আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে তীব্র তাপপ্রবাহে নগরজীবনে নাভিশ্বাস

রোগব্যাধি বাড়ায় হাসপাতালে চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে তীব্র তাপপ্রবাহে নাভিশ্বাস তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত গরমে নানা রোগব্যাধিতেও আক্রান্ত হচ্ছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন বয়সী লোকজন। তীব্র গরমে শরীর থেকে প্রচুর লবণ ও পানি বের হয়ে যায়। অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের কারণে শিশুদের শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হয়ে পানিশূন্যতা তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত গরমে টাইফয়েড, পানিবাহিত হেপাটাইটিস বা জন্ডিসের প্রবণতাও বাড়ছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের বেশিরভাগই চার থেকে পাঁচ বছর বা তারও কম এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সি। এছাড়া শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। তাতে চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে রোগীর চাপ। সর্দি, জ্বর-কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, চর্মরোগ ও ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছে দূর-দূরান্তের মানুষ। হাসপাতালের বহির্বিভাগেও রোগীর দীর্ঘসারি দেখা গেছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এবং আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে দেখা যায়, চমেকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড রোগীর ভিড়ে ঠাসা। স্থান সংকুলান না হওয়ায় একেকটি শয্যায় দুই-তিনজন করে শিশুকে রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আবার মেঝেতেও বিছানা পেতে রাখা হয়েছে আক্রান্ত শিশুদের। একদিকে অসুস্থতায় কাতরাচ্ছে এসব শিশু, তার ওপর ঘনঘন লোডশেডিং বাড়তি যন্ত্রণা হয়ে দেখা দিয়েছে। দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টায় চমেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অন্তত ছয়বার বিদ্যুৎ যেতে দেখা গেছে। এ সময় প্রচণ্ড গরমে শিশু ও তাদের অভিভাবকদের হাঁসফাস করতে দেখা গেছে।
সাতকানিয়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়ন থেকে ডায়রিয়া আক্রান্ত চার বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে গত ১৪ এপ্রিল চমেক হাসপাতালে এসেছিলেন জাহানারা বেগম। তিন দিন ধরে মেয়ে রোকসানাকে নিয়ে হাসপাতালে থাকলেও এখনো কোনো উন্নতি হয়নি। ডাক্তার আরও সাত দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
জাহানারা বেগম বলেন, দুই মেয়ের মধ্যে রোকসানা ছোট। বড় মেয়ের বয়স ১২ বছর। তিন দিন ধরে মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। আমার শাশুড়িও আমার সঙ্গে আছেন। স্বামী চাকরি করায় আসতে পারেন না। মেয়ে অনেক দুর্বল হয়ে গেছে। কথা বলতে পারছে না। ডাক্তার আরও সাত দিন থাকতে বলেছে। এরপরও উন্নতি না হলে মেয়েকে ঢাকায় বা চট্টগ্রামের ভালো কোনো প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করাব। একই শয্যায় চিকিৎসা নিচ্ছিল ডায়রিয়ায় আক্রান্ত সাত বছর বয়সী শিশু আবদুল ওয়াহাব। দুই দিন আগে ভর্তি হলেও সিট না পাওয়ায় মেঝেতে জায়গা হয়েছিল ওয়াহাবের।
ওয়াহাবের বাবা আবদুল মালেক বলেন, সকাল থেকে ছেলের পাতলা পায়খানা শুরু হয়। স্যালাইন খাওয়ানোর পরেও থামছিল না। ২৪ ঘণ্টাতেও অবস্থার উন্নতি না হলে মেডিকেলে চলে আসি। এখানে পর্যাপ্ত সিট না থাকায় প্রথমে মেঝেতে দুই দিন কাটাতে হয়েছে। আজ (বুধবার) সকালে একটি বেডে জায়গা হয়েছে। তাও আরেকজনের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে হচ্ছে।
চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. এ কে এম রেজাউল করিম জানান, শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৭০টি শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি ছিলেন ১৬৪ জন। এদের বেশির ভাগই ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও খিঁচুনি রোগী। এ ছাড়া একই বিভাগের অধীনে আট নম্বর ওয়ার্ডে ২০ শয্যার বিপরীতে রোগী ছিলেন ৪০ জন। আর আইসিইউতে ভর্তি আছেন ১০ জন।
ডা. রেজাউল বলেন, গরমের সময় শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। কারণ তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। আমাদের ওয়ার্ডে বেশ কয়দিন ধরেই রোগীর চাপ বেড়েছে। আমরাও সর্ব্বোচ্চটা দিয়ে সবাইকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা ডা. ফারহানা জেরিন জানান, হাসপাতালের সব শয্যাতেই রোগী রয়েছে। নতুন কোনো রোগী ভর্তি করা যাচ্ছে না। অধিকাংশ রোগীই ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩০টি নতুন শিশু ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১৪ জন, থ্যালেসামিয়া ৯ জন, নিউমোনিয়া ছয়জন ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হয়েছে একজন।
জানতে চাইলে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার শামীম আহসান বলেন, এক সপ্তাহ ধরে অনেক গরম পড়ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির হার বেশি। হাসপাতালে চাপও বেড়েছে। শিশু ওয়ার্ডে স্বাভাবিক সময়েও চাপ থাকে। সবসময় সবাইকে সিট দেওয়া যায় না। এখন চাপ একটু বেশি। সবচেয়ে বেশি ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার রোগী।
চমেক হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডেও গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ৪০ রোগীর মধ্যেই ২৮ জনই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। ওয়ার্ডের বাইরেও রোগীদের সেবা নিতে দেখা গেছে।
স্বাভাবিক পরিমাণের চেয়ে বেশি শিশু রোগী ভর্তি আছে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালেও। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ২৬২টি শিশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আছে।
আর চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে ১৬২ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মীরসরাইয়ে ১৯ জন, সীতাকুন্ডে ১৬ জন, সন্দ্বীপে আটজন, ফটিকছড়িতে ১৪ জন, হাটহাজারীতে সাতজন, রাঙ্গুনিয়ায় ১২ জন, বোয়ালখালীতে ১৫ জন, আনোয়ারায় ১৩ জন, পটিয়ায় ১৬ জন, বাঁশখালীতে ১৯ জন, কর্ণফুলীতে দুজন, চন্দনাইশে ১১ জন, সাতকানিয়ায় ছয় ও লোহাগাড়ায় চারজন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন, যার মধ্যে ১২৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
জেলা সিভিল সার্জন ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, অতিরিক্ত গরম পড়ায় অনেকেই ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি বের করে খেয়ে নেন। আবার রাস্তার খোলা খাবার, পানি, শরবত ও কেটে রাখা ফলও খান। এসব থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ দূষিত খাবার ও পানি থেকেই জন্ডিস, টাইফয়েড, ডায়রিয়া আর হেপাটাইটিসের মতো রোগ ছড়ায়। গরমে ডায়রিয়া থেকে বাঁচতে সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। খাবার আগে, টয়লেটে যাওয়ার পরে হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধুতে হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

কিউলেক্স মশার প্রকোপ বেড়েছে: মেয়র ডা. শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নালা-নর্দমা ও ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে স্থির পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটছে। তাই নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।’শনিবারের অঙ্গীকার, বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’—এই স্লোগান সামনে রেখে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও এর আশপাশের এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচিটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারা দেশে পরিচালিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে।মেয়র বলেন, নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান, কারণ প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।তাই মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এই এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে টব, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনের সামগ্রী বা প্লাস্টিকের পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নেয়, যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার জন্য দায়ী। তবে বর্তমানে কিউলেক্স মশার বিস্তার বেশি দেখা যাচ্ছে, যার প্রধান উৎস নোংরা ড্রেন ও জমে থাকা বর্জ্য। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।তিনি জানান, নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে এই পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও অতিরিক্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ১৬০ জনের একটি বিশেষ দল কাজ করছে।মেয়র বলেন, চকবাজার, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, ফিরিঙ্গিবাজার, হালিশহর, পাহাড়তলীসহ কয়েকটি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষভাবে মশক নিধন ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

কার্যকর ওষুধ ব্যবহারের কারণে বর্তমানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ অনেকটাই কমেছে। আমেরিকা থেকে আনা কার্যকর লার্ভিসাইড ব্যবহার করায় ডেঙ্গুর লার্ভা ধ্বংসে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহর শুধু সিটি করপোরেশনের নয়—এটি সবার শহর। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসা-বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখলে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা সম্ভব।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সব সময় উন্নয়ন ও উদ্যোগে পথ দেখিয়েছে। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

উদ্বোধনের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেইন গেট, কেবি ফজলুল কাদের সড়ক এবং প্রবর্তক মোড় এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার করা হয় এবং মশক নিধনে লার্ভিসাইড ওষুধ ছিটানো হয়। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা ফগার মেশিন ও স্প্রে মেশিন ব্যবহার করে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম প্রমুখ।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ