আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে সিএমপি কমিশনার পুলিশ পলিসি মেকার নয়, বাস্তবায়নের চেষ্টা করে মাত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় বলেছেন, পুলিশ পলিসি মেকার নয়, বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন মাত্র। কোনো এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের কথা আলোচনায় আসছে। পুলিশ ফাইনালি কাজ করে। অর্থাৎ পুলিশের কাজ হচ্ছে ধরে জেলে পুরে দেওয়া। কিন্তু এ পর্যায়ে আসার আগের বিষয়টি ভাবতে হবে। যদি কোনো ছাত্র ক্লাসে অনুপস্থিত থাকে, ঐ সময় তারা কোথায় থাকে খবর রাখতে হবে। প্রথমদিকে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে অন্য খারাপ লোকের সান্নিধ্যে যায়। পরবর্তীতে নিজেরাই খারাপ কাজে জড়িয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে সর্বাগ্রে পরিবারকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে প্রেস ক্লাবের পিএইচপি ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সালাহ্উদ্দিন মো. রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক।
কৃষ্ণ পদ রায় নিজের অতীতের কথা বর্ণনা করে বলেন, আপনারা অনেকেই জানেন আমার প্রথম পেশা ছিলো সাংবাদিকতা। পুলিশের চাকরিতে না আসলে হয়তো আমি এখনো সাংবাদিকতাই করতাম। সেই পেশার লোকজন যখন আমাকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সম্মানপ্রদ জীবন সদস্যপদ দিয়ে সম্মানিত করেছেন তাতে আমি খুবই আপ্লুত। চট্টগ্রামে পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চট্টগ্রামের নানা স্তরের সাংবাদিকদের সহযোগিতা পেয়েছি। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ সাংবাদিকদের সাথে অতীতে ছিলো, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা যদি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই- ‘কারো জন্য ভালো কিছু করতে না পারি, কিন্তু খারাপ কিছু করবো না,’-তাহলে অবশ্যই আমরা সমাজের জন্য, দেশমাতৃকার জন্য কাজ করতে সক্ষম হবো। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে পলিটিক্সের কোনো জায়গা নেই। সবাই যার যার জায়গা থেকে কাজ করে যেতে হবে। সিএমপি’র পুলিশ সবসময় ভালো কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ শত ভালো কাজ করলেও কোনো সমস্যা হলেই তা পুলিশের ওপর চাপিয়ে দেয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
সভাপতির বক্তব্যে সালাহউদ্দিন মো. রেজা বলেন, কৃষ্ণ পদ রায় চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের একজন ঘনিষ্ঠ মানুষ। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সম্মানপ্রদ জীবন সদস্যপদ প্রদান করতে পেরে আমরা আনন্দিত। তিনি শুধু সাংবাদিক নন, চট্টগ্রামের মানুষের কাছে একজন জনবান্ধব পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। চট্টগ্রামের আইন-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে যে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজমান, এর পেছনে রয়েছে তাঁর বিচক্ষণতা এবং পেশাসুলভ মন-মানসিকতা।
স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক বলেন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে চট্টগ্রামের স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনেও কোনো অস্থিরতা নেই। কৃষ্ণ পদ রায় একজন ব্যতিক্রমী মানবিক ও দায়িত্ববান মানুষ। তাঁর মতো চৌকস কর্মকর্তা বাংলাদেশের সম্পদ। তিনি চট্টগ্রামে সাংবাদিকের সাথে পুলিশের মেলবন্ধন যেভাবে সুদৃঢ় করেছেন, তা অনুকরণীয়।
যুগ্ম সম্পাদক শহীদুল্লাহ শাহরিয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি চৌধুরী ফরিদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক ইকবাল, ডিসি (দক্ষিণ) মোস্তাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের কার্যকরী সদস্য জসীম চৌধুরী সবুজ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, সিনিয়র সাংবাদিক শফিউল আলম ও নুরুল আলম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃষ্ণ পদ রায়কে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সম্মানপ্রদ জীবন সদস্য সম্মাননা স্মারক এবং ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি মনজুর কাদের মনজু, অর্থ সম্পাদক রাশেদ মাহমুদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন হায়দার, ক্রীড়া সম্পাদক এম সরওয়ারুল আলম সোহেল, গ্রন্থাগার সম্পাদক কুতুব উদ্দিন, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক আল রাহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খোরশেদুল আলম শামীম, কার্যকরী সদস্য মো. আইয়ুব আলী, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা এবং প্রেস ক্লাবের স্থায়ী-অস্থায়ী সদস্যসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমী ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমীতে উৎসব মূখর পরিবেশে ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া, নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৬ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুজ্জামান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আলহাজ্ব মোঃ হেদায়েতুল তিনি অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল ছাত্র-ছাত্রী,অভিভাবক এবং শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ