রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

দুদকের করা মামলায় ৮ বছরের সাজাভোগের কারনে তার প্রার্থীতা বাতিল

মাহাবুবুর রহমান রনি, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)প্রতিনিধি:

আলোচিত ক্যাসিনোকান্ডের সেলিম প্রধানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

  1. নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আদালতকে হয়রানী করার অভিযোগে আলোচিত ক্যাসিনোকান্ডের সেলিম প্রধানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। গতকাল ১৬ মে বৃহস্পতিবার সকালে ৮জন মহামান্য বিচারপতি এই আদেশ প্রদান করেন। এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্ব›িদ্বতা করতে পারছেন না।
    আইনজীবী ব্যারিষ্টার নাহিম হোসেন জানান, দ্বিতীয়ধাপে আয়োজিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন ক্যাসিনোকান্ডের সেলিম প্রধান। কিন্ত দুদকের করা মামলায় ৮ বছরের সাজাভোগের কারনে তার প্রার্থীতা বাতিল করেন নির্বাচন কমিশন। পরে তিনি রিভিও আবেদন করলে হাইকোর্টের আপিল ডিভিশন তার প্রার্থীতা বহাল রাখে। পরবর্তিতে নির্বাচন কমিশন ও একজন প্রার্থীর করা আবেদনের প্রেক্ষিতে চেম্বার ডিভিশন ওই আদেশের উপর স্থিতি অবস্থা জারি করেন। যে কারনে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য হয়ে পড়েন ক্যাসিনোকান্ডের সেলিম প্রধান। পরে তিনি ফুল বেঞ্চে রিভিও আবেদন করলে গতকাল ১৬মে বৃহস্পতিবার শুনানীর দিন ধার্য্য করে আদালত। কিন্তু তার আইনজীবী বৃহস্পতিবার শুনানী না করার জন্য লিখিত আবেদন করলে বিচার বিভাগকে হয়রানী করার অভিযোগে দু’টি আবেদনের বিপরিতে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে হাইকোর্টের ফুলবেঞ্চ। পরে সেলিম প্রধানের আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই অর্থদন্ড কমিয়ে আদালত ১০ হাজার টাকা জরিমানা বহাল রাখে এবং পরবর্তিতে আদালতকে এ ধরনের হয়রানী না করতে তাকে সতর্ক করা হয়।
    জানা গেছে, সেলিম প্রধান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় চার বছর সাজাও খেটেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তিনি গ্রেফতারও হয়েছিলেন। অনলাইন ক্যাসিনোর মূল হোতা সাজাপ্রাপ্ত সেলিম প্রধান।
    ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডগামী বিমানের একটি ফ্লাইট থেকে নামিয়ে এনে সেলিম প্রধানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তাঁকে নিয়ে তাঁর অফিস ও বাসায় অভিযান চালিয়ে ২৯ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা, ৭৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকার সমপরিমাণ ২৩টি দেশের মুদ্রা, ১২টি পাসপোর্ট, ১৩টি ব্যাংকের ৩২টি চেক, ৪৮ বোতল বিদেশি মদ, একটি বড় সার্ভার, চারটি ল্যাপটপ ও দুটি হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে। হরিণের চামড়া উদ্ধারের ঘটনায় বন্য প্রাণী সংরক্ষণ নিরাপত্তা আইনে তাঁকে ছয় মাসের কারাদন্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও মানি লন্ডারিং আইনে দু’টি মামলা হয়।
    অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসার হোতা সেলিম প্রধানের নামে বেনামে প্রায় শত কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। তবে প্রাথমিক অনুসন্ধানে সেলিমের ১২ কোটি ২৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ পেয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান এ মামলা করেন। থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসা চালিয়ে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালে ক্যাসিনো মার্কেট পি-২৪ লিমিটেড নামে গেমিং কোম্পানি গঠন করেন সেলিম।
    সেলিম প্রধান রূপালী ব্যাংক থেকে ১০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ঋণখেলাপি হয়েছেন। অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসাসহ অন্যান্য অনৈতিক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রতি মাসে অন্তত ১০০ কোটি টাকা বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন।
    সেলিম প্রধানের ২০১৮-২০১৯ করবষের্র আয়কর নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, তাঁর নিজ নামে ১১ কোটি ৬৪ লাখ ৯৫ হাজার ৬১৮ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে কোম্পানির পরিচালক হিসেবে শেয়ারে বিনিয়োগ ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা, এফডিআর বিনিয়োগ ৬ কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার, সঞ্চয়পত্র কেনায় ব্যয় ৭৬ লাখ ৬২ হাজার এবং হাতে নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত হিসেবে ঘোষিত ৬ লাখ ২৮ হাজার ৬১৮। এই টাকা অর্জনের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি।
    এ ছাড়া তাঁর ২০ লাখ টাকা স্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। বিএফআইইউ থেকে পাওয়া রেকর্ডে তাঁর বিভিন্ন ব্যাংকে ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ১৩৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়, যা তিনি আয়কর নথিতে উল্লেখ করেননি। সব মিলিয়ে সেলিমের ১২ কোটি ২৭ লাখ ৯৫ হাজার ৭৫৪ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে, যার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট বৈধ আয়ের উৎস নেই।
    প্রথমে সেলিম প্রধান বাংলাদেশে অনলাইন ক্যাসিনো চালু করেন। তিনি গুলশান ও বনানীতে পি-২৪ এবং টি-২১ অনলাইন নামে অনলাইনে ভিডিও গেম খেলার প্লাটফর্ম চালু করেন। ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর সেগুলোকে অনলাইন ক্যাসিনোয় রূপান্তর করেন। ওই অনলাইন ক্যাসিনোর প্রধান কেন্দ্র ছিল ফিলিপাইনে।
    সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা ছাড়াও ঢাকার গুলশান থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি মামলা হয়। বিচারাধীন এসব মামলায় জামিনে রয়েছেন তিনি। ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল দুদকের করা মামলার রায় দেন বিচারিক আদালত। তাতে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের দুই ধারায় সেলিম প্রধানকে চার বছর করে কারাদন্ড দেন আদালত। ইতিমধ্যে তাঁর সাজাভোগ শেষ হওয়ায় এবং বাকি মামলায় জামিন পাওয়ায় গত বছরের অক্টোবরে মুক্তি পান তিনি। সাজার বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে যে আপিল করেছেন, সেটা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
    রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার তাজাল্লী ইসলাম বলেন, এবারের রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৪২টি। পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ৫১ জন, মহিলা ১ লক্ষ ৯০ হাজার ৫৫৪জন ও হিজড়া ২ জন। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৯০ হাজার ৬০৭ জন। ২১মে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস গণতন্ত্র, অধিকার ও ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের এক গৌরবময় স্মারক দিপ্তী-শাহেদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আমাদের গণতন্ত্র, অধিকার ও জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের একটি গৌরবময় স্মারক। আগামী ৪ আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন র‌্যালির মাধ্যমে আমরা সেই সব শহীদ ও আহত সংগ্রামীদের গভীর শ্রদ্ধা জানাই, যাদের আত্মত্যাগে দেশের মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস পেয়েছে।

তিনি আজ ০৩ আগস্ট সোমবার বিকালে কাজীর দেউরীস্থ নাসিমন ভবন দলীয় কার্যালয় সম্মুখ মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আগামীকাল ৪ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের র‌্যালি ও ১৪ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে মহানগর বিএনপি আয়োজিত শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট সফল করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতিজ্ঞতা করছে শহীদের স্বপ্নে বাংলাদেশ গড়তে যুব সমাজকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস কেবল একটি স্মরণীয় দিন নয়, এটি অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে তরুণদের সাহসী অবস্থানের প্রতীক। আগামী কালকের র‌্যালি থেকে আমরা দেশের যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং দেশ গঠনে ইতবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাই। তিনি আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ যেন কখনো বৃথা না যায়, সে লক্ষ্যে আমরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায় বিচার এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাব। নগর বিএনপি আয়োজিত শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট সফল করার লক্ষ্যে যুবদল সার্বিক শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করবে।

প্রস্তুতি সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন, সাবেক সহ-সভাপতি এস এম শাহ আলম রব, শাহেদ আকবর, এম এ রাজ্জাক, ফজলুল হক সুমন, মোহাম্মদ মুসা, মিয়া মোহাম্মদ হারুন, নাসির উদ্দিন চৌধুরী নাসিম, মুজিবুর রহমান, জসিমুল ইসলাম কিশোর, অরুপ বড়ুয়া, মোহাম্মদ আলী সাকী, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবির, রাশেদুল হাসান লেবু, এরশাদ হোসেন, সেলিম উদ্দিন রাসেল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা, মোরশেদ আলম, রাজন খাঁন, তানভীর মল্লিক, হেলাল হোসেন, গুলজার হোসেন, সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান টিপু, জাহাঙ্গীর আলম বাঁচা, ওসমান গনি সিকদার, শাহজালাল পলাশ, মুজিবুর রহমান রাসেল, সাবেক সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য জিল্লুর রহমান জুয়েল, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, মহিউদ্দিন মুকুল,

এস এম বখতিয়ার উদ্দিন, ইফতেখার শাহরিয়ার আজম, মোহাম্মদ ইকবাল, আসাদুজ্জামান রুবেল, সাবেক সহ- সম্পাদকবৃন্দ আতিকুর রহমান, মনোয়ার হোসেন মানিক, কমল জৌতি বড়ুয়া, কামরুল ইসলাম, কোরবান আলী, শাহেদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, জাহাঙ্গীর আলম বাবু, জিয়াউল হক মিন্টু, গুলজার হোসেন মিন্টু, জাহাঙ্গীর আলম মানিক, মোহাম্মদ ইউসুফ, মোহাম্মদ হাসান, আবুল কালাম, মনজুর আলম মনজু, মিজানুর রহমান দুলাল, হোসেন জামান, ইয়াছিন আজাদ, আবদুল্লাহ আল জিতু, মোহাম্মদ জসিম, সাবেক সদস্য শাবাব ইয়াজদানী, কলিম উল্লাহ, প্রফেসর সাইদুল হক সিকদার, শাখাওয়াত কবির সুমন, থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ আজম, মোশাররফ আমীন , বজল আহমেদ, কুতুবউদ্দিন কুতুব, মোহাম্মদ সেলিম, সাবেক সদস্য সচিব শেখ রাসেল, মোহাম্মদ হাসান, শওকত খান রাজু, মোহাম্মদ মুসা, মোরশেদ কামাল, আশিক মল্লিক আরসি, মনজুর আলম মনজু, মোহাম্মদ সোহেল, ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ আকতার, এস এম আলী, আবু বক্কর বাবু, সাইফুল আলম, জহিরুল ইসলাম, মাসুদ আলম, জাহাঙ্গীর আলম বাবলু প্রমুখ।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও স্থানীয়দের সংঘর্ষে ২০ জন আহত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজধানীতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। নেপচুন এক্সেসরিজ নামে একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হয়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায়।ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন এক জরুরি বার্তায় গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

জানা যায়, উত্তর সিটির ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরখান রাজাবাড়ি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।ডিএনসিসির তথ্য অনুযায়ী, হামলায় চারজন গুরুতর আহতসহ ১৫ থেকে ২০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হন। গুরুতর আহত চারজনকে উত্তরা বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ