আজঃ মঙ্গলবার ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বৈশাখী মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থপ্রতিমন্ত্রী বেগম ওয়াসিকা আয়শা খান

নদী না বাঁচলে আমরা বাঁচব না

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ও অর্থপ্রতিমন্ত্রী বেগম ওয়াসিকা আয়শা খান এমপি বলেছেন, নদী না বাঁচলে আমরা বাঁচব না। এই কর্ণফুলী নদী আমাদের প্রাণ। গত রোববার (১৪ এপ্রিল) কর্ণফুলী উপজেলার শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণপাড় শিকলবাহা এলাকার সেতুর নিচে গোলচত্ত্বর প্রাঙ্গণে কর্ণফুলী সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত বৈশাখী মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থপ্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির ঐতিহ্য। বাংলা নববর্ষ উপযাপনে বৈশাখী মেলা, সাম্পান বাইচ সফল হোক সে প্রত্যাশা করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন হাতে নিয়েছেন। আমরা একদিন থাকব না। আমাদের প্রজন্মের জন্য আজকে পরিবেশ তৈরি করে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কর্ণফুলীতে অর্থপ্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বর্ষবরণের বৈশাখী মেলা দেখে আমি খুব আনন্দিত। পহেলা বৈশাখ প্রতিহত করতে কিছু ধর্মান্ধ গোষ্ঠী নানাভাবে অপচেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতার কারণে ব্যর্থ হয়েছে। অপসংস্কৃতি রোধ করতে হলে দেশিয় সংস্কৃতি চালু রাখতে হবে। শিকলবাহার চেয়ারম্যান এই চেষ্টা করেছেন বলে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
সংগঠনের সভাপতি শিকলবাহা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এর সভাপতিত্বে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, অর্থপ্রতিমন্ত্রী বলেছেন- কর্ণফুলী আমাদের প্রাণ। কর্ণফুলীকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আমি বলবো নদীমাতৃক বাংলাদেশের কর্ণফুলী না বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে না। কর্ণফুলীকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার সবার জন্য একটি সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে। মেলায় একটি বুথ রয়েছে। আপনারা সকলে পেনশন স্কিম চালু করতে পারেন। নিজেদের ভবিষ্যৎ গঠনে সবাই সর্বজনীন পেনশন স্কিম রেজিষ্ট্রেশন করুন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহজাদা মহিউদ্দিন, সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেগম চেমন আরা তৈয়ব, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য, দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা হারুন লুবনা, সিএমপি বন্দর জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) শাকিলা সোলতানা, কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাসুমা জান্নাত, কর্ণফুলী থানার ওসি (তদন্ত) মো. মেহেদী হাসান, বোয়ালখালীর পৌর মেয়র জহুরুল ইসলাম জহুর। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইসলাম আহমেদ।

অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য লায়ন ছাবের আহমেদ, কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি এস এম সালেহ, সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মহিউদ্দিন ভান্ডারী, জুলধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল হক, চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলীসহ তৃণমূলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
প্রসঙ্গত, কর্ণফুলীর এই বৈশাখী মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাম্পান বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিশুদের নাচ, গান, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ কবিতা আবৃত্তি শোনানো হয়। দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের প্রাণখ্যাত কর্ণফুলী নদী, বৈশাখী মেলা ও সাম্পান বাইচ নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভা হয়। বিকেলে ৮ টিমের মধ্যে সাম্পান বাইচ প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সব শেষে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য নিয়ে বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
গতকাল সোমবার দ্বিতীয় দিন বৈশাখী মেলায় পুতুল নাচ, নাগরদোলা, সার্কাসসহ বিনোদনমূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এই বৈশাখী মেলায় স্টল সাজানো হয়েছে অর্ধশতাধিক। যার মধ্যে চামড়াজাত, পাটজাত, বুটিকস পণ্য, বাঁশ, বেত ও মাটির হস্তশিল্প, কারুশিল্প, খাবার স্টলসহ আকর্ষণীয় ডিজাইন ও সুলভ মূল্যের বিভিন্ন স্বদেশি পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আমূল পরিবর্তন চট্টগ্রাম বন্দরের ড্রেজিং কার্যক্রমে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও দূরদর্শী পরিকল্পনায় ড্রেজিং কার্যক্রমে এক আমূল পরিবর্তন এসেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সকলের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সরাসরি হাইড্রোগ্রাফী বিভাগের তত্ত্বাবধানে কর্ণফুলী নদীর মোহনা হতে বন্দর সীমানার অন্তর্গত প্রধান জেটি এবং কালুরঘাট পর্যন্ত নেভিগেশনাল চ্যানেলে ও বন্দর সীমার অন্যান্য চ্যানেলে নাব্যতা রক্ষায় এখন এক সাশ্রয়ী ও কার্যকর মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে।


বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও চবক এর যৌথ হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ কার্য পরিচালনা করতঃ সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কর্তৃপক্ষের এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে ড্রেজিং খাতের ব্যয় অতীতের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যা সংস্থার আর্থিক সাশ্রয়ে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হাইড্রোগ্রাফী বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত এই ড্রেজিং কার্যক্রমে বর্তমানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে দক্ষ ঠিকাদার নিয়োগ নিশ্চিত করে ড্রেজিংয়ের কাজগুলোকে ছোট ছোট পরিকল্পিত অংশে ভাগ করে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও কাজের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়ায় ঠিকাদাররা অনেক বেশি দায়বদ্ধতার সাথে কাজ সম্পন্ন করতে পারছে। বাস্তবসম্মত ব্যয় নির্ধারণ এবং আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থার ফলে অতীতে ড্রেজিং খাতে যে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রবণতা ছিল, তা কমানো সম্ভব হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর প্রশাসনিক তদারকি এই সাফল্যের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। চবক-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে নিয়মিত তদারকির ফলে ড্রেজিংয়ের প্রকৃত পরিমাণ ও মান নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এই কৌশলী উদ্যোগের ফলে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চ্যানেলগুলোতে প্রয়োজনীয় নাব্যতা সার্বক্ষণিক বজায় থাকছে, যার ফলে বড় আকৃতির বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন অনেক বেশি নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে বন্দরে যাতায়াত করতে পারছে।

এর ফলে বন্দরের পণ্য খালাস ও হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ-রুটে চট্টগ্রাম বন্দরের বিশ্বস্থতা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।ড্রেজিং খাতে সাশ্রয় হওয়া এই বিপুল অর্থ এখন বন্দরের অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে।

যথাযথ তদারকির ফলে ঠিকাদার-নির্ভর ড্রেজিং কার্যক্রমে এই ধরনের আর্থিক শৃঙ্খলা ও ব্যয়-সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শুধুমাত্র বন্দরের অভ্যন্তরীণ ভিত্তিকেই শক্তিশালী করেনি, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্বচ্ছতা ও টেকসই উন্নয়নের এই ধারা বজায় রেখে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের এই প্রধান প্রবেশদ্বারকে বিশ্বমানের আধুনিক বন্দরে রূপান্তর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

৬৯ পদাতিক ব্রিগেড সদর দপ্তরের আরএইচআইসি’র অভিযানে শটগানের কার্তুজ ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বান্দরবান ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড সদর দপ্তরের আরএইচআইসি’তেমোতায়েন আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যদের সাহসিকতা ও বিচক্ষণতায় শটগানের কার্তুজ ও বিভিন্ন প্রকার দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের সময় অস্ত্র বহনকারী সন্ত্রাসীরা একটি ব্যাগ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় সন্দেহজনকভাবে তাদের আনাগোনা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ২৬ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৯টা ৫৫ মিনিটে বান্দরবান বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ট্যানেলের পশ্চিম পাশে দায়িত্ব পালনকালে বান্দরবান আনসার ব্যাটালিয়ন (১০ বিএন)-এর নায়েক মোঃ জাহিদুল ইসলাম এবং সিপাহি মকছুদুর রহমান দুইজন সন্দেহজনক ব্যক্তির গতিবিধি লক্ষ্য করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে গাঁজা সেবনের গন্ধ পাওয়া যায় এবং কথাবার্তায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়।


সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এগিয়ে গেলে তারা পূরবী পরিবহনের একটি বাসের পেছনে একটি পুরাতন শপিং ব্যাগ ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ফেলে যাওয়া ব্যাগটি তল্লাশি করে একটি পলিথিনে মোড়ানো ১০ রাউন্ড শটগানের কার্তুজ এবং ৫টি বিভিন্ন প্রকার দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

আলোচিত খবর

বাংলার নবযাত্রা, জাহাজ বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের নতুন সংযোজন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)এর বহরে যুক্ত হয়েছে এমভি ‘বাংলার নবযাত্রা’। জাহাজটি পূর্বে এক্সসিএল লায়ন (XCL LION) নামে পরিচিত ছিল।বিএসসি সূত্রে জানা যায় , চীনের তৈরি
জাহাজটির ক্লোজিং প্রোগ্রাম বিক্রেতা পক্ষের আইন প্রতিষ্ঠান স্টিভেনসন হারউড এর কার্যালয়ে শুরু হয়।

বিএসসি জানায়, জাহাজটির ডেলিভারি গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে চীনের জিংজিয়াং-এর নানইয়াং শিপইয়ার্ডে সম্পন্ন হয়েছে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার মাধ্যমে বর্তমানে জাহাজটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের মালিকানায় এসেছে।এ বিষয়ে বিএসসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন-আজ আমাদের জন্য একটি আনন্দের দিন। ‘বাংলার নবযাত্রা’ আমাদের বহরে যুক্ত হওয়ায় বিএসসির সক্ষমতা আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ