আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে মুক্তিপণের পর শিশুকে ফেরত দিতে গিয়ে ধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে মুক্তিপণ আদায় করে শিশুকে ফেরত দিতে গিয়ে ধরা পড়েছেন এক ব্যক্তি। বন্ধুর দুই বছর বয়সী মেয়েকে চুরির ঘটনায় ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য আট হাজার টাকা মুক্তিপণ পাঠিয়ে প্রথমে তাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে মূল অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে অবশ্য ঘটনায় জড়িত তার সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়। গত শুক্রবার রাতে নগরীর বন্দর থানার নিমতলা এলাকা থেকে শিশু চুরির সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তি মো. হেলালকে (৩৬) গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি ভোলা জেলায়।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ভোরে নগরীর ইপিজেড এলাকা থেকে হেলালের সহযোগী ইব্রাহিম রাঢ়িকে (২৫) গ্রেফতার করা হয় বলে বন্দর থানা পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, নগরীর মাইলের মাথা এলাকায় একটি কলোনিতে পোশাককর্মী বিলকিস তিন সন্তান নিয়ে থাকেন। তার দুই ছেলে, এক মেয়ে। এরা হল- শামীম (১৪), রবিউল (৮) ও মেয়ে আয়েশা (২)। বিলকিসের স্বামী ভোলা জেলায় তাদের গ্রামের বাড়িতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান।
হেলালের বাড়িও ভোলা জেলায় একই গ্রামে। বিলকিসের স্বামীর বন্ধু হেলাল। গত বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হেলাল বিলকিসের বাসায় যায়। বিলকিস তখন কারখানায় ছিলেন। বাসায় তিন সন্তানের মধ্যে শামীম বাইরে বের হয়েছিল। রবিউলকে ২০ টাকা দিয়ে দই কিনতে পাঠায় হেলাল। রবিউল বের হওয়ার পর দ্রুত আয়েশা নিয়ে চলে যায় হেলাল। রবিউল বাসায় ফিরে বোনকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে তার মাকে জানায়। ওই রাতেই বিলকিস থানায় গিয়ে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন।
বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কিশোর মজুমদার বলেন, বুধবার ভোর রাত পৌনে ৪টার দিকে বিলকিসের মোবাইলে একটি কল আসে। সেখানে মেয়েকে মুক্তি দেয়ার জন্য এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আমরা ওই মোবাইল নম্বর পর্যালোচনা করে একই নম্বর থেকে ১৪টি কল পাই। সেই কলদাতা ইব্রাহিমকে শনাক্ত করে গত বৃহস্পতিবার ভোরে আমরা আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করি।
সে জানায়, আয়েশা চুরির সময় সে-ও ছিল, তবে কিছুটা দূরে অবস্থান করছিল। আয়েশাকে বিক্রি না করা পর্যন্ত তার স্ত্রীর হেফাজতে রাখার কথা ছিল। কিন্তু স্ত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় হেলাল শিশুটিকে নিয়ে কর্ণফুলী উপজেলায় চলে যায়।এর মধ্যে আমরা বিলকিসের মাধ্যমে মুক্তিপণের আলোচনা চালিয়ে যেতে থাকি। শিশুটির যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য আমরা বিকাশে ৮ হাজার টাকা পাঠাই। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে একজন অটোরিকশা চালকের মাধ্যমে শিশুটিকে সল্টগোলা এলাকায় পাঠানো হয়। বিলকিসসহ আমরা শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় গ্রহণ করি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অটোরিকশা চালককে আটক করা হয়। সে জানায়, তাকে ২০০ টাকা দিয়ে এক ব্যক্তি শিশুটিকে মায়ের কাছে পৌঁছে দেয়ার কথা বললে সে রাজি হয়েছিল। এসময় আমরা হেলালের ছবি দেখালে অটোরিকশা চালক তাকে শনাক্ত করে।
এসআই কিশোর জানান, শিশুটিকে ফেরত দিলেও হেলাল বারবার স্থান পরিবর্তন করছিল। সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করে শুক্রবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল জানিয়েছে, তারা দুজন মিলে শিশুটিকে চুরি করে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু ইব্রাহিমের স্ত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এছাড়া শিশুটি মায়ের বুকের দুধ ছাড়া আর কিছু না খাওয়ায় তাকে হেফাজতে রাখা নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। শেষমেষ বিক্রির পরিকল্পনা বাদ দিয়ে শিশুর মায়ের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
এদিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক অটোরিকশা চালক মামলার সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ইব্রাহিম কারাগারে আছেন। হেলালকে গতকাল শনিবার আদালতে হাজিরের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে এসআই কিশোর মজুমদার জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে আহত নিহতদের মাঝে চেক বিতরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও জেলায় বিভিন্ন স্থানেসড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ নিহত ও আহত ৭ টি পরিবারের মাঝে চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেল এর আয়োজনে এই চেক বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম ফেরদৌস, ঠাকুরগাঁও বিআরটি এর সহকারী পরিচালক ইঞ্জি: মোহাম্মদ আলী আহসান মিলন, মোটরযান পরিদর্শক মাফুজ রানা, উচ্চমান সহকারী রুস্তম আলীসহ অন্যান্যরা।সেখানে সাতটি পরিবারের মাঝে ২১ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে মাদক উদ্ধার, আটক- ২

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে দুইজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় একটি ট্রাক, ২ হাজার ৮৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ, ৫৮৫ পিস ইয়াবা ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা মালামালের মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। পৃথক দুটি অভিযানে দুইজনকে আটক করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ, ইয়াবা, একটি ট্রাক ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ৫৯ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার এডি শেখ মনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে সোনামসজিদ বিওপির একটি টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের বালিয়াদিঘী গ্রামের প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইনের পাশের সড়কে অভিযান চালায়।

অভিযানের সময় ঢাকা মেট্রো-ট ২০-৯৯৯০ নম্বরের একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে সাতটি প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা ২ হাজার ৮৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ‘এসকাফ’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ট্রাকচালক মো. রিয়াদ হোসেন (২০)কে আটক করা হয়েছে। তিনি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার পাশাপুর গ্রামের বাসিন্দা।এ সময় ট্রাকটির পাশাপাশি একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা সিরাপ, ট্রাক ও মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য ৬৮ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

অন্যদিকে একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে চৌকা বিওপির নায়েক সুরজিত নাগের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের খাসেরহাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ৫৮৫ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট এবং একটি মোবাইল ফোনসহ মো. নাঈম ইসলাম (১৮) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার জমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা।উদ্ধার করা ইয়াবা ও মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫০০ টাকা।

বিজিবি জানিয়েছে, পৃথক দুটি অভিযানে জব্দ করা ট্রাক, নেশাজাতীয় সিরাপ, ইয়াবা ও মোবাইল ফোনের মোট সিজার মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ