শিক্ষার্থীদের কর্মোপযোগী করে গড়ে তুলতে পারলেই দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

চবি ইনোভেশন হাব পরিদর্শনে আসা বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি দল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চবি ইনোভেশন হাব পরিদর্শনে আসা বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি দল
শিক্ষার্থীদের কর্মোপযোগী করে গড়ে তুলতে পারলেই
দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে

ছবি-১০- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আবু তাহের এর সাথে বিশ^ ব্যাংকের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ করছেন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: বিশ^ ব্যাংকের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইনোভেশন হাব পরিদর্শন করেন। এদিন বেলা ১১টায় প্রতিনিধি দলের সদস্যবৃন্দ চবি উপাচার্যের অফিস কক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আবু তাহের এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এ সময় চবি উপ-উপাচার্যদ্বয়, চবি আইসিটি সেলের পরিচালক ও চবি ইনোভেশন হাবের ফোকাল পার্সন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম, চবি মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ আবুল কাসেম ও চবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কে. এম নুর আহমদ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন- বিশ^ ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ রামি গালাল, কনসালটেন্ট জামিল ওয়াইন, আর্থিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ সোফি ডং, বিশ^ব্যাংকের পরামর্শক মাইকেল ডোভ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক অথরিটি’র ডিইআইইডি এর উপ প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ মনসুর আলম, ডিইআইইডি এর পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. মোঃ বিল্লাল হোসাইন, ইনোভেশন এন্ড কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ এ. এন. এম. সফিকুল ইসলাম, এনডিই ইনফ্রাটেকের ইউআইএইচ প্রোগ্রামের কৌশলগত পরামর্শক ড. অনন্য রায়হান ও প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর তৌহিদুল ইসলাম।
উপাচার্য প্রতিনিধি দলের সদস্যদের চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের অনিন্দ্য সুন্দর সবুজ ক্যাম্পাসে স্বাগত ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন,“বর্তমান সরকার দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদ্যোক্তা ও স্টার্ট আপদের উন্নয়নের লক্ষ্যে ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠা করছে। এর সাথে যুক্ত থাকবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকরণ (আইডিয়া) প্রকল্প। ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠার ফলে তরুন গবেষক ও উদ্যোক্তারা প্রযুক্তিগত ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে নতুন নতুন জ্ঞান অর্জন করতে পারবে যা তাঁেদর উদ্ভাবন ও স্টার্টআপকে সফলভাবে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবেন।” উপাচার্য বলেন, “বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘মুজিব ১০০ আইডিয়া’ প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়, যাতে দেশের শীর্ষ ১০০ উদ্যোগকে ইনোভেশন হাবের মাধ্যমে মেন্টরিং ও গ্রুমিং প্রদান করা হয়। এ আয়োজনের ফলে স্টার্ট আপরা তাঁদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিজেদের দক্ষ, যোগ্য ও স্মার্ট মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে সক্ষম হবেন। দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একটি উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম বিকাশ ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন এবং কর্মোপযোগী করে গড়ে তুলতে পারলেই দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।” দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত ইনোভেশন হাব আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে দৃশ্যমান অবদান রাখবে মর্মে মাননীয় উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উপাচার্য চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠায় সার্বিক সহযোগীতার জন্য বিশ^ব্যাংক, আইসিটি মন্ত্রণালয়, হাই-টেক পার্কসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ বিশ^বিদ্যালয়ের সবুজ ক্যাম্পাস, মনোরম পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হন। তাঁরা চবি নবনির্মিত ইনোভেশন হাব ঘুরে দেখে অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ইনোভেশন হাবে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিযোগীতামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে ইনোভেশন হাবের কার্যক্রমের গতিশীলতা আনয়নে এবং এ বিশ^বিদ্যালয়ের একাডেমিক উন্নয়ন কার্যক্রমে তাঁদের সহযোগীতা অব্যাহত থাকবে মর্মে আশ^াস প্রদান করেন। পরে প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় ইনোভেশন হাব এর ভুমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
চবি ইনোভেশন হাব পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

৮০ হাজার কর্মী বছরে বেতন পায় ২ হাজার ৮২০ কোটি টাকা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের অন্যতম বৃহৎ সরকারি কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা বা ‘কেইপিজেড’। প্রতিদিন এখানে বিশ্বমানের কারখানাগুলোতে তৈরি হয় আন্তর্জাতিক বাজারের সব ব্র্যান্ডের পণ্য। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পেছনে আসল শক্তি একটাই-নগদ অর্থ। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন তিনটি কারখানা চালু হবে। এতে আরও ২০ হাজার কর্মী যুক্ত হয়ে মোট জনবল উন্নীত হবে এক লাখের মাইলফলকে। তখন মাসিক বেতনও পৌঁছাবে ৩০০ কোটি টাকায়।বর্তমানে ৮০ হাজার কর্মীর হাতে প্রতি মাসে পৌঁছায় ২৩৫ কোটি টাকা। তা-ও মাসের ১ থেকে ৮ তারিখের মধ্যে। গড়ে প্রতি কর্মীর বেতন প্রায় সাড়ে ২৯ হাজার টাকা।বছরে এই বেতনের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৮২০ কোটি টাকা। কর্মীদের বেতনের এই টাকায় মাত্র ৪ থেকে সাড়ে ৪ বছরেই একটি কর্ণফুলী টানেলের পুরো নির্মাণ খরচ তোলা সম্ভব!

এদিকে পতেঙ্গা এলাকায় মাস শেষে নগদে বেতন নেওয়ার পুরনো দৃশ্য এখন আর নেই। সেখানে ঘটেছে এক নীরব ‘ডিজিটাল বিপ্লব’। মাসের প্রথম সপ্তাহে ব্যাংকগুলোর স্বয়ংক্রিয় পে-রোল সিস্টেমের মাধ্যমে সরাসরি ৮০ হাজার শ্রমিকের অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায় ২৩৫ কোটি টাকা। এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে বেতনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে। এটিএম বুথ ও ডিজিটাল ওয়ালেটে টাকা পৌঁছে যাওয়ায় কেনাকাটা ও দ্রুত গ্রামে টাকা পাঠানো এখন সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত।

কেইপিজেডের ৮০ হাজার কর্মীর মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী। অর্থাৎ প্রায় ৪৮ হাজার নারী শ্রমিক প্রতি মাসে সরাসরি প্রায় ১৪১ কোটি টাকা বেতন পান। এই আয় দিয়ে নারীরা পরিবারের মূল চালকের ভূমিকা নিচ্ছেন। একই সঙ্গে সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যতের সঞ্চয় নিশ্চিত করে নিজেদের সামাজিক মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলছেন।

কর্ণফুলী ইপিজেডে শ্রীলঙ্কাভিত্তিক বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ক্যানপার্ক বাংলাদেশের পরিচালক খলিলুর রহমান (মিল্টন) জানালেন, ‘এই নারীরাই আমাদের কারখানার প্রাণ। সব ধরনের সমান সুযোগ-সুবিধা তারা পান। আমাদের এমন অনেক নারী কর্মী আছেন, যারা শুরু থেকে টানা ২০ বছর ধরে সুনামের সাথে কাজ করছেন।

জানা গেছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের বৃহত্তম সরকারি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম স্টিল মিলের ২২২ একর জমিতে ২০০৬ সালে এই শিল্পনগরীর সূচনা হয়। ২৫৮টি শিল্পপ্লটের ওপর এখন চালু রয়েছে ৪০টি বিশাল কারখানা। এর ২৯টিই শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও থামেনি কেইপিজেডের অগ্রযাত্রা। ভোরের আলো ফোটার আগেই হাজার হাজার মানুষের আনাগোনা শুরু হয় পতেঙ্গায়। পাশে কর্ণফুলী নদী। একটু দূরেই বঙ্গোপসাগর। নদী-সাগরের হাওয়ায় ভেসে আসে তখন হাজারো মানুষের পায়ের শব্দ। জোরে হাঁটছেন, কেউ ছুটছেন গন্তব্যে। কারণ এখানে যন্ত্রের টুকটাক গুঞ্জন, মেশিনের অবিরাম শোঁ শোঁ শব্দ আর সুচ-সুতোর বুননে প্রতিদিন এখানে তৈরি হয় আন্তর্জাতিক বাজারের বিশ্বখ্যাত সব ব্র্যান্ডের পণ্য।

কর্ণফুলী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক জানালেন, ৮০ হাজার কর্মীর প্রতি পরিবারে চারজন সদস্য ধরলে ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ সরাসরি এই আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই আয় বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবনে অভাবনীয় সামাজিক ও আর্থিক স্বস্তি এনে দিয়েছে। বেতনের সিংহভাগ টাকা স্থানীয় আবাসন, কাঁচাবাজার ও দৈনন্দিন কেনাকাটায় খরচ হয়। এতে পুরো পতেঙ্গা ও ইপিজেড মোড় এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসা, পরিবহন ও সার্ভিস সেক্টরে সচল অর্থনীতির চাকা।

কেইপিজেড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেইপিজেড থেকে প্রতি মাসে গড়ে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা) মূল্যের পণ্য বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। জাপানের হাই-টেক অপটিক্যাল লেন্স, দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বখ্যাত ক্যাম্পিং প্রোডাক্টস এবং চীন ও শ্রীলঙ্কাসহ ১৪টি দেশের কারখানায় তৈরি পোশাক ও চামড়াজাত পণ্য এই আয়ের মূল উৎস। চট্টগ্রাম বন্দরের ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে পরিচালিত কেইপিজেডের এই ধারাবাহিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে।

কর্ণফুলী ইপিজেডের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ খালিদ চৌধুরী বললেন, ইপিজেডে পদোন্নতি না হলেও প্রতিবছর নিশ্চিত ৯ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট মেলে। বাৎসরিক নিশ্চিত আয় বৃদ্ধি, উন্নত চিকিৎসাসহ কমপ্লায়েন্সভিত্তিক নিরাপদ কর্মপরিবেশ থাকার কারণে শ্রমিকদের চাকরি ছাড়ার প্রবণতাও অনেক কম।

বিদ্যুৎ সংকট কাটিয়ে উৎপাদনে ইপিজেডের ৫০১টি শিল্প প্লট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাহিদার সমান বিদ্যুৎ পেয়ে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় চট্টগ্রাম ইপিজেডের ৫০১টি শিল্প প্লটে। স্বস্তি ফিরেছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। এর আগে গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় অচল হয়ে পড়ে ইপিজেডের নিজস্ব ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র। ফলে পিডিবি থেকে পাওয়া ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়ে মেটানো যাচ্ছিল না চাহিদার অর্ধেকও। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল কারখানাগুলোতে। গত শনিবার থেকে ইপিজেডের চাহিদা অনুযায়ী ৬৫ থেকে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম ইপিজেডে কর্মসংস্থান প্রায় দুই লাখ মানুষের। এখানে আছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫০১টি শিল্প প্লট। বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া ও ভারতের বিনিয়োগকারীরা এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।বছরে প্রায় ২৩৭ কোটি ৫৭ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয় ইপিজেড থেকে। প্রতি ডলার ১২৫ টাকা হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা।চট্টগ্রাম ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে শনিবার থেকে সব শিল্প প্লট চাহিদা অনুযায়ী ৬৫ থেকে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছে। পুরো বিদ্যুৎই পিডিবি সরবরাহ করছে। এতে স্বাভাবিক হয়েছে উৎপাদন।

জানা গেছে, ইপিজেডের কারখানাগুলো পুরোদমে চালাতে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। এর মধ্যে ১৫ থেকে ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার করে বেসরকারি ইউনাইটেড গ্রুপের ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা। গ্যাস সংকটের কারণে ওই কেন্দ্র থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছিল না। এ অবস্থায় ইপিজেড কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পিডিবি ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। বাকি ৩৫ মেগাওয়াট না পাওয়ায় ৫০১টি শিল্প প্লটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিনিয়োগকারীরা সাপ্তাহিক ছুটি পরিবর্তন, কর্মঘণ্টা কমানো, ওভারটাইম বন্ধ এবং ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহারের মতো বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।

পিডিবি দক্ষিণ জোনের প্রধান কামাল উদ্দিন বললেন, চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুত দেয়ার সক্ষমতা আমার ছিল না। এরপরও আমি দেশের স্বার্থে বিকল্প চেষ্টা করেছি। সফলও হয়েছি। দেশের অগ্রাধিকার এই খাতে বিদ্যুত দিতে পেরে আমারও ভালো লাগছে।হেমপেল রি ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। উৎপাদন স্বাভাবিক করতে কারখানাগুলো পুরোদমে কাজে নেমেছে। এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ