আজঃ রবিবার ২১ জুন, ২০২৬

ক্যাবের প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত

তৃণমূলে ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠায় ক্যাবকে শক্তিশালী করার বিকল্প নাই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর জেলা-উপজেলা প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। ক্যাব সভাপতি ও সাবেক সচিব গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি জামিল চৌধুরী, সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া, ভোক্তা অধিদপ্তরের পরিচালক (কার্যক্রম ও গবেষণা) ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন এবং পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘প্রতিটা পদে পদে যেভাবে অতি মুনাফার প্রবণতা ছড়িয়ে গেছে। আমরা সেই বিষয়ে কাজ করছি। কিন্তু কৃষকের ক্ষেত থেকে শুরু হওয়ার পর প্রতিটি পর্যায়ে সিন্ডিকেট রয়েছে। নকল প্রডাক্টে ভরে গেছে।’ ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘দেশে এখন পাকা কাঠাল পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কাঠাল জৈষ্ঠ্য মাসে পাকে। কিন্তু এটা কেমিক্যাল মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে। এগুলো খেয়ে আরও ক্ষতি হচ্ছে। এগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। আর এটা হচ্ছে সেই প্রতিবাদের প্লাটফর্ম। আপনাদের দীর্ঘদিনের আইনের ফলে এই অধিদপ্তরের জন্ম হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ক্যাব আমাদের কাছে জানতে চাইবে- ভোক্তা অধিকার রক্ষায় কেন আপনারা পারছেন না। কারণ আপনারা মানুষের জন্যে কাজ করার প্রত্যাশা নিয়ে এই সংগঠনের বিভিন্ন কমিটিতে রয়েছেন। আপনারা ওষুধের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ করেছেন, হাইকোর্টে রিট করেছেন, তার প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মূল্য বৃদ্ধি না করার আদেশ দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বছর কয়েক আগে ডিজেলের দাম বাড়ায় ডিমপ্রতি খরচ বাড়লো ৮/৯ পয়সা। কিন্তু দাম বাড়ালো ২/৩ টাকা করে। আমরা সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছি। আমাদের আইনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা ইচ্ছে করলেই সব কিছু করতে পারি না। কিন্তু আপনারা তো স্বাধীন। আপনারা কেন ভয়েস রেইজ করতে ভয় পান। আপনার তো আমাদেরকে প্রতিনিয়ত বিরক্ত করবেন। কেন ভোক্তা প্রতারিত হবে। এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বা ভোক্তা সংগঠনের নামে ভাইফোঁর অনেক প্রতিষ্ঠান দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। তারা কমিটি দিচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় ভোক্তা অধিদপ্তরের নামে চাঁদাবাজী করছে। আপনাদের ভয়েস আর আমাদের কার্যক্রম দুটো মিলাতে পারলে ভোক্তার অধিকার রক্ষা হবে। আপনাদের কাছে একটাই চাওয়া- একটু অ্যাকটিভ হোন।’ তিনি বলেন, ‘সরকারি আইন দিয়ে কখনোই ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। আমাদের সবার কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোক্তাকে জাগিয়ে তুলতে হবে। আমাদের এখানে প্রতিদিন অন্তত ১০০টি করে অভিযোগ পড়ছে। আমরা সেটা সমাধান করার চেষ্টা করছি।’

সভায় বক্তৃতাদানকালে ক্যাবের সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য- ক্যাবের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করা। মাঠ পর্যায়ে কি কাজ হচ্ছে, সেটা পর্যালোচনা করা এবং ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যক্রম দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া। তিনি বলেন, দেশে হঠাৎ করে ডিমের দাম বেড়ে গেল। সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার জন্য আমরা প্রতিনিয়তই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। কিন্তু সরকার অজানা কারনে সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এর বিরুদ্ধে ক্যাব-জেলা ও উপজেলা কমিটির জোরালো প্রতিবাদ করা গেলেই, সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। ক্যাব যদি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে, তাহলে ভোক্তা অধিদপ্তরের কাজ করা সহজ হবে। কারণ ক্যাব ভোক্তা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে। নাজের হোসাইন বলেন, আমাদের ভয়েস রেইজ করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্য দিয়েও আপনারা যতটুকু কাজ করছেন, তাতে আমরা সন্তুষ্ঠ। নতুন প্রজন্মকে ক্যাবের সাথে যুক্ত করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে সংকট বাড়বে। তাই ক্যাবে নতুনদের যুক্ত হওয়ার পথ খোলা রাখতে হবে।

ক্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি জামিল চৌধুরী বলেন, ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে যদি গ্রামে গ্রামে ক্যাবকে শক্তিশালী করতে না পারি, তাহলে স্মার্ট বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব নয়। আর ক্যাবকে শক্তিশালী করতে হলে জেলায় জেলায় ক্যাবের অফিস থাকতে হবে। কারণ অফিস ভাড়া নিয়ে ক্যাবের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই তাদের (জেলা পর্যায়ে) দিকেও তাকাতে হবে। তিনি বলেন, এই দেশটা আমাদের। তাই দেশটার জন্য আমাদেরই কাজ করতে হবে। তাই আপনাদের কাছে আহ্বান- ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে ক্যাবকে শক্তিশালী করুন। সেই সাথে সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভোক্তা অধিদপ্তরকে সহযোগিতা করতে হবে।

ক্যাবের সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব শওকত আলী খান বলেন, ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণে ভোক্তা অধিদপ্তর যে কার্যক্রম নিয়েছে তাতে সাধুবাদ জানাই। সবার সম্মিলিত কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষিত হবে। তিনি বলেন, ক্যাবের নিজস্ব কোনো অফিস নেই। তাই কেন্দ্রীয় কমিটিকে ভাড়া বাসায় অফিস পরিচালনা করতে হয়। তাই ক্যাবের নিজস্ব কার্যালয় থাকা দরকার।

ভোক্তা অধিদপ্তরের পরিচালক (কার্যক্রম ও গবেষণা) ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন বলেন, ক্যাব নিজের খেয়ে বনের মোষ তারাচ্ছে। এটাতে জনকল্যানমুলক কাজ হিসেবে নিজেদেরকে যুক্ত করেছে। তারা ভোক্তা প্রতিনিধি হয়ে সরকারকে সহায়তা করছে। আবার সরকারের কাজের অনিয়মের প্রতিবাদও করছে। তাদের এই সেচ্ছাসেবী কাজকে ভোক্তা অধিদপ্তর সাধুবাদ জানায়।

ভোক্তা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ক্যাবের আন্দোলনের ফসল ভোক্তা অধিদপ্তর। আপনারা তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করছেন। আপনাদের হাতে অনেক তথ্য থাকে। আপনারা যদি সেই তথ্য দিয়ে ভোক্তা অধিদপ্তরকে সহায়তা করেন, তাহলে আমাদের কাজ করা আরও সহজ হয়। বিভিন্ন সময় মার্কেট (নিত্যপণ্যের বাজার) উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ বিষয়ে আপনারা কাজ করতে পারেন। স্মার্ট বাংলাদেশ গঠন করার এখনই উপযুক্ত সময়, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্মার্ট বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব।

এছাড়াও, ক্যাবের জেলা-উপজেলা প্রতিনিধিবৃন্দ সহ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে ক্যাব জেলা কমিটির জন্য নিজস্ব কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করা, ক্যাবের জেলা-উপজেলা কমিটিগুলোর কার্যক্রম আরও বেগমান করতে অর্থ সরবরাহ করা এবং তৃণমূলে ক্যাবকে কার্যকর করতে নতুন কমিটি গঠনের দাবি তুলে ধরেন জেলা পর্যায়ের ক্যাব নেতৃবৃন্দরা।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন ও ছোট জামাই সোহেলের বিরুদ্ধে। সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন বড় জামাই এ.কে আজাদ। আজ শনিবার (২০ জুন) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের হুজরাপুরে অবস্থিত চাঁপাই প্রেসক্লাবে হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন তিন।

লিখিত বক্তব্য এ. কে আজাদ জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুরে অবস্থিত মার্কেটসহ বাড়ি দখলের বিরোধের জেরে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে উক্ত আর.এস দাগ নং ১১৪৯ জমির উপরে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেন। এর পরেও মোশাররফ হোসেন ও তার ছোট জামাই সোহেল রানা আদালতের আইন অমান্য করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে গত ১ বছর ধরে তার নামে থাকা একটি মার্কেটসহ বাড়ী জোর পূর্বক দখল করে নেন। সে সঙ্গে বাড়ি ও মার্কেটের প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা শশুর এবং তার ছোট জামাই উত্তোলন করে আসছেন। মার্কেটসহ বাড়ির বর্তমান মালিক এ.কে আজাদ দখল ছাড়তে বললে বিভিন্ন প্রকার হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

উক্ত ঘটনার বিষয়ে জানতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেনের মুঠোফোনে ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ সম্পন্ন মিথ্যা।

বিএসএফের টাকার টোপে সীমান্তের দরিদ্ররা সহযোগিতা করছেন পুশ-ইনে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সীমান্তজুড়ে পুশ-ইন ইস্যু নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলা দিয়ে নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে কড়া নজরদারির কারণে অনেক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও এ কাজে সীমান্ত এলাকার কিছু দরিদ্র মানুষকে অর্থের প্রলোভনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্তে গিয়ে জানা গেছে, সীমান্তঘেঁষা নদীপথগুলো এখন নতুন কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে। আগে যেসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া কিংবা স্থলপথে কড়াকড়ি ছিল, এখন সেখানে নদীপথকে ব্যবহার করে রাতের অন্ধকার কিংবা ভোরের সময় পুশ-ইনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন একাধিক ঘটনার তথ্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী দরিদ্র কিছু বাংলাদেশিকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এসব কাজে ব্যবহার করছে বিএসএফ।

সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইন কার্যক্রমে কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী- একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিএসএফের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এসব পুশইনে সহায়তা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একজনকে পুশ-ইন করতে পারলে দেওয়া হচ্ছে ১০ হাজার টাকা। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে।

তবে সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের চেষ্টা ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং যেকোনো পুশ-ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ