অনুপ্রবেশের চেষ্টারত ৫ রোহিঙ্গাকে নাফনদীতে আটকে রেখেছে বিজিবি।

চট্টগ্রাম অফিস:

বহিবিশ্ব:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টেকনাফ উপজেলার পূর্ব ও দক্ষিণাংশের নাফনদীর ওপারে মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে বি*কট শব্দের বি*স্ফো*রণ শুনা গেলেও দুপুর ১ টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত বন্ধ ছিল বি*স্ফো*রণের শব্দ। তবে এর মধ্যে শনিবার বিকাল ৫ টায় একটি নৌকা যোগে টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ সীমান্ত দিয়ে ৫ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। তাদের নাফনদীতেই আটকে রেখেছে বিজিবি সদস্যরা।

শাহপরীরদ্বীপের নাফনদী সংলগ্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, ওই নৌকায় যে ৫ জন রয়েছে তাদের একজন নারী, অপর ৪ জন পুরুষ। যেখানে নারীটি গু*লিবি*দ্ধ। বিজিবি সদস্যরা নৌকাটি ঘীরে অবস্থান নিয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সাড়ে ৭ টা) ৫ রোহিঙ্গা নাফনদীতে ভাসমান নৌকায় অবস্থান করছেন। বিজিবি সদস্যরা তাদের ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করছেন।

শাহপরীর দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিন জানিয়েছেন, বিকালে একটি নৌকা শাহপরীর দ্বীপ জেটিতে পৌঁছে ৫ জন। এদের মধ্যে একজন নারী গু*লিবি*দ্ধ রয়েছেন। শুনা যাচ্ছে তারা নাকি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে এসেছেন।

শাহপরীর দ্বীপ জেটিতে মাছ ধরতে যাওয়া স্থানীয় যুবক রুবেল বলেন, আমরা জেটিতে বড়শি দিয়ে মাছ ধরছিলাম। এমন সময় একটি নৌকা জেটিতে পৌঁছে। নৌকায় একজন লোককে শুয়ে রাখা হয়েছে। শুনেছি তিনি গু*লিবি*দ্ধ রোহিঙ্গা নারী। পরে বিজিবি সেখানে পৌঁছে নৌকাটি ঘিরে রাখে। নৌকায় গু*লিবি*দ্ধ নারীর হাতে স্যালাইন লাগানো রয়েছে।

তবে জেটিঘাটে থাকা স্থানীয় লোকজন জানান, পাঁচ জন রোহিঙ্গা নাগরিক শাহ পরীর দ্বীপ জেটিঘাটে এসেছেন। এ পাঁচজন রোহিঙ্গা নাগরিক। তার মধ্যে স্বামী স্ত্রী দুজন। আর তিনজন নৌকার মাঝি-মাল্লা বলে দাবি করছে।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, মিয়ানমার থেকে নাফ নদী অতিক্রম করে একটি নৌকায় পাঁচজন রোহিঙ্গা এসেছেন বলে শুনেছি। এর মধ্যে একজন নাকি নারী গু*লিবি*দ্ধ রয়েছেন তবে বিজিবি তাদেরকে ঢুকতে দিচ্ছেন না।

তবে বিষয়টি নিয়ে এ পর্যন্ত বিজিবির কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ড্রোন হামলা,যুদ্ধ, ও বিমান আক্রমণের হুমকি মোকাবিলায় ভারতের আগাম প্রস্তুতি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ড্রোন হামলা , যুদ্ধ, ও বিমান আক্রমণের হুমকি মোকাবিলায় ৬০ হাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেয়ার পরিকল্পনা করেছে ভারত সরকার। পরীক্ষামূলক এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশটির ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানো হবে। এতে পারমাণবিক, রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্রের হামলার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার তৎপরতার ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে।

২৩ অক্টোবর শুক্রবার পরীক্ষামূলক এই প্রকল্পের ঘোষণা দেয়া হয়। প্রথম পর্যায়ে জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট, দিল্লিসহ ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এ কার্যক্রম চালানো হবে। প্রশিক্ষণে যুদ্ধের হুমকি সম্পর্কে সচেতনতা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষা এবং পারমাণবিক, রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্রের হামলার ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা দেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত আগস্টে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে বলেছিলেন, আগামী দিনে বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। এরপর গত শুক্রবার পরীক্ষামূলক এই প্রকল্পের ঘোষণা দেয়া হয়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি প্রথম পর্যায়ে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাস্তবায়ন করা হবে। এগুলো হলো—জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট, দিল্লি, মেঘালয়, সিকিম, আসাম, উত্তর প্রদেশ, কেরালা, কর্ণাটক ও তামিলনাড়ু।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিন দিনের একটি সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণে ৬০০ জন ‘সিভিল ডিফেন্স মাস্টার ট্রেইনার’ বা বেসামরিক প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। পরে তাদের প্রত্যেকে আরও ১০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেবেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর নির্ধারিত প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতে এসব প্রশিক্ষকের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
পরীক্ষামূলক এই প্রকল্পের ঘোষণায় একে ‘ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরিচালনাগত দক্ষতা ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ককে একত্র করে সামরিক-বেসামরিক সমন্বয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ৬০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বের মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার বিষয়টি ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়নি। বরং যুদ্ধ ও অন্যান্য সংঘাতের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির ওপরই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পারমাণবিক, রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্রের হামলার ঝুঁকি সম্পর্কেও সচেতনতা বাড়ানোর বিষয় রয়েছে।
প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারী প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে ৫০ জনকে আগামী নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে প্রশিক্ষণ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রশিক্ষণের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—হুমকি সম্পর্কে সচেতনতা, সুরক্ষা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং যোগাযোগ ও সমন্বয়।

সরকারি ঘোষণায় সম্ভাব্য হুমকির ধরন হিসেবে আধুনিক ও ‘হাইব্রিড’ যুদ্ধ, ড্রোন সম্পর্কে সচেতনতা এবং বিমান হামলার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশিক্ষণে থাকবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা, অগ্নিনিরাপত্তা, রাসায়নিক, জীবাণু, তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক (সিবিআরএন) ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা, হতাহতদের ব্যবস্থাপনা এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম।

প্রশিক্ষণের শেষ পর্যায়ে জরুরি যোগাযোগ, সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সতর্কতা, ডিজিটাল ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা, সামরিক-বেসামরিক সমন্বয় এবং ঘটনাস্থলে জরুরি কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘এই ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৬০ হাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবকের কাছে বিশেষায়িত প্রস্তুতির দক্ষতা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে। এতে উদ্যোগটির পরিধি ও কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি বাড়াতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে মহড়া আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছিল। সে সময় বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভূমিকা শেষ পর্যন্ত কী ছিল, তা স্পষ্ট না হলেও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়লে সরকার বেসামরিক নাগরিকদের ব্ল্যাকআউট চলাকালে ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দিয়েছিল।

ওই মহড়ায় স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ, বেসামরিক প্রতিরক্ষার ওয়ার্ডেন, হোম গার্ড, ন্যাশনাল ক্যাডেট কর্পস (এনসিসি), ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিমের স্বেচ্ছাসেবক, নেহরু যুব কেন্দ্র সংগঠনের সদস্য এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যুক্ত হতে বলা হয়েছিল।ভারতে ব্ল্যাকআউটসহ মহড়া এখন নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ হয়ে উঠছে। চলতি বছরের গ্রীষ্মে বিহার সরকারও এমন একটি মহড়ার আয়োজন করে। এতে পাটনা, কিশনগঞ্জ, বেগুসরাই, পূর্ণিয়া, আরারিয়া ও কাটিহার—এই ছয় জেলার কিছু এলাকায় মানুষকে বিদ্যুতের ব্যবহার বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল।

এর আগে ২০২৩ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সশস্ত্র বাহিনীকে সরকারের অর্জন প্রচারের নির্দেশ দিয়েছিল। প্রতিরক্ষা খাতে সরকারের ‘ভালো কাজগুলো তুলে ধরতে’ জনসমাগম হয় এমন স্থানে জিও-ট্যাগযুক্ত ৮২২টি ‘সেলফি পয়েন্ট’ তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল, ‘মানুষ যেন এই উদ্যোগের অংশ হওয়ার অনুভূতি পায়।

ভারতের নিকটবর্তী প্রতিবেশী দেশগুলোতে শান্তিকালীন সময়ে ব্ল্যাকআউট ও সামরিক ধাঁচের মহড়া সাধারণত হয় না। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর এ ধরনের মহড়া বন্ধ হয়ে যায়। এ অঞ্চলে বেসামরিক প্রতিরক্ষার মূল লক্ষ্য সাধারণত যুদ্ধের প্রস্তুতির পরিবর্তে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি। ঝুঁকি কমানোর কাজে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর নির্ভর করা হয়।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাইবার নিরাপত্তা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাইবার অপরাধ তদন্তে ডিজিটাল আলামত পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের জন্য চট্টগ্রামে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার উদ্বোধন করা হলেও এর কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হয়নি। ফরেনসিক ইউনিটে মাত্র ৯ জন কর্মকর্তা যোগ দিয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন। তবে সাইবার ইউনিটের প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও পদায়ন প্রক্রিয়া চলমান থাকায় কেন্দ্রটির পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাইবার অপরাধ তদন্তে ডিজিটাল আলামত পরীক্ষার জন্য ঢাকার ওপর নির্ভরতা এখনো কাটেনি। চট্টগ্রামে পূর্ণাঙ্গ সাইবার পুলিশ সেন্টার চালু হলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাইবার নিরাপত্তা বহুলাংশে নিশ্চিত হবে বলেও সূত্র মন্তব্য করেছে।

এর আগে গত ১৪ অক্টোবর নগরের খুলশী থানাধীন দামপাড়া পুলিশ লাইনের ভেতরে সিআইডি কার্যালয়ের পাশে সাইবার পুলিশ সেন্টার উদ্বোধন করা হয়। চট্টগ্রাম ও আশপাশের অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধের তদন্তে গতি আনা এবং ডিজিটাল আলামত পরীক্ষার জন্য ঢাকামুখী নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উদ্বোধনের পরও প্রয়োজনীয় জনবল ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় কেন্দ্রটির কার্যক্রম এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

জানা গেছে, সেন্টারটি পুরোদমে চালু হলে সাইবার অপরাধ তদন্তে ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণের জন্য ঢাকার ওপর নির্ভরতা একেবারে কমে আসবে। সাইবার অপরাধ তদন্তে মুঠোফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, হার্ডডিস্ক ও মেমোরি কার্ডের মতো যন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব যন্ত্রে থাকা তথ্য বিশ্লেষণ করে অপরাধের ধরন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। মুছে ফেলা তথ্যও বিশেষায়িত প্রযুক্তির সাহায্যে উদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে। এতদিন এসব আলামত পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামের তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঢাকার ওপর নির্ভর করতে হতো।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রামে স্থাপিত চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ফরেনসিক রিসেপশন, মোবাইল ফরেনসিক ল্যাব ও প্রি-ট্রিটমেন্ট ল্যাব রয়েছে। এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল আলামত গ্রহণ, পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু না হওয়ায় এর সব সক্ষমতা এখনো কাজে লাগানো যাচ্ছে না। গত সেপ্টেম্বরে নগরের খুলশী এলাকার একটি আটতলা ভবন থেকে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে মুঠোফোন ও ল্যাপটপসহ ১৭০টি ডিভাইস জব্দ করা হয়েছিল। সাইবার সুরক্ষা আইনে করা ওই মামলায় ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য জানার প্রয়োজন রয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ১ হাজার ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৯৬৭টি বিচারাধীন। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাইবার আইনে ৫০টি মামলা হয়েছে।

সাইবার পুলিশ সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, দেশের আটটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হবে। সাইবার অপরাধ শনাক্ত ও দমনে এসব ল্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হয়নি। ফরেনসিক ইউনিটের নয়জন কর্মকর্তা যোগ দিয়েছেন এবং তারা প্রাথমিকভাবে কাজ করছেন। তবে সাইবার ইউনিটের জনবল নিয়োগ ও পদায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে বলে আশা করছি। বর্তমানে যেসব কাজ আসছে, সেগুলো ঢাকার সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পন্ন করা হচ্ছে। জনবল ও প্রয়োজনীয় সেটআপ পুরোপুরি প্রস্তুত হলে চট্টগ্রামে পূর্ণাঙ্গভাবে সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে যেসব কাজ আসছে, সেগুলো ঢাকার সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পন্ন করা হচ্ছে। জনবল ও প্রয়োজনীয় সেটআপ পুরোপুরি প্রস্তুত হলে চট্টগ্রামে পূর্ণাঙ্গভাবে সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাইবার পুলিশ সেন্টারের অবকাঠামো ও পরীক্ষাগার স্থাপন ডিজিটাল অপরাধ তদন্তে স্থানীয় সক্ষমতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এর কার্যকর সুফল পেতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা এবং নিয়মিতভাবে আলামত পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে কেন্দ্রটি স্থাপনের মাধ্যমে যে দ্রুত ও স্থানীয় পর্যায়ে সাইবার অপরাধ তদন্তের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে বিলম্ব হতে পারে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ