আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬

চা-বাগান কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি ও প্রতিবাদ সভা

তিমির বনিক মৌলভীবাজার:

মৌলভীবাজার:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মিরতিংগা চা-বাগানে বেতনসহ যাবতীয় পাওনাদি আদায়ের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৬ই মে) সকাল থেকে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ এসোসিয়েশন এর আয়োজনে ২ঘন্টা কর্মবিরতি করে এ কর্মসুচি পালন করা হয়।
মিরতিংগা চা-বাগান ইউনিটের সদস্য মানিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও মো. কামাল হোসেনের পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. জাকারিয়া আহমদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ কাওসার আহমদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ সুরঞ্জিত দাশ, সমাজসেবা সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, মিরতিংগা ইউনিট প্রতিনিধি সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য তরুন, ইউপি সদস্য ধনা বাউরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা কুলচন্দ্র তাঁতী, দীপ নারায়ন পাল, নওশাদ আহমদ, আমিরুল আলম, আওয়ামী লীগ নেতা সুলেমান মিয়া ও দিলীপ ঘোষ প্রমুখ।
সভায় বক্তরা বলেন, দেউন্ডি টি কোম্পানির মিরতিংগা চা-বাগান ইউনিটির সদস্যরা ২০১৮ সাল থেকে বেতন এবং অন্যান্য সুবিধা পাচ্ছেন না। গত ৭ মাস আগ থেকে গ্যাস, পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। গত মার্চ মাস থেকে চা-পাতার কলকারখানা বন্ধ রয়েছে। এমতাবস্থায় চা শ্রমিকরা চা উত্তোলন করে কাঁচা পাতা ২৮ টাকা দরে অন্যত্র বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ৯০ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা স্টাফদের বকেয়া পাওনা রয়েছে। মিরতিংগা চা বাগান ইউনিটির সদস্যরা বেতন ও অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এদিকে দেউন্ডি টি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ ওয়াহিদ, চা বাগান কর্মচারী ইউনিয়ন ও বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম এর উপস্থিতিতে গত ৬ মার্চ বকেয়া পাওনাদি নিরসনে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে মার্চ মাস থেকে বেতনসহ অন্যান্য সুবিধা যথা সময়ে পরিশোধ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু মালিক পক্ষ তা করেনি। এরই প্রতিবাদে মিরতিংগা চা বাগান ইউনিটের সদস্যরা অবস্থান কর্মসুচি ও প্রতিবাদ সভা করে। আগামী রোববার জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।
বক্তারা আরো জানান, অবিলম্বে বকেয়া পাওনাদি না পরিশোধ করা হলে কঠোর কর্মসুচি গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে জিংক ব্রি ধান-১০২ শীর্ষক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁওয়ে হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশ -এর বাস্তবায়নে ও রিয়েক্টস-ইন প্রজেক্টের আওতায় পুষ্টিসমৃদ্ধ জিংক ধান-১০২ শীর্ষক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে ইএসডিও’র আয়োজনে ও পরিচালনায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর  ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ গ্রামে কৃষক মাঠ দিবসটি অনুষ্ঠিত হয়। 

কৃষক মাঠ দিবসে উপস্থিত শতাধিক কৃষকের মাঝে হারভেস্টপ্লাসের প্রজেক্ট ম্যানেজার কৃষিবিদ মোঃ শাহিনুল কবির এবং ইএসডিও রিয়েক্টস- ইন প্রজেক্টের প্রজেক্ট ফোকাল কৃষিবিদ মোঃ আশরাফুল আলম মানবদেহে জিংক এর প্রয়োজনীয়তা এবং জিংকের অভাব পূরণে জিংক সমৃদ্ধ ব্রিধান১০২,  ব্রিধান১০০, ব্রিধান৮৪ এবং ব্রিধান৭৪ এর ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।তারা তাদের বক্তব্যে সকলের প্রতি জিংক ধানের চাষাবাদ পদ্ধতি, জিংক ধানের আবাদের সম্প্রসারণ ও জিংক সমৃদ্ধ চালের ভাত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে আহ্বান জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাহীন আলী ও উত্তম কুমার বর্মন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার মোছা: জিন্নাতুন নেছা, মাদারগঞ্জ সরকারি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আলমগীর হোসেন, উক্ত গ্রামের মাদারগঞ্জ পাড়া জামে মসজিদের ইমাম সাহেব মোঃ হায়দার আলী এবং ইএসডিও রিয়েক্টস- ইন প্রজেক্টের প্রজেক্ট অফিসার মোঃ আবু তালহা শিশির সহ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। 

বৃষ্টিতে ৮০০ চাষির মাথায় হাত, উৎপাদিত লবন মিশে গেছে মাটিতে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম মিলছে কম। এর ওপর হঠাৎ অসময়ের কালবৈশাখী ও ভারী বর্ষণে ক্ষতি হয়েছে লবণমাঠের। এমন অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন প্রায় ৮০০ লবণচাষি। চট্টগ্রামের উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালীর লবণ শিল্পে এমন বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় মাঠেই গলে গেছে হাজার হাজার মণ লবণ। লবণের এই আকস্মিক উৎপাদন ঘাটতি আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে। লবণের সরবরাহ কমলে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
লবণ মিল মালিকদের মতে, নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত লবণের মৌসুম হলেও শেষ সময়ে কালবৈশাখীর আঘাতে এই খাতটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর চাষাবাদ কম হওয়ায় উৎপাদন ঘাটতির ঝুঁকি আগে থেকেই ছিল, যা এখন আরও ঘনীভূত হয়েছে।

চট্টগ্রাম বৃহত্তর কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির সভাপতি মুসলিম উদ্দীন জানান, কোরবানির সময় সারা দেশে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন লবণ প্রয়োজন হয়। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ৭৪ কেজির লবণের বস্তার দাম ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০০ টাকায় ঠেকেছে। লবণের দাম বাড়লে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের খরচও বেড়ে যাবে বলে তিনি জানান।

লবন চাষিরা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে মাঠে প্রস্তুত করা লবণ পানিতে মিশে গেছে। মৌসুমের শেষ সময়ে এমন ক্ষতিতে তারা দিশেহারা। বাঁশখালীর গন্ডামারা, পুইছড়ী, শেখেরখীল, সরল, ছনুয়া ও কাতারিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হলেও বর্তমানে অধিকাংশ মাঠই বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে আছে।

বিসিকের লবণ উৎপাদন মনিটরিং সেলের তথ্যমতে, দেশে চলতি বছর লবণের চাহিদা প্রায় ২৭ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলে প্রতিদিন গড়ে ৩০ হাজার টন লবণ উৎপাদন হলেও সাম্প্রতিক বৈরী আবহাওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার টন উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গত ৬ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র চার দিনেই উৎপাদন কমেছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন।
বাঁশাখলীর ছনুয়া এলাকার লবণ চাষি আবুল কালাম বলেন, সমুদ্রের লোনা পানি শুকিয়ে আমরা লবণ তৈরি করি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে মাঠের সব লবণ নষ্ট হয়ে গেছে। এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে আমরা লাখ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়ব।

বাঁশখালীর গন্ডামারা সমিতির সভাপতি আবু আহমদ জানান, বাঁশখালীতে প্রায় ১০ হাজার চাষি ও ৩০ হাজার শ্রমিক এই পেশায় জড়িত। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে শুধু তাদের সমিতির ৮০০ চাষিরই প্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রোববার দুপুর পর্যন্ত দেশের ১৩টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী বর্ষণের শঙ্কা রয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ