আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

রোগীদের সাথে নার্সদের ভালো ব্যবহার স্বাস্থ্য বিভাগের সম্মান বৃদ্ধি পাবে

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস পালন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল নার্সিং কর্মকর্তাদের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষে গতকাল রোববার সকালে বেলুন-শান্তির পায়রা উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন, বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও কেক কেটে আধুনিক নার্সিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল’র ২০৪তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে-“আমাদের নার্স, আমাদের ভবিষ্যৎ ঃ অর্থনৈতিক শক্তি- নার্সিং সেবায় ভিত্তি”। অনুষ্ঠানের শুরুতে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিবসের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াজেদ চৌধুরী অভি। এর পর বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পূনঃরায় হাসপাতালে এসে শেষ হয়। র‌্যালিতে অতিথিবৃন্দরাসহ, নার্সিং সুপারভাইজার, সিনিয়র স্টাফ নার্স, নার্স ও কর্মচারীরা অংশ নেন। হাসপাতালের সকল নার্সিং কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবসের আয়োজন করেন।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সেবা তত্ত্বাবধায়ক রাশনা দাশের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র স্টাফ নার্স দীপ্তি ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের কনসালট্যান্ট (সার্জারী) ডা. বিজন কুমার নাথ। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. গোলাম মোস্তফা জামাল, হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি) ডা. রওশন আরা শিমুল ও সহকারী পরিচালক (নার্সিং) ঝর্ণা দত্ত। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সহকারী জেলা হেলথ নার্স সালমা আক্তার, হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স চায়না রানী শীল ও সিনিয়র স্টাফ নার্স মোঃ আবদুল মুকিত। আলোচনা সভা শেষে কেক কেটে আধুনিক নার্সিংয়ের প্রবর্তক ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল’র ২০৪-তম জন্মবার্ষিকী ও আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস পালন করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের কনসালট্যান্ট (সার্জারী) ডা. বিজন কুমার নাথ বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান আরও বৃদ্ধি করতে বর্তমান সরকার নার্সিং পেশাকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে। নার্সিং পেশ অত্যন্ত মহৎ ও সেবাধর্মী একটি কাজ। এ পেশাকে গুরুত্ব দিয়ে বর্তমান সরকার নার্সদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি রোগীদের সাথে নার্সদের ভালো ব্যবহার, যোগাযোগ ও নিয়মিত উপস্থিতি স্বাস্থ্য বিভাগের সম্মানটুকুও বৃদ্ধি পাবে। কারণ ভালো ব্যবহার পেলে রোগীরা অর্ধেক সুস্থতা অনুভব করে। রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রাপ্তি দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে। এজন্য সবাইকে আরও আন্তরিক হয়ে রোগীদেরকে সেবা দিতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের রোগীরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশে যায়। সে সকল দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবায় রোগীরা সন্তুুষ্ট। সেখানকার হাসপাতালের নার্সরা রোগীদের সাথে ভালো আচরণের মাধ্যমে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে সেবা দেয়। আমাদের দেশেও সরকারী-রেসরকারী অনেক নার্সিং ইনস্টিটিউট রয়েছে। সেগুলো থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নার্সগণ রোগীদের সেবার উদ্দেশ্যে হাসপাতাল-ক্লিনিকে চাকুরী করছে। তাই উন্নত চিকিৎসা-সেবা নিশ্চিত করতে ডাক্তার-নার্সসহ আমাদেরকে সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। সেবার মানসিকতা ও আন্তরিকতা নিয়ে নার্সদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। সবসময় রোগীর পাশে থাকতে হবে। রোগীর সমস্যাকে নিজের সমস্যা মনে করে নিজের অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে সেবা দিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. গোলাম মোস্তফা জামাল বলেন, চিকিৎসকগণ হাসপাতালে রোগীদেও চিকিৎসা দেন আর নার্সগণ রোগীদের যাবতীয় সেবা দিয়ে থাকেন। ফলে আমাদের দেশে বর্তমানে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার অনেকাংশে হ্রাস পাচ্ছে। বাংলাদেশে বিশ্বমানের নার্স গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের গৃহীত ও বাস্তবায়িত কার্যক্রমসমূহ সর্বস্তরে প্রশংসিত হয়েছে। নার্সদের কারণে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে স্বাস্থ্য বিভাগের ভাবমুর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। নার্সিং পেশাকে একটি আদর্শ পেশা হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নার্সদের কঠিন পরিশ্রম ও তাদের সেবা ছাড়া কোনো রোগীর সুস্থ হয়ে উঠা কঠিন। আজ সেই মানুষদের শ্রদ্ধা জানানোর দিন। মানুষকে সেবা দেয়ার জন্য বর্তমান সরকার আমাদেরকে অনেক সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবা জণগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে বিপুল সংখ্যক নার্স নিয়োগ, নতুন পদ সৃজন, বিশেষায়িত নার্স গড়ে তোলা, নার্সিং খাতের নানাবিধ প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করা, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নার্সিং সেবার মান বৃদ্ধি করাসহ নানামুখী কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। আধুনিক নার্সিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা, সমাজ সংস্কারক ও পরিসংখ্যানবিদ মহিয়সী নারী ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল’র জীবনী থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজের দরিদ্র-অসহায় মানুষের সেবায় নার্সদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
উল্লেখ্য যে, ১৮২০ সালে ১২ মে ইতালির এর আভিজাত পরিবারে ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলের ১৯৭৪ সাল থেকে তাঁর জন্মদিনটি ‘ইন্টারন্যাশনাল নার্সেস ডে’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। ডার্বিশায়া থেকে ১৭ বছর বয়সে লন্ডনে আসেন ফ্লোরেন্স। সেই সময় লন্ডনের হাসপাতালের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। কারণে কোনও সেবিকা সে সময় কাজ করতেন না। সে সময় নার্সিং পেশাকে সামাজিকভাবে মর্যাদা দেওয়া হত না। তা সত্ত্বেও নাইটিংগেল লড়াই করেন। তিনি ১৮৫১ সালে নার্সের প্রশিক্ষণ নিতে জার্মানিতে যান। তারপর তিনি নজে ১৮৬০ সালে নার্সিংকে সম্পূর্ণ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য স্থাপন করেন নাইটিংগেল ট্রেনিং স্কুল। তারপর ১৮৬৭ সালে নিউইয়র্কে চালু হয় উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ।
এভাবে একে জন সমক্ষে আসতে শুরু করে এই পেশার গুরুত্ব। ভারতেও তাঁরই প্রচেষ্টায় এই পেশার খ্যাতি বাড়তে থাকে। ১৮৮৩ সালে তাঁর এই কাজের জন্য তিনি রয়েল রেডক্রস সম্মান লাভ করেন। একের পর এক সম্মান পান ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল। তারপর ১৮৬০ সালে লন্ডনে বিশ্বে প্রথম তৈরি হয় নার্সিং শেখানোর স্কুল। যে স্কুল নির্মাণে তাঁর ভূমিকা ছিল বিস্তর। যুগ যুগ ধরে সেবিকাদের পরিশ্রম চাক্ষুস করেছেন সকলে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আত্মসাত হওয়া ৬০ লাখ টাকার কাপড়ের রোল নোয়াখালীতে উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে আত্মসাত হওয়া ১৫৩টি কাপড়ের রোল উদ্ধার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। যার আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা। এসময় আবুল বাসার (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কাপড়ের রোলগুলো গুলো উদ্ধার করা হলেও মঙ্গলবার এ তথ্য জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) পুলিশের মো. জামির হোসেন জানান, গত ২৪ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১টায় কলম্বিয়া অ্যাপারেলস লিমিটেডের আমদানিকৃত ১৬৩টি বিভিন্ন সাইজের কাপড়ের রোল চট্টগ্রাম বন্দর থেকে গাজীপুর নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। যার আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা। যাওয়ার পথে কার্ভাডভ্যানটি হালিশহর থানাধীন আব্বাসপাড়া টোলরোডস্থ চিটাগাং ফিলিং স্টেশনে রাখা হয়। এরপর দিবগাত রাত ৩টায় কাভার্ডভ্যানটি গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করলেও গাড়ির চালকসহ অন্যরা কাপড়ের রোলগুলো আত্মসাত করেন। এ ঘটনায় হালিশহর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করে ডিবি পুলিশ। গতকাল রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানাধীন ১নং হরিণী ইউনিয়নের আজিমনগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৯৬টি কাপড়ের রোল উদ্ধার করা হয়। পরে চর জব্বর থানাধীন চর মজিদ ভুঁইয়ার হাট বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আরও ৬৭টি কাপড়ের রোল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আবুল বাসার (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উপকূলে বাড়ছে বজ্রপাতের তাণ্ডব: জীবন রক্ষায় চাই বিশেষ সতর্কতা ও সচেতনতা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

​দক্ষিণাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত খুলনা জেলার পাইকগাছাসহ উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে এখন বোরো ধান কাটার মহোৎসব চলছে। তবে এই উৎসবের আমেজকে বিষাদে রূপ দিচ্ছে আকাশের ‘অগ্নিঝলক’ বা বজ্রপাত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলে বজ্রপাতের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রধান শিকার হচ্ছেন খোলা মাঠে কর্মরত কৃষকরা।

​পাইকগাছার বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ এবং লোনা পানির ঘের সংলগ্ন এলাকায় কোনো বড় গাছপালা বা উঁচু স্থাপনা নেই। ফলে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকা কৃষকরাই সরাসরি এর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা গরম ও আর্দ্র বাতাসের সাথে উত্তরের ঠান্ডা বাতাসের সংঘর্ষে এই উপকূলীয় অঞ্চলে মেঘের ঘর্ষণ বেশি হয়, যার ফলে বজ্রপাতের তীব্রতা ও সংখ্যা দুই-ই বাড়ছে।

​সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ মাসে খুলনা অঞ্চলে দুপুরের পর থেকেই কালবৈশাখী ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। ঠিক এই সময়েই কৃষকরা ধান কাটা ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন। পাইকগাছার অনেক কৃষকের মতে, হঠাত মেঘ জমলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আগেই বজ্রপাত শুরু হয়ে যায়। কাছাকাছি কোনো পাকা দালান বা উঁচু গাছ না থাকায় তারা চরম জীবনের ঝুঁকিতে থাকেন।

​বজ্রপাত থেকে বাঁচতে উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ কিছু পরামর্শ , আকাশে ঘন কালো মেঘ বা বিদ্যুৎ চমকানো শুরু করলে দ্রুত পাকা দালান বা টিনের চালের নিচে আশ্রয় নিন, বজ্রপাতের সময় মাছের ঘের, নদী বা খোলা ধানখেত থেকে দ্রুত সরে আসতে হবে, বড় গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে দাঁড়ানো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ,ছাতা বা কাস্তের মতো ধাতব হাতলযুক্ত কোনো কিছু এ সময় ব্যবহার করবেন না, .কাজ করার সময় রাবারের জুতো বা গামবুট ব্যবহার করলে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব, বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।

​বজ্রপাতকে বর্তমানে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে তালগাছ রোপণের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। পাইকগাছাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের জীবন সুরক্ষায় মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ