আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা:

ফটিকছড়িতে দুই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন।

মাসুদুল ইসলাম মাসুদ ফটিকছড়ি প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিভিন্ন জল্পনা কল্পনা, উদ্বেগ উৎকন্ঠা পেরিয়ে সুন্দর ও সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হয় ফটিকছড়ির ২ টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শেষ হয়।
এই দুই টি ইউনিয়ন হল ২১ নং খিরাম ইউনিয়ন ও ১৪ নং নানুপুর ইউনিয়ন পরিষদ। নানুপুর ইউনিয়ন নিয়ে সবার দৃষ্টি ছিল নানুপুরের দিকে কারন এই ইউনিয়নে ছিল দুই জন দায়িত্ববান হেভি ওয়েট দুই রাজনীতিবীদ। একজন ফটিকছড়ির বর্তমান এমপি খাদিজাতুল আনোয়ার সনি ও আরেকজন হল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পুরাতন রাজনীতিবীদ এটি এম পিয়ারুল ইসলাম। দুজনেরই ইউনিয়ন হল এই নানুপুর। তাই পুরো উপজেলার পোকাস ছিল এই ইউনিয়নের দিকে। আর শিল্পপতী হিসেবে এম পির চাচা নূরু নবী রোশনের রয়েছে আলাদা একটা ইমেজ আর অপরদিকে পরাজিত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান  শফিউল আলম অপেক্ষাকৃত বয়সে অনেক ছোট এবং সম্পদের দিক দিয়ে রোশন থেকে পিছিয়ে হলও বিগত পাঁচ বছরে নানুপুর ইউনিয়নে অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সাধন করেন। বর্তমানে নির্বাচন করতে হলে অর্থ সম্পদেরও আলাদা একটা কদর আছে। আর অপর দিকে অনেকটা ফুরফুরে মেজাজে নির্বাচনে খেলেছেন  ২১ নং খিরামের বর্তমান প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান প্রার্থী সোহরাব হোসেন। তুলনা মূলক ছোট ইউনিয়ন হলেও প্রার্থী ছিলেন ৩ জন। ২ জন প্রার্থী একই এলাকার হওয়ায় অন্য প্রার্থী সোহরাব ছিলেন ভোটের অংকে এগিয়ে এবং সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি তার স্বপদ আবার ধরে রেখেছেন।
দু বিজয়ী প্রার্থীর মার্কা ছিল আনারস। রসিক মানুষ বলে বেড়াচ্ছে ২ ইউনিয়নের জনগণ মজেছে রসালো ফল আনারসে। আবার বলে বেড়াচ্ছে সৌভাগ্যের প্রতিক এখন আনারস। কারন, বিগত উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু তৈয়ব আনারস নিয়ে জয় লাভ করেন, আবার জেলা পরিষদ নির্বাচনে  এটি এম  পেয়ারুল ইসলামও আনারস প্রতিক নিয়ে জয়লাভ করেন।  উল্লেখ্য, নানুপুর আর খিরাম আগে এক ইউনিয়ন ছিল। দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ের পর বিগত পাঁচ বছর আগে খিরামে প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হয়। সেই সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতিক নিয়ে শহীদুল্লাহ্ নির্বাচন করেন। সেই নির্বাচনে অপেক্ষাকৃত বয়সে অনেক ছোট টগবগে তরুণ সোহরাব তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াই করে চমক দেখান। মাত্র ৩ ভোটের ব্যবধানে নৌকার প্রার্থী কে হারিয়ে খিরামের মসনদে বসেন। প্রথম ২ বছর খিরামে বিভিন্ন বিছিন্ন ঘটনা ঘটে এবং অনেকটা ইমেজ সংকটে পরে এই প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সোহরাব। পরবর্তী ৩ বছর অনেকটা ঘুছিয়ে আনেন এবং বেশ কিছু উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করে চমক দেখান। পরিস্থিতি মোটামুটি নিজের অনুকূলে নিয়ে আসেন এবং ভোটের মাঠ গোছাতে সক্ষম হয়। অপর পক্ষে দুই প্রার্থী একই ঘরনার হয়ে যাওয়ায় তাদের নির্বাচনী মাঠ কিছুটা কঠিন হয়। আজকে ৯ মার্চ এর নির্বাচনে সোহরাব আনারস প্রতিক নিয়ে ২৫৯৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় বারের মত খিরামের অভিভাবক নির্বাচিত হন। অপর দিকে শিল্পপতি নরুনবী রৌশন ১৪ নং নানুপুর ইউনিয়ন হতে আনারস প্রতিক নিয়ে ৭১৫৩ ভোট পেয়ে নানুপুরের নতুন অভিভাবক নির্বাচিত হন। এই দুই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রশাসন ছিল সম্পূর্ণ হার্ডলাইনে। নির্বাচনী এলাকায় ২ একজনকে একজায়গায় দাঁড়াতে দেয়নি। পুলিশ, RAB, বিজিবি, ছিল কড়া নজরদারিতে। উপজেলা প্রশাসন ছিল সম্পূর্ণ তৎপর। দুই ইউনিয়নে ছিল ২ জন সহকারী পুলিশ সুপার, ম্যাজিসট্রেট, মেবাইল কোর্ট সহ সকল নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা নির্বাচনী প্রধান কর্মকর্তা একটু সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস পেলেন এবং জনগণ কে ধন্যবাদ দেন।
এখন জনগণের জল্পনা কল্পনা রমজানের পরে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। এখন হতে এই নিয়ে চলতেছে নানা নাটকীয়তা। শেষ মেস অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১১ মে পর্যন্ত।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ