আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবর্ধিত হলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত মমতা’র প্রধান নির্বাহী রফিক আহামদ

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মমতা’র প্রধান নির্বাহী আলহাজ রফিক আহামদ সমাজসেবায় একুশে পদকে ভূষিত হওয়ায় উষ্ণ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে বুধবার ৬ মার্চ দুপুরে পিএইচপি ভিআইপি লাউঞ্জে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সালাহ্উদ্দিন মো. রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রফিক আহামদ একজন মানবিক মানুষ। নানা মানবিক কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে তিনি সমাজকে আলোকিত করেছেন। ঠাঁই করে নিয়েছেন সকলের হৃদয়ে। নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন বলে রাষ্ট্র তাঁকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদকে ভূষিত করেছে। এটি চট্টগ্রামবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের। মা ও শিশুস্বাস্থ্য, সমাজের পশ্চাৎপদ মানুষের উন্নয়ন, গৃহহীণ মানুষদের আবাসস্থল তৈরি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি’সহ দেশ গঠনে রয়েছে তাঁর বিশেষ ভূমিকা। তাঁর নানামুখী কর্মকান্ড আমাদের জন্য অনুকরণীয়।
সভাপতির বক্তব্যে সালাহউদ্দিন মো. রেজা বলেন, রফিক আহামদ দীর্ঘদিন ধরে সমাজ উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রবীণ বয়সেও তিনি থেমে নেই। আজীবন মানবসেবার ব্রত নিয়ে তাঁর পথচলা। ¯^ার্থহীনভাবে কাজ করে গেলো কোনোকিছু বিফলে যায় না। রফিক আহামদের একুশে পদক প্রাপ্তির মধ্যদিয়ে তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। সমাজকল্যাণে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবকে সাথে নিয়ে নিজে কাজ করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করায় তার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। চট্টগ্রামের সাংবাদিকরাও তাঁর কল্যাণমূলক কাজে পাশে থাকবে।
স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক বলেন, সমাজে গুণীজনের কদর না হলে গুণীজনের জন্ম হয় না। কাজের স্বীকৃতি না পেলে কাজ করার উদ্দীপনা তৈরি হয় না। সমাজসেবায় রফিক আহামদকে একুশে পদক প্রদান করে রাষ্ট্র একজন যথার্থ ব্যক্তিকে সম্মানিত করেছে। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্যের এই অর্জনে দেশের সাংবাদিক সমাজ গর্বিত ও আনন্দিত।
সংবর্ধনার জবাবে আলহাজ রফিক আহামদ বলেন, পৃথিবীতে মানুষের জন্ম ভোগ-বিলাসের জন্য নয়। মানুষের কল্যাণের মাধ্যমে চেষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনই মানুষের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। কান্নার মধ্যদিয়ে একজন শিশুর পৃথিবীতে আসা। আর হাসতে হাসতে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে পারাটাই হচ্ছে মানুষের জীবনের সার্থকতা। পারিবারিকভাবে সৃষ্ট এই উপলব্দিই হচ্ছে আমার সকল কাজের মূল প্রেরণা। পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষ একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। কারো সহযোগিতা ছাড়া এককভাবে কিছু করা সম্ভব নয়। তাই একে অপরের পাশে থেকে সহযোগিতা করা আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
তিনি আরো বলেন, সমাজের জন্য কতটুকু করেছি আমি জানি না। তবে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানবসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই। একুশে পদকে ভূষিত করে রাষ্ট্র আমার ওপর আরো বেশি দায়িত্ব অর্পণ করেছে। এই পদকের জন্য মনোনীত হয়ে আনন্দের পাশাপাশি আমার মধ্যে উদ্বেগও সৃষ্টি করেছে। কারণ পদকে ভূষিত হয়ে আমার দায়বদ্ধতা আরো বেড়েছে বলে আমি মনে করি। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের কল্যাণমুখী কর্মকান্ডে নিজেকে নিয়োজিত রাখার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছি।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক শহীদুল্লাহ শাহরিয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের কার্যকরী সদস্য জসীম চৌধুরী সবুজ, দৈনিক নয়াবাংলা সম্পাদক জেড এম এনায়েতউল্লাহ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত, মুহাম্মদ শামসুল হক, জাহেদুল করিম কচি, মমতা’র উপ-প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ ফারুক ও পরিচালক তৌহিদ আহমেদ। আলহাজ রফিক আহামদের জীবনচরিত তুলে ধরেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খোরশেদুল আলম শামীম।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি মনজুর কাদের মনজু, ক্রীড়া সম্পাদক এম সরওয়ারুল আলম সোহেল, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক আল রাহমান, কার্যকরী সদস্য মো. আইয়ুব আলী, মমতা’র সহকারী প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ শাহারিয়ার ও সিনিয়র জনসংযোগ অফিসার মুহাম্মদ মনির হোসাইন এবং প্রেস ক্লাবের স্থায়ী-অস্থায়ী সদস্যসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীতে সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীতে এক রাতে দুই কৃষকের সেচপাম্পের ৪ টি ট্রান্সফরমারের খোলস ফেলে ভেতরের যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার রাতের কোনো এক সময় উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের নির্মল দে’র ৩ টি ও শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নের জৈষ্টপুরা ৯ নং ওয়ার্ডের কৃষক মাদল চৌধুরীর ১টি ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যায়।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে সেখানকার ১টি বিদ্যুতের খুঁটিতে তার, পাম্পে মোটর ও অন্যান্য সামগ্রী থাকলেও নেই ট্রান্সফরমার। আরেকটিতে ৩ টির মধ্যে ২টি ট্রান্সফরমার খুটিতে থাকলেও ১টি নাই। পৃথক দুটি স্থানে পড়ে আছে ট্রান্সফরমারের খোলস, নেই ভেতরের যন্ত্রাংশ।

ভুক্তভোগী ককৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য ভারাম্বা খালের আমুচিয়া ও জৈষ্টপুরা অংশে দুটি মোটরচালিত বৈদ্যুতিক সেচপাম্প দিয়ে ওই এলাকার মনতলা কালি বিল, আন্ধার বিল ও জৈষ্টপুরা এলাকার কুমার গাতা বিলে অন্তত ২০০ কানি জমির চাষাবাদ করা হয়।

বোরো মৌসুম শেষ হলে প্রতি বছরের মতো গত এক মাস আগে ১৭/৫/২৬ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে ট্রান্সফরমার নামিয়ে দেওয়ার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কতৃপক্ষকে বলা হয়েছে। এতোদিন ধরে না নামানোর কারণে ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। সরকারি খরচে ট্রান্সফরমার স্থাপনের দাবি জানান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নির্মল দে ও মাদল চৌধুরী।

চুরির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) স ম মিজানুর রহমান বলেন, বিভিন্ন কাজের চাপে যথাসময়ে খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার নামানো না হলেও চুরি প্রতিরোধে গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে সচেতন করা হচ্ছে। এছাড়া সেচ ও কলকারখানার ট্রান্সফরমার চুরি হলে গ্রাহককে নিজ খরচে তা স্থাপন করার বিধান আছে। প্রতিটি পাঁচ কেভিএ ধারণসম্পন্ন ট্রান্সফরমারের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

ঠাকুরগাঁওয়ে আহত নিহতদের মাঝে চেক বিতরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও জেলায় বিভিন্ন স্থানেসড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ নিহত ও আহত ৭ টি পরিবারের মাঝে চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেল এর আয়োজনে এই চেক বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম ফেরদৌস, ঠাকুরগাঁও বিআরটি এর সহকারী পরিচালক ইঞ্জি: মোহাম্মদ আলী আহসান মিলন, মোটরযান পরিদর্শক মাফুজ রানা, উচ্চমান সহকারী রুস্তম আলীসহ অন্যান্যরা।সেখানে সাতটি পরিবারের মাঝে ২১ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ