চট্টগ্রামে তীব্র তাপপ্রবাহে নগরজীবনে নাভিশ্বাস

রোগব্যাধি বাড়ায় হাসপাতালে চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে তীব্র তাপপ্রবাহে নাভিশ্বাস তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত গরমে নানা রোগব্যাধিতেও আক্রান্ত হচ্ছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন বয়সী লোকজন। তীব্র গরমে শরীর থেকে প্রচুর লবণ ও পানি বের হয়ে যায়। অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের কারণে শিশুদের শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হয়ে পানিশূন্যতা তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত গরমে টাইফয়েড, পানিবাহিত হেপাটাইটিস বা জন্ডিসের প্রবণতাও বাড়ছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের বেশিরভাগই চার থেকে পাঁচ বছর বা তারও কম এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সি। এছাড়া শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। তাতে চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে রোগীর চাপ। সর্দি, জ্বর-কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, চর্মরোগ ও ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছে দূর-দূরান্তের মানুষ। হাসপাতালের বহির্বিভাগেও রোগীর দীর্ঘসারি দেখা গেছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এবং আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে দেখা যায়, চমেকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড রোগীর ভিড়ে ঠাসা। স্থান সংকুলান না হওয়ায় একেকটি শয্যায় দুই-তিনজন করে শিশুকে রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আবার মেঝেতেও বিছানা পেতে রাখা হয়েছে আক্রান্ত শিশুদের। একদিকে অসুস্থতায় কাতরাচ্ছে এসব শিশু, তার ওপর ঘনঘন লোডশেডিং বাড়তি যন্ত্রণা হয়ে দেখা দিয়েছে। দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টায় চমেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অন্তত ছয়বার বিদ্যুৎ যেতে দেখা গেছে। এ সময় প্রচণ্ড গরমে শিশু ও তাদের অভিভাবকদের হাঁসফাস করতে দেখা গেছে।
সাতকানিয়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়ন থেকে ডায়রিয়া আক্রান্ত চার বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে গত ১৪ এপ্রিল চমেক হাসপাতালে এসেছিলেন জাহানারা বেগম। তিন দিন ধরে মেয়ে রোকসানাকে নিয়ে হাসপাতালে থাকলেও এখনো কোনো উন্নতি হয়নি। ডাক্তার আরও সাত দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
জাহানারা বেগম বলেন, দুই মেয়ের মধ্যে রোকসানা ছোট। বড় মেয়ের বয়স ১২ বছর। তিন দিন ধরে মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। আমার শাশুড়িও আমার সঙ্গে আছেন। স্বামী চাকরি করায় আসতে পারেন না। মেয়ে অনেক দুর্বল হয়ে গেছে। কথা বলতে পারছে না। ডাক্তার আরও সাত দিন থাকতে বলেছে। এরপরও উন্নতি না হলে মেয়েকে ঢাকায় বা চট্টগ্রামের ভালো কোনো প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করাব। একই শয্যায় চিকিৎসা নিচ্ছিল ডায়রিয়ায় আক্রান্ত সাত বছর বয়সী শিশু আবদুল ওয়াহাব। দুই দিন আগে ভর্তি হলেও সিট না পাওয়ায় মেঝেতে জায়গা হয়েছিল ওয়াহাবের।
ওয়াহাবের বাবা আবদুল মালেক বলেন, সকাল থেকে ছেলের পাতলা পায়খানা শুরু হয়। স্যালাইন খাওয়ানোর পরেও থামছিল না। ২৪ ঘণ্টাতেও অবস্থার উন্নতি না হলে মেডিকেলে চলে আসি। এখানে পর্যাপ্ত সিট না থাকায় প্রথমে মেঝেতে দুই দিন কাটাতে হয়েছে। আজ (বুধবার) সকালে একটি বেডে জায়গা হয়েছে। তাও আরেকজনের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে হচ্ছে।
চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. এ কে এম রেজাউল করিম জানান, শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৭০টি শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি ছিলেন ১৬৪ জন। এদের বেশির ভাগই ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও খিঁচুনি রোগী। এ ছাড়া একই বিভাগের অধীনে আট নম্বর ওয়ার্ডে ২০ শয্যার বিপরীতে রোগী ছিলেন ৪০ জন। আর আইসিইউতে ভর্তি আছেন ১০ জন।
ডা. রেজাউল বলেন, গরমের সময় শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। কারণ তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। আমাদের ওয়ার্ডে বেশ কয়দিন ধরেই রোগীর চাপ বেড়েছে। আমরাও সর্ব্বোচ্চটা দিয়ে সবাইকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা ডা. ফারহানা জেরিন জানান, হাসপাতালের সব শয্যাতেই রোগী রয়েছে। নতুন কোনো রোগী ভর্তি করা যাচ্ছে না। অধিকাংশ রোগীই ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩০টি নতুন শিশু ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১৪ জন, থ্যালেসামিয়া ৯ জন, নিউমোনিয়া ছয়জন ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হয়েছে একজন।
জানতে চাইলে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার শামীম আহসান বলেন, এক সপ্তাহ ধরে অনেক গরম পড়ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির হার বেশি। হাসপাতালে চাপও বেড়েছে। শিশু ওয়ার্ডে স্বাভাবিক সময়েও চাপ থাকে। সবসময় সবাইকে সিট দেওয়া যায় না। এখন চাপ একটু বেশি। সবচেয়ে বেশি ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার রোগী।
চমেক হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডেও গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ৪০ রোগীর মধ্যেই ২৮ জনই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। ওয়ার্ডের বাইরেও রোগীদের সেবা নিতে দেখা গেছে।
স্বাভাবিক পরিমাণের চেয়ে বেশি শিশু রোগী ভর্তি আছে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালেও। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ২৬২টি শিশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আছে।
আর চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে ১৬২ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মীরসরাইয়ে ১৯ জন, সীতাকুন্ডে ১৬ জন, সন্দ্বীপে আটজন, ফটিকছড়িতে ১৪ জন, হাটহাজারীতে সাতজন, রাঙ্গুনিয়ায় ১২ জন, বোয়ালখালীতে ১৫ জন, আনোয়ারায় ১৩ জন, পটিয়ায় ১৬ জন, বাঁশখালীতে ১৯ জন, কর্ণফুলীতে দুজন, চন্দনাইশে ১১ জন, সাতকানিয়ায় ছয় ও লোহাগাড়ায় চারজন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন, যার মধ্যে ১২৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
জেলা সিভিল সার্জন ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, অতিরিক্ত গরম পড়ায় অনেকেই ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি বের করে খেয়ে নেন। আবার রাস্তার খোলা খাবার, পানি, শরবত ও কেটে রাখা ফলও খান। এসব থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ দূষিত খাবার ও পানি থেকেই জন্ডিস, টাইফয়েড, ডায়রিয়া আর হেপাটাইটিসের মতো রোগ ছড়ায়। গরমে ডায়রিয়া থেকে বাঁচতে সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। খাবার আগে, টয়লেটে যাওয়ার পরে হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধুতে হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চসিকের ২ হাজার ২৬০ কোটি টাকার নতুন বাজেট বড় আয়ের উৎস ধরা হয়েছে ‘হাল কর ও অভিকর’, যার পরিমাণ ৪২৬ কোটি টাকা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাজেট ঘোষণা করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বাজেটের মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে ১২২ কোটি এবং মশকনিধনে রেকর্ড ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে কাঙ্খিত উন্নয়ন অনুদান ও নিজস্ব কর আদায় না হওয়ায় সংশোধিত বাজেটের আকার প্রায় ২২ দশমিক ৩৪ শতাংশ সংকুচিত করতে হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে প্রায় ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

বাজেট বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন,’নগরবাসীর আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটানোর প্রত্যাশায় ও চট্টগ্রাম মহানগরকে ক্লিন-গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাসযোগ্য নান্দনিক পর্যটন নগর হিসেবে প্রতিষ্ঠার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করছি।

সিটি কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান অনুমোদিত মোট জনবলের সংখ্যা মাত্র ৪ হাজার ২২৬ জন। মেয়র জানান, এই সামান্য জনবল দ্বারা নগরের প্রায় সত্তর লাখ নগরবাসীকে পূর্ণাঙ্গ ও বিভিন্ন সেবা প্রদান করা কোনোভাবেই সম্ভবপর নয়। যার কারণে যথাযথ নাগরিক-সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনকে বিভিন্ন সময়ে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়।

নতুন বাজেটে সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস ধরা হয়েছে চলতি অর্থবছরের ‘হাল কর ও অভিকর’, যার পরিমাণ ৪২৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে আদায় হয়েছিল মাত্র ৩১৫ কোটি টাকা।বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি খাতের পুঞ্জীভূত বকেয়া থেকে এবার ১৯৭ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল মাত্র ৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।অন্যান্য কর থেকে ১৮৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন সেবামূলক ফিস থেকে ১৪০ কোটি ২০ লাখ টাকা আয়ের লক্ষ্য রয়েছে।

নিজস্ব আয়ের বাইরে সরকারের উন্নয়ন অনুদান খাত থেকে এবার বড় অংকের প্রাপ্তি আশা করছে চসিক। এই খাতে ৯৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে এটি ১ হাজার ৪৪ কোটি টাকা আশা করা হলেও বরাদ্দ মিলেছিল ৮৮৭ কোটি ৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।

চসিকের ব্যয় খাতের বিবরণী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি টাকা সরাসরি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন বাজেটে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় নগরের উন্নয়নে সর্বোচ্চ ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর বাইরে চসিকের নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে ২১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ, নগরের রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও অবকাঠামো উন্নয়নে মোট ১ হাজার ৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা খরচ করা হবে। সিটি কর্পোরেশনের বিশাল কর্মকর্তা-কর্মচারী বাহিনীর বেতন-ভাতা ও পারিশ্রমিক বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে খরচ হয়েছিল ৩৩১ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এছাড়া নগরের সড়ক বাতি ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রয়োজনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পানি খাতে এবার ৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত সংশোধিত বাজেটে ছিল ৫২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। চসিকের বিভিন্ন ঠিকাদার ও খাতের পুরনো বকেয়া দেনা মেটাতে এবার ১৮৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাজেটের নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চসিকের নিজস্ব আয় বাড়ার ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি সরকারি উন্নয়ন অনুদানের ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা রাখা হয়েছে।চসিকের আয় খাতের বিবরণী অনুযায়ী, নতুন অর্থবছরে প্রারম্ভিক স্থিতি ধরা হয়েছে ৩৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এবার নিজস্ব উৎস থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্ষায় নগরের প্রধান দুর্ভোগ জলাবদ্ধতা দূর করতে নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১২২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সর্বশেষ (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এই খাতে মূল বরাদ্দ ছিল ৭৫ কোটি টাকা। তবে বছর শেষে সংশোধিত বাজেটে এ খাতে প্রকৃত খরচ করা হয়েছিল ৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, বিগত বছরের খরচের তুলনায় এবার জলাবদ্ধতা নিরসনে বরাদ্দ প্রায় ৪৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ডেঙ্গুর প্রকোপ ও মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে আগামী অর্থবছরের জন্য মশকনিধন খাতে রেকর্ড ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর আগের (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এই খাতে মূল বরাদ্দ রাখা হয়েছিল মাত্র ৯ কোটি টাকা। তবে বছর শেষে চসিক খরচ করতে পেরেছিল মাত্র ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। সেই তুলনায় এবার মশা মারার বাজেটে প্রায় পাঁচগুণ বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আয় ও ব্যয়ের যাবতীয় হিসাব শেষে চসিকের তহবিলে ৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা বাজেটে উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। যেখানে গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ৪৭ কোটি ৩১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা।

বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি কাটাতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে : প্রশাসক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলে জানালেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম। তিনি বলেছেন, কোন এলাকায় কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার ওএচিয়ার টেক এলাকায় উপজেলা কৃষক দলের উদ্যোগে আয়োজিত ত্রাণ ও কৃষি চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বন্যায় অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, ফসল, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগির খামার এবং মাছের ঘের হারিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।পরে তিনি সাতকানিয়া উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে টিন বিতরণ করেন।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, এটি ফুল দিয়ে বরণ বা স্লোগান দেওয়ার সময় নয়।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। মানুষের দুঃসময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচির চেয়ে মানবিক সহায়তাই বেশি প্রয়োজন। বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়। দলের নেতারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ত্রাণ বিতরণসহ দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং পুনর্বাসন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সম্প্রতি জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন উল্লেখ করে শামীম বলেন, বন্যায় অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, ফসল, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগির খামার এবং মাছের ঘের হারিয়েছেন। এসব ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।

শুধু সাতকানিয়া নয়, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, চকরিয়া ও কক্সবাজারসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে কাজ করছে। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদও এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আমি চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে আপনাদের আশ্বস্ত করছি, পুনর্বাসন কার্যক্রমে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে যা যা করা সম্ভব, আমরা তা করব। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে না আসা পর্যন্ত সহযোগিতার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিউদ্দিন, নাজমুল মোস্তফা আমিন, মুজিবুর রহমান, জামাল হোসেন, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মহসিন চৌধুরী রানা, জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোজাম্মেল হক, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মীর জাকির, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহসিন, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ, ওয়াহেদ সুমন, আনিসুর রহমান প্রমূখ।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ