আজঃ শুক্রবার ১ মে, ২০২৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত পহেলা বৈশাখ বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে চবি উপাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পহেলা বৈশাখ বাঙালির একটি সর্বজনীন লোকউৎসব
‘এই বৈশাখে বৈশ্বিক বৈভবে’এঅন্চলের গানগুলোকে ধারণ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ বাঙালির শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘বাংলা নববর্ষ’ দিনব্যাপি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদ্যাপন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মঙ্গল শোভাযাত্রা, বৈশাখের গান ও নৃত্য, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বলি খেলা, কাবাডি খেলা, বউচি খেলা, জারুলতলার বৈশাখী মঞ্চে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ব্যান্ডদল ‘বে অব বেঙ্গল’-এর মনোজ্ঞ সংগীত পরিবেশনা। সকাল ১০:৩০ টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মরণ চত্বর (জিরো পয়েন্ট) থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আবু তাহের এর নেতৃত্বে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়ে চবি জারুলতলায় বৈশাখী মঞ্চে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে চবি জারুলতলার বৈশাখী মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও বর্ষবরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বৈশাখী মঞ্চে জাতীয় সংগীত, বৈশাখের গান ও নৃত্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী পর্বের সূচনা হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পহেলা বৈশাখ ১৪৩১ কেন্দ্রীয় উদ্যাপন পরিষদের আহবায়ক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আবু তাহের। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ সেকান্দর চৌধুরী ও চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর বেনু কুমার দে। আলোচনার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পহেলা বৈশাখ ১৪৩১ কেন্দ্রীয় উদ্যাপন পরিষদের সদস্য-সচিব ও চবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চবি সিনেট সদস্য ও চবি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাসিম হাসান, চবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর আবদুল হক, চবি আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ আল ফারুক, চবি অফিসার সমিতির সভাপতি রশিদুল হায়দার জাবেদ, চবি কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোঃ সুমন (সুমন মামুন) এবং চবি কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলী হোছাইন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চবি ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর ড. সুকান্ত ভট্টাচার্য ও চবি অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তন্ময়ী হাসান। সকাল ৯ টায় ‘বাংলা নববর্ষ’ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আবু তাহের। এতে চবি মাননীয় উপ-উপাচার্যদ্বয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত সকলকে বাংলা নববর্ষের প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, “পহেলা বৈশাখ বাঙালির একটি সর্বজনীন লোকউৎসব। বাংলা নববর্ষ আমাদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবন ধারার সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বিশ্বায়নের প্রভাবে আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য-মূল্যবোধ সাংস্কৃতিক চর্চাকে উৎসাহিত করতে পহেলা বৈশাখের প্রভাতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার আজ আনন্দে উদ্বেলিত। উপাচার্য বলেন, “বিগত বছরের সমস্ত গ্লানিকে মুছে ফেলে অতীতের গৌরব ও সৌন্দর্যকে পুজিঁ করে বর্তমান কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও ভবিষ্যত অগ্রযাত্রায় আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। সামনে থাকা অফুরন্ত স্বপ্ন ও অনন্ত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বঙ্গবন্ধু তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গড়ে তুলতে হবে উন্নত সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ’। তিনি আরও বলেন, “এসো সবাই বৈশাখের নবজাগরণে নতুন উদ্যেমে জেগে উঠি। উপাচার্য নতুন বছরের নতুন দিনে এ বিশ^বিদ্যালয়কে শিক্ষা ও গবেষণায় অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং বিশ্ব র‌্যাংকিংএ নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে প্রত্যেকে দ্বায়িত্ব স্বচ্ছতা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সম্পাদনের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।

দিনব্যাপি কর্মসূচির অংশ হিসেবে চবি মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বলি খেলা, বুদ্ধিজীবী চত্বরে কাবাডি খেলা ও চাকসু প্রাঙ্গণে বউচি খেলা। বিকেলে জারুলতলার বৈশাখী মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ব্যান্ডদল ‘বে অব বেঙ্গল’-এর মনোজ্ঞ সংগীত পরিবেশনা। সবশেষে মাননীয় উপাচার্য গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী আয়োজন সমূহে অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানমালায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ, চবি শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, অনুষদ সমূহের ডিনবৃন্দ, রেজিস্ট্রার, কলেজ পরিদর্শক, হলসমূহের প্রভোস্টবৃন্দ, বিভাগীয় সভাপতি এবং ইনস্টিটিউট ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালকবৃন্দ, প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, অফিস প্রধানবৃন্দ, অফিসার সমিতি, কর্মচারী সমিতি ও কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থীবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং সুধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আপন ভাই কে তুলে নেওয়ায় ফেসবুকে পোস্ট; লাঞ্চিত করল বিএনপি নেতার ভাই সাংবাদিককে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় আপন ছোট ভাই কে তুলে নেওয়ার ঘটনা ফেসবুকে প্রকাশ করায় এক জনৈক সাংবাদিক কে প্রকাশ্যে মারধর করেছে, ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ছোট ভাই শরীফ সহ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ শাহিবুল ইসলাম পিপুল ভাঙ্গুড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক পিপুল দৈনিক বাংলা ট্রিবিউন-এর পাবনা জেলা প্রতিনিধি এবং দৈনিক যুগান্তরের ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই দিন বিকাল প্রায় ৫ টার দিকে কলেজ পাড়া এলাকায় ফিরোজ, হাসিব, মারুফ ও আল-আমিন সহ কয়েক জন যুবক জোরপূর্বক সাংবাদিক পিপুলের ছোট ভাই ইয়াসিন আলী সামী কে হাসপাতাল পাড়া সংলগ্ন শিশুকুঞ্জ এলাকা থেকে তুলে নিয়ে ভাঙ্গুড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে নিয়ে যায়।
বিষয়টি জানার পর পিপুল তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ কে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠায়।

এ ঘটনার পর পিপুল নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই পোস্টকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ‘বাহার’ নামে একব্যক্তি ফোন করে তার অবস্থান নিশ্চিত করে ও পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

কিছুক্ষণ পর পিপুল ভাঙ্গুড়া সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ফিরোজ ও তার সাথে থাকা এক যুবক পরিচয় নিশ্চিত করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং তারাই তার ভাইকে তুলে নিয়েছিল বলে স্বীকার করে। সেখান থেকে সরে আসার চেষ্টা করলে শরীফ ফোনে যোগাযোগ করে পিপুলের অবস্থান জেনে নেয়।

পরবর্তীতে শরীফের নেতৃত্বে ১২/১৫ জনের একটি দল সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় তাকে ঘিরে ধরে মারধর করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তানভীর নামে এক ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক দাঁড়িয়ে থাকা।
একটি সিএনজিতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে কৌশলে সেখান থেকে বের হয়ে পাশের একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নিয়ে পিপুল রক্ষা পায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় ভাঙ্গুড়া থানার এস আই আল-আমিন হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক পিপুল স্থানীয় সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাঙ্গুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

গণমাধ্যমে ফ্যাসিবাদ আমলের বৈষম্য দূর করতে হবে ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


মহান মে দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন( সিএমইউজে)এর সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান এক বিববৃতিতে বলেন- আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি শ্রমিক শ্রেণির আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসকে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, গভীর উদ্বেগের সঙ্গে সিএমইউজে লক্ষ্য করছে—গণমাধ্যম অঙ্গনে এখনো ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে শুরু হওয়া বৈষম্য আজও বহাল রয়েছে। তখন চাকুরীচ্যূত অনেক সাংবাদিক এখনো চাকুরী ফেরত পায়নি। সংবাদপত্র মালিকদের একটি অংশ এখনো বেছে বেছে ফ্যাসিবাদের সমর্থক নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের অনুগত সাংবাদিকদের চাকরি প্রদান করছে, পেশাগত ন্যায্যতা ও নৈতিকতায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক বাধাগ্রস্ত।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে সংঘটিত সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা, মামলা ও হয়রানির বহু ঘটনা এখনো বিচারহীনতায় রয়ে গেছে। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি শুধু ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করছে না, বরং ভবিষ্যতেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তিকে উৎসাহিত করছে।

সিএমইউজে দৃঢ়ভাবে দাবি জানাচ্ছে—সেই সময়ের সকল নির্যাতন, হামলা ও হয়রানির ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমান বাস্তবতায় সাংবাদিকরা একদিকে পেশাগত অনিশ্চয়তাসহ নানা চাপে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা বকেয়া, চাকরির কোনো নিশ্চয়তা নেই, আবার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বিভিন্ন আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে।

সিএমইউজে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন, আইনি সুরক্ষা এবং স্বাধীনতা এই চারটি ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম অব্যাহত আছে। এই প্রেক্ষাপটে সিএমইউজে অবিলম্বে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছে—
* নবম ওয়েজ বোর্ড দ্রুত ও বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন ও দশম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করতে হবে।
* সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বিনা কারণে ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে।
* গণমাধ্যমকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন করতে হবে।
* বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে সংঘটিত সকল সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
* সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা ও হয়রানির বিরুদ্ধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
* ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার বন্ধ এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
* সাংবাদিকদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও কল্যাণ তহবিল নিশ্চিত করতে হবে।
* ফ্রিল্যান্স ও অনলাইন সাংবাদিকদের আইনি স্বীকৃতি ও সমান অধিকার প্রদান করতে হবে।
* ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত এবং সংগঠন পরিচালনায় কোনো বাধা দেওয়া যাবে না।
* গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সম্পাদকীয় স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।

সিএমইউজে স্পষ্টভাবে বলতে চায়—সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা এবং বিচার নিশ্চিত না হলে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। মহান মে দিবসের এই দিনে সিএমইউজে নেতৃবৃন্দ নিজেদের অধিকার রক্ষায়, পেশার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নির্ভীক ভূমিকা পালনে সকল সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ