আজঃ সোমবার ২২ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫৬টি খালের মধ্যে ৩৬টি খাল সংস্কারের কাজ চলমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্য মেলার এ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনের অংশহিসেবে ৫৬টি খালের মধ্যে ৩৬টি খাল সংস্কারের কাজ চলছে বলে জানালেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি আয়োজিত ৩১তম চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সার্টিফিকেট ও এ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিটাগাং চেম্বার প্রেসিডেন্ট ওমর হাজ্জাজ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ তোফায়েল ইসলাম ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, চেম্বার সহ-সভাপতি রাইসা মাহবুব, চেম্বার পরিচালক ও সিআইটিএফ-২০২৪ কমিটির চেয়ারম্যান এ. কে. এম. আক্তার হোসেন বক্তব্য রাখেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে চেম্বার পরিচালকবৃন্দ মোঃ অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), মাহফুজুল হক শাহ, বেনাজির চৌধুরী নিশান, ইঞ্জিনিয়ার ইফতেখার হোসেন, মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, মাহবুবুল হক মিয়া, মোঃ রেজাউল করিম আজাদ, মোহাম্মদ আদনানুল ইসলাম, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন, আখতার উদ্দিন মাহমুদসহ অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধিসহ নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি বলেন-বর্তমান সরকার বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বিশেষ করে কর্ণফুলী টানেল, বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে এই নগরকে আরো আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু দখলে-দূষণে যদি কর্ণফুলী বুড়িগঙ্গা নদীর মতো হয়ে উঠে তাহলে এই নগরের অস্তিত্বই থাকবে না। কর্ণফুলীকে বাঁচাতে সকলকে সোচ্চার হতে হবে, যেখানে সেখানে ময়লা ও পলিথিন না ফেলার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন-চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনের অংশহিসেবে ৫৬টি খালের মধ্যে ৩৬টি খাল সংস্কারের কাজ চলছে। বাকী খালগুলোও কীভাবে উদ্ধার করা যায় সেজন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। পরবর্তীতে তা উদ্ধারেও উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি বলেন-নগরীকে বাসযোগ্য ও জনগণের চলাচল যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়ে সেজন্য অবৈধ ও দখলকৃত ফুটপাত উদ্ধার করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকৃত হকারদের চিহ্নিত করে তাদের জন্য হলিডে এবং নাইট মার্কেট চালু করার চিন্তা ভাবনা করছে কর্পোরেশন। তাছাড়া চট্টগ্রামকে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় এবং সত্যিকার বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিকমানের কনভেনশন ও এক্সিবিশন সেন্টার করার জন্য চেষ্টা করছে সিটি কর্পোরেশন।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চিটাগাং চেম্বারের গুরুত্ব ও ভূমিকা অন্যতম উল্লেখ করে বিশেষ অতিথি বিভাগীয় কমিশনার মোঃ তোফায়েল ইসলাম বলেন-চট্টগ্রামকে বাদ দিয়ে দেশের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। গত ২৫ বছরে চট্টগ্রাম শহরের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যারফলে টু টাউন ওয়ান সিটির আদলে চট্টগ্রামকে সম্প্রসারণেরও সুযোগ তৈরী হয়েছে। তাই চট্টগ্রামকে পরিকল্পিত উপায়ে গড়ে তুলতে হবে। যাতে জলাবদ্ধতা ও পাহাড় ধসের মত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। তিনি সর্বজনীন পেনশন স্কীম সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হলে আগামীতে বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে অসহায় পিতা-মাতাকে ফেলে যাওয়ার মত ঘটনা ঘটবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সর্বজনীন পেনশন স্কীমের আওতায় আনতে এবং সকলের কাছে সর্বজনীন পেনশনের গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি আহবান জানান।
বিশেষ অতিথি মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় বলেন-চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। এছাড়াও চট্টগ্রামকে বৈশ্বিক অবস্থানে তুলে ধরতে হলে আন্তর্জাতিকমানের বাণিজ্য মেলারও প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি নগরীতে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনতে বাস, ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ, ডাম্পিং স্টেশন, ট্রাফিক সিগন্যাল আধুনিকায়ন ও রিক্সা মুক্ত সড়ক ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
চেম্বার সভাপতি ওমর হাজ্জাজ বলেন-বন্দরনগরী ও বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম মহানগর বসবাস উপযোগী করে তুলতে এবং নাগরিকদের চলাচলের সুবিধার্থে ফুটপাতসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছে সর্বস্তরের ব্যবসায়ী সমাজ।জনসাধারণের চলাচলের পথ বন্ধ করে ফুটপাতকেন্দ্রিক এ সকল ব্যবসায় কোটি কোটি টাকার লেনদেন হলেও এ থেকে সরকারের কোন রাজস্ব আয় হয় না। তাই এ সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসনের জন্য হলিডে ও নাইট মার্কেট চালু করা গেলে সেখান থেকেও রাজস্ব পাবে সরকার। চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক বন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার ও ট্রেড ফেয়ারের জন্য জায়গা বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান চেম্বার সভাপতি।
মেলা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে চেম্বার সহ-সভাপতি রাইসা মাহবুব বলেন-সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি পবিত্র রমজান উপলক্ষে প্রতি বছরের মত এ বছরও চিটাগাং চেম্বার স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষের জন্য ভর্তুকিমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য বিক্রয় করছে।
চেম্বার পরিচালক ও সিআইটিএফ-২০২৪ এর চেয়ারম্যান এ. কে. এম. আক্তার হোসেন মেলা সফলভাবে আয়োজনে অংশগ্রহণকারী সকল দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠানসমূহ, আগত দর্শনার্থী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, মেট্রোপলিটন পুলিশ, নগর বিশেষ শাখা ও ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে জুরি বোর্ড কর্তৃক শ্রেষ্ঠ প্যাভিলিয়ন, স্টল এবং ক্রিয়েটিভ এ্যাক্টিভিটিস প্রতিষ্ঠানকে এ্যাওয়ার্ড ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। এবারের মেলায় প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরীতে টি. কে. গ্রুপ প্রথম, আবুল খায়ের মিল্ক প্রোডাক্টস লিঃ দ্বিতীয় এবং নিউজিল্যান্ড ডেইরী প্রোডাক্টস বাংলাদেশ লিঃ তৃতীয়; স্টলসমূহের মধ্যে ওয়েলবার্গ, ওয়াকারু ও রাজ টেক্সটাইল (রাজ লুঙ্গি) যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছে। এছাড়া ক্রিয়েটিভ এ্যাক্টিভিটিস হিসেবে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন সেরা নির্বাচিত হয়েছে। উল্লেখ্য, মেলা ২৬ মার্চ মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন :যোগ জীবনের প্রতিটি দিককে সমৃদ্ধ করে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের উদ্যোগে ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন করা হয়েছে। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় নেভি কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রামের যোগব্যায়াম উৎসাহীদের সাথে এ দিবস উদযাপন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ( চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। অনুষ্ঠানে ৮০০ অধিক জনসমাগম হয়।যেখানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের সুধীজনরা অংশগ্রহণ করেন। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন যোগ অনুশীলন পরিচালনা করেন।

সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হারীশ কুমার তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, যোগ একটি প্রাচীন অনুশীলন, যার অর্থ হলো ‘যুক্ত হওয়া’ বা ‘একত্রিত হওয়া’। এটি দেহ, মন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে এবং মানুষের সামগ্রিক সুস্থতা অর্জনে সহায়তা করে।
প্রায় ৫ হাজার বছর আগে ভারতীয় উপমহাদেশে এর উৎপত্তি হলেও যোগ কেবল শারীরিক ব্যায়াম বা বিভিন্ন ভঙ্গির অনুশীলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনধারা, যা শারীরিক প্রাণশক্তি, মানসিক স্বচ্ছতা এবং আধ্যাত্মিক প্রশান্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রতি বছর ২১ জুন বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপিত হয়। ভারতের উদ্যোগে ইউনাইটেড নেশনস ২০১৪ সালে এই দিবসকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’, যা বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সুস্বাস্থ্য, নমনীয়তা, মানসিক স্থিতি এবং জীবনীশক্তি বজায় রাখতে যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে। নিয়মিত যোগাভ্যাস মানসিক চাপ কমায়, শরীরকে সক্রিয় রাখে এবং সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করে। তাই একটি সুস্থ, সুখী ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন গঠনে যোগকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, যোগ আমাদের সকলকে সংযুক্ত করে ও একত্রিত করে। যখন যোগ জীবনযাত্রার অংশ হয়ে ওঠে, তখন তা মানব ঐক্যের ভিত্তি স্থাপন করে। যোগ আমাদের ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের শিল্প শেখায় এবং মানসিক সুস্থতা থেকে শারীরিক সুস্থতার পথ দেখায়। এটি আমাদের শরীরকে নমনীয় হতে সাহায্য করে এবং আমাদের শক্তির মাত্রা উচ্চ রাখে। শারীরিক সুস্থতা থেকে শুরু করে মনের শান্তি পর্যন্ত, যোগ জীবনের প্রতিটি দিককে সমৃদ্ধ করে।

৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে কেনা চট্টগ্রাম বন্দরে আনা ৪টি ক্রেন পণ্য

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনারবাহী জাহাজ থেকে দ্রুত ও নিরাপদে পণ্য ওঠানামার জন্য চারটি অত্যাধুনিক কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন (কিউজিসি) আগামী মাস থেকে পন্য উঠানামায় কাজ করবে বলে জানা গেছে। চীনের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘স্যানি মেরিন হেভি ইন্ডাস্ট্রি’ থেকে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে এই ক্রেনগুলো কেনা হয়েছে। বিশেষ করে নিজস্ব ক্রেনবিহীন জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাসে এসব ক্রেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ক্রেনগুলো বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) জন্য আনা হয়েছে। এসব ক্রেন বহনকারী বিশেষায়িত ডেক জাহাজ এমভি ল্যান হাই হং ইউন গত শুক্রবার সন্ধ্যায় পিসিটি জেটিতে ভিড়ে। আগামী মাসের (জুলাই) মাঝামাঝি এগুলো দিয়ে পুরোদমে পণ্য ওঠানামা শুরু করা যাবে বলে বন্দর সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান দুটি টার্মিনাল- নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি)-তে মোট ১৮টি কী গ্যান্ট্রি ক্রেন সচল রয়েছে। এর মধ্যে এনসিটিতে ১৪টি এবং সিসিটিতে ৪টি ক্রেন ব্যবহৃত হচ্ছে।

জানা গেছে, পিসিটির বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখেই স্যানি মেরিন থেকে এই ক্রেনগুলো কাস্টমাইজড বা বিশেষভাবে তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। পিসিটির মোট তিনটি জেটির মধ্যে একটিতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান ওঠানামার উচ্চতার কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে ওই জেটিতে কোনো গ্যান্ট্রি ক্রেন বসানো সম্ভব নয়। বাকি দুটি জেটিতেও উচ্চতার সীমাবদ্ধতা থাকায় ক্রেন চারটির উচ্চতা নির্দিষ্ট করে ৪২ ফুট রাখা হয়েছে।

বন্দর ও আরএসজিটি সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চারটি কিউজিসি সংগ্রহের জন্য চুক্তি করে আরএসজিটি। এক বছরের বেশি সময় ধরে নির্মাণকাজ শেষে ক্রেনগুলো এসেছে। নতুন চারটি ক্রেন চালু হলে পিসিটির বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বর্তমান ২ লাখ ৫০ হাজার টিইইউএস থেকে বেড়ে ৬ লাখ টিইইউএসে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে জাহাজের অপেক্ষার সময় কমবে এবং লজিস্টিক ব্যয়ও হ্রাস পাবে।

এর আগে পিসিটির জন্য ১৪টি রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন সংগ্রহে ২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে আরএসজিটি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে পিসিটিতে ১ লাখ ৪৩ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ