আজঃ সোমবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগে গ্রেফতার জাহাজের মাস্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে অপহরণের অভিযোগে মো. আকতার জামান (৩১) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আকতার জামান এমভি আল ওয়াকিয়া লাইটার জাহাজের মাস্টার বলে জানা যায়। গত শুক্রবার রাতে কর্ণফুলীর চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের (৭নং ওয়ার্ড) মৌলভী বাজার এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে খোয়াজনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেন। অপহৃত শাহাজাহান পেশায় একজন ব্যবসায়ী। সদরঘাট বাংলাবাজার এলাকার এস.আর ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল নামক প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং চট্টগ্রাম লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। এ ঘটনায় বন্দর গোসাইলডাঙ্গা এলাকার অপহৃত ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান (৬৮) কর্ণফুলী থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন।
মামলায় আসামিরা হলেন-কর্ণফুলী উপজেলার খোয়াজনগর এলাকার নুরুল আলমের ছেলে আক্তার জামান (৩১), একই এলাকার মৃত আব্দুস সবুরের ছেলে নুর ইসলাম (৪০), চরলক্ষ্যা মৌলভী পাড়ার মোঃ গফুর (৩৩), চরলক্ষ্যা এলাকার জুংগার ছেলে শাকিব (২৭) ও খোয়াজনগর এলাকার বদির ছেলে মো. আসিফ (২২)। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা রয়েছে আরো ৭-৮ জন।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির হোসেন বলেন, একজন ব্যবসায়িকে আটকে রেখেছে খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে একজনকে আটক করা হয়েছিল। পরে ভিকটিম মামলা করায় আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে কর্ণফুলীর চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের পোর্টের রাস্তায় ভিকটিম তাঁর নিজস্ব খামারবাড়ি দেখতে যান। সন্ধ্যার দিকে কাজ সেরে খামারবাড়ি থেকে সিএনজি টেক্সি যোগে বাংলাবাজার ঘাটে যাওয়ার পথে মৌলভী বাজার এলাকার আইয়ুবশাহ বাড়ীর সামনে পৌঁছলে হঠাৎ আকতার জামান (৩১) এর নেতৃত্বে একদল লোক ২-৩ টি সিএনজি টেক্সি করে এসে ভিকটিম শাহজাহানের পথরোধ করেন। পরে চড় থাপ্পড় দিয়ে সিএনজিসহ জোরপূর্বক খোয়াজনগর এলাকায় নিয়ে আসেন। এ সময় ছুরির ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেন। পরে রাত ৮ টার দিকে খবর পেয়ে কর্ণফুলী থানার পুলিশ এসে ভিকটিমকে উদ্ধার করেন। অন্যান্য লোকজন পালিয়ে গেলেও আকতার জামানকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়।
তবে অপহরণের ঘটনার অনুসন্ধানে উঠে আসে আরেক কাহিনী। এতে জানা যায়, গ্রেফতার আসামি আকতার জামান কর্মরত ওয়াকিয়া লাইটার জাহাজটি গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম থেকে গম বোঝাই করে নারায়নগঞ্জের ডেমরায় যান। সেখানে সিরিয়াল মেইনটেইন করার কারণে আনলোড করতে দেরি হয়। জাহাজের মালিক জাহেদ আমিন দোভাষ ভিকটিম শাহাজাহানের পূর্ব পরিচিত ছিল।
সে সুবাধে মোবাইল ফোনে তিনি শাহাজাহানকে জানান, তার জাহাজটি নারায়নগঞ্জে প্রায় ৪ মাস যাবত গম খালাস না করে নোঙর অবস্থায় রয়েছে। এক পর্যায়ে গম আনলোড হলেও জাহাজ ফিরে না আসায় গত ৪ এপ্রিল জাহাজের মালিকসহ ভিকটিম নারায়নগঞ্জে যান। তখনই গ্রেফতার জাহাজের মাস্টার আকতার জামান জানায়, জাহাজের মালিক তাঁদের ২ মাসের বেতন বোনাস দিচ্ছে না। তাই জাহাজ চট্টগ্রাম যাচ্ছে না। পরে নারায়নগঞ্জ নৌ পুলিশ, শ্রমিক ও মালিক পক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হয়ে চট্টগ্রামে আসে। এ সময় জাহাজ মাস্টার ও জাহাজের ৯ জন শ্রমিক কোম্পানির নিকট হতে ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৭০০ টাকা বেতন বোনাস বুঝে নেন।
পরে জাহাজ মাস্টার জামান আরো টাকা পাবে বলে দাবি করে সে সময়ের মধ্যস্থকারী ভিকটিম শাহাজাহানের সদরঘাট অফিসে যান। এ সময় ভিটকিম জামানকে টাকা পেলে চট্টগ্রাম লাইটারেজ সমিতির মাধ্যমে অভিযোগ দেওয়ার কথা জানান। তবুও আকতার জামান ক্ষিপ্ত হয়ে কর্ণফুলীতে এসে অপহরণ ও আটকের ঘটনাটি ঘটান বলে অভিযোগ রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বিএনপি’র অফিসে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় আঃ লীগ নেতা গ্রেফতার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বিএনপি অফিসের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় জাহিদুল ইসলাম (৬০) নামে এক আঃ লীগ নেতা কে গ্রেফতার করেছে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ।

শনিবার রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়ন এর কৈডাঙ্গা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে জাহিদুল মেম্বর কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের জয়নুল আবেদিনের ছেলে ও ওয়ার্ড আঃ লীগের সভাপতি এবং সাবেক ইউপি সদস্য।

গত ১১ মে গভীর রাতে উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপি অফিস এর সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আঃ লীগ ও ছাত্রলীগ এর ১৮ নেতাকর্মী সহ অজ্ঞাত ৪০/৫০ জন কে আসামি করে ভাঙ্গুড়া থানায় মামলা রুজু হয়।

বিষয় টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত নবাগত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,গ্রেফতারকৃত জাহিদুল কে রবিবার দুপুরে আদালত এর মাধ্যমে পাবনা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

শাহজাদপুরে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

‎সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ১৪ই ডিসেম্বর ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০২৫ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত শহীদ স্মৃতি সম্মেলন কক্ষে এ স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিসেস মুসফিকা হোসেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাসুদ রানা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ বেলাল হোসেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মুরাদ হোসেন, শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোছাঃ ইলোরা ইয়াসমিন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মকবুল হোসেন সন্জু, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান সহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিসেস মুসফিকা হোসেন তাঁর বক্তব্যে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দ্বারা পরিকল্পিতভাবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ইতিহাস তুলে ধরে ছিলেন। এছাড়া ও বলেছেন, জাতিকে মেধাশূন্য করতে এই বর্বর হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। শহিদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সভা শেষে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

আরব আমিরাতে ভিসা সংকটে বড় হুমকির মুখে বাংলাদেশি শ্রমবাজার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যের  অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। নতুন ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও কবে ভিসা উন্মুক্ত হবে— সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারছে না বাংলাদেশ মিশন। বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমিরাত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

ভিসা জটিলতা শ্রমবাজারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাব পড়ছে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান, আয়-রোজগার এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে বসবাস, লিঙ্গ পরিবর্তন, সনদ জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ ওঠায় ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি করেছে আমিরাত সরকার। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

এদিকে দুবাইয়ে স্কিল ভিসা চালু থাকলেও সেখানেও কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্র্যাজুয়েশন সনদ ছাড়া বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। সনদকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন, পরে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যাচাই এবং শেষে আমিরাতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ ও জটিল এ প্রক্রিয়ায় হতাশ কর্মপ্রত্যাশীরা।

বাংলাদেশ মিশনের তথ্যানুসারে, স্কিল ভিসায় সনদ জালিয়াতি ঠেকাতে তিন মাস আগে চালু করা হয়েছিল বারকোড ব্যবস্থা। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটিও জাল করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযোগ আসছে। রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশিদের মানসিকতা না বদলালে ভিসা সংকট নিরসন সম্ভব নয়।

আবুধাবি বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, “গত সাত মাস ধরে ভিসা ইস্যুতে চেষ্টা চালিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি।কবে হবে সেটিও অনিশ্চিত। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, তবে বিষয়টি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ”

 

জনশক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা পরিবর্তনের জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে অনেক বাংলাদেশি কর্মীকে দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। অনেকেই জানেন না, ভিসা বাতিল হলে কী পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে প্রবাসীদের মানসিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বর্তমানে যারা আমিরাতে অবস্থান করছেন, তারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।

বাংলাদেশি প্রবাসী সংগঠকরা মনে করেন, এ অচলাবস্থা কাটাতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসীদেরও ভিসা নীতিমালা মেনে চলা জরুরি। নইলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজারে বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ