আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগে গ্রেফতার জাহাজের মাস্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে অপহরণের অভিযোগে মো. আকতার জামান (৩১) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আকতার জামান এমভি আল ওয়াকিয়া লাইটার জাহাজের মাস্টার বলে জানা যায়। গত শুক্রবার রাতে কর্ণফুলীর চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের (৭নং ওয়ার্ড) মৌলভী বাজার এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে খোয়াজনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেন। অপহৃত শাহাজাহান পেশায় একজন ব্যবসায়ী। সদরঘাট বাংলাবাজার এলাকার এস.আর ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল নামক প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং চট্টগ্রাম লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। এ ঘটনায় বন্দর গোসাইলডাঙ্গা এলাকার অপহৃত ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান (৬৮) কর্ণফুলী থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন।
মামলায় আসামিরা হলেন-কর্ণফুলী উপজেলার খোয়াজনগর এলাকার নুরুল আলমের ছেলে আক্তার জামান (৩১), একই এলাকার মৃত আব্দুস সবুরের ছেলে নুর ইসলাম (৪০), চরলক্ষ্যা মৌলভী পাড়ার মোঃ গফুর (৩৩), চরলক্ষ্যা এলাকার জুংগার ছেলে শাকিব (২৭) ও খোয়াজনগর এলাকার বদির ছেলে মো. আসিফ (২২)। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা রয়েছে আরো ৭-৮ জন।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির হোসেন বলেন, একজন ব্যবসায়িকে আটকে রেখেছে খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে একজনকে আটক করা হয়েছিল। পরে ভিকটিম মামলা করায় আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে কর্ণফুলীর চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের পোর্টের রাস্তায় ভিকটিম তাঁর নিজস্ব খামারবাড়ি দেখতে যান। সন্ধ্যার দিকে কাজ সেরে খামারবাড়ি থেকে সিএনজি টেক্সি যোগে বাংলাবাজার ঘাটে যাওয়ার পথে মৌলভী বাজার এলাকার আইয়ুবশাহ বাড়ীর সামনে পৌঁছলে হঠাৎ আকতার জামান (৩১) এর নেতৃত্বে একদল লোক ২-৩ টি সিএনজি টেক্সি করে এসে ভিকটিম শাহজাহানের পথরোধ করেন। পরে চড় থাপ্পড় দিয়ে সিএনজিসহ জোরপূর্বক খোয়াজনগর এলাকায় নিয়ে আসেন। এ সময় ছুরির ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেন। পরে রাত ৮ টার দিকে খবর পেয়ে কর্ণফুলী থানার পুলিশ এসে ভিকটিমকে উদ্ধার করেন। অন্যান্য লোকজন পালিয়ে গেলেও আকতার জামানকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়।
তবে অপহরণের ঘটনার অনুসন্ধানে উঠে আসে আরেক কাহিনী। এতে জানা যায়, গ্রেফতার আসামি আকতার জামান কর্মরত ওয়াকিয়া লাইটার জাহাজটি গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম থেকে গম বোঝাই করে নারায়নগঞ্জের ডেমরায় যান। সেখানে সিরিয়াল মেইনটেইন করার কারণে আনলোড করতে দেরি হয়। জাহাজের মালিক জাহেদ আমিন দোভাষ ভিকটিম শাহাজাহানের পূর্ব পরিচিত ছিল।
সে সুবাধে মোবাইল ফোনে তিনি শাহাজাহানকে জানান, তার জাহাজটি নারায়নগঞ্জে প্রায় ৪ মাস যাবত গম খালাস না করে নোঙর অবস্থায় রয়েছে। এক পর্যায়ে গম আনলোড হলেও জাহাজ ফিরে না আসায় গত ৪ এপ্রিল জাহাজের মালিকসহ ভিকটিম নারায়নগঞ্জে যান। তখনই গ্রেফতার জাহাজের মাস্টার আকতার জামান জানায়, জাহাজের মালিক তাঁদের ২ মাসের বেতন বোনাস দিচ্ছে না। তাই জাহাজ চট্টগ্রাম যাচ্ছে না। পরে নারায়নগঞ্জ নৌ পুলিশ, শ্রমিক ও মালিক পক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হয়ে চট্টগ্রামে আসে। এ সময় জাহাজ মাস্টার ও জাহাজের ৯ জন শ্রমিক কোম্পানির নিকট হতে ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৭০০ টাকা বেতন বোনাস বুঝে নেন।
পরে জাহাজ মাস্টার জামান আরো টাকা পাবে বলে দাবি করে সে সময়ের মধ্যস্থকারী ভিকটিম শাহাজাহানের সদরঘাট অফিসে যান। এ সময় ভিটকিম জামানকে টাকা পেলে চট্টগ্রাম লাইটারেজ সমিতির মাধ্যমে অভিযোগ দেওয়ার কথা জানান। তবুও আকতার জামান ক্ষিপ্ত হয়ে কর্ণফুলীতে এসে অপহরণ ও আটকের ঘটনাটি ঘটান বলে অভিযোগ রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মতিউর রহমান চৌধুরী নোয়াব সভাপতি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী  মালিকদের সংগঠন- নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ