আজঃ রবিবার ১৪ জুন, ২০২৬

ফিলিস্তিনিরা ওপেন-এয়ার কারাগারে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ফিলিস্তিন বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর ফ্রাঁসেসকা আলবানিজ বলেছেন, ফিলিস্তিনে মৌলিক মানবাধিকারকে পদদলিত করছে ইসরাইল। তারা গণহারে মানুষকে জেলে পাঠিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ফির্লিস্তিনকে একটি ‘ওপেন-এয়ার কারাগারে’ পরিণত করেছে। তারা যা করছে তা যুদ্ধাপরাধ। এই অপরাধ তদন্তের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদেরকে অব্যাহতভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নজরদারি করা হচ্ছে। দখলীকৃত ভূখ-ে ৫৬ বছর ধরে প্রতিরোধ সৃষ্টি করে রেখেছে ইসরাইল। নতুন এক রিপোর্টে এসব কথা বলেছেন আলবানিজ। ওই রিপোর্টে তিনি আরও বলেছেন, ১৯৬৭ সালের পর থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুসহ কমপক্ষে ৮ লাখ ফিলিস্তিনিকে তারা গ্রেপ্তার করেছে। কর্তৃত্ববাদী শাসনের অধীনে তাদেরকে আটকে রেখেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এই কর্তৃত্ববাদী শাসন কার্যকর করা হয়েছে। তারা বিচার করছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আরব নিউজ। রিপোর্টে আলবানিজ আরও বলেন, ১৬০টি শিশু সহ কমপক্ষে ৫ হাজার ফিলিস্তিনি এখন আটক আছেন ইসরাইলের হাতে। তার মধ্যে ১১০০ ফিলিস্তিনিকে আটকে রাখা হয়েছে কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়া। আরও বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদেরকে তাদের সুরক্ষায় মৌলিক নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। মত প্রকাশ, সমাবেশে যোগ দেয়া, রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার মতো ঠুনকো কারণে খেয়ালখুশিমতো আটক করা হয় ফিলিস্তিনিদের। ইসরাইলিরা ধরেই নেয় ফিলিস্তিনিরা অপরাধী। এক্ষেত্রে তাদের কাছে কোনো তথ্যপ্রমাণ থাকে না। এ অবস্থায়ই কোনো পরোয়ানা ছাড়া তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ বা বিচার ছাড়া আটকে রাখে। ইসরাইলি হেফাজতে নিয়ে তাদের ওপর চালানো হয় নৃশংসতা। সোমবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে জাতিসংঘ সদর দফতরে এ রিপোর্ট প্রকাশ করেন ফ্রাঁসেসকা আলবানিজ। এ সময় তিনি বলেন, ইসরাইলি দখলদারিত্বের অধীনে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ফিলিস্তিনিরা পর্যায়ক্রমিকভাবে স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের জীবন ও মৌলিক মানবিক অধিকার চর্চার কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, ইসরাইলি দখলদারিত্বের কয়েক দশকে ফিলিস্তিনিরা যেসব সহিংস কর্মকা- করেছেন তা তিনি প্রশ্রয় দেন না। বেশির ভাগ দোষী অভিযুক্ত হয়েছেন আন্তর্জাতিক আইন লংঘনের মধ্য দিয়ে। এর ফলে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের ন্যায়বিচারের প্রশাসনিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। দখলদারিত্বের বিরোধিতায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ, ইরাইলি সেনাবাহিনী এবং বসতি স্থাপনকারীদের সুরক্ষা, ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য গণহারে মানুষকে কারাবন্দি করা হয়েছে। ফ্রাঁসেসকা আলবানিজ আরও বলেন, ফিলিস্তিনিদেরকে সামষ্টিকভাবে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখে ইসরাইল। এ জন্য যারা মৌলিক অধিকার চর্চা করে তাদেরকে শাস্তি দেয়ার জন্য কুখ্যাত সেনা নির্দেশ ব্যবহার করছে। এসব পদক্ষেপকে পুরো একটি জনগোষ্ঠীকে দমিয়ে রাখার হাতিয়ার বানানো হয়েছে। ফিলিস্তিনিদেরকে নিজেদের অধিকার চর্চা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বর্ণবাদকে জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। শক্তি প্রয়োগ করে ভূখ- দখল করা হচ্ছে। এই রিপোর্টে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় জেলে ফিলিস্তিনিরা যে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকারে পরিণত হয়েছেন তার বিস্তৃত উদাহরণসহ প্রামাণ্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে নির্যাতন, নোংরা ও গাদাগাদি করে সেলে আটকে রাখা, ঘুম এবং খাবার থেকে বঞ্চিত রাখা, চিকিৎসা না দেয়া, ভয়াবহ এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রহার এবং সব রকম অসদাচরণ। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ১৯৯২ সাল থেকে ফিলিস্তিনিদের এসব বিষয় আমলে নিয়েছে জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ অন আরবিট্রারি ডিটেনশন। তারা বার বার ব্যাপক ও পর্যায়ক্রমে স্বাধীনতা বঞ্চিত রাখাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বলে এসেছে। মানবাধিকারের ভয়াবহ লঙ্ঘনের জন্য ইসরাইলি কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন ফ্রাঁসেসকা আলবানিজ। এসব অপরাধ যুদ্ধাপরাধ। এ অপরাধ তদন্তের জন্য তিনি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের (আইসিসি) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরাইলের দখলদারিত্ব ও ফিলিস্তিনের ভূখ- দখল করে তা সম্প্রসারণের ক্রমবর্ধমান উদ্যোগকে স্বীকৃতি এবং সহায়তা না দিতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের বাধ্যবাধকতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সনদের অধীনে বিদ্যমান সব কূটনৈতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে এই পরিস্থিতির ইতি ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। আইন লংঘনের জন্য যারা দায়ী তাদের বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যাপক এবং পর্যায়ক্রমে খেয়ালখুশিমতো ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠী দখলদারিত্বকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেয়া আরেকটি বর্ণবাদী আচরণ। অবিলম্বে এর ইতি ঘটা উচিত। আরব নিউজ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ফুটবল বিশ্বকাপ -২০২৬ শুভ সূচনায় মেক্সিকোর চমক


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ২-০ গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। তিনটি লাল কার্ডে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে কার্যত ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা আর কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। নবম মিনিটেই স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস। পঞ্চাশ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সিথোলে পেনাল্টি বক্সের মাথায় ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। এর ফলে ১০ জনের দলে নেমে যায় সফরকারীরা।এরপর ছেষট্টি মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল হিমিনেজ। এক গোল পেছনে পড়ে এবং একজন কম নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াই তখন আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

চুরাশি মিনিটে আরও একবার লাল কার্ড দেখে বিপদ বাড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ফাউল করে মাঠ ছাড়েন থেম্বা জেওয়ানে। যোগ করা সময়ের দুই মিনিটে লাল কার্ড দেখেন মেক্সিকোর সেজার মন্তেস, ফলে ম্যাচে মোট তিনটি লাল কার্ড দেখা যায়।শেষ পর্যন্ত দুই গোলের জয় নিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে মেক্সিকো।

ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন অভিন্ন: ভারতীয় নতুন হাইকমিশনার ত্রিবেদী


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও মজবুত হবে
বলেছেন-ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।দুই দেশের মানুষের গণতন্ত্রের স্বপ্ন অভিন্ন।বৃহস্পতিবার ১১ জুন কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতিবিজড়িত নেতাজি ভবনে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ কেবল ভৌগোলিক সীমান্তের মাধ্যমে সংযুক্ত নয়, বরং দুই দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাও একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের যে স্বপ্ন,একই স্বপ্ন বাংলাদেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষেরও।

দুই দেশের ১৬০ কোটি মানুষের কল্যাণে যা প্রয়োজন, সেই লক্ষ্য অর্জনে একযোগে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শ ও দুই দেশের জনগণের সমর্থন ও আশীর্বাদ তাঁদের পথচলায় শক্তি জোগাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু সীমান্তের মাধ্যমে সংযুক্ত নই। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের সঙ্গেও আমরা যুক্ত। আমাদের স্বপ্ন অভিন্ন, গণতন্ত্রের অভিন্ন স্বপ্ন। তাই শুধু ভারতের ১৪০ কোটি মানুষই নয়, আমি এর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ২০ কোটি মানুষকে যোগ করি। ১৬০ কোটি মানুষের জন্য যা ভালো, আমি নিশ্চিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, এই দেশের মানুষ এবং বাংলাদেশের মানুষ আমাকে আশীর্বাদ করবেন, যাতে আমরা একসঙ্গে থাকতে পারি এবং যা অর্জন করতে যাচ্ছি, তাতে সফল হতে পারি।

শুক্রবার ঢাকায় আসার সময় ভার‌তের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর স‌ঙ্গে তার স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদীও ঢাকায় আস‌বেন। বাংলা‌দে‌শে ভার‌তের নতুন হাইক‌মিশনার হি‌সে‌বে গত এপ্রিলের শে‌ষ দি‌কে আনুষ্ঠা‌নিকভা‌বে দেশটির সাবেক রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ