আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে করণীয় শীর্ষক আলোচনা

ডেস্ক নিউজ:

যেন দ্রব্যমূল্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন মুহুরী বলেছেন, সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে, যেন দ্রব্যমূল্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে। সামনে রমজান আসছে, এ রমজানে যেন মানুষ ক্ষমতার মধ্যে থাকে, সে জন্য সরকারের চেষ্টার পাশাপাশি সকলেরই সহযোগিতা প্রয়োজন। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ আমাদের কাছে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে রোজার আগে ব্যবসায়ীরা যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহযোগিতা করে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন যেমন কাজ করবে, তেমনি আমাদের যে ব্যবসায়ী সমিতি আছে তারাও যদি সঠিকভাবে কাজ করে তাহলে দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা সম্ভব। এছাড়া অন্য যেসব সমস্যা আছে সেগুলো নিয়ে সরকার কাজ করছে।তিনি আরো বলেন, আমরা যদি ধর্মীয় আচরণের ব্যাপারে একটু মনোযোগী হই, তাহলে এ মজুদদারী থাকে না ও অতিরিক্ত মুনাফার বিষয়টিও থাকে না। বিশেষ করে রমজান মাসে। রমজান সংযমের সময়। আমরা যেন সব ক্ষেত্রে অর্থাৎ ব্যবসায়ী, ক্রেতাসহ সকলেই যেন সংযম করি।

প্রবীণ সাংবাদিক মো: ইসকান্দর আলী চৌধুরীর সভাতিত্বে, কামরুল হুদা ও নজরুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখন দেশ জগতের সম্পাদক কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী, আলোচনা করেন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড: সুকান্ত ভট্টচার্য্য। তিনি বলেন, সরকার প্রধান যথেষ্ট আন্তরিক। আমাদের সকলকে সৎ হতে হবে। বর্তমান সরকারের অর্জনগুলো আমাদেরকে মূল্যায়ন করতে হবে।স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাসহ দেশের মহৎ এবং বৃহৎ অর্জনসমূহ আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগ সরকারের হাত ধরেই অর্জিত হয়েছে। আমাদেরকে সৎ হতে হবে। সৎ সাহস নিয়ে প্রতিবাদ করতে হবেএ অন্যায়কে অন্যায় বলার সৎ সাহস থাকতে হবে। কেউ অন্যায্য কাজ করলে, কেউ দুর্নীতি করলে, সকলে মিলে তাকে বয়কট করতে হবে, তার কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে। সবার আগে নিজের ঘর ঠিক করতে হবে। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী গড়ে তুলেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক এস এম নছরুল কদির বলেন, নিত্যপণ্যের দামের বর্তমান লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সব স্তরের মানুষ ভোগান্তিত পড়লেও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য তা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। গরীব আছে সংকটে আর মধ্যবিত্তরা দিশেহারা। জীবনযাত্রার ব্যয় সংকুলান করার কোনো পথ তারা খুঁজে পাচ্ছে না। আমাদের দেশে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায় কারণে অকারণে। কোনো একটি অজুহাত পেলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বাড়িয়ে দেয়া হয়। কখনও রোজা, কখনও ঈদ বা কখনও জাতীয় বাজেট ঘোষণার কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করা এক নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই অশুভ প্রবণতা লক্ষ করে আসছি আমাদের সেই ছোটবেলা থেকে এবং আজও সেই একই ধারা অব্যাহত আছে। বরং বলা যায় যে সেই প্রবণতা এখন বেড়ে গেছে মাত্রাতিরিক্ত হারে।

বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ, সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি, যমুনা টিভির ব্যুরোচীফ জামসেদ চৌধুরী, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ ড: মুহাম্মদ সানাউল্লাহ, ফুলকলি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক এম এ সবুর, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক স. উ. ম. আবদুস সামাদ,নাগরিক ফোরামের মহাসচিব কামাল উদ্দিন, বিশিষ্ট কলামিস্ট অধ্যাপক মাসুম চৌধুরী, সাংবাদিক সজল চৌধুরী, কবি কামরুল ইসলাম, দৈনিক আমাদের বাংলার সহ-সম্পাদক এস এ এম নুর হোসাইন, তৃণমূল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান দীপক পালিত, বিএনপি নেত্রী জান্নাতুল নাঈম চৌধুরী রিকু, প্রজন্ম চট্টগ্রামের প্রধান নির্বাহী চৌধুরী জসীমুল হক।

হামদ পরিবেশন করেন সিনিয়র শিক্ষক মো: মাহবুবুল আলম, গান পরিবেশন করেন লুপর্না মুৎসুদ্দি, কবিতা আবৃত্তি করেন সুলতান আহমদ ও সোমা মুৎসুদ্দী।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নিউজগার্ডেন যাদেরকে স্বীকৃতি প্রদান করেন তারা হলেন মুক্তিযুদ্ধে বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ, মরণোত্তর মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সিরাজুল মোস্তফা, মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইলিয়াছ, প্রশাসনিক কর্মকান্ডে ব্যবস্থাপনাগত দ¶তার চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজ’র প্রধান শি¶ক মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, হেকিমি চিকিৎসাশাস্ত্রে অবদান’র জন্য হাকীম শাহজাদা ইজাজউদ্দীন মুহাম্মদ আজীম খান, সামাজিক ব্যক্তিত্বের জন্য এম এ এন্টারপ্রাইজ’র ম্যানেজিং পার্টনার মোহাম্মদ মনচুর আলী, সাংবাদিকতার জন্য যমুনা টেলিভিশনের ব্যুরো চীফ জামসেদ চৌধুরী, সমাজের বিভিন্ন কর্মকান্ডে অবদানের জন্য আল আমিন হাশেমী ইঞ্জিনিয়ারীং ওর্য়া·ের এমডি সৈয়দ মোহাম্মদ এমরান, সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তার ¯^ীকৃতি ¯^রূপ মো: খোরশেদ আলম, বাংলালুক ডিজিটাল এজেন্সির সিইও রোটারিয়ান ফরহাদুল ইসলাম, সূফী জগৎ প্রচার প্রসারে অবদান রাখার জন্য কুসুম আকতর মাইজভান্ডারী।

উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম সাদা, বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী, সাংবাদিক মো: আবদুল নুর চৌধুরী, সাইফুর রহমান সাইফুল, মো: আবু হেনা খোকন, আয়মন ওসমান, অমল কান্তি চৌধুরী, আবির হাসান ইফতি, সংগঠক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, মো: মুসলিম সিকদার, সমাজ কর্মী রফিকুল ইসলাম মোর্শেদ, মো: রিদুয়ানুল হায়দার, মো: ছরওয়ার কামাল, মো: আরিফুল কবীর, মো: জাকির হোসেন, কনজ কুমার শীল, রোজী চৌধুরী, সমীর পাল, গিয়াস উদ্দিন, মো: হোসাইন মুন্না, মো: তসলিম, শ্যামল দাশ, মো: সরোয়ার কামাল, মো: জাবেদ হোসেন চৌধুরী, এনজিটিভির ফটিকছড়ি প্রতিনিধি এ. কে. এম. নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, ইমরান সোহেল, হারুনর রশিদ, মোহাম্মদ হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মো: এমরান, আরাফাত আল করিম রিমন, বেবী দাশ মজুমদার নুপুর, মো: মিজানুর রহমান, আমেনা বেগম, ইয়াছমিন আকতার, এস এম শাহানাছ আকতার, এস এম শাহীন আকতার, সৈয়দা শাহনু পারভীন, সৈয়দা শাহনাজ আখতার ফেরদৌসী, জেসমিন আকতার মুক্তা, শহর বানু, সানজিদা আলম, হোসনে আরা বেগম, রুবি আকতার, মনু আকতার, জাহানারা, বানু, মো. আলি আহাম্মদসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার গুঁড়া দুধ আমদানি করে : প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রেড চিটাগাং ক্যাটল (আরসিসি)-এর গুরুত্ব তুলে ধরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, লাল গরুর দেশ চট্টগ্রাম। দুধ হয়তো কিছুটা কম দেয়, কিন্তু মাংসের দিক থেকে এবং জাতগত বৈশিষ্ট্যে রেড চিটাগাং ক্যাটলের তুলনা পৃথিবীর কোথাও নেই। তাই এই জাত সংরক্ষণ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। উপদেষ্টা বুধবার সকালে কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এ কে এগ্রো এন্ড ডেইরি হাব সংলগ্ন মাঠে “চট্টগ্রাম অঞ্চলে ডেইরি খাতের উন্নয়ন: সম্ভাবনা ও করণীয়” -শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপষ্টো বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে গুঁড়া দুধ আমদানি করে। এই টাকা যদি দেশীয় দুধ উৎপাদন বাড়াতে ব্যয় করা হয়, তাহলে আমদানির প্রয়োজন কমবে। গুঁড়া দুধ তরল দুধে ভেজালের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। তাই আমাদের শপথ নিতে আমদানি কমিয়ে দেশীয় তরল দুধের উৎপাদন বাড়াতে হবে।

বিদ্যুৎ বিল ও ভর্তুকি প্রসঙ্গে উপষ্টো বলেন, ব্যাপক আলোচনা ও প্রচেষ্টার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্প খাতে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল রেয়াত এবং ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া সম্ভব হয়েছে। এটি প্রাথমিক উদ্যোগ হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। তিনি খামারি নিবন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, নিবন্ধন ছাড়া প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব নয়। অনলাইনে নিবন্ধন হলে সব তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাবে এবং নীতিনির্ধারণ সহজ হবে।

উপদেষ্টা বলেন, প্রাণিসম্প ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি)-এর মাধ্যমে খামারিরা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, পিজি গ্রুপ গড়ে উঠেছে এবং অনেকের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে ডেইরি কার্যক্রম। তিনি বলেন, অনেকে বলছেন, লাভ-ক্ষতির হিসাব না করেও এটি এখন তাদের জীবনের অংশ। এর মানে ভবিষ্যতে এখান থেকেই তারা টেকসইভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।
নারীরে উদ্দেশে তিনি বলেন, দুধ শুধু উৎপানের পরিসংখ্যান নয়-মানুষ কতটা দুধ গ্রহণ করছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য দুধ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যা হাড়ের রোগ ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে সহায়ক।

এলডিডিপি’র মাধ্যমে স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, স্কুলে দুধ সরবরাহ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দরিদ্র ও শহুরে শিশুদের জন্য যা কার্যকর উদ্যোগ। তিনি বলেন, বাংলাশে তরুণদের দেশ। ডেইরি ইন্ডাস্ট্রিতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। আমরা সংগ্রামী জাতি-দেশের উন্নয়নের জন্য এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

সেমিনারে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাশে ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মিজ শাহীনা ফেরদৌসী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (কৃত্রিম প্রজনন) মোঃ শাহজামান খান তুহিন, পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. বেগম শামছুননাহার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (পরিচালক) ডা. মোঃ আতিয়ার রহমান এবং এ কে এগ্রো এন্ড ডেইরি ফার্মের পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেইন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোঃ বয়জার রহমান। এছাড়া এলডিডিপিথর আওতায় ডেইরি হাব কার্যক্রম: বাস্তবায়ন, অগ্রগতি ও সম্ভাবনা শীর্ষক উপস্থাপনা ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করেন প্রকল্প পরিচালক ডা. মোঃ মোস্তফা কামাল।

চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জামায়াতের ঘাঁটিতে ‘পুরোনোর’ সাথে ‘নতুন’র লড়াই।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-১৫ আসনটি জামায়াতে ইসলামীর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আসন্ন নির্বাচনে আসনটিতে জামায়াত-বিএনপি প্রার্থী বিরামহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।এই আসনে জামায়াত এবার প্রার্থী করেছে দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য পোড়খাওয়া রাজনীতিক শাহজাহান চৌধুরীকে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন প্রথমবারের মতো নির্বাচনি লড়াইয়ে আসা নাজমুল মোস্তফা আমিন।
ভোটের মাঠের ‘পুরনো খেলোয়াড়’ শাহাজাহান চৌধুরীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক আর নবাগত নাজমুল মোস্তফা আমিনের ধানের শীষের প্রচার চলছে সমানতালে।

প্রথমবার খেলতে নেমে তরুণ নাজমুল বাজিমাত করবেন না-কি বয়সে প্রবীণ শাহজাহানের শিরোপা অক্ষুন্ন থাকবে- লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলাফল দেখার অপেক্ষায় আছেন সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার আপামর জনসাধারণ।
এদিকে প্রচারে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার মানুষের কাছে সেই নির্যাতনের কাহিনি তুলে কাতর কণ্ঠে ভোট প্রার্থনা করছেন শাহজাহান চৌধুরী। বিভিন্ন গণসংযোগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি শাহজাহান চৌধুরী, আমি বড় মজলুম, নির্যাতিত। সময়ে সময়ে নয়টি বছর আমি কারাগারে কাটিয়েছি। আমি জেলে থাকা অবস্থায় আমার মা আমাকে ছেড়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমি বড় ছেলে হিসেবে নিজের মাকে কবরে দেওয়ার সুযোগ পাইনি। আমাদের নেতারা ফাঁসির কাষ্ঠে গিয়েছেন।

আল্লামা সাঈদীকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে। আমি রাজপথে রক্ত দিয়েছি। আমি আপনাদের দুয়ারে এসেছি। আপনারা আমাকে ফেরত দেবেন না। অতীতে যেভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আপনারা ভোট দিয়ে আমাকে জয়ী করেছিলেন, আমি আবারও আপনাদের কাছে একটি ভোট ভিক্ষা চাই। আগামীদিনে আমি নিরাপদ, শান্তির সাতকানিয়া-লোহাগাড়া গড়ে তুলব। ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তাঘাট- আপনাদের যা যা প্রয়োজন, আমি আপনাদের পাশে থাকব।

অন্যদিকে নাজমুল মোস্তফা আমিনও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরে ভোটারদের নিজের দিকে টানার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি সন্ত্রাসমুক্ত সাতকানিয়া-লোহাগাড়া গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে উভয় প্রার্থীই বিরত আছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগে গিয়ে নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, ১৬ বছর আমি রাজপথে ছিলাম।

আওয়ামী লীগ আমার ওপর অনেক জুলুম করেছে। আমি ঘরে থাকতে পারিনি। রাজনীতিতে আমার ত্যাগের জন্য দেশনায়ক তারেক রহমান আমাকে এ আসনে প্রার্থী করেছেন। সাতকানিয়া ও লোহাগাড়াবাসীর কাছে আমার আকুল আবেদন, আপনারা গত ৩৬ বছরে এখানে বিভিন্ন প্রতীকের অনেক প্রার্থীকে দেখেছেন। এবার ধানের শীষে আপনাদের ভোট চাই। সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় আমি সন্ত্রাসের কবর রচনা করব। মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারবে, কথা দিচ্ছি। উন্নত, সমৃদ্ধ, আধুনিক এলাকা গড়ার জন্য আপনারা ধানের শীষে ভোট দিন।

ভোটের মাঠের কী অবস্থা— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধানের শীষ জনগণের প্রতীক। ধানের শীষ মানেই জোয়ার, ধানের শীষ মানেই ঘূর্ণিঝড়। ইনশাল্লাহ, আমি সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার সর্বস্তরের জনগণের বিপুল সাড়া পাচ্ছি। ধানের শীষ বিপুল ভোটে জয়ী হবে বলে আমি আশাবাদী। তবে এখানে সন্ত্রাসীদের দাপট দেখতে পাচ্ছি। তারা কিছু একটা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করেছি, তারা যেন ভোটের দিনের আগেই অবৈধ অস্ত্র, লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার করে এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে।

জানা গেছে, পুরো লোহাগাড়া উপজেলা ও সাতকানিয়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৫। এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৬ হাজার ৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭০ হাজার ৯১৫ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৪ জন। নির্বাচনে প্রার্থী মাত্র তিনজন। জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী ও বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমিনের সঙ্গে প্রার্থী হিসেবে আরও আছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শরীফুল আলম চৌধুরী।

তিনবার নির্বাচন করে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও গেল ২৫ বছরে চারটি সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রামের আলোচিত নেতা শাহজাহান চৌধুরীকে। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে জরুরি অবস্থায় এবং আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরের অধিকাংশ সময়ই তাকে জেলখানায় কাটাতে হয়েছে। অর্ধশতাধিক মামলার আসামি হয়েছিলেন। কারাগারের বাইরে থাকলেও দিন কাটাতে হয়েছে লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে।

এছাড়া শাহজাহান চৌধুরী ১৯৯১ সালে তরুণ বয়সে প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) হেভিওয়েট নেতা আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হলেও বিএনপির প্রার্থী অলি আহমদের কাছে পরাজিত হন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট থেকে এ আসনে প্রার্থী করা হয়েছিল শাহজাহান চৌধুরীকে। কিন্তু অলি আহমদ ওই আসনে নির্বাচন করতে অনড় অবস্থান নেন। ফলে জোট থেকে আসনটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

অলি আহমদ ধানের শীষে এবং শাহজাহান চৌধুরী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হন। নির্বাচনে তিনি অলি আহমদকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে আনেন।কিন্তু ২০০৭ সালে এক-এগারো প্রেক্ষাপট পরবর্তী জরুরি অবস্থায় শাহজাহান চৌধুরী গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। সেই মামলায় সাজা হলে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে পারেননি। পরে অবশ্য ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে সাজা বাতিল হয়। ওই নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আরেক জামায়াত নেতা আ ন ম শামসুল ইসলাম প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন।

২০১৪ সালে ‘একতরফাভাবে’ অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়নি। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নিয়ে প্রার্থী করে আ ন ম শামসুল ইসলামকে। বিতর্কিত ওই নির্বাচনে তাকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়নি। এর ফলে ২৫ বছর পর জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন নিয়ে আবারও ভোটের মাঠে এসেছেন শাহজাহান চৌধুরী।

অন্যদিকে নাজমুল মোস্তফা আমিন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। এর আগে তিনি দক্ষিণের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৬ বছরে দলের কঠিন দুঃসময়ে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দিয়ে ও মামলা মোকাবিলায় সহযোগিতা করে তিনি দলের ভেতর গ্রহণযোগ্যতা পান বলে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
নাজমুল মোস্তফা আমিন ছাড়া চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আরও তিনজন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

এরা হলেন- চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. মহিউদ্দিন, বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন ও মুজিবুর রহমান। নাজমুলকে প্রার্থী করা হলে তিনজন ও তাদের অনুসারীরা বিদ্রোহ করেছিলেন। কিন্তু হাইকমান্ডের নির্দেশে পরবর্তী সময়ে তিনজনই নাজমুলের পক্ষে কাজ করতে সম্মত হন। বর্তমানে আসনটিতে ধানের শীষের জয়ের জন্য নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ