দুই চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে

চট্টগ্রামে বেসরকারি প্রায় ৬০০ প্রতিষ্ঠানে রোগী ভর্তি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রোগীদের সীমাহীন ভোগান্তি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে বেসরকারি পর্যায়ে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দুই চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি ২৪ ঘন্টা চলবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম জেলার নেতারা। গতকাল থেকে জেলা ও মহানগরীতে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মিলিয়ে প্রায় ৬০০ প্রতিষ্ঠানে রোগী ভর্তি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়েছে। পাঁচ হাজারেরও বেশি চিকিৎসক চেম্বার বন্ধ রেখে ব্যক্তিগতভাবে কোনো রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছেন না। এদিকে বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকায় শত, শত রোগী ব্যাপক ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। অনেক রোগী ও তাদের স্বজনদের সকাল থেকে বিভিন্ন ল্যাব ও ক্লিনিকের সামনে অসহায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। রোগীর চাপ বেড়েছে সরকারি হাসপাতালগুলোতেও।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে নগরীর পাঁচলাইশে শেভরণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে গিয়ে দেখা গেছে প্রতিষ্ঠানটির মূল ফটক বন্ধ করে নোটিশ ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। ফটকের সামনে নগরীর বাইরে থেকে আসা কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনকে অপেক্ষারত দেখা গেছে। কক্সবাজার থেকে শেভরণে চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে আসা বাসন্তী রায় নামে মধ্যবয়সী এক নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতাল বন্ধ থাকবে, এটা জানতাম না। ডাক্তার প্রদীপ স্যার আজ (মঙ্গলবার) সকালে টাইম দিয়েছিলেন। টাইম বরাবর যাতে আসতে পারি, সে জন্য সোমবার কক্সবাজার থেকে হালিশহরের আনন্দবাজারে মেয়ের বাসায় চলে আসি। ভোরে উঠে এখানে এসেছি। এখন দেখছি হাসপাতাল বন্ধ, তাহলে আমাকে টাইম দিল কেন? ব্রেস্ট টিউমার রোগে আক্রান্ত এক নারীকে নিয়ে তার স্বামী আসেন শেভরণ ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। কিন্তু নিরাপত্তা কর্মী তাদের ঢুকতে দিচ্ছেন না। ওই নারী সারাবাংলাকে বলেন, ‘হাটহাজারী থেকে এসেছি। এই রোদের মধ্যে কত কষ্ট হয়েছে।
সুমন রায় নামে এক রোগী বুকে ব্যাথা নিয়ে সোমবার রাতে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। চিকিৎসক তাকে জরুরি ভিত্তিতে কিছু পরীক্ষা দেন। সকালে নগরীর জামালখানে প্রথমে সেনসিভ এবং পরে ল্যাব এক্সপার্টে গিয়ে তিনি পরীক্ষা করাতে ব্যর্থ হন। সুমন জানালেন, দুই ল্যাবে দায়িত্বরত কর্মীরা তাকে সরকারি হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।
নগরীর মেহেদিবাগে ম্যাক্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. লিয়াকত আলী খান বলেন, সকাল থেকে অনেক রোগী এসেছে। আমরা একজনও ভর্তি করিনি। সবাইকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমাদের এখানে যারা আগে থেকে ভর্তি আছেন, তাদের আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি।
বিএমএ, চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ ফয়সল ইকবাল চৌধুরী বলেন, আমাদের দাবি একেবারে সুনির্দিষ্ট। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আজকের (মঙ্গলবার) পর আমরা আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা করব।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী জানিয়েছেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। এ অবস্থায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে যাতে চিকিৎসা সেবায় কোনো ব্যতয় না ঘটে, সেটা জোরালোভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।
জানা গেছে, গত ১০ এপ্রিল রাতে পটিয়া পৌরসভায় বেসরকারি ‘পটিয়া জেনারেল হাসপাতাল লিমিটেডে’ কর্তব্যরত চিকিৎসক রক্তিম দাশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে চিকিৎসা দিতে দেরি করার অভিযোগ তুলে তাকে বেধড়ক পেটায় দলটির কিছু নেতাকর্মী। এরপর ১৪ এপ্রিল সকালে নগরীর ও আর নিজাম রোডে বেসরকারি মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে হামলার শিকার হন ওই হাসপাতালের চিকিৎসক রিয়াজ উদ্দিন শিবলু। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যুর পর উত্তেজিত লোকজন চিকিৎসককে মারধর করে।
এর প্রতিবাদে গত সোমবার বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চিকিৎসক রক্তিম দাশের ওপর হামলাকারী ছৈয়দ চেয়ারম্যানসহ আসামিদের গ্রেফতার এবং মেডিকেল সেন্টারে রিয়াজ উদ্দিন শিবলুর ওপর হামলার মূল আসামিসহ জামিন পাওয়া আসামিদের জামিন বাতিল ও অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সকল প্রকার প্রাইভেট প্র্যাকটিস (ব্যক্তিগত চেম্বার, হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নতুন রোগীর সেবা) বন্ধ থাকবে। বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিক এ পূর্বদিনের ভর্তি রোগীর চিকিৎসা সেবা চলবে। ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পূর্বের রোগীর রিপোর্ট ডেলিভারি দেওয়া যাবে, কোনো প্রকার নতুন রোগী এন্ট্রি বা সেবা দেওয়া যাবে না।
বিএমএ, চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ ফয়সল ইকবাল চৌধুরী বলেন, বিএমএর নিবন্ধিত প্রায় পাঁচ হাজার চিকিৎসক আছেন। জেলা ও মহানগরীতে বিভিন্ন প্রাইভেট চেম্বারে উনারা সেবা দেন। বিএমএর কর্মসূচি অনুযায়ী সবাই একযোগে চেম্বারে চিকিৎসা বন্ধ রেখেছেন। বিএমএর সদস্য হননি এমন অনেক চিকিৎসকও চেম্বারে চিকিৎসা দেন। তারাও আমাদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে চেম্বার বন্ধ রেখেছেন।
চট্টগ্রাম প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. লিয়াকত আলী খান বলেন, সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে নিবন্ধিত ৫৮০টি বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ল্যাব আছে। সবগুলোতেই জরুরি সেবা ছাড়া অন্য কোনো সেবা দেওয়া হচ্ছে না। তবে যেসব রোগী আগে থেকে ভর্তি আছেন, তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট (ড্যান), চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. চন্দন দাশ বলেন, শুধু বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার নয়, বিভিন্ন এনজিও যেসব হাসপাতাল পরিচালনা করে, তারাও কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে ২৪ ঘন্টার জন্য সেবা বন্ধ রেখেছেন। তবে সরকারি হাসপাতাল চালু আছে, সেখানে চিকিৎসকেরা দায়িত্ব পালন করছেন। ল্যাবে জরুরি স্যাম্পল সংগ্রহ করা হচ্ছে, তবে রিপোর্ট পাওয়া যাবে কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দোকান ঘর-সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ব্যবসায়ীর জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টায় দোকান ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে মো. সফি উল্যাহ চৌধুরী (৭০) নামে এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নূর নবী (৬০)। এ ঘটনায় তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নূর নবী ও তার ভাই-বোনেরা পৈত্রিক সূত্রে ১৩ নম্বর চরপার্বতী মৌজার সিএস ৯৯১ নম্বর খতিয়ানের ১২০৮ নম্বর দাগে নকশা অনুযায়ী ৩৮ দশমিক ৯০ শতাংশ জমির মধ্যে পাঁচ শতাংশের মালিক ও দখলদার। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের করালিয়া এলাকায় ওই জমি দখলের উদ্দেশ্যে সফি উল্যাহ চৌধুরী অজ্ঞাতনামা দুই-তিনজনকে নিয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা জমিতে থাকা দোকান ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। পরে সেখানে মাটি ভরাট করে চলাচলের রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

এতে নূর নবী ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধরের জন্য তেড়ে আসেন। একই সঙ্গে রাস্তা নির্মাণের কাজে বাধা দিলে মারধরের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় সংঘর্ষ ও শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা করছেন অভিযোগকারী।

নূর নবী বলেন, তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে বসতবাড়ি ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয়স্বজনকে জানানোর পর তাদের পরামর্শে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে সফি উল্যাহ চৌধুরী বলেন, ‘সেটি প্রমাণের জন্য আমি আমার প্রতিনিধির মাধ্যমে ওসির কাছে উপস্থাপন করব।’
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, প্রতিদিন অনেক অভিযোগ জমা পড়ে। লিখিত অভিযোগ দিয়ে থাকলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের যোগসাশসে ইটভাটার জন্য প্রবাসীর জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটার জন্য এক দুবাই প্রবাসীর বসতভিটা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদীয়া ব্রিকফিল্ডের মালিক মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। জমি দখলে বাধা দেওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রী ও শ্যালককে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি নির্মাণাধীন ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানার তিন উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধেও ইটভাটার মালিকের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জমি বন্ধক দিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী বিলকায়েছ আরা বেগম ও শ্যালক নূর হোসেন মানিক।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কোম্পানীগঞ্জের সিরাজপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী আব্দুল গোফরানের কেনা বসতভিটার জমিতে ইটভাটা সম্প্রসারণ করতে চান জাকির হোসেন। এ জন্য জমির সীমানায় থাকা টিনের বেড়া ভেঙে দখলের চেষ্টা করছেন তিনি। জমি বিক্রি কিংবা তার কাছে বন্ধক না দিলে পরিবারটিকে এলাকায় বসবাস করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

পরিবারটির দাবি, গত ১২ অক্টোবর দিবাগত রাতে জাকিরের লোকজন গোফরানের জমির দক্ষিণ পাশের টিনের বেড়া ভেঙে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গোফরানের স্ত্রী বিলকিস আরা বেগম থানায় মামলা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে বলেও দাবি পরিবারের।

তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর রাত ৮টার দিকে এসআই নজরুল প্রবাসীর স্ত্রী ও তার বড় ভাইকে থানায় ডেকে নেন। সেখানে জাকিরের কাছে জমিটি বন্ধক দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে তারা তাতে রাজি হননি। এর চার দিন পর, ১৬ অক্টোবর স্বামীর কেনা জমিতে ২১ ফুট বাই ১৬ ফুট আয়তনের টিন ও কাঠ দিয়ে একটি দোচালা ঘর নির্মাণ শুরু করেন বিলকায়েছ আরা বেগম। এ সময় কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই নজরুল, এসআই সুমন ও এসআই আনোয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বলেন। একই সঙ্গে জাকিরের সঙ্গে সমঝোতা করে জমিটি তার কাছে বন্ধক দেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ পরিবারের। অন্যথায় তাদের বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি ভুক্তভোগীদের।

পরিবারটির ভাষ্য, পুলিশের কথায় রাজি না হয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ওই দিন রাতেই জাকিরের লোকজন নির্মাণাধীন দোচালা ঘর ও টিনের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে গত ২৬ অক্টোবর দুবাই দূতাবাসের মাধ্যমে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আব্দুল গোফরান। অভিযোগটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। সর্বশেষ গত ৩১ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে জাকিরের লোকজন আবারও ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেঙে ফেলা ঘর ও সীমানাপ্রাচীরের কাঠ ও টিন নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

পরিবারটির আরও অভিযোগ, জাকির দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতি ও বিধিমালা উপেক্ষা করে উপজেলা প্রশাসনের নিরবতায় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ‘মোহাম্মদীয়া’ নামের ইটভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে। সেখানে শ্রমিক পরিচয়ে লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ তাদের।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইটভাটার মালিক জাকির হোসেন বলেন, ইটভাটার ভেতরে প্রবাসীর ৯ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমির ওপর আমার মাটির স্তূপ রয়েছে। আমি তাদের বকেয়া টাকা থাকলে নিয়ে যেতে এবং জমিটি বিক্রি করে দিতে বলেছি। কিন্তু তারা আমার কাছে জমি বিক্রি করতে রাজি হননি। পরে তাদের জায়গায় রাখা আমার মাটি ও ইটের খোয়া দিয়ে দিতে বললে তারা বাধা দেন। এরপর তারা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীর স্ত্রী প্রথমে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর এসআই সুমন ও আনোয়ারও সেখানে যান। উভয় পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অভিযোগকারী পক্ষ সেখানে ঘর নির্মাণ করতে গেলে ইটভাটার লোকজন বাধা দেন। পরে প্রবাসীর পরিবারসহ দুই পক্ষ বিষয়টি বর্তমান ওসিকে অবহিত করে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে পরে জানানো হবে।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ