জমে উঠছে ফটিকছড়িতে নবীন-প্রবীণের লড়াই

মাসুদুল ইসলাম মাসুদ ফটিকছড়ি প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম জেলা:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

আগামী ২১ মে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যাচ্ছে ২য় ধাপে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি উপজেলায় ২ জন চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দাখিল করে যাচাই বাছাই এ মনোনয়ন নিশ্চিত হয়। এরা হলেন আওয়ামী ঘরনার দুই প্রভাবশালী নেতা ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  নাজিম উদ্দীন মুহুরী এবং উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য ও সাবেক উত্তর জেলা ছাত্র লীগের সভাপতি বখতেয়ার সাঈদ ইরান।

সিনিয়র ও জুনিয়র একই ঘরনার দুই নেতার মধ্যেই হবে মূল ভোট যুদ্ধ।  এছাড়া পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়বেন মোট ৫ জন। এরা হলেন সাংবাদিক নেতা সৈয়দ জাহেদুল্লাহ কুরাইশী, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান এড. সালামত উল্লাহ চৌধুরী শাহিন, নাজিম উদ্দীন সিদ্দিকী, আনোয়ারুল হক, জসীম উদ্দীন।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন লড়াই হবে  বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান জেবুন নাহার মুক্তা ও  ফটিকছড়ি মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী শারমিন নপুরের মধ্যে। মোট প্রার্থী সংখ্যা ৯ জন। এবার ভোট আমেজ হবে অন্য রকম। ওপর মহলের সিদ্ধান্তের প্রভাব উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, চায়ের দোকানে,পাড়ার মোড়ে মোড়ে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।  রাজনীতিতে কার কখন কোথায় উত্থান হয় তা বোঝা বড়ই মুশকিল। দলের হাই কমান্ডের সিদ্ধান্তে  হয়ত কারো কপাল খুলে আবার কারো কপাল পুড়ে। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দিনের সিদ্ধান্ত ছিল দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে। এতে যার রাজনীতির ওপর মহলে যত শক্ত  অবস্থান প্রতীক পাওয়া তার জন্য তত নিশ্চিত ছিল। যার হাত যত লম্বা ছিল তার জন্য নৌকা প্রতিক তত সহজ ছিল। অথবা অর্থের একটা প্রভাবও ছিল কিন্তু এইবার প্রতিক বিহীন নির্বাচন সব হিসাব নিকাশ উল্টে দিয়েছে।

 

এইত মাত্র ক’মাস আগে জাতীয় নির্বাচন গেল। উত্তাপ এখনো কমেনি। তার রেশ না কাটতেই শুরু হল উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনের পাওয়া না পাওয়ার অনেক হিসাব নিকাশ জমা রয়েছে নেতাদের মধ্যে। জাতীয় নির্বাচনেও ছিল এক ভিন্ন চিত্র। দলের সিদ্ধান্তে হয়েছেন একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী। সেই হিসাব মতে ফটিকছড়িতে ছিল একজন হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী।  উপজেলা চেয়ারম্যান পদ হতে পদত্যাগ করে এম পি পদে প্রার্থী হয়েছিলেন এক কালের রাজপথের ত্যাগী নেতা, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হোসাইন মোহাম্মদ আবু তৈয়ব। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবু তৈয়ব একাই লড়াই করেছিলেন ফটিকছড়ি পুরো আওয়ামী লীগ, ছাত্র লীগ,যুবলীগ সহ সমস্ত আম জনতার সাথে। ভোটের হিসাব নিকাশে জয় পরাজয়ের ভাগ্য মেনে নিয়ে তিনি পরাজিত প্রার্থী হিসেবে নিজেকে গুটিয়ে রাখেন। নির্বাচনের পরে আবু তৈয়ব কৌশলী পন্থা অবলম্বন করে চুপচাপ থাকেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার তরমুজ প্রতীকে ভোট পরেন ৩৫ হাজারের মত। পক্ষান্তরে দলীয় মনোনীত নৌকা প্রতিক নিয়ে রফিক কন্যা বিশাল ভোট ব্যবধানে জয়ী হয়ে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়। বর্তমান এম পি খাদিজাতুল আনোয়ার সনি চট্টগ্রাম হতে সর্বপ্রথম নারী হিসেবে সরাসরি জনগণের ভোটে জয়ী হয়ে সংসদে পা রাখেন। জাতীয় নির্বাচনের পর পর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচন এম পির জন্য নিঃসন্দেহে একটি বাড়তি স্নায়ুযুদ্ধ। কারণ চেয়ারম্যান প্রার্থী সব আওয়ামী ঘরনার।  আবার দলীয় হাই কমান্ডের সিদ্ধান্ত উপজেলা নির্বাচনে কোনো এম পি সরাসরি কাউকে সমর্থন বা কাজ করতে পারবেন না। সেই দিক হতে তিনি রয়েছেন কিছুটা চাপমুক্ত। তারপরও মানুষের জল্পনা কল্পনার শেষ নেই।  লোকমুখে বিরাজমান মরহুম রফিকুল আনোয়ারের সৃষ্টি আজকের এই বখতিয়ার সাইদ  ইরান। রফিক পরিবারের সাথে রয়েছে ইরানের আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক। সুখে দুঃখে পাশে ছিলেন ইরান। সেই হিসাবে এম পি খাদিজাতুল আনোয়ার সনি কি সিদ্ধান্ত নিবে তার আগ্রহের শেষ নেই ভোটারের। পক্ষান্তরে নাজিম উদ্দীন মুহুরীর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছে একটি শক্ত অবস্থান। দীর্ঘদিন রয়েছে ফটিকছড়ির মাঠে ময়দানে।  সেই সুযোগ তিনি কতটুকু কাজে লাগাতে পারেন তা ভোটাররা পর্যবেক্ষণ করছেন।
এখন ভোটার বা ভোট বিশ্লেষকের তথ্য মতে হিসাব নিকাশের মধ্যেখানে রয়েছে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তৈয়ব। তথ্যমতে অনেকে বলেন জাতীয় নির্বাচনে পাওয়া আবু তৈয়ব সমর্থনে তরমুজ মার্কার ৩৫ হাজার ভোট যে দিকে ঝুঁকে হয়ত সেই দিকের পাল্লা কিছুটা ভারী বা এগিয়ে থাকবে। এছাড়াও আবু তৈয়বের রয়েছে বিশাল কর্মী বাহিনী। অনেকের ধারণা হয়ত আবু তৈয়বের নির্দেশ পেলে তার নেতা ও কর্মী বাহিনী গুলো সেই দিকেই কাজ করবে। তারপরও ভোটের রাজনীতি বড়ই জটিল ও রাজনীতির শেষ বলতে কিছুই নেই। উপজেলা নির্বাচন ঘিরে উপজেলা ভিত্তিক অনেক আওয়ামী লীগ নেতা তাদের শেষ হিসাব নিকাশ কষতে শুরু করেছেন। কেউ কারো অবস্থান হতে ছাড় দিতে নারাজ।  বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন মুহুরী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে আগামীর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কে হবেন সেই হিসাব শুরু হয়েছে। সেই হিসেবে বখতিয়ার সাইদ ইরান রয়েছে হিসাবের বাইরে কারণ তার অবস্থান জেলা পর্যায়ে। তুলনামূলক বয়সে ছোট হিসেবে আগামীর ভবিষ্যৎ হয়ত আরো অনেক বাকি রয়েছে। সবকিছু চাপিয়ে ফটিকছড়ির উপজেলা জেলা নির্বাচনে রয়েছে এবার ভিন্নতা। গতবারের নির্বাচনে হয়ছে শিয়ানে শিয়ানে লড়াই।  আবু তৈয়ব ও নাজিম উদ্দীন মুহুরী ছিল সহযোদ্ধা। জয় পরাজয়ে তেমন হিসাব ছিলনা কারণ মুহুরীর দখলে ছিল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এর পদবী। পক্ষান্তরে আবু তৈয়বের লড়াই টা ছিল অস্তিত্বের লড়াই। সেই লড়াইয়ে তিনি জয়লাভ করে ফটিকছড়িতে তার অবস্থান জানান দে কিন্তু এই বার দেখার পালা ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে কে জয়ী হয়ে জনপ্রিয়তার অবস্থান জানান দে। সেই অবস্থান জানার জন্য ফটিকছড়ি বাসীকে অপেক্ষা করতে হবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-আরাফাত -সাদ্দামসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

একই রায়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, এ মামলার তদন্ত শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তারা। যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।

ইঞ্জিন দ্রুত মেরামতে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের নির্দেশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমি (আরটিএ), লোকোসেড, সিজিপিওয়াই, কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ (সিসিবিএল) ও পদ্মা অয়েল সাইডিং লাইন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এসব স্থাপনা পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনকালে রেলওয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী (সিই), চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (সিওপিএস), চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সিসিএম), চট্টগ্রামের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) এবং পাহাড়তলীর ডিএসডব্লিউসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমে রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমি (আরটিএ) পরিদর্শন করেন মহাব্যবস্থাপক। এ সময় তিনি একাডেমির একাডেমিক ভবন, প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ কক্ষ, ডরমেটরি ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে বিভাগীয় প্রধানদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।এরপর তিনি সিজিপিওয়াই, টার্ন টেবিল, ট্রায়াঙ্গেল লাইন, ইয়ার্ড লাইন ও লোকোসেড পরিদর্শন করেন। লোকোসেড পরিদর্শনকালে ইঞ্জিন দ্রুত মেরামত ও সচল রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন পরামর্শ ও নির্দেশনা দেন।

পরে সিজিপিওয়াই এলাকায় কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ (সিসিবিএল) পরিদর্শন করেন মহাব্যবস্থাপক। এ সময় সিসিবিএলের সঙ্গে রেলওয়ের বিভিন্ন চুক্তি, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া দ্মা অয়েল সাইডিং লাইন পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ