আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬

জাল ভিসা দিয়ে কুয়েত নিয়ে প্রতারণা, দিশেহারা ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার 

দেবহাটা প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাতক্ষীরায় জাল ভিসা দিয়ে বিদেশ নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। এঘটনায় ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই ভিক্টিমের চাচা কালিগঞ্জ উপজেলার মুকুন্দপুর গ্রামের মৃত বাহার আলীর পুত্র নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ আমলী-০২ নং আদালতে মামলা করে। এতে প্রধান আসামী করা হয় কালিগঞ্জ উপজেলার মহতপুর গ্রামের মৃত মমতাজ গাজীর ছেলে নজরুল ইসলামকে। একই মামলায় আসামী করা হয় নজরুল ইসলামের স্ত্রী হাফিজা খাতুন, ভাই মতিয়ার রহমানকে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী (জয়াখালি) গ্রামের মৃত বাহার আলী গাজীর ছেলে রুহুল আমিন গাজী ইংরেজি ১৯৯৬ সালে কাজের জন্য কুয়েতে যায়। রুহুল আমিনের স্ত্রী দীর্ঘদিন যাবত ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। স্ত্রীর চিকিৎসায় উপার্জিত টাকা শেষ হওয়ায় রুহুল আমিন তার ছেলেকে কুয়েতে পাঠাতে বলেন। বিদেশ পাঠনোর জন্য মাধ্যমে হিসাবে কালিগঞ্জ উপজেলার মহৎপুর গ্রামের মৃত মমতাজ গাজীর পুত্র নজরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে তারা। বিদেশ পাঠাতে ভিসা, বিমানের টিকিট, ম্যানপাওয়ার সহ ২০নং ভিসা ২ বৎসরের আকামা সহকারে কুয়েতের ২৪’শ দিনার সমপরিমান বাংলাদেশী মূল্য ৬লক্ষ ৬০ হাজার টাকা গ্রহন করে যোগাযোগকারী নজরুল ইসলাম। পরে নজরুল ইসলাম তার স্ত্রী হাফিজা খাতুন ও ভাই মতিয়ার রহমানকে নিয়ে ২০১৬ সালের  পহেলা ফেব্রুয়ারী তারিখে টাকা গ্রহন করে। সেই সাথে ঐ সালের জুন মাসের ১৯ তারিখে ভিক্টিমের (ওমর ফারুক) এর নামে ভিসা প্রদান করেন। ওমর ফারুক ভিসা নিয়ে কুয়েতে যাওয়ার পরে জানতে পারে তার ভিসা টি নকল। পরে তাকে কুয়েত জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এরপর সাজা শেষে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাকে। পরে এঘটনায় ভিক্টিম ওমর ফারুক ২০২২ সালের ৭ মার্চ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ও বহিরাগমন অনুবিভাগের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে ভিক্টিমের পিতা ভিসা জালিয়াতি ও মানব পাচারকারী বাংলাদেশী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দূতাবাস কাউন্সিলর (শ্রম), কুয়েত এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রবাসী কল্যাণ শাখার সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল আমিন স্বাক্ষরিত এক পত্রে অভিযুক্তর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারের জেলা বিশেষ শাখায় নির্দেশ প্রদান করেন। এছাড়া ২২ মালের ৯ ফেব্রুয়ারী জেলা প্রশাসকের প্রবাসী কল্যাণ শাখার সহকারী কমিশনার সজিব তালুকদারের পাঠানো পত্রে প্রতারকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। অপরদিকে কালিগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান গত ২২ সালের মার্চ মাসের ২১ তারিখে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখায় ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। সেখানে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জাল ভিসা প্রদানের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। তদন্তে আরো উল্লেখ করা হয় যে, নজরুল ইসলাম একজন চিহ্নিত দালাল। তিনি যাদেরকে বিদেশ পাঠিয়েছেন সবার ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও ক্ষতিপূরণ টাকা ফেরৎ না পেয়ে পরিবারটি মানবেতর জীবন যাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। আর তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে টাকা ফেরৎ সহ অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ফুটবল বিশ্বকাপ -২০২৬ শুভ সূচনায় মেক্সিকোর চমক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ২-০ গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। তিনটি লাল কার্ডে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে কার্যত ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা আর কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। নবম মিনিটেই স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস। পঞ্চাশ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সিথোলে পেনাল্টি বক্সের মাথায় ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। এর ফলে ১০ জনের দলে নেমে যায় সফরকারীরা।এরপর ছেষট্টি মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল হিমিনেজ। এক গোল পেছনে পড়ে এবং একজন কম নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াই তখন আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

চুরাশি মিনিটে আরও একবার লাল কার্ড দেখে বিপদ বাড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ফাউল করে মাঠ ছাড়েন থেম্বা জেওয়ানে। যোগ করা সময়ের দুই মিনিটে লাল কার্ড দেখেন মেক্সিকোর সেজার মন্তেস, ফলে ম্যাচে মোট তিনটি লাল কার্ড দেখা যায়।শেষ পর্যন্ত দুই গোলের জয় নিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে মেক্সিকো।

ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন অভিন্ন: ভারতীয় নতুন হাইকমিশনার ত্রিবেদী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও মজবুত হবে
বলেছেন-ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।দুই দেশের মানুষের গণতন্ত্রের স্বপ্ন অভিন্ন।বৃহস্পতিবার ১১ জুন কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতিবিজড়িত নেতাজি ভবনে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ কেবল ভৌগোলিক সীমান্তের মাধ্যমে সংযুক্ত নয়, বরং দুই দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাও একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের যে স্বপ্ন,একই স্বপ্ন বাংলাদেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষেরও।

দুই দেশের ১৬০ কোটি মানুষের কল্যাণে যা প্রয়োজন, সেই লক্ষ্য অর্জনে একযোগে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শ ও দুই দেশের জনগণের সমর্থন ও আশীর্বাদ তাঁদের পথচলায় শক্তি জোগাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু সীমান্তের মাধ্যমে সংযুক্ত নই। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের সঙ্গেও আমরা যুক্ত। আমাদের স্বপ্ন অভিন্ন, গণতন্ত্রের অভিন্ন স্বপ্ন। তাই শুধু ভারতের ১৪০ কোটি মানুষই নয়, আমি এর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ২০ কোটি মানুষকে যোগ করি। ১৬০ কোটি মানুষের জন্য যা ভালো, আমি নিশ্চিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, এই দেশের মানুষ এবং বাংলাদেশের মানুষ আমাকে আশীর্বাদ করবেন, যাতে আমরা একসঙ্গে থাকতে পারি এবং যা অর্জন করতে যাচ্ছি, তাতে সফল হতে পারি।

শুক্রবার ঢাকায় আসার সময় ভার‌তের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর স‌ঙ্গে তার স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদীও ঢাকায় আস‌বেন। বাংলা‌দে‌শে ভার‌তের নতুন হাইক‌মিশনার হি‌সে‌বে গত এপ্রিলের শে‌ষ দি‌কে আনুষ্ঠা‌নিকভা‌বে দেশটির সাবেক রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ