমুর আহমেদ এবং মোহাম্মদ আনাছ। কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন মুন্তাসির আল মাহমুদ।

এছাড়া অ্যাক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট টু প্রেসিডেন্ট সায়হান হাসনাত, জিএলসি শাহেদ আলী সাকি এবং লোকাল ট্রেনিং কমিশনার হিসেবে তৈয়্যবুর রহমান জাওয়াদ যুক্ত হয়েছেন।কমিটির অন্যান্য পদের মধ্যে জেসিআই ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার চেয়ারপারসন শাহাব উদ্দিন চৌধুরী, মিডিয়া ও পিআর চেয়ারপারসন ডা. নুরুল কবির মাসুম, জেসিআই ইন বিজনেস চেয়ারপারসন কাইসার হামিদ ফরহাদ এবং স্ট্রাটেজিক প্লানিং চেয়ারপারসন হিসেবে সাকিব চৌধুরীর নাম ঘোষণা করা হয়।

পরিচালক পদে আবিদ হোসেন, ফয়সাল মাহমুদ, সারিশত বিনতে নূর, মো. জিয়া উদ্দিন, মো. রবিউল ইসলাম, শেখ মোহাম্মদ উজাইর, আবদুল্লাহ আল ফরহাদ এবং কাজি আমির খসরু নিযুক্ত হয়েছেন। কমিটিতে ডিজিটাল কমিটি চেয়ার মো. নিয়াজুর রহমান চৌধুরী এবং ইভেন্ট কমিটি চেয়ার হিসেবে আশিক আমান ইতাজও স্থান পেয়েছেন।

নির্বাচনে কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেসিআই বাংলাদেশের সহসভাপতি এবং জেসিআই চিটাগং-এর ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট ইসমাইল মুন্না।
অনুষ্ঠানে জেসিআই বাংলাদেশের ন্যাশনাল গভর্নিং বডির পক্ষ থেকে ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট (ইলেক্ট) আরফিন রাফি আহমেদ, ডেপুটি ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট (ইলেক্ট) শান সাহেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেসিআই চিটাগংয়ের ২০১৭ সালের প্রেসিডেন্ট গিয়াস উদ্দিন, ২০২১ সালের প্রেসিডেন্ট টিপু সুলতান শিকদার এবং ২০২৩ সালের প্রেসিডেন্ট ও জেসিআই বাংলাদেশ ক্লাব চেয়ারপারসন রাজু আহমেদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ