ডায়াবেটিক হাসপাতাল ধনী, গরীব সকলকে সমভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে মেয়র এম. রেজাউল করিম চৌধুরী

চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের ৩ দিনব্যাপী ১২তম ডায়াবেটিক মেলা উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস ও ১২তম ডায়াবেটিক মেলা উপলক্ষে আজ ২৮শে ফেব্রæয়ারী থেকে ১লা মার্চ ৩ দিন ব্যাপী যুগপূর্তি ”ডায়াবেটিক মেলা” উদ্বোধন সকাল ১১ ঘটিকায় সমিতির সভাপতি অধ্যাপক জাহাঙ্গীর চৌধুরীর সভাপতিত্বে ফিতা ও কেক কেটে যুগপূর্তি মেলার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. রেজাউল করিম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সালাউদ্দিন মোঃ রেজা। শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক জাহাঙ্গীর চৌধুরী ।
স্বাহত বক্তব্যে অধ্যাপক জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন- কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নয়, শুধুমাত্র সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই মেলার আয়োজন। ২০১১ সালে ডায়াবেটিক মেলার যাত্রালগ্ন থেকে সকলের সর্বাত্মক সহযোগীতা ও প্রচারণার মাধ্যমে প্রচুর সাড়ায় অনুপ্রাণিত হয়ে হাঁটি হাঁটি পা পা করে ডায়াবেটিক মেলা ১২ বছর অর্থাৎ এক যুগ পূর্ণ করেছে। এই মেলাকে আরো বৃহদাকারে করার জন্য সরকারসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করছি। ডায়াবেটিক হাসপাতাল যেহেতু জেনারেল হাসপাতাল সেহেতু এখানে ডায়াবেটিক, নন-ডায়াবেটিক রোগীরা ¯^ল্প খরচে সকল চিকিৎসা সেবা নিতে পারেন এবং এই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মানকে আরো আধুনিকায়ন ও উন্নত করতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
মেলার উদ্বোধক ও প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ডায়াবেটিক মেলা ডায়াবেটিক রোগীদের সচেতন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কারণ এই মেলার মাধ্যমে ডায়াবেটিক রোগীরা বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অবগত হতে পারবে এবং অত্র হাসপাতালের পরিচালনা পরিষদ অত্যন্ত আন্তরিকতার সহিত মানবতার কাজের মাধ্যমে এই সমাজকে আলোকিত করছেন। এই হাসপাতাল আর্তমানবতার সেবায় ধনী, গরীব সকলকে সমভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে এই হাসপাতালের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ¯^াস্থ্যখাতে বর্তমান সরকারের সাফল্য আজ বিশ^ব্যাপী ¯^ীকৃতি লাভ করেছে। ¯^াস্থ্যসেবার অগ্রগতির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই এর তদারকি করছেন এবং সাধারণ মানুষ যাতে ¯^াস্থ্যখাত হতে প্রকৃত সেবা পায় তজ্জন্য তিনি গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসা সেবার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের ব্যুরো চীফ সালাউদ্দিন মোঃ রেজা বলেন, ডায়াবেটিক হাসপাতালে অত্যন্ত কম মূল্যে সব ধরণের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সবরকমের সুযোগ সুবিধা দিয়ে যাচ্ছেন। যদি সকলে মিলে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্যউদ্যোগ গ্রহণ করেন তাহলে অত্র হাসপাতালে একটি মেডিকেল কলেজ করা সম্ভব। যদি মেডিকেল কলেজ হয়, তাহলে এখানকার চিকিৎসকরা প্রকৃত সেবা দিতে পারবেন এবং এতদাঞ্চলে চিকিৎসা সেবার পরিধি বৃদ্ধি পাবে।
আরো বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নূরুল মোস্তফা টিনু, কাউন্সিলর মোঃ ইলিয়াস, সমিতির সহ-সভাপতি আলহাজ¦ এস এম শওকত হোসেন, মিসেস আবিদা মোস্তফা, যুগ্ম সম্পাদক মোঃ শাহনেওয়াজ, ইঞ্জিনিয়ার জাবেদ আবছার চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ এস.এম জাফর, নির্বাহী সদস্য প্রিন্সিপাল লায়ন মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, মোঃ শহীদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, হাসপাতাল ডাইরেক্টর ডাঃ নওশাদ আজগার চৌধুরী এবং আদর্শ সচেতন ডায়াবেটিক রোগী শেখ মোঃ মহিউদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ৫ জন আদর্শ সচেতন ডায়াবেটিস রোগীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
মেলার ২য় ও ৩য় দিনের কর্মসূচী
আগামীকাল মেলার ২য় দিন সকাল ৯টায় ডায়াবেটিক সেমিনার ও হেলথ ক্যাম্প মেডিসিন, গাইনী ও প্রসূতি এবং ১লা মার্চ সমাপনী দিন সকাল ৮টায় হেলথ ক্যাম্প চর্ম ও যৌন রোগ ও বিকাল ৩টায় চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা, সচেতনমূলক কুইজ প্রতিযোগীতা, সাংষ্কৃতিক ও পুরষ্কার বিতরণী এবং সমাপনী অনুষ্ঠান ।

(

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সবার সহযোগিতায় নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমী উপলক্ষে নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত প্রতিমা নিরঞ্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নগরীর পূজা উদযাপন কমিটি, সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। উৎসবের সার্বিক পরিবেশ সুন্দর রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ ও মতবিনিময় করা হয়েছে। সবার আন্তরিকতা ও সহযোগিতার কারণেই উৎসবটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এ জন্য তিনি পূজা উদযাপন কমিটি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবক, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নাগরিক সেবা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, চলাচলের উপযোগী সড়ক এবং উৎসবস্থলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা। দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান, বিদ্যুৎ ও আলোকসজ্জাসংক্রান্ত ব্যবস্থা সমন্বয়, সড়ক সংস্কার এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। নাগরিকদের ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবগুলো যাতে স্বস্তি ও আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন তার দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট রয়েছে।

মেয়র আরও বলেন, চট্টগ্রাম ঐতিহাসিকভাবেই বহুধর্মীয় সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের নগরী। এখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি বসবাস করছেন। একে অপরের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই এই সামাজিক বন্ধন আরও শক্তিশালী হয়। একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উৎসবকে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের আনন্দের অংশ করে নিতে পারলে পারস্পরিক আস্থা বাড়বে এবং সামাজিক বিভাজন কমবে।

তিনি আরও বলেন, দুর্গোৎসবের সফল সমাপ্তি আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতা সারা বছর বজায় রাখতে হবে। ধর্মীয় উৎসবের বাইরেও নগরীর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জননিরাপত্তা এবং নাগরিক দায়িত্ব পালনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সিটি কর্পোরেশন ও নগরবাসীর মধ্যে অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় হলে চট্টগ্রামকে একটি শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে মেয়র বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটলেও সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মানবিকতার চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। সব ধর্মের মানুষের নিরাপদে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ভবিষ্যতেও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

এসময় অধ্যাপক অর্পন কান্তি ব্যানার্জীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট নিখিল নাথ। প্রোগ্রাম পরিচালনা করেন অঞ্জন দত্ত। বক্তব্য রাখেন:ক্যাপ্টেন শামীম, ডা:নুরুল আবসার, বিপ্লব দে পার্থ, সৌরভ প্রিয় পাল, আশুতোষ দে, বিপ্লব সেন, সূজন কুমার শীল। উপস্থিত ছিলেন রত্নাকর দাশ টুনু, শ্রী প্রকাশ দাশ অসিত, হিল্লোল সেন উজ্জ্বল, নটু চৌধুরী, সুকান্ত মহাজন টুটুল,, প্রিয়তোষ ঘোষ রতন,প্রিয়তোবল, রিপন রায় চৌধুরী, অধ্যাপক অসীম দে, শ্যামল চৌধুরী, রাজন দাশ, অসিক দত্ত, চন্দন পালিত, অয়ন ধর, রাসেল দত্ত, উত্তম কুমার শীল, লিটন চৌধুরী, সৈকত মহাজন সাজু, সুজন কুমার শীল, সুজন শীল প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে চট্টগ্রামে চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের অবস্থান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ঘিরে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় নগরের লালখান বাজারে ফ্লাইওভারের মুখে অবস্থান নেন তারা। এ সময় চাকরিতে পুনর্বহালসহ ন্যায্য দাবি পূরণে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ব্যাংকিং খাতে দায়িত্ব পালনের পর কোনো প্রকার ন্যায়বিচার ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই তাদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ফলে তারা ও তাদের পরিবার বর্তমানে আর্থিক ও সামাজিক সংকটে পড়েছে।

চাকরি হারিয়ে তাদের অনেকেই অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন জানিয়ে তারা বলেন, পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসার খরচ ও অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া বয়স বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে কোথাও চাকরি পাওয়ার সুযোগও সংকুচিত হয়ে এসেছে। এই দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও অর্থসংকটের মধ্যে পড়ে ইতিমধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।

কর্মসূচীতে অংশ নেওয়া চাকরিচ্যুত ব্যাংকাররা আরও জানান, দীর্ঘদিন ব্যাংকিং সেবায় নিয়োজিত থাকার পর হুট করে চাকরি হারিয়ে এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করতে হচ্ছে। নিজেদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে এবং কর্মস্থলে পুনর্বহালের জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হলে তারা আবারও মর্যাদার সঙ্গে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাবেন বলে প্রত্যাশা তাদের।

চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের এই দাবি অবশ্য নতুন নয়। এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভায় হলুদ রঙের টি-শার্ট উঁচিয়ে তারা নিজেদের দাবি তুলে ধরেছিলেন। ওই দিন সকালেও নগরের হোটেল রেডিসন ব্লুর সামনে অবস্থান নিয়ে তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালান তারা।

চাকরিচ্যুত ব্যাংকার ইলিয়াস হোসেন বলেছিলেন, তাদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যেন বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেন, সেই প্রত্যাশা থেকেই তারা সেখানে এসেছেন বলে জানান তিনি।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ