আজঃ বুধবার ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

ইউক্রেন কেন ন্যাটোর সদস্য হতে মরিয়া হয়ে পড়েছে?

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মিত্রদের কাছ থেকে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য যেসব অস্ত্রশস্ত্র পায় সেগুলো তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভিলনিয়াসে ন্যাটো জোটের যে সম্মেলন এখন চলছে, সেটি ইউক্রেনিয়ান সৈন্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক মূহূর্ত। কারণ লড়াই চালিয়ে যেতে তাদের যা দরকার, তা নির্ভর করছে এই সম্মেলনের ওপর।

বেশ ব্যাপক একটা প্রত্যাশা আছে যে এই সম্মেলন থেকে ইউক্রেনকে আরও অস্ত্রশস্ত্রের প্রতিশ্রুতি দেয়া হবে। সেই সঙ্গে গোলা-বারুদ, সামরিক রসদ। যুক্তরাষ্ট্র তাদের বর্তমান মওজুদ থেকে ইউক্রেনকে ক্লাস্টার বোমা দেয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে গত সপ্তাহে, সেটির একটা উদ্দেশ্য নতুন অস্ত্রশস্ত্রের সরবরাহ না আসা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়টার চাহিদা পূরণ করা। কিন্তু ইউক্রেনের কাছে এই সম্মেলন কেবল অস্ত্রশস্ত্র আর গোলাবারুদের ব্যাপার নয়। ইউক্রেন যে এই সামরিক জোটে যোগ দিতে চাচ্ছে, সেটির ব্যাপারে সম্মেলন থেকে কী ধরণের অঙ্গীকার পাওয়া যাবে, সেটাই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ন্যাটোর দরোজায় ইউক্রেন কড়া নাড়ছে বহু বছর ধরে। তারা কেবল কিছু ইতিবাচক কথা-বার্তায় সন্তুষ্ট নয়। তাদের মধ্যে এমন একটা বোধ তৈরি হয়েছে যেন তাদের স্থায়ীভাবে ওয়েটিং রুমে বসিয়ে রাখা হয়েছে। ইউক্রেন চায় এর চেয়ে বেশি কিছু। ন্যাটো সামরিক চুক্তির একেবারে মূলে আছে আর্টিকেল ৫, যেটিতে বলা হয়েছে, যে কোন সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ সব দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ বলে গণ্য হবে। সম্মিলিত প্রতিরক্ষার এই নীতি ইউক্রেনকে সুরক্ষা দিতে পারে। কিন্তু ন্যাটোর প্রায় সব সদস্য দেশই একমত যে, একটি দেশ যখন আগে থেকেই যুদ্ধে জড়িয়ে গেছে, তখন তাকে ন্যাটোর সদস্য করা কঠিন।

‘আমাদের বিশ্বাস, ইউক্রেনকে ন্যাটোতে অনেক আগেই আসলে আমন্ত্রণ জানানো উচিৎ ছিল,’ বলছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র ওলেগ নিকোলেংকো, ‘ন্যাটোতে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর মানে তো এই নয় যে সাথে সাথে ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য হয়ে যাবে। আমরা এটা বুঝি যে, যতদিন যুদ্ধ চলছে, ততদিন ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দিতে পারবে না। আমরা তো বলছি আমাদের ন্যাটোর সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হোক, এবং কতদিনের মধ্যে এটা ঘটবে তার একটি সুস্পষ্ট সময়সীমা ঠিক করা হোক।’

বুখারেস্টে ২০০৮ সালে ন্যাটো জোটের যে সম্মেলন হয়েছিল, তখন ইউক্রেন এবং জর্জিয়াকে বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে তাদের ন্যাটো জোটের সদস্য করার কথা বিবেচনা করা হবে। কিন্তু কিভাবে এটি ঘটবে সেটি স্পষ্ট করে বলা হয়নি, এবং শীঘ্রই ঘটবে এমন কোন প্রত্যাশা কখনোই করা হয়নি। বুখারেস্ট সম্মেলনের ঐ ঘটনা রাশিয়াকে ক্রুদ্ধ করেছিল। ইউক্রেন বা জর্জিয়ার সুরক্ষার জন্য কোন ব্যবস্থা ন্যাটো জোট করেনি। ২০০৮ সালে রাশিয়া জর্জিয়ায় আক্রমণ চালায়। এরপর ইউক্রেনেও, প্রথমে ২০১৪ সালে, তারপর ২০২২ সালে। বুখারেস্ট সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের যারা অংশ নিয়েছিলেন, তারা এখন স্বীকার করেন ন্যাটোর ঐ সিদ্ধান্ত ছিল ভুল।

এবার ইউক্রেন আরও সুস্পষ্ট ঘোষণা এবং দৃঢ় নিশ্চয়তা চায়। ইউক্রেনকে সদস্য করার ব্যাপারে কী ধরণের অঙ্গীকার করা হবে এবং কতদিনের মধ্যে তা ঘটবে, সেগুলোর বিরাট প্রভাব পড়বে যুদ্ধের ওপর। যেমন, অনেকে যুক্তি দিচ্ছেন, যদি বলা হয় যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরই কেবল ইউক্রেনকে সদস্য করা হবে, তাহলে রাশিয়া এই পথ বন্ধ করার জন্য সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে নিচু মাত্রার লড়াই চালিয়ে যেতে পারে। কিন্তু ন্যাটোর অনেক সদস্য দেশই আসলে এখনই ইউক্রেনকে কিছু দেয়ার অঙ্গীকার করার ব্যাপারে বেশ সতর্ক। তাদের আশংকা, এর ফলে রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটো জোটের সত্যিকার যুদ্ধ বেধে যাওয়ার আশংকা বাড়বে।

তবে এরকম কথা-বার্তায় ইউক্রেন বেশ ক্ষুব্ধ। ‘সত্যি কথা বলতে কি, অনেক দিন ধরেই ন্যাটো জোট আসলে সময়ক্ষেপণ করে যাচ্ছে রাশিয়া তাদেরকে কিছু করতে দেবে কিনা, সেটা নিয়ে,’ বলছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের অফিসের একজন উপদেষ্টা মিখাইলো পডোলিয়াক, ‘ন্যাটোকে একেবারে খোলাখুলি কোন রাখ-ঢাক না করে বলতে হবে যে রাশিয়ার হুমকির সঙ্গে এ সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়টি শর্তযুক্ত নয়।’

ইউক্রেনিয়ানরা মনে করে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ থামানোর একটা পথ হচ্ছে তাদের ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়া। কারণ এতে যুদ্ধ আর বাড়বে না, বরং সেটি রাশিয়াকে ঠেকাবে। তবে তারা স্বীকার করে, যেটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন সম্প্রতি বেশ স্পষ্ট করে বলেছেন, এজন্য ইউক্রেনে অনেক সংস্কার দরকার হবে। যে কোন দেশ ন্যাটোর সদস্য হতে হলে এসব সংস্কার জরুরি।

তবে ইউক্রেনিয়ানরা যুক্তি দেখায় যে, ন্যাটো তো গঠনই করা হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মস্কোকে মোকাবেলার জন্য। অথচ এখন ন্যাটোর হয়ে ইউক্রেনকেই কার্যত রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে। ন্যাটোর পূর্ব দিকের সীমান্ত এখন রক্ষা করছে কার্যত ইউক্রেন, আর সেখানে প্রতিদিন লড়াইয়ে মারা যাচ্ছে ইউক্রেনের সৈন্য এবং বেসামরিক মানুষ। ন্যাটো জোটের ভেতরে অনেকে মনে করেন, ইউক্রেনকে সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ জানানোর অনেক ঝুঁকি আছে। কিন্তু কিয়েভের অনেকের মতে, এটা ভুল। তাদের প্রশ্ন: যদি কিছু করা না হয় সেটির ঝুঁকি তাহলে কী?

তবে প্রকাশ্যে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বেশ আশাবাদী কথাবার্তাই বলে যাচ্ছেন। যদি তাদের কোন অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়, বা একটি ‘শিথিল নিরাপত্তার’ নিশ্চয়তা দেয়া হয়, তখন কী হবে, সেটি নিয়ে তারা কথাবার্তা বলতে চায় না। তারা এমন কিছু বলতে চায় না যাতে মনে হতে পারে ইউক্রেন অকৃতজ্ঞ। কারণ ন্যাটো জোটের কাছ থেকে তাদের এখনো অস্ত্রশস্ত্র গোলাবারুদের সরবরাহ দরকার।

তবে ইউক্রেনকে যদি পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ জোটে না রাখা হয়, তখন দীর্ঘ মেয়াদে কী ঘটবে, সেটি নিয়ে অনেক ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাই একান্তে তাদের দুশ্চিন্তার কথা জানালেন। তাদের মতে, মস্কো তখন এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বলার চেষ্টা করবে, ‘দেখো পশ্চিমারা কীভাবে ইউক্রেনকে পরিত্যাগ করেছে, পশ্চিমাদের বিশ্বাস করা যায় না।’ একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বললেন, তখন ইউক্রেনের মানুষেরও মনে হতে পারে, তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।

ইউক্রেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য করা না হলে পশ্চিমা দেশগুলো অস্ত্রশস্ত্র এবং গোলাবারুদের সরবরাহ কতদিন অব্যাহত রাখবে সেটাও একটা দুশ্চিন্তা। কারণ যুদ্ধে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় এক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যেও ক্লান্তি আসতে পারে। ভ্লাদিমির পুতিন এবং রাশিয়া হয়তোবা সেটার ওপরই ভরসা করছে। সূত্র: বিবিসি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ট্রাম্পেরব মন্তব্যকে অসংলগ্ন অনুপযুক্ত এবং কুরুচিপূর্ণ বলেছেন জশওয়াল


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেয়ার করা একটি পোস্টের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে অসংলগ্ন অনুপযুক্ত এবং কুরুচিপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছে।

গত বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার আইন নিয়ে একটি দীর্ঘ পডকাস্ট শেয়ার করেন। সেখানে অভিযোগ করা হয়, ভারত ও চীনের মতো দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে আসে সন্তান জন্ম দিতে। একই সঙ্গে তারা প্রযুক্তিখাত দখল করে নিচ্ছে ও শ্বেতাঙ্গ মার্কিনিদের কর্মসংস্থান নষ্ট করছে।

ওই পোস্টে আপত্তিকর ভাষায় বলা হয়, জন্মের পর একটি শিশু তাৎক্ষণিক নাগরিক হয়ে যায়। তারপর চীন, ভারত বা গ্রহের অন্য কোনো ‘জাহান্নাম’ থেকে তাদের পুরো পরিবারকে নিয়ে আসে।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এট প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শেয়ার করা এই মন্তব্যগুলো স্পষ্টতই তথ্যহীন এবং সুরুচিহীন। এটি ভারত-মার্কিন সম্পর্কের প্রকৃত প্রতিফলন নয়, যা দীর্ঘকাল ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেতা আমি বেরা এই পোস্টটিকে ‘আপত্তিকর ও অজ্ঞতাসূচিত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন-প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতো মানুষ, যিনি সম্পদ ও বিলাসিতার মধ্যে বড় হয়েছেন- তিনি কোনোদিন অভিবাসী পরিবারের সংগ্রাম বুঝতে পারবেন না।

আরব আমিরাতে দুই বাংলাদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এস এস সি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


আরব আমিরাতে দুই বাংলাদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি বাংলাদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনের পরীক্ষা।

আবুধাবির শেখ খালিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া ইংলিশ প্রাইভেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং উত্তর আমিরাতের রাস আল খাইমাহ বাংলাদেশ ইংলিশ প্রাইভেট স্কুলের পরীক্ষা কেন্দ্রে বাংলা প্রথম পত্র দিয়ে এ পরীক্ষা শুরু হয়।

আবুধাবির শেখ খালিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া ইংলিশ প্রাইভেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ ও হল সুপার কিরণ আখতার জানান, তার প্রতিষ্ঠান থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন ৫০ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে নিয়মিত ৩৮ জন এবং অনিয়মিত ১২ জন।

অন্যদিকে, উত্তর আমিরাতের রাস আল খাইমাহ বাংলাদেশ ইংলিশ প্রাইভেট স্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন ৪৫ জন। তবে পরীক্ষায় অংশ নেন ৪৪ জন, ১ জন অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানান বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আবু তাহের মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ২৪ জন বিজ্ঞান বিভাগের এবং ২১ জন ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ