আজঃ রবিবার ২১ জুন, ২০২৬

কর্মস্থল রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ চিকিৎসেবায় ব্যস্ত চট্টগ্রাম নগরীর ন্যাশনাল হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দায়িত্ব চমেক নাকি রাঙামাটি মেডিকেলে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডাক্তার হাবিবুল ইসলাম চৌধুরী সরকারী দায়িত্ব পালন না করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক হয়েও কলেজে অধ্যাপনা করছেন না। এমনকি রাঙামাটিতে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন না, এমনটি অভিযোগ করেছেন রাঙামাটি রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য শামসুল আলম।
তিনি অভিযোগে জানান, ডা. হাবিবুল ইসলাম চৌধুরী রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক। ক্যাডিওলজির মত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। অথচ তিনি চট্টগ্রাম নগরীর মেহদীবাগস্থ ন্যাশনাল হসপিটাল চট্টগ্রাম এন্ড সিগমা ল্যাব লিমিটেডে সাপ্তাহে ছয়দিন চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি ন্যাশনাল হসপিটালের সাপ্তাহে ৬ দিন রোগী দেখছেন। তবে কার্ডে চমেক এর সহকারী অধ্যাপক লেখা রয়েছে। রাঙামাটি সরকারী মেডিকেল কলেজের একজন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন না করে চট্টগ্রাম নগরীতে রোগী দেখছেন। যার ফলে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি ডা. হাবিবুল ইসলাম চৌধুরী যাতে কলেজে নিয়মিত পাঠদান করেন।
এদিকে রোগী কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ মনে করেন,শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের জন্য তিনি চট্টগ্রাম নগরীর ন্যাশনাল হাসপাতালে রোগী দেখছেন, বিষযটি তেমন নয়। তিনি একটি রাজনৈতিক দলের মতাদর্শের বিশ্বাসী। কারণ রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সক্রিয় থাকার জন্য নগরীতে রোগী দেখেন এবং রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করছেন।
আর ন্যাশনাল হসপিটালের ব্যাক্তিগত চেম্বারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহায়ক জানান, তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেলে কর্মরত রয়েছেন এবং চমেকের হৃদরোগ বিভাগের একজন ডাক্তার বলে জানান। এ ব্যাপারে ডা. হাবিবুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেনি।
তার চেম্বার সহযোগি জানান, শুক্রবার ব্যাতিত তিনি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত দর্শটা পর্য়ন্ত রোগী দেখে থাকেন। এদিকে তার দায়িত্বের অবেহেলার জন্য রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কাছে রোগী কল্যাণ সমিতি অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি। এ ব্যাপারে ডা. হাবিবুল ইসলাম চৌধুরীর বক্তব্যের জন্য বারবার ফোন দিয়েও তিনি রিসিভ করেননি। রোগী রোগী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে পরিচালক, মহা পরিচালক, স্বাস্থ্য সচিব সহ বিভিন্ন দপ্তরে এ নিয়ে অভিযোগ করেছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী যেখানে ডাক্তারদের নিজ দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়েছেন, সারাদেশ ছুটে বেড়াচ্ছেন এবং দুর্নীতির জিরো টলারেন্সে মন্ত্রনালয়েকে আনার চেষ্টা করছেন, সেখানে একজন কার্ডিওলজি বিভাগের সরকারী এ ডাক্তার দায়িত্ব অবহেলা করে চলেছেন। পার্বত্য এ জনপদে কার্ডিওলজি বিভাগের এ ডাক্তার দায়িত্বপালন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন চিকিৎসাসেবা গ্রহনের রোগীরা।রোগী কল্যাণ সমিতি,রাঙামাটি বলছেন ডাঃ হাবিবুল ইসলাম রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক আবার ন্যাশনাল প্রাইভেট হসপিটালের ব্যক্তিগত সহকারী বলছেন তিনি চমেক এর ডাক্তার। কোনটি সত্য।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন ও ছোট জামাই সোহেলের বিরুদ্ধে। সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন বড় জামাই এ.কে আজাদ। আজ শনিবার (২০ জুন) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের হুজরাপুরে অবস্থিত চাঁপাই প্রেসক্লাবে হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন তিন।

লিখিত বক্তব্য এ. কে আজাদ জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুরে অবস্থিত মার্কেটসহ বাড়ি দখলের বিরোধের জেরে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে উক্ত আর.এস দাগ নং ১১৪৯ জমির উপরে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেন। এর পরেও মোশাররফ হোসেন ও তার ছোট জামাই সোহেল রানা আদালতের আইন অমান্য করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে গত ১ বছর ধরে তার নামে থাকা একটি মার্কেটসহ বাড়ী জোর পূর্বক দখল করে নেন। সে সঙ্গে বাড়ি ও মার্কেটের প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা শশুর এবং তার ছোট জামাই উত্তোলন করে আসছেন। মার্কেটসহ বাড়ির বর্তমান মালিক এ.কে আজাদ দখল ছাড়তে বললে বিভিন্ন প্রকার হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

উক্ত ঘটনার বিষয়ে জানতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেনের মুঠোফোনে ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ সম্পন্ন মিথ্যা।

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ