আজঃ রবিবার ১৪ জুন, ২০২৬

ইউক্রেন কেন ন্যাটোর সদস্য হতে মরিয়া হয়ে পড়েছে?

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মিত্রদের কাছ থেকে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য যেসব অস্ত্রশস্ত্র পায় সেগুলো তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভিলনিয়াসে ন্যাটো জোটের যে সম্মেলন এখন চলছে, সেটি ইউক্রেনিয়ান সৈন্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক মূহূর্ত। কারণ লড়াই চালিয়ে যেতে তাদের যা দরকার, তা নির্ভর করছে এই সম্মেলনের ওপর।

বেশ ব্যাপক একটা প্রত্যাশা আছে যে এই সম্মেলন থেকে ইউক্রেনকে আরও অস্ত্রশস্ত্রের প্রতিশ্রুতি দেয়া হবে। সেই সঙ্গে গোলা-বারুদ, সামরিক রসদ। যুক্তরাষ্ট্র তাদের বর্তমান মওজুদ থেকে ইউক্রেনকে ক্লাস্টার বোমা দেয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে গত সপ্তাহে, সেটির একটা উদ্দেশ্য নতুন অস্ত্রশস্ত্রের সরবরাহ না আসা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়টার চাহিদা পূরণ করা। কিন্তু ইউক্রেনের কাছে এই সম্মেলন কেবল অস্ত্রশস্ত্র আর গোলাবারুদের ব্যাপার নয়। ইউক্রেন যে এই সামরিক জোটে যোগ দিতে চাচ্ছে, সেটির ব্যাপারে সম্মেলন থেকে কী ধরণের অঙ্গীকার পাওয়া যাবে, সেটাই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ন্যাটোর দরোজায় ইউক্রেন কড়া নাড়ছে বহু বছর ধরে। তারা কেবল কিছু ইতিবাচক কথা-বার্তায় সন্তুষ্ট নয়। তাদের মধ্যে এমন একটা বোধ তৈরি হয়েছে যেন তাদের স্থায়ীভাবে ওয়েটিং রুমে বসিয়ে রাখা হয়েছে। ইউক্রেন চায় এর চেয়ে বেশি কিছু। ন্যাটো সামরিক চুক্তির একেবারে মূলে আছে আর্টিকেল ৫, যেটিতে বলা হয়েছে, যে কোন সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ সব দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ বলে গণ্য হবে। সম্মিলিত প্রতিরক্ষার এই নীতি ইউক্রেনকে সুরক্ষা দিতে পারে। কিন্তু ন্যাটোর প্রায় সব সদস্য দেশই একমত যে, একটি দেশ যখন আগে থেকেই যুদ্ধে জড়িয়ে গেছে, তখন তাকে ন্যাটোর সদস্য করা কঠিন।

‘আমাদের বিশ্বাস, ইউক্রেনকে ন্যাটোতে অনেক আগেই আসলে আমন্ত্রণ জানানো উচিৎ ছিল,’ বলছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র ওলেগ নিকোলেংকো, ‘ন্যাটোতে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর মানে তো এই নয় যে সাথে সাথে ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য হয়ে যাবে। আমরা এটা বুঝি যে, যতদিন যুদ্ধ চলছে, ততদিন ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দিতে পারবে না। আমরা তো বলছি আমাদের ন্যাটোর সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হোক, এবং কতদিনের মধ্যে এটা ঘটবে তার একটি সুস্পষ্ট সময়সীমা ঠিক করা হোক।’

বুখারেস্টে ২০০৮ সালে ন্যাটো জোটের যে সম্মেলন হয়েছিল, তখন ইউক্রেন এবং জর্জিয়াকে বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে তাদের ন্যাটো জোটের সদস্য করার কথা বিবেচনা করা হবে। কিন্তু কিভাবে এটি ঘটবে সেটি স্পষ্ট করে বলা হয়নি, এবং শীঘ্রই ঘটবে এমন কোন প্রত্যাশা কখনোই করা হয়নি। বুখারেস্ট সম্মেলনের ঐ ঘটনা রাশিয়াকে ক্রুদ্ধ করেছিল। ইউক্রেন বা জর্জিয়ার সুরক্ষার জন্য কোন ব্যবস্থা ন্যাটো জোট করেনি। ২০০৮ সালে রাশিয়া জর্জিয়ায় আক্রমণ চালায়। এরপর ইউক্রেনেও, প্রথমে ২০১৪ সালে, তারপর ২০২২ সালে। বুখারেস্ট সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের যারা অংশ নিয়েছিলেন, তারা এখন স্বীকার করেন ন্যাটোর ঐ সিদ্ধান্ত ছিল ভুল।

এবার ইউক্রেন আরও সুস্পষ্ট ঘোষণা এবং দৃঢ় নিশ্চয়তা চায়। ইউক্রেনকে সদস্য করার ব্যাপারে কী ধরণের অঙ্গীকার করা হবে এবং কতদিনের মধ্যে তা ঘটবে, সেগুলোর বিরাট প্রভাব পড়বে যুদ্ধের ওপর। যেমন, অনেকে যুক্তি দিচ্ছেন, যদি বলা হয় যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরই কেবল ইউক্রেনকে সদস্য করা হবে, তাহলে রাশিয়া এই পথ বন্ধ করার জন্য সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে নিচু মাত্রার লড়াই চালিয়ে যেতে পারে। কিন্তু ন্যাটোর অনেক সদস্য দেশই আসলে এখনই ইউক্রেনকে কিছু দেয়ার অঙ্গীকার করার ব্যাপারে বেশ সতর্ক। তাদের আশংকা, এর ফলে রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটো জোটের সত্যিকার যুদ্ধ বেধে যাওয়ার আশংকা বাড়বে।

তবে এরকম কথা-বার্তায় ইউক্রেন বেশ ক্ষুব্ধ। ‘সত্যি কথা বলতে কি, অনেক দিন ধরেই ন্যাটো জোট আসলে সময়ক্ষেপণ করে যাচ্ছে রাশিয়া তাদেরকে কিছু করতে দেবে কিনা, সেটা নিয়ে,’ বলছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের অফিসের একজন উপদেষ্টা মিখাইলো পডোলিয়াক, ‘ন্যাটোকে একেবারে খোলাখুলি কোন রাখ-ঢাক না করে বলতে হবে যে রাশিয়ার হুমকির সঙ্গে এ সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়টি শর্তযুক্ত নয়।’

ইউক্রেনিয়ানরা মনে করে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ থামানোর একটা পথ হচ্ছে তাদের ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়া। কারণ এতে যুদ্ধ আর বাড়বে না, বরং সেটি রাশিয়াকে ঠেকাবে। তবে তারা স্বীকার করে, যেটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন সম্প্রতি বেশ স্পষ্ট করে বলেছেন, এজন্য ইউক্রেনে অনেক সংস্কার দরকার হবে। যে কোন দেশ ন্যাটোর সদস্য হতে হলে এসব সংস্কার জরুরি।

তবে ইউক্রেনিয়ানরা যুক্তি দেখায় যে, ন্যাটো তো গঠনই করা হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মস্কোকে মোকাবেলার জন্য। অথচ এখন ন্যাটোর হয়ে ইউক্রেনকেই কার্যত রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে। ন্যাটোর পূর্ব দিকের সীমান্ত এখন রক্ষা করছে কার্যত ইউক্রেন, আর সেখানে প্রতিদিন লড়াইয়ে মারা যাচ্ছে ইউক্রেনের সৈন্য এবং বেসামরিক মানুষ। ন্যাটো জোটের ভেতরে অনেকে মনে করেন, ইউক্রেনকে সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ জানানোর অনেক ঝুঁকি আছে। কিন্তু কিয়েভের অনেকের মতে, এটা ভুল। তাদের প্রশ্ন: যদি কিছু করা না হয় সেটির ঝুঁকি তাহলে কী?

তবে প্রকাশ্যে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বেশ আশাবাদী কথাবার্তাই বলে যাচ্ছেন। যদি তাদের কোন অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়, বা একটি ‘শিথিল নিরাপত্তার’ নিশ্চয়তা দেয়া হয়, তখন কী হবে, সেটি নিয়ে তারা কথাবার্তা বলতে চায় না। তারা এমন কিছু বলতে চায় না যাতে মনে হতে পারে ইউক্রেন অকৃতজ্ঞ। কারণ ন্যাটো জোটের কাছ থেকে তাদের এখনো অস্ত্রশস্ত্র গোলাবারুদের সরবরাহ দরকার।

তবে ইউক্রেনকে যদি পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ জোটে না রাখা হয়, তখন দীর্ঘ মেয়াদে কী ঘটবে, সেটি নিয়ে অনেক ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাই একান্তে তাদের দুশ্চিন্তার কথা জানালেন। তাদের মতে, মস্কো তখন এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বলার চেষ্টা করবে, ‘দেখো পশ্চিমারা কীভাবে ইউক্রেনকে পরিত্যাগ করেছে, পশ্চিমাদের বিশ্বাস করা যায় না।’ একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বললেন, তখন ইউক্রেনের মানুষেরও মনে হতে পারে, তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।

ইউক্রেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য করা না হলে পশ্চিমা দেশগুলো অস্ত্রশস্ত্র এবং গোলাবারুদের সরবরাহ কতদিন অব্যাহত রাখবে সেটাও একটা দুশ্চিন্তা। কারণ যুদ্ধে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় এক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যেও ক্লান্তি আসতে পারে। ভ্লাদিমির পুতিন এবং রাশিয়া হয়তোবা সেটার ওপরই ভরসা করছে। সূত্র: বিবিসি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ফুটবল বিশ্বকাপ -২০২৬ শুভ সূচনায় মেক্সিকোর চমক


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ২-০ গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। তিনটি লাল কার্ডে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে কার্যত ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা আর কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। নবম মিনিটেই স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস। পঞ্চাশ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সিথোলে পেনাল্টি বক্সের মাথায় ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। এর ফলে ১০ জনের দলে নেমে যায় সফরকারীরা।এরপর ছেষট্টি মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল হিমিনেজ। এক গোল পেছনে পড়ে এবং একজন কম নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াই তখন আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

চুরাশি মিনিটে আরও একবার লাল কার্ড দেখে বিপদ বাড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ফাউল করে মাঠ ছাড়েন থেম্বা জেওয়ানে। যোগ করা সময়ের দুই মিনিটে লাল কার্ড দেখেন মেক্সিকোর সেজার মন্তেস, ফলে ম্যাচে মোট তিনটি লাল কার্ড দেখা যায়।শেষ পর্যন্ত দুই গোলের জয় নিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে মেক্সিকো।

ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন অভিন্ন: ভারতীয় নতুন হাইকমিশনার ত্রিবেদী


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও মজবুত হবে
বলেছেন-ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।দুই দেশের মানুষের গণতন্ত্রের স্বপ্ন অভিন্ন।বৃহস্পতিবার ১১ জুন কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতিবিজড়িত নেতাজি ভবনে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ কেবল ভৌগোলিক সীমান্তের মাধ্যমে সংযুক্ত নয়, বরং দুই দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাও একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের যে স্বপ্ন,একই স্বপ্ন বাংলাদেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষেরও।

দুই দেশের ১৬০ কোটি মানুষের কল্যাণে যা প্রয়োজন, সেই লক্ষ্য অর্জনে একযোগে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শ ও দুই দেশের জনগণের সমর্থন ও আশীর্বাদ তাঁদের পথচলায় শক্তি জোগাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু সীমান্তের মাধ্যমে সংযুক্ত নই। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের সঙ্গেও আমরা যুক্ত। আমাদের স্বপ্ন অভিন্ন, গণতন্ত্রের অভিন্ন স্বপ্ন। তাই শুধু ভারতের ১৪০ কোটি মানুষই নয়, আমি এর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ২০ কোটি মানুষকে যোগ করি। ১৬০ কোটি মানুষের জন্য যা ভালো, আমি নিশ্চিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, এই দেশের মানুষ এবং বাংলাদেশের মানুষ আমাকে আশীর্বাদ করবেন, যাতে আমরা একসঙ্গে থাকতে পারি এবং যা অর্জন করতে যাচ্ছি, তাতে সফল হতে পারি।

শুক্রবার ঢাকায় আসার সময় ভার‌তের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর স‌ঙ্গে তার স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদীও ঢাকায় আস‌বেন। বাংলা‌দে‌শে ভার‌তের নতুন হাইক‌মিশনার হি‌সে‌বে গত এপ্রিলের শে‌ষ দি‌কে আনুষ্ঠা‌নিকভা‌বে দেশটির সাবেক রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ