আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬

ভোগ্যপণ্যের দামের তারতম্যে সুজনের ক্ষোভ প্রকাশ

জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য – চাই নাগরিক উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ:

রিয়াজউদ্দিন বাজারে নাগরিক উদ্যোগের গণপ্রচারণা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রিয়াজউদ্দিন বাজারে নাগরিক উদ্যোগের গণপ্রচারণায় ভোগ্যপণ্যের দামের তারতম্যে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। রমজান মাসের ব্যবহার্য ভোগ্য পণ্যসামগ্রী জনগনের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার নিমিত্তে আজ মঙ্গলবার ১২ মার্চ ২০২৪ সকালে নগরীর বৃহত্তম ব্যবসা কেন্দ্র রিয়াজউদ্দিন বাজার থেকে নাগরিক উদ্যোগের ধারাবাহিক গণপ্রচারণা কর্মসূচির উদ্বোধন করতে গিয়ে ভোগ্যপণ্যের দামের তারতম্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এসময় ক্রেতাদের তিনি দুই দিনের বেশি ইফতার সামগ্রী ক্রয় না করারও অনুরোধ জানান।

এসময় সুজন বলেন রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে দীর্ঘ এক বছর পর মুসলমানদের দ্বারে আবার ফিরে এসেছে সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমজান। অশেষ রহমত, বরকত, মাগফেরাত ও নাজাতের এ মাস মহান আল্লাহর নৈকট্য, শান্তি এবং তাকওয়া অর্জনের অপূর্ব সুযোগ এনে দেয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, রমজান মাস এলেই দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। সচরাচর দেখা যায় রোজায় যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে সেগুলোর দামই বেশি হয়। তাছাড়া এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা রমজান মাসকে টার্গেট করে তাদের মুনাফা লুফে নেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে। সে হিসেবে তারা পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেয়। এদের বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হওয়ারও আহবান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন সরকার রমজানে ব্যবহার্য ভোগ্যপণ্যের দাম জনগনের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে নানামূখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। রমজানে ব্যবহৃত পণ্যসামগ্রীর উপর সরকার আমদানি শুল্কও মওকুফ করেছে জনগনকে সুবিধা প্রদানের জন্য। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, সরকার আমদানিকৃত পণ্যের উপর ধার্যকৃত শুল্ক মওকুফ করলেও প্রায় ক্ষেত্রে ভোক্তাগণ এর সুফলপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উপরন্তু বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরী করে ভোক্তাদের জিম্মি করা হচ্ছে। সুজন আরো বলেন, কাঁচা বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কারণ এসব পণ্য নিজ¯^ পদ্ধতিতে উৎপাদিত পন্য, এসব পণ্যের কোন আমদানি মূল্য নেই। তাই কাঁচা বাজার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি। তিনি বাজারে বিভিন্ন প্রজাতির মুরগির দাম বৃদ্ধিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মুরগির দাম নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হলে ভোক্তাকে পুরো রমজান মাস ভুগতে হবে বলে জানান তিনি। মুরগির সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে প্রয়োজনে পাশর্^বর্তী দেশ থেকে মুরগি আমদানির জন্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানান তিনি। তিনি পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে আরো সক্রিয় হওয়ার অনুরোধ জানান। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বাজারের আগে না হেঁটে বাজারের পিছনে হাঁটার অনুরোধ জানান সুজন। তিনি জানান খেজুরের মূল্যবৃদ্ধি হলেও বাজারে এর ক্রেতা কম। এভাবে ক্রেতাদেরও সিন্ডিকেট তৈরী করার আহবান জানান তিনি। তিনি বাজারে আগত ক্রেতাসাধারণের সাথে পণ্যের দরদাম নিয়ে কথা বলেন। উপস্থিত ক্রেতাগণ সুজনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তবে ভোগ্যপণ্যের দাম ক্রেতাদের সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আরো কঠোর হওয়ার অনুরোধ জানান তারা। বাজারে পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখতে সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার এবং বিএসটিআইয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণের দ্বারা অভিযান পরিচালনা করারও অনুরোধ জানান খোরশেদ আলম সুজন। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক উদ্যোগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাজী মো. ইলিয়াছ, সদস্য সচিব হাজী মো. হোসেন, মো. শাহজাহান, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম ইমরান হাসান আহমেদ ইমু, এ এইচ এম বেলাল উদ্দিন, জয়জিৎ চৌধুরী, আনন্দ আচার্য, অসিত দেব হৃদয় প্রমূখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে আহত নিহতদের মাঝে চেক বিতরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও জেলায় বিভিন্ন স্থানেসড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ নিহত ও আহত ৭ টি পরিবারের মাঝে চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেল এর আয়োজনে এই চেক বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম ফেরদৌস, ঠাকুরগাঁও বিআরটি এর সহকারী পরিচালক ইঞ্জি: মোহাম্মদ আলী আহসান মিলন, মোটরযান পরিদর্শক মাফুজ রানা, উচ্চমান সহকারী রুস্তম আলীসহ অন্যান্যরা।সেখানে সাতটি পরিবারের মাঝে ২১ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

সিএমএম ; শুধু সন্দেহে নয়, কারণ দেখিয়ে গ্রেফতার পুলিশকে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে উপযুক্ত কারণ ব্যাখ্যা ছাড়া কাউকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর আবেদন না করার জন্য পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) এজিএম মনিরুল হাসান সরকার। গত সোমবার বিকালে অনুষ্ঠিত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে এ নির্দেশনা দেন তিনি। একই সঙ্গে ভিকটিমের মেডিকেল সনদ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট এবং বিচারপ্রার্থীদের হয়রানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

কনফারেন্সে প্রধান অতিথি ছিলেন মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ হাসানুল ইসলাম। এতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কোস্ট গার্ড, সিডিএ, সিটি করপোরেশন, চমেক হাসপাতাল এবং আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করার ক্ষেত্রে কেস ডায়েরির অনুলিপি আদালতে উপস্থাপন করতে হবে এবং সেখানে গ্রেপ্তার দেখানোর যৌক্তিক কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা যাবে না বলেও পুলিশ কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন সিএমএম।

কনফারেন্সে ভিকটিমকে পরীক্ষাকারী চিকিৎসকের জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করা, মেডিকেল অফিসারদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর সংযুক্ত করা এবং নির্ধারিত সময়ে মেডিকেল সনদ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে চমেক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন সিএমএম। তিনি পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে এ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানান।

বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগ সরাসরি জানাতে ‘সিএমএম চট্টগ্রাম সমীপে’ নামে চালু করা উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে সিএমএম বলেছেন, বিচারপ্রার্থীদের অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি ইমেইল চালু করা হয়েছে এবং আদালত প্রাঙ্গণে অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি সরাসরি অভিযোগ জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ