আজঃ শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬

দুই চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে

চট্টগ্রামে বেসরকারি প্রায় ৬০০ প্রতিষ্ঠানে রোগী ভর্তি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রোগীদের সীমাহীন ভোগান্তি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে বেসরকারি পর্যায়ে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দুই চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি ২৪ ঘন্টা চলবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম জেলার নেতারা। গতকাল থেকে জেলা ও মহানগরীতে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মিলিয়ে প্রায় ৬০০ প্রতিষ্ঠানে রোগী ভর্তি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়েছে। পাঁচ হাজারেরও বেশি চিকিৎসক চেম্বার বন্ধ রেখে ব্যক্তিগতভাবে কোনো রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছেন না। এদিকে বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকায় শত, শত রোগী ব্যাপক ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। অনেক রোগী ও তাদের স্বজনদের সকাল থেকে বিভিন্ন ল্যাব ও ক্লিনিকের সামনে অসহায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। রোগীর চাপ বেড়েছে সরকারি হাসপাতালগুলোতেও।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে নগরীর পাঁচলাইশে শেভরণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে গিয়ে দেখা গেছে প্রতিষ্ঠানটির মূল ফটক বন্ধ করে নোটিশ ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। ফটকের সামনে নগরীর বাইরে থেকে আসা কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনকে অপেক্ষারত দেখা গেছে। কক্সবাজার থেকে শেভরণে চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে আসা বাসন্তী রায় নামে মধ্যবয়সী এক নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতাল বন্ধ থাকবে, এটা জানতাম না। ডাক্তার প্রদীপ স্যার আজ (মঙ্গলবার) সকালে টাইম দিয়েছিলেন। টাইম বরাবর যাতে আসতে পারি, সে জন্য সোমবার কক্সবাজার থেকে হালিশহরের আনন্দবাজারে মেয়ের বাসায় চলে আসি। ভোরে উঠে এখানে এসেছি। এখন দেখছি হাসপাতাল বন্ধ, তাহলে আমাকে টাইম দিল কেন? ব্রেস্ট টিউমার রোগে আক্রান্ত এক নারীকে নিয়ে তার স্বামী আসেন শেভরণ ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। কিন্তু নিরাপত্তা কর্মী তাদের ঢুকতে দিচ্ছেন না। ওই নারী সারাবাংলাকে বলেন, ‘হাটহাজারী থেকে এসেছি। এই রোদের মধ্যে কত কষ্ট হয়েছে।
সুমন রায় নামে এক রোগী বুকে ব্যাথা নিয়ে সোমবার রাতে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। চিকিৎসক তাকে জরুরি ভিত্তিতে কিছু পরীক্ষা দেন। সকালে নগরীর জামালখানে প্রথমে সেনসিভ এবং পরে ল্যাব এক্সপার্টে গিয়ে তিনি পরীক্ষা করাতে ব্যর্থ হন। সুমন জানালেন, দুই ল্যাবে দায়িত্বরত কর্মীরা তাকে সরকারি হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।
নগরীর মেহেদিবাগে ম্যাক্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. লিয়াকত আলী খান বলেন, সকাল থেকে অনেক রোগী এসেছে। আমরা একজনও ভর্তি করিনি। সবাইকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমাদের এখানে যারা আগে থেকে ভর্তি আছেন, তাদের আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি।
বিএমএ, চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ ফয়সল ইকবাল চৌধুরী বলেন, আমাদের দাবি একেবারে সুনির্দিষ্ট। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আজকের (মঙ্গলবার) পর আমরা আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা করব।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী জানিয়েছেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। এ অবস্থায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে যাতে চিকিৎসা সেবায় কোনো ব্যতয় না ঘটে, সেটা জোরালোভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।
জানা গেছে, গত ১০ এপ্রিল রাতে পটিয়া পৌরসভায় বেসরকারি ‘পটিয়া জেনারেল হাসপাতাল লিমিটেডে’ কর্তব্যরত চিকিৎসক রক্তিম দাশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে চিকিৎসা দিতে দেরি করার অভিযোগ তুলে তাকে বেধড়ক পেটায় দলটির কিছু নেতাকর্মী। এরপর ১৪ এপ্রিল সকালে নগরীর ও আর নিজাম রোডে বেসরকারি মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে হামলার শিকার হন ওই হাসপাতালের চিকিৎসক রিয়াজ উদ্দিন শিবলু। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যুর পর উত্তেজিত লোকজন চিকিৎসককে মারধর করে।
এর প্রতিবাদে গত সোমবার বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চিকিৎসক রক্তিম দাশের ওপর হামলাকারী ছৈয়দ চেয়ারম্যানসহ আসামিদের গ্রেফতার এবং মেডিকেল সেন্টারে রিয়াজ উদ্দিন শিবলুর ওপর হামলার মূল আসামিসহ জামিন পাওয়া আসামিদের জামিন বাতিল ও অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সকল প্রকার প্রাইভেট প্র্যাকটিস (ব্যক্তিগত চেম্বার, হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নতুন রোগীর সেবা) বন্ধ থাকবে। বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিক এ পূর্বদিনের ভর্তি রোগীর চিকিৎসা সেবা চলবে। ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পূর্বের রোগীর রিপোর্ট ডেলিভারি দেওয়া যাবে, কোনো প্রকার নতুন রোগী এন্ট্রি বা সেবা দেওয়া যাবে না।
বিএমএ, চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ ফয়সল ইকবাল চৌধুরী বলেন, বিএমএর নিবন্ধিত প্রায় পাঁচ হাজার চিকিৎসক আছেন। জেলা ও মহানগরীতে বিভিন্ন প্রাইভেট চেম্বারে উনারা সেবা দেন। বিএমএর কর্মসূচি অনুযায়ী সবাই একযোগে চেম্বারে চিকিৎসা বন্ধ রেখেছেন। বিএমএর সদস্য হননি এমন অনেক চিকিৎসকও চেম্বারে চিকিৎসা দেন। তারাও আমাদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে চেম্বার বন্ধ রেখেছেন।
চট্টগ্রাম প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. লিয়াকত আলী খান বলেন, সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে নিবন্ধিত ৫৮০টি বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ল্যাব আছে। সবগুলোতেই জরুরি সেবা ছাড়া অন্য কোনো সেবা দেওয়া হচ্ছে না। তবে যেসব রোগী আগে থেকে ভর্তি আছেন, তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট (ড্যান), চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. চন্দন দাশ বলেন, শুধু বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার নয়, বিভিন্ন এনজিও যেসব হাসপাতাল পরিচালনা করে, তারাও কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে ২৪ ঘন্টার জন্য সেবা বন্ধ রেখেছেন। তবে সরকারি হাসপাতাল চালু আছে, সেখানে চিকিৎসকেরা দায়িত্ব পালন করছেন। ল্যাবে জরুরি স্যাম্পল সংগ্রহ করা হচ্ছে, তবে রিপোর্ট পাওয়া যাবে কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম বন্দরে শনিবার অপারেশনাল কার্যক্রম,রোববার প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও সাবেক সিবিএ। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের সমস্ত অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রেখে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালনের ডাক দেওয়া হয়েছে। একইভাবে পরদিন রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। রোববার বিকেল ৫টায় আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল এবং চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সাবেক সিবিএ’র পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন বলেন, সারাদেশ নির্বাচনি ডামাডোলের মধ্যে আছে৷ এর ফাঁকে সরকার চট্টগ্রাম বন্দর এবং দেশের সবচেয়ে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এনসিটি দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তরের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। আমরা এ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে গত দেড় বছর ধরে আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু সরকার বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে।আমরা মনে করি এনসিটি বিদেশিদের হাতে দেওয়া চরম আত্মঘাতী একটি সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব চরমভাবে হুমকির সম্মুখীন হবে।

কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা এনসিটি বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে ধর্মঘট আহ্বান করেছি। আগামী শনিবার ৮ ঘণ্টা বন্দরে অপারেশনাল কার্যক্রম এবং রোববার ৮ ঘণ্টা প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এরপরও সরকার এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার গুঁড়া দুধ আমদানি করে : প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রেড চিটাগাং ক্যাটল (আরসিসি)-এর গুরুত্ব তুলে ধরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, লাল গরুর দেশ চট্টগ্রাম। দুধ হয়তো কিছুটা কম দেয়, কিন্তু মাংসের দিক থেকে এবং জাতগত বৈশিষ্ট্যে রেড চিটাগাং ক্যাটলের তুলনা পৃথিবীর কোথাও নেই। তাই এই জাত সংরক্ষণ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। উপদেষ্টা বুধবার সকালে কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এ কে এগ্রো এন্ড ডেইরি হাব সংলগ্ন মাঠে “চট্টগ্রাম অঞ্চলে ডেইরি খাতের উন্নয়ন: সম্ভাবনা ও করণীয়” -শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপষ্টো বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে গুঁড়া দুধ আমদানি করে। এই টাকা যদি দেশীয় দুধ উৎপাদন বাড়াতে ব্যয় করা হয়, তাহলে আমদানির প্রয়োজন কমবে। গুঁড়া দুধ তরল দুধে ভেজালের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। তাই আমাদের শপথ নিতে আমদানি কমিয়ে দেশীয় তরল দুধের উৎপাদন বাড়াতে হবে।

বিদ্যুৎ বিল ও ভর্তুকি প্রসঙ্গে উপষ্টো বলেন, ব্যাপক আলোচনা ও প্রচেষ্টার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্প খাতে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল রেয়াত এবং ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া সম্ভব হয়েছে। এটি প্রাথমিক উদ্যোগ হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। তিনি খামারি নিবন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, নিবন্ধন ছাড়া প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব নয়। অনলাইনে নিবন্ধন হলে সব তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাবে এবং নীতিনির্ধারণ সহজ হবে।

উপদেষ্টা বলেন, প্রাণিসম্প ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি)-এর মাধ্যমে খামারিরা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, পিজি গ্রুপ গড়ে উঠেছে এবং অনেকের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে ডেইরি কার্যক্রম। তিনি বলেন, অনেকে বলছেন, লাভ-ক্ষতির হিসাব না করেও এটি এখন তাদের জীবনের অংশ। এর মানে ভবিষ্যতে এখান থেকেই তারা টেকসইভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।
নারীরে উদ্দেশে তিনি বলেন, দুধ শুধু উৎপানের পরিসংখ্যান নয়-মানুষ কতটা দুধ গ্রহণ করছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য দুধ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যা হাড়ের রোগ ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে সহায়ক।

এলডিডিপি’র মাধ্যমে স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, স্কুলে দুধ সরবরাহ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দরিদ্র ও শহুরে শিশুদের জন্য যা কার্যকর উদ্যোগ। তিনি বলেন, বাংলাশে তরুণদের দেশ। ডেইরি ইন্ডাস্ট্রিতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। আমরা সংগ্রামী জাতি-দেশের উন্নয়নের জন্য এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

সেমিনারে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাশে ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মিজ শাহীনা ফেরদৌসী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (কৃত্রিম প্রজনন) মোঃ শাহজামান খান তুহিন, পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. বেগম শামছুননাহার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (পরিচালক) ডা. মোঃ আতিয়ার রহমান এবং এ কে এগ্রো এন্ড ডেইরি ফার্মের পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেইন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোঃ বয়জার রহমান। এছাড়া এলডিডিপিথর আওতায় ডেইরি হাব কার্যক্রম: বাস্তবায়ন, অগ্রগতি ও সম্ভাবনা শীর্ষক উপস্থাপনা ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করেন প্রকল্প পরিচালক ডা. মোঃ মোস্তফা কামাল।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ