আজঃ বুধবার ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

ফিলিস্তিনিরা ওপেন-এয়ার কারাগারে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ফিলিস্তিন বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর ফ্রাঁসেসকা আলবানিজ বলেছেন, ফিলিস্তিনে মৌলিক মানবাধিকারকে পদদলিত করছে ইসরাইল। তারা গণহারে মানুষকে জেলে পাঠিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ফির্লিস্তিনকে একটি ‘ওপেন-এয়ার কারাগারে’ পরিণত করেছে। তারা যা করছে তা যুদ্ধাপরাধ। এই অপরাধ তদন্তের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদেরকে অব্যাহতভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নজরদারি করা হচ্ছে। দখলীকৃত ভূখ-ে ৫৬ বছর ধরে প্রতিরোধ সৃষ্টি করে রেখেছে ইসরাইল। নতুন এক রিপোর্টে এসব কথা বলেছেন আলবানিজ। ওই রিপোর্টে তিনি আরও বলেছেন, ১৯৬৭ সালের পর থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুসহ কমপক্ষে ৮ লাখ ফিলিস্তিনিকে তারা গ্রেপ্তার করেছে। কর্তৃত্ববাদী শাসনের অধীনে তাদেরকে আটকে রেখেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এই কর্তৃত্ববাদী শাসন কার্যকর করা হয়েছে। তারা বিচার করছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আরব নিউজ। রিপোর্টে আলবানিজ আরও বলেন, ১৬০টি শিশু সহ কমপক্ষে ৫ হাজার ফিলিস্তিনি এখন আটক আছেন ইসরাইলের হাতে। তার মধ্যে ১১০০ ফিলিস্তিনিকে আটকে রাখা হয়েছে কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়া। আরও বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদেরকে তাদের সুরক্ষায় মৌলিক নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। মত প্রকাশ, সমাবেশে যোগ দেয়া, রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার মতো ঠুনকো কারণে খেয়ালখুশিমতো আটক করা হয় ফিলিস্তিনিদের। ইসরাইলিরা ধরেই নেয় ফিলিস্তিনিরা অপরাধী। এক্ষেত্রে তাদের কাছে কোনো তথ্যপ্রমাণ থাকে না। এ অবস্থায়ই কোনো পরোয়ানা ছাড়া তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ বা বিচার ছাড়া আটকে রাখে। ইসরাইলি হেফাজতে নিয়ে তাদের ওপর চালানো হয় নৃশংসতা। সোমবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে জাতিসংঘ সদর দফতরে এ রিপোর্ট প্রকাশ করেন ফ্রাঁসেসকা আলবানিজ। এ সময় তিনি বলেন, ইসরাইলি দখলদারিত্বের অধীনে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ফিলিস্তিনিরা পর্যায়ক্রমিকভাবে স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের জীবন ও মৌলিক মানবিক অধিকার চর্চার কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, ইসরাইলি দখলদারিত্বের কয়েক দশকে ফিলিস্তিনিরা যেসব সহিংস কর্মকা- করেছেন তা তিনি প্রশ্রয় দেন না। বেশির ভাগ দোষী অভিযুক্ত হয়েছেন আন্তর্জাতিক আইন লংঘনের মধ্য দিয়ে। এর ফলে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের ন্যায়বিচারের প্রশাসনিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। দখলদারিত্বের বিরোধিতায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ, ইরাইলি সেনাবাহিনী এবং বসতি স্থাপনকারীদের সুরক্ষা, ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য গণহারে মানুষকে কারাবন্দি করা হয়েছে। ফ্রাঁসেসকা আলবানিজ আরও বলেন, ফিলিস্তিনিদেরকে সামষ্টিকভাবে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখে ইসরাইল। এ জন্য যারা মৌলিক অধিকার চর্চা করে তাদেরকে শাস্তি দেয়ার জন্য কুখ্যাত সেনা নির্দেশ ব্যবহার করছে। এসব পদক্ষেপকে পুরো একটি জনগোষ্ঠীকে দমিয়ে রাখার হাতিয়ার বানানো হয়েছে। ফিলিস্তিনিদেরকে নিজেদের অধিকার চর্চা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বর্ণবাদকে জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। শক্তি প্রয়োগ করে ভূখ- দখল করা হচ্ছে। এই রিপোর্টে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় জেলে ফিলিস্তিনিরা যে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকারে পরিণত হয়েছেন তার বিস্তৃত উদাহরণসহ প্রামাণ্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে নির্যাতন, নোংরা ও গাদাগাদি করে সেলে আটকে রাখা, ঘুম এবং খাবার থেকে বঞ্চিত রাখা, চিকিৎসা না দেয়া, ভয়াবহ এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রহার এবং সব রকম অসদাচরণ। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ১৯৯২ সাল থেকে ফিলিস্তিনিদের এসব বিষয় আমলে নিয়েছে জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ অন আরবিট্রারি ডিটেনশন। তারা বার বার ব্যাপক ও পর্যায়ক্রমে স্বাধীনতা বঞ্চিত রাখাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বলে এসেছে। মানবাধিকারের ভয়াবহ লঙ্ঘনের জন্য ইসরাইলি কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন ফ্রাঁসেসকা আলবানিজ। এসব অপরাধ যুদ্ধাপরাধ। এ অপরাধ তদন্তের জন্য তিনি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের (আইসিসি) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরাইলের দখলদারিত্ব ও ফিলিস্তিনের ভূখ- দখল করে তা সম্প্রসারণের ক্রমবর্ধমান উদ্যোগকে স্বীকৃতি এবং সহায়তা না দিতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের বাধ্যবাধকতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সনদের অধীনে বিদ্যমান সব কূটনৈতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে এই পরিস্থিতির ইতি ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। আইন লংঘনের জন্য যারা দায়ী তাদের বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যাপক এবং পর্যায়ক্রমে খেয়ালখুশিমতো ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠী দখলদারিত্বকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেয়া আরেকটি বর্ণবাদী আচরণ। অবিলম্বে এর ইতি ঘটা উচিত। আরব নিউজ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দেশে শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান।


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশে শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সকল ধর্মের অনুসারীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে চট্টগ্রামে নগরে আয়োজিত এক ‘আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সম্মিলনে’। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব’র জুলাই-বিপ্লব স্মৃতি হলে “পরিবর্তনশীল বিশ্বে ধর্মসাম্যের প্র‍য়োজনীয়তা ও ধর্মগ্রন্থসমূহে এর দিক নির্দেশনা” শিরোনামে সম্মিলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, বিশ্বসমাদৃত ‘ত্বরিকা-ই-মাইজভাণ্ডারীয়া’-র প্রতিষ্ঠাতা গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.) এর জন্ম দ্বিশতবার্ষিকী ও মহান ১০ মাঘ ১২০তম পবিত্র উরস শরিফ উদযাপনের অংশ হিসেবে তাঁর মহান অসাম্প্রদায়িক মতাদর্শ প্রতিপালনে নিবেদিত প্রতিষ্ঠান শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারি ট্রাস্টের (এস জেড এইচ এম) সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ১৩তম আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সম্মিলনের আয়েজন করেছে মাইজভান্ডারি একাডেমি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনের মাননীয় সাংসদ জনাব আবু সুফিয়ান এম.পি।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “সকল ধর্মের মর্মবাণী হচ্ছে, দেশপ্রেম, শান্তি ও মানব কল্যাণ। ইসলাম ধর্মের অনুসারী হিসেবে বলব ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা যাবে না। প্রত্যেক ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহনশীল হতে ইসলাম শিক্ষা দেয়। সমাজে মানবিক সাম্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। উৎপীড়ন ও প্রতিহিংসা, সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে যারা সমাজকে, মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করতে চায়, প্রতিষ্ঠিত করতে চায় কুশাসন, তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠা করাই আন্তঃধর্মীয় সম্প্রতি সম্মিলনের অন্তর্নিহিত তাগিদ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্প্রতি সম্মিলনে আলোচক হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের সুপারনিউম্যারারি প্রফেসর অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পাঁচরিয়া তপোবন আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী রবীশ্বরান্দপুরী মহারাজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবুল হোসাইন, চট্টগ্রাম ক্যাথিড্রাল প্যারিসের সহকারী পাল পুহিত ফাদার রুপক আইজেক রোজারিও এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার জনাব শশাঙ্ক বরণ রায়।

আলোচনায় বৌদ্ধতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. সকোমল বড়ুয়া বলেন,বর্তমান পৃথিবীর অস্থিরতার প্রধান কারণ হচ্ছে সহিংসতা, ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা, বিশ্বশক্তি কিংবা আগ্রাসন মনোবৃত্তি লালন করা। তাই আজ সর্বপ্রথম প্রয়োজন সকল সম্প্রদায়ের মন থেকে এ চারটি কুধারণা অপসারণ করা। দেহ ছাড়া মনের আশ্রয় যেমন কল্পনা করা যায় না, তেমনি নীতি বা ধর্ম ছাড়া সমাজ জীবনের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিন্তা অর্থহীন। দুই মেরুতে দুটি অবস্থান করলেও উভয়ের সমন্বয়ে বাংলাদেশে একটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতামুক্ত, শ্রেণি বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে গড়ে উঠবে।

শ্রীমৎ স্বামী রবীশ্বরান্দপুরী মহারাজ বলেন, “দুঃখের বিষয় হলো এত ধর্মীয় চেতনায় সব ধর্মের সহাবস্থান এর কথা স্বীকৃত থাকলেও বিদ্বেষপূর্ণ ভাভ ধারার কোন পরিবর্তন হয়নি। দুঃখের সাথে আজ তা স্বীকার করতে হয়। আজ সমগ্র বিশ্বে ন্যায়বোধ, প্রীতিবোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ, সংযমবোধ, সহিষ্ণুতা, মানবতা ও শৃংখলার বড়ই দুর্ভিক্ষ। ধর্ম আচরণ পদ্ধতি ভিন্ন হলেও প্রতিটি মানুষের লক্ষ ও গন্তব্য কিন্তু এক ও অভিন্ন।”

ড. মুহাম্মদ আবুল হোসাইন বলেন, “প্রায় সকল ধর্ম গ্রন্থই ন্যায়পরায়ণতা, সততা, দয়া ও পরোপকারের মতো সার্বজনিন নৈতিক গুণাবলির উপর জোর দেয়। এই সাধারণ নৈতিক ভিত্তি বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগীতার পথ সুগম করে ধর্মগ্রন্থগুলো প্রায়ই ঈশ্বর বা দিব্যসত্তার সামনে সকল মানুষের সমান মর্যাদার কথা ঘোষণা করে, যা আন্তঃধর্মিক, আন্তঃসাংস্কৃতিক সম্মানের ভিত্তি তৈরি করে।
উচ্চারক আবৃত্তি কুঞ্জ’র নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ শাহ হোসাইনের সঞ্চালনায় সম্প্রতি সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারি (ক.) ট্রাস্টের সচিব অধ্যাপক এ ওয়াই এমডি জাফর।

শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ট্রাস্ট এর মাননীয় ম্যানেজিং ট্রাস্টি হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী এর বাণী পাঠ করেন এস জেড এইচ এম ট্রাস্ট এর গবেষণা সহকারী জনাব সাইদুল ইসলাম সাইদু। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন হাফেজ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসনাইন, গীতাপাঠ করেন অধ্যাপক শ্রী স্বদেশ চক্রবর্তী, ত্রিপিটক পাঠ করেন ভদন্ত এম বোধি মিত্র ভিক্ষু, বাইবেল পাঠ করেন পাস্টর রিপন রায়। হামদ পরিবেশন করেন সৈয়দ সামিউল হক ফরহাদাবাদী এবং মাইজভান্ডারি সংগীত পরিবেশন করেন মাইজভান্ডারি মরমী গোষ্ঠীর সিনিয়র সদস্য সৈয়দ জাবের সরওয়ার।

ট্রাম্পেরব মন্তব্যকে অসংলগ্ন অনুপযুক্ত এবং কুরুচিপূর্ণ বলেছেন জশওয়াল


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেয়ার করা একটি পোস্টের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে অসংলগ্ন অনুপযুক্ত এবং কুরুচিপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছে।

গত বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার আইন নিয়ে একটি দীর্ঘ পডকাস্ট শেয়ার করেন। সেখানে অভিযোগ করা হয়, ভারত ও চীনের মতো দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে আসে সন্তান জন্ম দিতে। একই সঙ্গে তারা প্রযুক্তিখাত দখল করে নিচ্ছে ও শ্বেতাঙ্গ মার্কিনিদের কর্মসংস্থান নষ্ট করছে।

ওই পোস্টে আপত্তিকর ভাষায় বলা হয়, জন্মের পর একটি শিশু তাৎক্ষণিক নাগরিক হয়ে যায়। তারপর চীন, ভারত বা গ্রহের অন্য কোনো ‘জাহান্নাম’ থেকে তাদের পুরো পরিবারকে নিয়ে আসে।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এট প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শেয়ার করা এই মন্তব্যগুলো স্পষ্টতই তথ্যহীন এবং সুরুচিহীন। এটি ভারত-মার্কিন সম্পর্কের প্রকৃত প্রতিফলন নয়, যা দীর্ঘকাল ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেতা আমি বেরা এই পোস্টটিকে ‘আপত্তিকর ও অজ্ঞতাসূচিত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন-প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতো মানুষ, যিনি সম্পদ ও বিলাসিতার মধ্যে বড় হয়েছেন- তিনি কোনোদিন অভিবাসী পরিবারের সংগ্রাম বুঝতে পারবেন না।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ