আজঃ সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামের হালদাপাড়ে উৎসবের আমেজ ঃ ডিম ছেড়েছে মা মাছ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে অল্প পরিমাণে নমুনা ডিম ছেড়েছে কার্পজাতীয় প্রজনন সক্ষম মাছ। ডিম সংগ্রহের আশায় হালদাপাড়ে অপেক্ষা করছেন হাজারখানেক মানুষ, নদী ঘিরে যাদের জীবন ও জীবিকা। সব মিলিয়ে হালদাপাড়ে এখন উৎসবের আমেজ চলছে। হালদাপাড়ের মানুষের কাছে ‘মা মাছ’ হিসেবে পরিচিত এসব মাছ পূর্ণাঙ্গভাবে ডিম ছাড়তে পারে বলে আশা করছেন হালদা গবেষক ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে হালদা নদীর আজিমের ঘাট থেকে অঙ্কুরীঘোনা পর্যন্ত এলাকায় মা মাছ বিক্ষিপ্তভাবে নমুনা ডিম ছেড়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিচার্স ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক মো. মনজুরুল কিবরিয়া। এদিকে ডিম সংগ্রহের জন্য প্রায় ৩৫০টি নৌকায় ৪০০ বিশেষ জাল নিয়ে প্রায় সাড়ে ছয় শ ডিম সংগ্রহকারী নদীতে অপেক্ষমাণ আছেন।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলার প্রায় ৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে আছে হালদা নদী। প্রতি বছরের চৈত্র থেকে আষাঢ় মাসের মধ্যে পূর্ণিমা-অমাবস্যার তিথিতে বজ্রসহ বৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢল নামে হালদা নদীতে। আর তখনই তাপমাত্রা অনুকূলে থাকলে ডিম ছাড়ে রুই, মৃগেল, কাতলা ও কালিবাউশ— এ চার প্রজাতির প্রজনন সক্ষম মাছ। সাধারণত মধ্য এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে হালদায় ডিম ছাড়ে মা মাছ। তবে গত ছয় বছরের মধ্যে শুধু ২০১৮ সালে এপ্রিল মাসে ‘মা মাছ’ ডিম ছেড়েছিল। গত বছর জুনের দ্বিতীয়ার্ধে ডিম ছেড়েছিল। এ ছাড়া বাকি চার বছরই মে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে মা মাছ ডিম ছাড়ে।
হালদা রিভার রিচার্স ল্যাবরেটরির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ১৪ হাজার ৬৬৪ কেজি, ২০২২ সালে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কেজি, ২০২১ সালে সাড়ে আট হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ হয়েছিল। ২০২০ সালে হালদা নদীতে রেকর্ড পরিমাণ ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পাওয়া গিয়েছিল। ২০১৯ সালে প্রায় সাত হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল। আর ২০১৮ সালে স্থানীয়রা ডিম সংগ্রহ করেছিলেন ২২ হাজার ৬৮০ কেজি। এর আগে ২০১৭ সালে মাত্র এক হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ (নমুনা ডিম) কেজি, ২০১৫ সালে দুই হাজার ৮০০ কেজি এবং ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ বলেন, আজ মঙ্গলবার (গতকাল) ভোরে কিছু নমুনা ডিম ছেড়েছে। নমুনা ডিম হলেও পরিমাণে বেশি। আশা করছি, রাতে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হলে বড় মাছ পূর্ণাঙ্গভাবে ডিম ছেড়ে দেবে।
হালদাপাড়ে থাকা চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভাটা শেষে ভোরে হালদা নদীর রাউজান উপজেলা অংশের মইশকরম এলাকার চইল্যাখালিতে নমুনা ডিম পাওয়া যায়। স্থানীয় পাখিরাম দাস, হরিরঞ্জন দাস, সন্তোষ দাস, সুজিত দাস ও সুনীল দাস ১১টি নৌকায় কিছু নমুনা ডিম সংগ্রহ করেন। প্রতি নৌকায় দুই থেকে আড়াই বালতি ডিম সংগ্রহ হয়েছে।
অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, এখন আবহাওয়া ভালো। পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলও আছে। পানির কোয়ালিটিও ভালো। ডিম ছাড়ার জন্য এটা সুন্দর পরিবেশ। আশা করছি, আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যার দিকে পূর্ণাঙ্গভাবে ডিম ছাড়তে পারে। ডিম সংগ্রহের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মৎস্য বিভাগ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ বলেন, ডিম সংগ্রহের জন্য প্রায় ৩৫০টি নৌকায় ৪০০ বিশেষ জাল নিয়ে প্রায় সাড়ে ছয় শ ডিম সংগ্রহকারী নদীতে অপেক্ষমাণ আছেন। সংগ্রহ করা ডিম থেকে পোনা তৈরির জন্য সরকারিভাবে চারটি হ্যাচারি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা আইডিএফের একটি হ্যাচারি আছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন আরও ৮-১০টি মিনি হ্যাচারি আছে। এ ছাড়া মৎস্যজীবীরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৬৮টি মাটির কুয়া তৈরি করেছেন। ডিম যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য আমরা সচেষ্ট আছি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দেশের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে বিএনপি – প্রতিমন্ত্রী পুতুল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, সরকার গঠনের এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ কে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে বিএনপি।সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে পাবনার পদ্মকোল খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, অত্যন্ত ক্রান্তিলগ্নে আমরা দেশের দায়িত্ব পেয়েছি। সরকার গঠনের একমাসও পূর্ণ হয়নি। তবুও এরই মধ্যে বিএনপি সরকার দেশের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, মসজিদ মন্দিরের ইমাম পুরোহিতদের সম্মানী ভাতা ও কৃষি ঋণ মওকুফের মতো উদ্যোগ আমরা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু করেছি।

তিনি আরও বলেন, কৃষি ও কৃষক আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। সেই কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি সহ জীবনমান উন্নয়নের জন্য শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক সময় খাল থেকে সেচ ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিলেন। তার সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান এবার খননের মাধ্যমে খাল কে পুনরুজ্জীবন দিয়ে সেচ ব্যবস্থা কে আরো উন্নত করতে উদ্যোগ নিয়েছেন। এ উদ্যোগের আওতায় সারা দেশে ৫৪টি খাল খনন কর্মসূচির আজ উদ্বোধন হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মরে যাওয়া খালগুলো পানিপ্রবাহ ফিরে পেলে যেমন কৃষি উৎপাদন বাড়বে, তেমনই গ্রামীণ জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এর ফলে ভূ-উপরিস্থ পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে, যা খরা, বন্যা ও জলাবদ্ধতা কমাতে সহায়ক হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য মরে যাওয়া খালগুলো খনন করে জীবন ফিরিয়ে দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই সারা দেশের মতো পাবনায় এ খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্টরা খেয়াল রাখবেন, শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে যেন খাল খনন সম্পন্ন হয়৷

পাবনার জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফার সভাপতিত্বে খাল খনন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব, পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার, পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার, পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার ও সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম সহ অনেকেই।

প্রসঙ্গত, পাবনার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর থেকে মন্ডলমোড় পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এই খালটি পাবনা শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতী নদীতে গিয়ে মিশেছে। ৬ ফুট গভীর ও গড় ৪০ ফুট প্রশস্ত করে খালটি খনন কাজ শুরু হচ্ছে।

এই খালটি পূর্ণ খনন হলে পদ্মা থেকে ইছামতিতে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে। খালের পার্শ্ববর্তী হেমায়েতপুর ইউনিয়নের জমিগুলো সহজেই সেচ সুবিধা পাবে। এই কর্মসূচির আওতায় এটি ছাড়াও পাবনায় ১০৬ টি খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

 

 

দিনাজপুরে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় সাহাপাড়া এলাকায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।উদ্বোধন শেষে খালের পাড়ে একটি বৃক্ষ রোপণ করেন তিনি।

সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১২ টায় কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের সাহাপাড়ায় এই খাল পূনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দেশের ৫৩টি জেলায় খাল পূনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে।পরে প্রধানমন্ত্রী রহমান তারেক রহমান খালের পারে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এমপি, পানি সম্পদ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এমপি, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রানমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু এমপি, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি, দিনাজপুর-১ আসনে এমপি মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু, দিনাজপুর-২ আসনে এমপি সাদিক রিয়াজ চৌধুরী, দিনাজপুর সদর আসনের এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৪ আসনের এমপি জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া প্রমূখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি।প্রসঙ্গত, দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া থেকে মুকুন্দপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কাহারোল উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। এই খাল পুনঃখননের ফলে প্রায় ১২০০ হেক্টর কৃষিজমি সেচের আওতায় আসবে। একই সঙ্গে প্রায় ৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা কমে যাবে বলে আশা স্থানীয়দের।

এরপরে বিকেল সাড়ে তিনটায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুর শহরের ফরিদপুর গোরস্তানে যাবেন। সেখানে তিনি তার নানা মরহুম মো. ইস্কান্দার মজুমদার, নানি মরহুমা তৈয়বা মজুমদার এবং খালা খুরশীদ জাহান হকসহ (চকলেট) নিকট আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন।

তারপরে গোর এ শহীদ বড় ময়দানে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে দিনাজপুরের সফর শেষ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ