চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য দিবসের র‌্যালী স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত জরুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ মহিউদ্দিন বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের যেমন অন্যতম মৌলিক চাহিদা তেমনি বিশ্বকে সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব সকলের। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত আগামী ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরী। এ লক্ষ্যে জরগণের চাহিদা পূরণে চিকিৎসক-নার্স ও সংশ্লিষ্টদেরকে সমন্বিতভাবে কাজ করে যেতে হবে। সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হলে প্রথমে নিজেকে সচেতন হতে হবে। এ লক্ষ্যে বার্গারসহ জাঙ্ক ও ফাস্ট ফুড খাওয়া থেকে বাচ্চাদেকে রক্ষা করতে হবে। পরিহারের কোন বিকল্প নেই। পরিবেশ দূষণ, বায়ু দূষণ ও মাটি দূষণসহ অন্যান্য দূষণ থেকে আমাদেরকে মুক্ত থাকতে হবে।
গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অডিটরিয়ামে আয়োজিত বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিতেঃ কাজ করি একসাথে’। আলোচনা সভার পূর্বে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে বেলুন উড়িয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের শুভ উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। এর পর দিবসটি উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। চিকিৎসক, নার্স, এনজিও প্রতিনিধিরাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে সদ্য পদোন্নতি পেয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক পদে পদায়িত হওয়ায় চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও উপ-পরিচালক এবং সাবেক সফল সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বিকে ফুল, সম্মাননা স্মারক ‘ক্রেস্ট’ দিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ মহিউদ্দিন ও সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী। সংবর্ধনা গ্রহণকালে কোভিড-১৯ মহামারীর স্মৃতিচারণ করেন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। জাতির এ দুঃসময়ে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ডা. রাব্বি।
আলোচনা সভায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বলেন, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবানের ফলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, মা ও শিশুদের টিকা প্রদানের ক্ষেত্রেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। হ্রাস পেয়েছে মাতৃ মৃত্যু ও শিশু মৃত্যু, বেড়েছে মানুষের গড় আয়ু। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও নিরলস প্রচেষ্টায় স্বাস্থ্য বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য খাতে সফল হয়েছি। স্ট্রোক, হাইপারটেনশন, এমআই, ডায়াবেটিস, লিভার সিরোসিস ও অন্যান্য জঠিল রোগের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারলে আমরা বিশ্বে প্রশংসিত হবো।
আলোচনা সভায় অন্যান্য অতিথিরা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সেবা প্রদানে আমাদেরকে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে। সুস্থভাবে বাঁচতে হলে সবাইকে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। যারা স্বাস্থ্য সচেতন নয়, তারা বিভিন্ন ধরণের অসুস্থতায় ভোগে। তাই সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্বাস্থ্যসচেতন করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। শুধু শারীরিক নয়, আমাদেরকে সামাজিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। ১৯৪৮ সালের ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৫০ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রসার ও সকলকে সুস্থ স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান করার বিষয়টি সুনিশ্চিত করার জন্য এই দিনটি পালন হয়ে আসছে। সবার জন্য স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরীর ক্ষেত্রেও এ দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সার্ভিল্যান্স মেডিকেল অফিসার (ম্যালেরিয়া) ডা. মুহাম্মদ আবুল কালামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের আলোচনা সভায় সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক পদে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও উপ-পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.এন.এ ওয়াসিম ফিরোজ, চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গোলাম মোস্তফা জামাল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোঃ ওয়াজেদ চৌধুরী অভি। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওসিএস ডা. মোঃ নওশাদ খান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়া। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বেসরকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ’র প্রোগ্রাম অফিসার খৃষ্টপার কুইয়া, বন্ধু সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির কর্মকর্তা নুরুল হাশেম, মমতা’র কর্মকর্তা প্রবীর কুমার দাশ, ঘাসফুল কর্মকর্তা সেলিনা আকতার, ইপসার বিভাগীয় সমন্বয়কারী ফারহান ইদ্রিছ ও সীমান্তীক’র কর্মকর্তা মোঃ সলিম উল্লাহ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এসআইএমও ডা. এফএম জাহিদ, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সিডিসি) ডা. নাজমুল হাসনাইন কাউসার, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এসএমও ডা. আবদুল্লা-হিল রাফি অঝোর, সিভিল সার্জন কার্যালয় ও জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্স-কর্মচারী ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠাএন উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব: চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাহাত্তারপুল মোড়ে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে চসিকের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে উপস্থিত হয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। মেয়র বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করলে হবে না। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এখন মূল লক্ষ্য। ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এই তিন মাসের কর্মসূচি সফল করতে হবে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা।

বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা আশপাশে যেসব স্থানে পানি জমে থাকে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে।
এডিস মশার আচরণ সম্পর্কে নগরবাসীকে সচেতন করে মেয়র বলেন, এ মশা সাধারণত দিনের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে। তাই শুধু রাতে নয়, দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে সতর্ক থাকতে হবে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ঘরের অন্ধকার ও আড়ালযুক্ত স্থান এবং আশপাশে কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

ডেঙ্গু নিয়ে সঠিক তথ্য প্রচারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে কথা বলার আগে সঠিক তথ্য ও পরিসংখ্যান জানতে হবে। ঢালাওভাবে তথ্য প্রচার করলে মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। প্রয়োজন সঠিক ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরের হাসপাতালগুলোতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সব ডেঙ্গুরোগীকে সিটি করপোরেশন এলাকার রোগী হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। কোন এলাকায় কতজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, সেই তথ্যের ভিত্তিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।

জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে মেয়র বলেন, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চসিকের পক্ষ থেকে এনএস-১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা রয়েছে।

নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, নিজের ঘর, নিজের আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখুন। কোথাও পানি জমতে দেবেন না। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

পণ্যের দাম বেড়েছে কেজিতে ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত নজরদারি বাড়ানো জরুরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে পরিবহন খরচ বাড়ায় কয়েকটি পণ্যের দাম ইতোমধ্যে কেজিতে ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সড়ক ও নৌপথে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। ডিজেলের দাম এক লাফে লিটারে ২০ টাকা বাড়ার ধাক্কা পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে প্রধান কারণগুলোর একটি পরিবহন ব্যয়। শুধু সড়কপথ নয়, নৌপথেও বেড়েছে পরিবহন খরচ। খাতুনগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পণ্য পাঠাতে লাইটারেজ জাহাজ ব্যবহার করা হয়। ডিজেলের দাম বাড়ায় এসব জাহাজের পরিচালন ব্যয়ও বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে পণ্যের দামে।
খাতুনগঞ্জের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, আগে যে ট্রাকটি চট্টগ্রামে পণ্য আনতে ২৫ হাজার টাকা ভাড়া নিত, ডিজেলের দাম বাড়ার পর সেই ভাড়া প্রায় ১০ হাজার টাকা বেড়েছে। অর্থাৎ ২৫ হাজার টাকার ভাড়া এখন প্রায় ৩৫ হাজার টাকা হয়েছে। বাড়তি এই পরিবহন ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবু বক্কর বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ভাড়া ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। আগে বগুড়া থেকে ট্রাকে করে পণ্য আনতে আমাদের সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা খরচ হতো। এখন সেটি প্রায় ১০ হাজার টাকা বেড়ে গেছে। একইভাবে নৌপথেও ভাড়া বেড়েছে। শুধু দেশের ভেতরে নয়, বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্য পরিবহনেও ব্যয় বেড়েছে।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, আদা ৩ টাকা বেড়ে ৯৫ টাকা এবং রসুন ৪ টাকা বেড়ে ১২২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় লাল মরিচ ৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩৫০ টাকা এবং ভারতীয় মিষ্টি মরিচ ৫ টাকা বেড়ে ৪৪০ টাকা হয়েছে। চিনির দামও কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ টাকায়।
এ ছাড়া মোটা মসুর ডালের দাম ২ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা, মুগ ডাল ৮ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকা, মটর ডাল ২ টাকা বেড়ে ৫৪ টাকা এবং সাদা মটর ৩ টাকা বেড়ে ৫৪ টাকা হয়েছে। চিকন মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৫৭ টাকা কেজি দরে। তবে ছোলার দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ছোলা ৯৫ টাকা এবং ভারতীয় ছোলা ৯৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এর পাশাপাশি বেড়েছে ভোজ্যতেলের দামও।
এক ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ডিজেলের প্রভাবে স্বাভাবিকভাবেই পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে যে হারে পরিবহন ভাড়া বেড়েছে, সে তুলনায় পণ্যের দাম এখনো স্থিতিশীলই আছে। কিন্তু মানুষের আয় না বাড়ায় কেনাকাটা কমেছে।
বাজারে যাতে অপ্রত্যাশিতভাবে কোনো পণ্যের দাম বাড়ানো না হয়, সেজন্য নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে এর প্রভাব শুরু হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত বাড়তি খরচের চাপ ক্রেতার ওপরেই পড়ছে। সেজন্য বাজারে নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ