আজঃ সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে পরিবহন থেকে চাঁদা নেয়ার সময় হাতেনাতে গ্রেফতার ৩০ পরিবহন চাঁদাবাজ।

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম:

বানিজ্য নগরী:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে পরিবহনে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে র‌্যাব। গ্রেফতার করা হয়েছে পরিবহন থেকে অবৈধভাবে প্রকাশ্যে চাঁদা আদায়ে জড়িত ৩০ ব্যক্তিকে। দুপুরে নগরীর পাঁচটি স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো নূরুল আবছার সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, চট্টগ্রামে পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ওঠে।

মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ৩০ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তিনি জানান, চান্দগাঁও থানাধীন কাপ্তাই রাস্তার মাথায় যাত্রীবাহী সিএনজি থেকে চাঁদা আদায়ের সময় ১৩, একই থানাধীন বালুর টাল এলাকা থেকে ৪, পাহাড়তলী থানাধীন হোটেল মেরিন সিটির সামনে থেকে যাত্রীবাহী মিনিবাস থেকে চাঁদা আদায়ের সময় ৪, আকবরশাহ ও এ কে খান মোড় থেকে ৩ এবং বায়েজিদ থানাধীন অক্সিজেন মোড় থেকে যাত্রীবাহী মিনিবাস ও টেম্পু থেকে চাঁদা আদায়কারী আরও ৬ জনসহ মোট ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৪১ হাজার ৫৬৩ টাকা উদ্ধার করা হয়।গ্রেফতারদের উদ্ধৃতি দিয়ে র‌্যাব জানিয়েছে, চান্দগাঁও থানাধীন কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় রিয়াদ এবং বখতিয়ার উদ্দিন সিকদারের নেতৃত্বে চাঁদা আদায় অবস্থায় হাতেনাতে ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা প্রতিদিন সিএনজি অটোরিকশা থেকে মাসিক ১০০০/- টাকা করে ৪লাখ টাকা আদায় করে। ওই চাঁদার অর্থ শাহেদ রানা ও আবুল হোসেন নামের ব্যক্তির কাছে জমা করতেন।

একইভাবে চান্দগাঁও থানার বালুর টাল এলাকায় রুবেল ওরফে ইয়াবা রুবেল এবং মিজানের নেতৃতে চাঁদা আদায় অবস্থায় হাতেনাতে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা প্রতিদিন ৩০ টাকা করে আনুমানিক ২০০টি ট্রাক থেকে ৬ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে। চাঁদার টাকা সবুর এবং শফিক নামে ২ ব্যক্তির কাছে জমা করতেন। পাহাড়তলী থানা এলাকায় পেয়ার আহমেদের নেতৃত্বে চাঁদা আদায় অবস্থায় চার জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারদের টমটম/সিএনজি অটোরিকশা থেকে মাসে ৮০০ টাকা করে ৮০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে। চাঁদার টাকা খলিলুর রহমান নামে এক ব্যক্তির কাছে জমা দিতেন। আকবরশাহ এবং এ কে খান মোড় এলাকায় নারায়ণ দের নেতৃত্বে চাঁদা আদায় অবস্থায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা মিনিবাস থেকে প্রতিদিন ১০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করেন। চাঁদার টাকা সমু এবং নিপু নামে দুই ব্যক্তির কাছে জমা দিতেন।

বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন অক্সিজেন মোড় এলাকায় সোহেলের নেতৃত্বে চাঁদা আদায় অবস্থায় হাতে নাতে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা মিনিবাস এবং টেম্পু থেকে মাসিক ৮০০ টাকা করে ৮০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন। চাঁদার টাকা নূরুল হক পুতু নামে এক ব্যক্তির কাছে জমা করে বলে র‌্যাবকে জানিয়েছেন। র‌্যাব জানায়, গ্রেফতার ৩০ জনের মধ্যে ১০ জনের নামে হত্যা, দস্যুতা, লুণ্ঠন, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতিসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান চবির নতুন উপাচার্য। 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান।তিনি  দীর্ঘ তিন দশকের বেশি  শিক্ষকতা, গবেষণা ও একাডেমিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে আসীন হচ্ছেন।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে  আজ সোমবার ১৬ মার্চ  এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চবির নতুন উপাচার্যের নাম ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে অধ্যাপক ড. ফোরকানকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানশি

ক্ষকতা জীবনের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার।

******************************

ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক। তিনি চবির উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি (সম্মান) ও এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৯৩ সালে একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন এবং ২০০৬ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও তাঁর রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। তিনি যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্ডিকা ধানের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ক গবেষণার ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা এবং অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিলে তেলবীজের গুণগত মান উন্নয়ন নিয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন।

এছাড়াও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিসে ভিজিটিং প্রফেসর ও গবেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল গবেষণার জন্য তিনি ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (IDB)-এর মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি লাভ করেন।

২০০৪ সালে তাঁর উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর উদ্যোগে বিভাগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ফাংশনাল জেনোমিক্স অ্যান্ড প্রোটিওমিক্স ল্যাবরেটরি (FGPL) এবং অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন স্বয়ংক্রিয় জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত গ্রিনহাউস।

 

এই ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ সিকোয়েন্সার, আরটি-পিসিআর, জিন পালসারসহ অত্যাধুনিক গবেষণা যন্ত্রপাতি রয়েছে। ফলে উদ্ভিদ টিস্যু কালচার ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, প্রোটিওমিক্স, জেনোমিক ও ট্রান্সক্রিপ্টোমিক বিশ্লেষণ, মানব ও অন্যান্য রোগের গবেষণা, মাইক্রোবায়োলজি এবং বায়োইনফরমেটিক্সসহ জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নত গবেষণা পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।

 

২০১৯ থেকে ২০২২ সালের করোনা মহামারির সময় তিনি কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কার্যক্রমে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন। ৩১ বছরের শিক্ষকতা ও গবেষণা জীবনে ড. আল-ফোরকানের প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ৫১টি। তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিভিন্ন জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জার্নাল অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস-এর প্রধান সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছেন।

গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনি ইউএসডিএ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বিসিসিটিসহ (BCCT), শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গারেই (GARE), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পসহ দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য সংস্থা থেকে ৫০টিরও বেশি গবেষণা অনুদান অর্জন করেছেন। গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে তিনি ৩৯ জন এমএস শিক্ষার্থীর থিসিস, সাতজন এম.ফিল গবেষক এবং একজন পোস্টডক্টরাল গবেষকের গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন।

এছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত আছেন। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ