৬৪ দিনের উৎকণ্ঠার অবসান

আবেগঘন পরিবেশে ২৩ নাবিককে বরণ করলেন স্বজনরা

বিশ্বজিৎ পাল, চট্টগ্রাম

সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অবশেষে চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়া আলোচিত জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর ২৩ নাবিক। শ্বাসরুদ্ধকর ৬৪ দিনের যাত্রা শেষ করে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) এক নম্বর জেটিতে নাবিকদের বহন করা জাহাজ এমভি জাহান মনি-৩ কে ছোট ছোট তিনটি টাগবোট পাহারা দিয়ে জেটিতে নিয়ে আসে। জাহাজটি জেটিতে ভিড়লে সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দুপুর ২টার দিকে কুতুবদিয়া উপকূল থেকে তাদের নিয়ে রওনা দিয়েছিল জাহাজটি।
এদিকে এনসিটি-১ জেটিতে আগে থেকেই জড়ো হয়েছিলেন নাবিকদের স্বজনরা। জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান কবির স্টিল রি-রোলিং মিলস (কেএসআরএম) গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার জাহান রাহাতসহ কর্মকর্তারা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তারা মুক্ত নাবিকদের বরণে সেখানে সমবেত হয়েছিলেন।
জাহাজ থেকে জেটির কাছাকাছি দৃষ্টিসীমানায় আসার পর জেটিতে জড়ো হওয়া সবার মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। জাহাজ থেকে নাবিকরা হাত নেড়ে উচ্ছ্বাসের জবাব দেন। এসময় নাবিক পরিবারের অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এদিকে বন্দরের জেটিতে ২৩ নাবিককে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল।

 

জাহাজের ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার তানভীর আহমেদের মা জ্যোৎস্না বেগম বলেন, একটা মাস কী যে টেনশনে ছিলাম, বোঝাতে পারব না। ছেলের জন্য রাতদিন নামাজ পড়েছি, খেতেও পারিনি। ঈদও ভালো করে কাটাতে পারিনি আমরা কেউ। ছেলেকে কাছে পেয়ে ভালো লাগছে। ছেলে বলে রেখেছে আমার হাতের রান্না খাবে জাহাজ থেকে নেমে। বাসায় ছেলের পছন্দের সব খাবার রান্না করেছি। বাসায় সবাই অপেক্ষা করে আছে। আমার আত্মীয়-স্বজনরাও এসেছে।
জানা গেছে, জিম্মিদশায় জাহাজটিতে নাবিকদের নানাভাবে মানসিক নির্যাতন করা হয়। খাবার ও পানির সংকটসহ নানা কষ্টে দিন পার করেছেন নাবিকেরা। নাবিকদের ফিরে পাওয়ার আশায় উদগ্রীব ছিলেন সবাই। শ্বাসরুদ্ধকর সময় পার করছিলেন তাদের পরিবার-পরিজন। অবশেষে নাবিকদের ফিরে আসার মধ্য দিয়ে সব উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার অবসান হলো।
কেএসআরএমের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার জাহান রাহাত সাংবাদিকদের বলেন, একমাস ধরে আমরা অনেক উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় পার করেছি। অবশেষে আমাদের ভাইয়েরা আমাদের কাছে ফিরে এসেছেন। আমাদের নাবিকেরা তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাচ্ছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী সবাই যে কোনো ধরনের সহযোগিতা আমাদের দিয়েছেন। প্রথম দু’সপ্তাহ আমাদের তীব্র উৎকণ্ঠা ছিল যে, আমাদের নাবিকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ বা নির্যাতন করা হচ্ছে কি না। কিন্তু যখন আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, সেরকম কিছু হচ্ছে না, এরপর আমরা মূলত আমাদের অতীতের অভিজ্ঞতা প্রয়োগ করে নাবিকদের জাহাজসহ মুক্ত করার ব্যবস্থা করি।
কেএসআরএমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুল করিম বলেন, আমাদের প্রথম দিন থেকেই উদ্দেশ্যে ছিল ২৩ জন নাবিককে সুস্থভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা। সেটি আমরা পেরেছি। শুধু এক নাবিকের স্কিন র‌্যাশ হয়েছে। সেটি তেমন কিছু না। এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ এখনও কুতুবদিয়ায়। নাবিকরা এমভি জাহাজ মনি লাইটার জাহাজে করে ফিরেছে। কারণ আবদুল্লাহতে যে পণ্যগুলো আছে সেগুলো খালাস করতে দেরি হবে। নতুন নাবিকদের সেখানে পাঠিয়ে ওই ২৩ নাবিককে আপাতত নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা চেয়েছি তাদেরকে পরিবারের কাছে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফেরত দেওয়া।
নাবিকদের ফিরিয়ে আনতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কি ছিল এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আমরা যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম নাবিকদের মুক্ত করতে তারা আমাদের কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি। তারা যদি আমাদেরকে অন্যদিকে ডাইভার্ট করতো তাহলে আমাদের কিছু করার ছিল না। আমাদের বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতায় আমরা নাবিকদের ফিরিয়ে আনতে পেরেছি।
সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে বরণের পর নাবিকেরা ঘরে ফিরতে শুরু করেন। চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ সারা দেশে তাদের পাঠানোর ব্যবস্থাও কোম্পানির পক্ষ থেকে করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান কেএসআরএমের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম।
জানা গেছে, সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে একমাস জিম্মি থাকার পর মুক্ত করা হয়েছিল এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ ও এর ২৩ নাবিককে। মুক্তির একমাস পর গত সোমবার (১৩ মে) দুপুরে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় কক্সবাজারে পৌঁছে জাহাজটি। সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ সেটা কুতুবদিয়ায় পৌঁছে নোঙ্গর ফেলে। জাহাজটিতে নতুন নাবিক পাঠানো হয়েছে। লাইটারেজ জাহাজে চড়ে নতুন নাবিকদের একটি দল জাহাজটির দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর মঙ্গলবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন ওই ২৩ নাবিক।
এমভি আবদুল্লাহ জাহাজটি গত ১২ মার্চ বেলা ১২টার দিকে ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে। ওই জাহাজের ২৩ নাবিককে জিম্মি করা হয়। জাহাজটি কয়লা নিয়ে আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকের মাপুতো বন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। নাবিকেরা হলেন- জাহাজের মাস্টার মোহাম্মদ আবদুর রশিদ, চিফ অফিসার আতিকুল্লাহ খান, সেকেন্ড অফিসার মোজাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, থার্ড অফিসার এন মোহাম্মদ তারেকুল ইসলাম, ডেক ক্যাডেট সাব্বির হোসাইন, চিফ ইঞ্জিনিয়ার এ এস এম সাইদুজ্জামান, সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. তৌফিকুল ইসলাম, থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. রোকন উদ্দিন, ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার তানভীর আহমেদ, ইঞ্জিন ক্যাডেট আইয়ুব খান, ইলেকট্রিশিয়ান ইব্রাহীম খলিল উল্লাহ এবং ক্রু মো. আনোয়ারুল হক, মো. আসিফুর রহমান, মো. সাজ্জাদ হোসেন, জয় মাহমুদ, মো. নাজমুল হক, আইনুল হক, মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, মো. আলী হোসেন, মোশাররফ হোসেন শাকিল, মো. শরিফুল ইসলাম, মো. নুরুদ্দিন ও মো. সালেহ আহমদ।
এমভি আবদুল্লাহর মালিকপক্ষ জানান, তারা বরাবরই আশাবাদী ছিলেন। তারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর কমান্ডো অভিযানের বিরোধিতা করে বলেছিলেন, কোনো রক্তের বিনিময়ে তারা জাহাজ ফেরত চান না। আলাপ-আালোচনা এবং দস্যুদের সন্তুষ্ট করেই তারা সবাইকে নিরাপদে দেশে ফেরাতে চান। অবশেষে বীমা কোম্পানিসহ মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় বিপুল অর্থের মুক্তিপণ দিয়ে ৩৩ দিনের মাথায় নাবিকদের মুক্ত করা হয়। মুক্তিপণ পরিশোধের পর গত ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা ৮ মিনিটে জিম্মি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ থেকে নেমে যায় সোমালিয়ার জলদস্যুরা। জলদস্যুরা নেমে যাওয়ার পরই জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুটি যুদ্ধজাহাজ এমভি আবদুল্লাহকে জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রিত উপকূল থেকে সোমালিয়ার সীমানা পার করে দেয়। জাহাজটি ২১ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে চারটায় আল হামরিয়া বন্দরের বহির্নোঙ্গরে পৌঁছে। পরদিন সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় নোঙ্গর করে জেটিতে। সেখানে ৫৫ হাজার মেট্রিকটন কয়লা খালাসের পর ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় সেটি চুনাপাথর বোঝাই করার জন্য মিনা সাকার বন্দরে যায়। চুনাপাথর বোঝাই করে আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে জ্বালানি নিয়ে ৩০ এপ্রিল জাহাজটি দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দোকান ঘর-সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ব্যবসায়ীর জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টায় দোকান ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে মো. সফি উল্যাহ চৌধুরী (৭০) নামে এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নূর নবী (৬০)। এ ঘটনায় তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নূর নবী ও তার ভাই-বোনেরা পৈত্রিক সূত্রে ১৩ নম্বর চরপার্বতী মৌজার সিএস ৯৯১ নম্বর খতিয়ানের ১২০৮ নম্বর দাগে নকশা অনুযায়ী ৩৮ দশমিক ৯০ শতাংশ জমির মধ্যে পাঁচ শতাংশের মালিক ও দখলদার। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের করালিয়া এলাকায় ওই জমি দখলের উদ্দেশ্যে সফি উল্যাহ চৌধুরী অজ্ঞাতনামা দুই-তিনজনকে নিয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা জমিতে থাকা দোকান ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। পরে সেখানে মাটি ভরাট করে চলাচলের রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

এতে নূর নবী ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধরের জন্য তেড়ে আসেন। একই সঙ্গে রাস্তা নির্মাণের কাজে বাধা দিলে মারধরের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় সংঘর্ষ ও শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা করছেন অভিযোগকারী।

নূর নবী বলেন, তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে বসতবাড়ি ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয়স্বজনকে জানানোর পর তাদের পরামর্শে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে সফি উল্যাহ চৌধুরী বলেন, ‘সেটি প্রমাণের জন্য আমি আমার প্রতিনিধির মাধ্যমে ওসির কাছে উপস্থাপন করব।’
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, প্রতিদিন অনেক অভিযোগ জমা পড়ে। লিখিত অভিযোগ দিয়ে থাকলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের যোগসাশসে ইটভাটার জন্য প্রবাসীর জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটার জন্য এক দুবাই প্রবাসীর বসতভিটা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদীয়া ব্রিকফিল্ডের মালিক মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। জমি দখলে বাধা দেওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রী ও শ্যালককে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি নির্মাণাধীন ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানার তিন উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধেও ইটভাটার মালিকের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জমি বন্ধক দিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী বিলকায়েছ আরা বেগম ও শ্যালক নূর হোসেন মানিক।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কোম্পানীগঞ্জের সিরাজপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী আব্দুল গোফরানের কেনা বসতভিটার জমিতে ইটভাটা সম্প্রসারণ করতে চান জাকির হোসেন। এ জন্য জমির সীমানায় থাকা টিনের বেড়া ভেঙে দখলের চেষ্টা করছেন তিনি। জমি বিক্রি কিংবা তার কাছে বন্ধক না দিলে পরিবারটিকে এলাকায় বসবাস করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

পরিবারটির দাবি, গত ১২ অক্টোবর দিবাগত রাতে জাকিরের লোকজন গোফরানের জমির দক্ষিণ পাশের টিনের বেড়া ভেঙে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গোফরানের স্ত্রী বিলকিস আরা বেগম থানায় মামলা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে বলেও দাবি পরিবারের।

তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর রাত ৮টার দিকে এসআই নজরুল প্রবাসীর স্ত্রী ও তার বড় ভাইকে থানায় ডেকে নেন। সেখানে জাকিরের কাছে জমিটি বন্ধক দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে তারা তাতে রাজি হননি। এর চার দিন পর, ১৬ অক্টোবর স্বামীর কেনা জমিতে ২১ ফুট বাই ১৬ ফুট আয়তনের টিন ও কাঠ দিয়ে একটি দোচালা ঘর নির্মাণ শুরু করেন বিলকায়েছ আরা বেগম। এ সময় কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই নজরুল, এসআই সুমন ও এসআই আনোয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বলেন। একই সঙ্গে জাকিরের সঙ্গে সমঝোতা করে জমিটি তার কাছে বন্ধক দেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ পরিবারের। অন্যথায় তাদের বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি ভুক্তভোগীদের।

পরিবারটির ভাষ্য, পুলিশের কথায় রাজি না হয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ওই দিন রাতেই জাকিরের লোকজন নির্মাণাধীন দোচালা ঘর ও টিনের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে গত ২৬ অক্টোবর দুবাই দূতাবাসের মাধ্যমে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আব্দুল গোফরান। অভিযোগটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। সর্বশেষ গত ৩১ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে জাকিরের লোকজন আবারও ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেঙে ফেলা ঘর ও সীমানাপ্রাচীরের কাঠ ও টিন নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

পরিবারটির আরও অভিযোগ, জাকির দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতি ও বিধিমালা উপেক্ষা করে উপজেলা প্রশাসনের নিরবতায় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ‘মোহাম্মদীয়া’ নামের ইটভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে। সেখানে শ্রমিক পরিচয়ে লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ তাদের।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইটভাটার মালিক জাকির হোসেন বলেন, ইটভাটার ভেতরে প্রবাসীর ৯ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমির ওপর আমার মাটির স্তূপ রয়েছে। আমি তাদের বকেয়া টাকা থাকলে নিয়ে যেতে এবং জমিটি বিক্রি করে দিতে বলেছি। কিন্তু তারা আমার কাছে জমি বিক্রি করতে রাজি হননি। পরে তাদের জায়গায় রাখা আমার মাটি ও ইটের খোয়া দিয়ে দিতে বললে তারা বাধা দেন। এরপর তারা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীর স্ত্রী প্রথমে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর এসআই সুমন ও আনোয়ারও সেখানে যান। উভয় পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অভিযোগকারী পক্ষ সেখানে ঘর নির্মাণ করতে গেলে ইটভাটার লোকজন বাধা দেন। পরে প্রবাসীর পরিবারসহ দুই পক্ষ বিষয়টি বর্তমান ওসিকে অবহিত করে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে পরে জানানো হবে।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ