আজঃ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬

ক্যাবের প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত

তৃণমূলে ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠায় ক্যাবকে শক্তিশালী করার বিকল্প নাই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর জেলা-উপজেলা প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। ক্যাব সভাপতি ও সাবেক সচিব গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি জামিল চৌধুরী, সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া, ভোক্তা অধিদপ্তরের পরিচালক (কার্যক্রম ও গবেষণা) ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন এবং পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘প্রতিটা পদে পদে যেভাবে অতি মুনাফার প্রবণতা ছড়িয়ে গেছে। আমরা সেই বিষয়ে কাজ করছি। কিন্তু কৃষকের ক্ষেত থেকে শুরু হওয়ার পর প্রতিটি পর্যায়ে সিন্ডিকেট রয়েছে। নকল প্রডাক্টে ভরে গেছে।’ ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘দেশে এখন পাকা কাঠাল পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কাঠাল জৈষ্ঠ্য মাসে পাকে। কিন্তু এটা কেমিক্যাল মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে। এগুলো খেয়ে আরও ক্ষতি হচ্ছে। এগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। আর এটা হচ্ছে সেই প্রতিবাদের প্লাটফর্ম। আপনাদের দীর্ঘদিনের আইনের ফলে এই অধিদপ্তরের জন্ম হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ক্যাব আমাদের কাছে জানতে চাইবে- ভোক্তা অধিকার রক্ষায় কেন আপনারা পারছেন না। কারণ আপনারা মানুষের জন্যে কাজ করার প্রত্যাশা নিয়ে এই সংগঠনের বিভিন্ন কমিটিতে রয়েছেন। আপনারা ওষুধের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ করেছেন, হাইকোর্টে রিট করেছেন, তার প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মূল্য বৃদ্ধি না করার আদেশ দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বছর কয়েক আগে ডিজেলের দাম বাড়ায় ডিমপ্রতি খরচ বাড়লো ৮/৯ পয়সা। কিন্তু দাম বাড়ালো ২/৩ টাকা করে। আমরা সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছি। আমাদের আইনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা ইচ্ছে করলেই সব কিছু করতে পারি না। কিন্তু আপনারা তো স্বাধীন। আপনারা কেন ভয়েস রেইজ করতে ভয় পান। আপনার তো আমাদেরকে প্রতিনিয়ত বিরক্ত করবেন। কেন ভোক্তা প্রতারিত হবে। এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বা ভোক্তা সংগঠনের নামে ভাইফোঁর অনেক প্রতিষ্ঠান দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। তারা কমিটি দিচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় ভোক্তা অধিদপ্তরের নামে চাঁদাবাজী করছে। আপনাদের ভয়েস আর আমাদের কার্যক্রম দুটো মিলাতে পারলে ভোক্তার অধিকার রক্ষা হবে। আপনাদের কাছে একটাই চাওয়া- একটু অ্যাকটিভ হোন।’ তিনি বলেন, ‘সরকারি আইন দিয়ে কখনোই ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। আমাদের সবার কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোক্তাকে জাগিয়ে তুলতে হবে। আমাদের এখানে প্রতিদিন অন্তত ১০০টি করে অভিযোগ পড়ছে। আমরা সেটা সমাধান করার চেষ্টা করছি।’

সভায় বক্তৃতাদানকালে ক্যাবের সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য- ক্যাবের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করা। মাঠ পর্যায়ে কি কাজ হচ্ছে, সেটা পর্যালোচনা করা এবং ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যক্রম দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া। তিনি বলেন, দেশে হঠাৎ করে ডিমের দাম বেড়ে গেল। সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার জন্য আমরা প্রতিনিয়তই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। কিন্তু সরকার অজানা কারনে সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এর বিরুদ্ধে ক্যাব-জেলা ও উপজেলা কমিটির জোরালো প্রতিবাদ করা গেলেই, সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। ক্যাব যদি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে, তাহলে ভোক্তা অধিদপ্তরের কাজ করা সহজ হবে। কারণ ক্যাব ভোক্তা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে। নাজের হোসাইন বলেন, আমাদের ভয়েস রেইজ করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্য দিয়েও আপনারা যতটুকু কাজ করছেন, তাতে আমরা সন্তুষ্ঠ। নতুন প্রজন্মকে ক্যাবের সাথে যুক্ত করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে সংকট বাড়বে। তাই ক্যাবে নতুনদের যুক্ত হওয়ার পথ খোলা রাখতে হবে।

ক্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি জামিল চৌধুরী বলেন, ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে যদি গ্রামে গ্রামে ক্যাবকে শক্তিশালী করতে না পারি, তাহলে স্মার্ট বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব নয়। আর ক্যাবকে শক্তিশালী করতে হলে জেলায় জেলায় ক্যাবের অফিস থাকতে হবে। কারণ অফিস ভাড়া নিয়ে ক্যাবের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই তাদের (জেলা পর্যায়ে) দিকেও তাকাতে হবে। তিনি বলেন, এই দেশটা আমাদের। তাই দেশটার জন্য আমাদেরই কাজ করতে হবে। তাই আপনাদের কাছে আহ্বান- ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে ক্যাবকে শক্তিশালী করুন। সেই সাথে সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভোক্তা অধিদপ্তরকে সহযোগিতা করতে হবে।

ক্যাবের সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব শওকত আলী খান বলেন, ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণে ভোক্তা অধিদপ্তর যে কার্যক্রম নিয়েছে তাতে সাধুবাদ জানাই। সবার সম্মিলিত কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষিত হবে। তিনি বলেন, ক্যাবের নিজস্ব কোনো অফিস নেই। তাই কেন্দ্রীয় কমিটিকে ভাড়া বাসায় অফিস পরিচালনা করতে হয়। তাই ক্যাবের নিজস্ব কার্যালয় থাকা দরকার।

ভোক্তা অধিদপ্তরের পরিচালক (কার্যক্রম ও গবেষণা) ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন বলেন, ক্যাব নিজের খেয়ে বনের মোষ তারাচ্ছে। এটাতে জনকল্যানমুলক কাজ হিসেবে নিজেদেরকে যুক্ত করেছে। তারা ভোক্তা প্রতিনিধি হয়ে সরকারকে সহায়তা করছে। আবার সরকারের কাজের অনিয়মের প্রতিবাদও করছে। তাদের এই সেচ্ছাসেবী কাজকে ভোক্তা অধিদপ্তর সাধুবাদ জানায়।

ভোক্তা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ক্যাবের আন্দোলনের ফসল ভোক্তা অধিদপ্তর। আপনারা তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করছেন। আপনাদের হাতে অনেক তথ্য থাকে। আপনারা যদি সেই তথ্য দিয়ে ভোক্তা অধিদপ্তরকে সহায়তা করেন, তাহলে আমাদের কাজ করা আরও সহজ হয়। বিভিন্ন সময় মার্কেট (নিত্যপণ্যের বাজার) উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ বিষয়ে আপনারা কাজ করতে পারেন। স্মার্ট বাংলাদেশ গঠন করার এখনই উপযুক্ত সময়, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্মার্ট বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব।

এছাড়াও, ক্যাবের জেলা-উপজেলা প্রতিনিধিবৃন্দ সহ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে ক্যাব জেলা কমিটির জন্য নিজস্ব কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করা, ক্যাবের জেলা-উপজেলা কমিটিগুলোর কার্যক্রম আরও বেগমান করতে অর্থ সরবরাহ করা এবং তৃণমূলে ক্যাবকে কার্যকর করতে নতুন কমিটি গঠনের দাবি তুলে ধরেন জেলা পর্যায়ের ক্যাব নেতৃবৃন্দরা।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাবার বন্ধুদের কাছে পেয়ে সম্মান জানাতে ভুললেন না প্রতিমন্ত্রী পুতুল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরকারি সফরে পাবনা এসে বাবার বাল্যবন্ধুদের সান্নিধ্যে আবেগতাড়িত হলেন প্রয়াত সমাজকল্যান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে বর্তমান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল।

সোমবার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসে বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রবি, প্রফেসর শিবজিত নাগ, বীর মুক্তিযোদ্ধা বেবী ইসলাম ও অধ্যক্ষ মাহাতাব বিশ্বাসকে দেখে ছুটে কাছে যান এবং পরম শ্রদ্ধায় দোয়া চান প্রতিমন্ত্রী পুতুল। এ সময় মাথায় হাত দিয়ে স্নেহের পরশ বুলিয়ে দেন বাবার বন্ধুরা। এরপর পাবনার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি।

পাবনা প্রেসক্লাব সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রয়াত প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের কৈশোর তারুণ্য কেটেছে পাবনায়। তিনি পাবনার সাবেক এমপি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এডভোকেট আমিনউদ্দিনের ভাতুষ্পুত্র। শহীদ আমিনউদ্দিনের মধ্য শহরের পুষ্পালয় নামক বাড়িতেই ফজলুর রহমান পটল থাকতেন ও ছাত্র রাজনীতি, মুুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। সে সময়ের তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কয়েকজন জীবিত আছেন। পাবনা প্রেসক্লাব প্রতিমন্ত্রী পুতুলের অনুরোধে তার পিতার বন্ধুদের প্রেসক্লাবে আমন্ত্রন জানান। পিতার বন্ধুদের কাছে পেয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বিনয় ও সম্মান দেখিয়েছেন তা সত্যিই অনুকরণীয়।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক জীবনের কর্মক্ষেত্রে যেখানেই যাই, শুনতে পাই- ও আচ্ছা তুমি পটলের মেয়ে, পটল ভাইয়ের মেয়ে? আমার এগিয়ে যাবার প্রধান নিয়ামক আমার বাবা। আমার বাবা যাদের হাতে হাত মিলিয়ে আড্ডা দিয়েছেন, সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করেছেন। আজ তাদের হাতের স্নেহের পরশ পেয়েছি। সন্তান হিসেবে এটি আমার জন্য ভীষণ সৌভাগ্যের।

পাবনা প্রেসক্লাবের ঐহিত্য ও প্রয়াত সংবাদকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী পুতুল বলেন, বিগত সময়ে আপনারা অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দেশকে এগিয়ে নিতে আপনাদের সহযোগিতা ভীষণ প্রয়োজন। আপনারা আমাদের পথ দেখান, ভুলগুলোর গঠনমূলক সমালোচনা করবেন বলে আশা রাখি।

পাবনার প্রতি স্মৃতিচারণ করে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, পাবনা ও নাটোর লালপুরের মাটির গন্ধ একই। কারণ এই পাবনায় আমার শেকড় পোতা। সুতরাং নাটোর লালপুরের মত উন্নয়নের ছোঁয়া পাবনাতেও লাগবে। পাইলটিং পদ্ধতিতে দ্বিতীয় ধাপে পাবনার হতদরিদ্র মানুষ ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। অন্যান্য সকল উন্নয়নে তিনি পাবনাবাসীর সাথে থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

পাবনা প্রেসক্লাবের সাহিত্য সম্পাদক ইয়াদ আলী মৃধা পাভেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সদর আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা ২ আসনের এমপি একেএম সেলিম রেজা হাবিব, প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল মতীন খান,প্রেসক্লাব সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, সাবেক সম্পাদক উৎপল মির্জা প্রমুখ।

 

 

দেশের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে বিএনপি – প্রতিমন্ত্রী পুতুল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, সরকার গঠনের এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ কে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে বিএনপি।সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে পাবনার পদ্মকোল খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, অত্যন্ত ক্রান্তিলগ্নে আমরা দেশের দায়িত্ব পেয়েছি। সরকার গঠনের একমাসও পূর্ণ হয়নি। তবুও এরই মধ্যে বিএনপি সরকার দেশের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, মসজিদ মন্দিরের ইমাম পুরোহিতদের সম্মানী ভাতা ও কৃষি ঋণ মওকুফের মতো উদ্যোগ আমরা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু করেছি।

তিনি আরও বলেন, কৃষি ও কৃষক আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। সেই কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি সহ জীবনমান উন্নয়নের জন্য শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক সময় খাল থেকে সেচ ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিলেন। তার সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান এবার খননের মাধ্যমে খাল কে পুনরুজ্জীবন দিয়ে সেচ ব্যবস্থা কে আরো উন্নত করতে উদ্যোগ নিয়েছেন। এ উদ্যোগের আওতায় সারা দেশে ৫৪টি খাল খনন কর্মসূচির আজ উদ্বোধন হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মরে যাওয়া খালগুলো পানিপ্রবাহ ফিরে পেলে যেমন কৃষি উৎপাদন বাড়বে, তেমনই গ্রামীণ জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এর ফলে ভূ-উপরিস্থ পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে, যা খরা, বন্যা ও জলাবদ্ধতা কমাতে সহায়ক হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য মরে যাওয়া খালগুলো খনন করে জীবন ফিরিয়ে দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই সারা দেশের মতো পাবনায় এ খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্টরা খেয়াল রাখবেন, শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে যেন খাল খনন সম্পন্ন হয়৷

পাবনার জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফার সভাপতিত্বে খাল খনন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব, পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার, পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার, পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার ও সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম সহ অনেকেই।

প্রসঙ্গত, পাবনার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর থেকে মন্ডলমোড় পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এই খালটি পাবনা শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতী নদীতে গিয়ে মিশেছে। ৬ ফুট গভীর ও গড় ৪০ ফুট প্রশস্ত করে খালটি খনন কাজ শুরু হচ্ছে।

এই খালটি পূর্ণ খনন হলে পদ্মা থেকে ইছামতিতে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে। খালের পার্শ্ববর্তী হেমায়েতপুর ইউনিয়নের জমিগুলো সহজেই সেচ সুবিধা পাবে। এই কর্মসূচির আওতায় এটি ছাড়াও পাবনায় ১০৬ টি খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

 

 

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ