চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবর্ধিত হলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত মমতা’র প্রধান নির্বাহী রফিক আহামদ

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মমতা’র প্রধান নির্বাহী আলহাজ রফিক আহামদ সমাজসেবায় একুশে পদকে ভূষিত হওয়ায় উষ্ণ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে বুধবার ৬ মার্চ দুপুরে পিএইচপি ভিআইপি লাউঞ্জে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সালাহ্উদ্দিন মো. রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রফিক আহামদ একজন মানবিক মানুষ। নানা মানবিক কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে তিনি সমাজকে আলোকিত করেছেন। ঠাঁই করে নিয়েছেন সকলের হৃদয়ে। নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন বলে রাষ্ট্র তাঁকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদকে ভূষিত করেছে। এটি চট্টগ্রামবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের। মা ও শিশুস্বাস্থ্য, সমাজের পশ্চাৎপদ মানুষের উন্নয়ন, গৃহহীণ মানুষদের আবাসস্থল তৈরি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি’সহ দেশ গঠনে রয়েছে তাঁর বিশেষ ভূমিকা। তাঁর নানামুখী কর্মকান্ড আমাদের জন্য অনুকরণীয়।
সভাপতির বক্তব্যে সালাহউদ্দিন মো. রেজা বলেন, রফিক আহামদ দীর্ঘদিন ধরে সমাজ উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রবীণ বয়সেও তিনি থেমে নেই। আজীবন মানবসেবার ব্রত নিয়ে তাঁর পথচলা। ¯^ার্থহীনভাবে কাজ করে গেলো কোনোকিছু বিফলে যায় না। রফিক আহামদের একুশে পদক প্রাপ্তির মধ্যদিয়ে তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। সমাজকল্যাণে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবকে সাথে নিয়ে নিজে কাজ করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করায় তার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। চট্টগ্রামের সাংবাদিকরাও তাঁর কল্যাণমূলক কাজে পাশে থাকবে।
স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক বলেন, সমাজে গুণীজনের কদর না হলে গুণীজনের জন্ম হয় না। কাজের স্বীকৃতি না পেলে কাজ করার উদ্দীপনা তৈরি হয় না। সমাজসেবায় রফিক আহামদকে একুশে পদক প্রদান করে রাষ্ট্র একজন যথার্থ ব্যক্তিকে সম্মানিত করেছে। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্যের এই অর্জনে দেশের সাংবাদিক সমাজ গর্বিত ও আনন্দিত।
সংবর্ধনার জবাবে আলহাজ রফিক আহামদ বলেন, পৃথিবীতে মানুষের জন্ম ভোগ-বিলাসের জন্য নয়। মানুষের কল্যাণের মাধ্যমে চেষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনই মানুষের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। কান্নার মধ্যদিয়ে একজন শিশুর পৃথিবীতে আসা। আর হাসতে হাসতে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে পারাটাই হচ্ছে মানুষের জীবনের সার্থকতা। পারিবারিকভাবে সৃষ্ট এই উপলব্দিই হচ্ছে আমার সকল কাজের মূল প্রেরণা। পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষ একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। কারো সহযোগিতা ছাড়া এককভাবে কিছু করা সম্ভব নয়। তাই একে অপরের পাশে থেকে সহযোগিতা করা আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
তিনি আরো বলেন, সমাজের জন্য কতটুকু করেছি আমি জানি না। তবে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানবসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই। একুশে পদকে ভূষিত করে রাষ্ট্র আমার ওপর আরো বেশি দায়িত্ব অর্পণ করেছে। এই পদকের জন্য মনোনীত হয়ে আনন্দের পাশাপাশি আমার মধ্যে উদ্বেগও সৃষ্টি করেছে। কারণ পদকে ভূষিত হয়ে আমার দায়বদ্ধতা আরো বেড়েছে বলে আমি মনে করি। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের কল্যাণমুখী কর্মকান্ডে নিজেকে নিয়োজিত রাখার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছি।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক শহীদুল্লাহ শাহরিয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের কার্যকরী সদস্য জসীম চৌধুরী সবুজ, দৈনিক নয়াবাংলা সম্পাদক জেড এম এনায়েতউল্লাহ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত, মুহাম্মদ শামসুল হক, জাহেদুল করিম কচি, মমতা’র উপ-প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ ফারুক ও পরিচালক তৌহিদ আহমেদ। আলহাজ রফিক আহামদের জীবনচরিত তুলে ধরেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খোরশেদুল আলম শামীম।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি মনজুর কাদের মনজু, ক্রীড়া সম্পাদক এম সরওয়ারুল আলম সোহেল, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক আল রাহমান, কার্যকরী সদস্য মো. আইয়ুব আলী, মমতা’র সহকারী প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ শাহারিয়ার ও সিনিয়র জনসংযোগ অফিসার মুহাম্মদ মনির হোসাইন এবং প্রেস ক্লাবের স্থায়ী-অস্থায়ী সদস্যসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পরিচ্ছন্নতাকে কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে : ডিসি জাহিদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ শুধু প্রশাসন বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের একার প্রচেষ্টায় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি পরিচ্ছন্নতাকে সাময়িক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিকদের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক জানান, গত ২৫ জুলাই থেকে জেলায় ধারাবাহিকভাবে এ কার্যক্রম চলছে। প্রথম দিনে ৬ হাজার ২২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অংশগ্রহণে সরকারি অফিস ও প্রাঙ্গণ থেকে প্রায় ১৩৫ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। আজকের অভিযানে জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সের পাশাপাশি চাঁদগাঁও ও পটিয়ার বিভিন্ন স্থানেও পরিচ্ছন্নতা চালানো হয়েছে।

প্রায় ১৬ একর ৩৮ শতক জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা ‘মিনি বাংলাদেশ’ খ্যাত জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সকে দর্শনার্থীবান্ধব করতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো সংস্কারে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংস্কার কাজ শুরু করবে।
অভিযানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, সিএমপি কমিশনারসহ জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদউল্লাহ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।

চট্টগ্রামে বাসা থেকে হিজড়াদের ‘গুরুমা’ মৌসুমীর লাশ উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে নিজ বাসা থেকে হিজড়া সম্প্রদায়ের এক নেত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর খুলশী থানার আমবাগান রেলওয়ে কলোনি সংলগ্ন হিজড়া কলোনি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার নাম মোহাম্মদ মহসীন ওরফে মৌসুমী হিজড়া। প্রাথমিকভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। ৫২ বছরের মৌসুমী হিজড়া চট্টগ্রামে বসবাসরত হিজড়া সম্প্রদায়ের একটি গ্রুপের কাছে ‘গুরুমা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হিজড়া কমিউনিটির লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তারা হত্যার বিচার দাবি করে বিক্ষোভও করেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোহাম্মদ নাসিম জানালেন, মৌসুমী বাসায় একা থাকতেন। সকালে প্রতিবেশীরা ঘুম থেকে উঠে তার বাসার দরজা খোলা দেখতে পান। পরে শয়নকক্ষে বিছানার ওপর তাকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। পরে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এসআই নাসিম জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। মৌসুমীর গলায় গুরুতর জখমের চিহ্ন আছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জানা গেছে, মৌসুমীর বাসার পেছনে একটি গরুর খামার আছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) খামারের একটি গরু বিক্রি করা হয়। গরু বিক্রির টাকা তার কাছে ছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। ওই টাকা ও তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে গরু বিক্রির টাকা লুটের জন্যই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে প্রতিবেশী কয়েকজন জানিয়েছেন, রাত প্রায় ২টা পর্যন্ত মৌসুমী তাদের সঙ্গে গল্প করেন। এরপর তিনি ঘুমাতে যান। পাশের কক্ষের বাসিন্দারা তার বাসার সামনে এক জোড়া জুতা দেখতে পান। ভোররাতের দিকে ওই বাসা থেকে বাকবিতণ্ডার শব্দও শুনতে পান তারা। তবে কলোনির কারও সঙ্গে কথা বলছেন মনে করে তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। সকাল ১০টা পর্যন্ত মৌসুমী ঘুম থেকে না ওঠায় প্রতিবেশীরা তাকে ডাকতে যান। এ সময় তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম জানিয়েছেন, নিহত মৌসুমী হিজড়া সম্প্রদায়ের একজন নেতা ছিলেন। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে ওসি জানান।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ