বাকলিয়া দ্বীপে বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন বন্ধের দাবীতে সাংবাদিক সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক

৫ দিনের মধ্যে মধ্য ঘোষণা না দিলে চসিক ঘেরাও

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাকলিয়া দ্বীপে বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন বন্ধের দাবীতে সাংবাদিক সম্মেলন
৫ দিনের মধ্যে মধ্য ঘোষণা না দিলে চসিক ঘেরাও
ছবি-৭
চট্টগ্রাম ব্যুরো: আগামি পাঁচ দিনের মধ্যে কর্ণফুলী নদীর মাঝখানে বাকলিয়া দ্বীপে বর্জ্য শোধনাগার প্রকল্প স্থাপন বন্ধের ঘোষণা দিতে হবে। অন্যতায় আগামি ২৭ মে সিটি কর্পোরেশন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে। সেই সাথে উচ্চ আদালতে নির্দেশ অমান্য করাসহ সংশ্লিষ্ট আইনে প্রতিকার প্রার্থনা করে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান ও হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করা হবে।
গতকাল বুধবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে আয়োজনকারী এই আল্টিমেটাম প্রদান করেন। চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা, বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম, চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র, আরএসকে ফাউন্ডেশন,কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন, গ্রিন ফিঙ্গার্স ফাউন্ডেশন, তারকেশ^র দস্তিদার স্মৃতি পরিষদ এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার মাহফুজুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে প্রকল্প হয় জনস্বার্থে নয় কতিপয় মানুষের পকেট ভারী করতে। বাকলিয়া দ্বীপে বর্জ্য শোধণাগারও এর ব্যতিক্রম নয়। নদীর মাঝখানে চট্টগ্রাম শহরের বর্জ্য নিয়ে নদী হত্যার পরিকল্পনা সুস্থ মানুষের মাথায় কি করে আসে। এখন ভদ্রভাবে দাবী জানাচ্ছি। আপনারা মেনে যান না হয় সর্বস্তরের জনগণ রাস্তার আন্দোলনে নেমে আপনাদের এই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য করবে।
চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি সাংবাদিক চৌধুরী ফরিদের সঞ্চালনায় সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আলীউর রহমান। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাজনীতিবিদ ও পরিবেশ সংগঠক মিঠুল দাশ গুপ্ত, পরিবেশ সংগঠক ডাক্তার মঞ্জুরুল করিম বিপ্লব, নারী নেত্রী ও পরিবেশ সংগঠক হাসিনা আক্তার টুনু, চট্টগ্রাম মহানগর যুব লীগের সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারশন সভাপতি এস এম পেয়ার আলী, আওয়ামী লীগ নেতা ও পরিবেশ সংগঠক এম শাহাদাৎ নবী খোকা, চট্টগ্রাম জেলা নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন সভাপতি এম.নুরুল হুদা চৌধুরী, এইচ ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান শাহিন শিরিন, আর এস কে ফাউন্ডেশন প্রধান নির্বাহী জাহেদুল করিম শিকদার, সাবেক ছাত্রনেতা জাফর আল তানিয়ার, বাশখালী নৌ-যান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন সভাপতি মো. আজগর হোসেন তালুকদার, পতেঙ্গা নৌ-যান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন সভাপতি মো. হাছান বাদশা প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্য সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলা হয়, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে মহামান্য হাইকোর্টের “আদালতের রায়ে আমাদের দেশের নদীগুলোকেও জীবন্ত সত্তা, জুরিসটিক পারসন বা লিগ্যাল পারসন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং মূলত এর মাধ্যমে মানুষের মত নদীর মৌলিক অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। হাইকোর্টের এই আদেশ অনুযায়ী নদীর মাঝখানে বর্জ্য শোধনাগার প্রকল্প করা অবৈধ এবং আদালতের আদেশের লঙ্ঘন করে। সুতারাং এই প্রকল্প হতে পারে না। বাংলাদেশের সংবিধান (অনুচ্ছেদ ১৮ক) বলছে, ‘রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবেন।’ তার মানে জলাভূমি অর্থাৎ নদীর নিরাপত্তা বিধান সংবিধানস্বীকৃত এবং সেটি সেটি করতে হবে স্বয়ং রাষ্ট্রকে। রাষ্ট্র মানে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। যে কারণে ২০১৯ সালে হাইকোর্ট যখন একটি রায়ে নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করেন, তখন নদী রক্ষা কমিশনকে নদীর অভিভাবক হিসেবে ঘোষণা করা হয়-যারা রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়ে নদীমাতার অধিকার রক্ষা করবে। কিন্তু এই প্রকল্প নদীর অধিকারকে হত্যা করবে। দেশের সংবিধান অনুযায়ী নদীর মাঝখানে বর্জ্য শোধণাগার প্রকল্প করা থেকে সরে আসতে হবে।
২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরে বন্দরনগরী ভিত্তিক পরিবেশ সংস্থা ইফেক্টিভ ক্রিয়েশন অন হিউম্যান ওপিনিয়ন(ইসিএইচও) এর সহযোগিতায় কর্ণফুলী নদীর প্রাণ প্রকৃতি, উদ্ভিদ বৈচিত্র্য ও দূষণ নিয়ে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী ৮১ প্রজাতির উদ্ভিদ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে বলে একটি গবেষণায় উঠে এসেছে। দূষণ রোধে কোনো ব্যবস্থা না নিলে আরও ৬১ প্রজাতির উদ্ভিদ বিপন্ন হয়ে পড়বে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। ৫৩টি শিল্পসহ ৮৯টি উৎস থেকে কর্ণফুলী নদী দূষিত হচ্ছে। গবেষণায় কর্ণফুলী নদীর তীরে ৫২৮ প্রজাতির উদ্ভিদ পাওয়া গেছে।
উপরোক্ত গবেষণা তথ্য মতে কর্ণফুলীর তীর থেকে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা ৮১ প্রজাতির দেশীয় উদ্ভিদ সংগ্রহ করে নাসারিতে বিকাশিত করে সামানের বর্ষা মৌসুমে এই চরে লাগানো হোক। এতে কর্ণফুলী নদী প্রাণ ফিরে পাবে।
চট্টগ্রাম মহানগরীতে মানুষের বিনোদনের কোন স্থান নাই। পৃথিবীতে অনেক দেশে নদী বা সাগরের মাঝখানের চরে নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করে দেশি বিদেশি পর্যটক দৃষ্টি আকর্ষন করতে সক্ষম হয়েছে। এই চরটি পরিবেশ বান্ধন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এটি ইকো ট্যুরিস্ট স্পট গড়ে তোলা হোক। এতে করে কর্ণফুলীর নাব্যতা রক্ষার পাশাপাশি চট্টগ্রামের ও দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

১ লাখ টনের বেশি ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জন্য ১ লাখ টনের বেশি ক্রুড অয়েল নিয়ে একটি জাহাজ আসছে। ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজটি শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দরের বহিনোঙরে আসার কথা রয়েছে। অবশ্য জাহাজটি ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বাংলাদেশে প্রথম ক্রুুড অয়েলের চালান নিয়ে এসেছিল। বিপিসির শতভাগ ক্রুড অয়েল পরিবহন করে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)।

বিএসসি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি সূত্রে জানা গেছে, মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার লম্বা, ৪৪ দশমিক ৪ মিটার প্রশস্ত, ১৪ দশমিক ৬ মিটার ড্রাফটের (জাহাজের পানির নিচের অংশ) এমটি নিনেমিয়া ১ লাখ ৪ হাজার ২৬ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে আসছে। গত ২৩ জুলাই এমটি নিনেমিয়া ইয়ানবু বন্দর থেকে ক্রুড অয়েল লোড করে যাত্রা শুরু করেছে। ২০২৪ সালে তৈরি জাহাজটি ১১ নটিক্যাল মাইল গতিতে জাহাজটি চলছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের জলসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে জাহাজটি। বরবারের মতো এমটি নিনেমিয়া বহির্নোঙরে আসলে ছোট ছোট ট্যাংকারে ক্রুড অয়েল লাইটারিংয়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করতে ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ বার্থিং, লাইটারিং, চলাচল ও খালাস কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে বিএসসি আফ্রিকা ঘুরে চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে ওই জাহাজের মালিকপক্ষ বা স্থানীয় এজেন্টের প্রস্তাবে রাজি হয়।

স্বাভাবিক সময়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি হয়ে ৪ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইল পেরিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসত ১৩-১৫ দিনে।কিন্তু নতুন রুটে সুয়েজ খাল, জিব্রাল্টার প্রণালি ও দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ (কেপ অব গুড হোপ) ঘুরে আসায় পথ প্রায় ৯ হাজার নটিক্যাল মাইল বেড়েছে। সময় লাগছে প্রায় ৫২ দিন। ঘুরপথে জাহাজটির নিজস্ব জ্বালানি লো সালফার ফুয়েল, মেরিন গ্যাস অয়েল, সুয়েজ খাল পার হওয়ার ফি, ভাড়া ইত্যাদি খরচও বাড়ছে কয়েক মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ফিসহ কিছু খরচ ফিক্সড হলেও পুরো হিসাব উভয়পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিপিসির অধীন ইস্টার্ন রিফাইনারিতে এখন প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হচ্ছে। এর জন্য বিপিসি থেকে পরিশোধন বাবদ ফি পায় ইআরএল। পরিশোধিত তেলের মধ্যে ডিজেলই বেশি উৎপাদন হচ্ছে। এ ছাড়া বাই প্রোডাক্ট হিসেবে এলপিজি, ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন, এমএস অকটেন ইত্যাদিও উৎপাদিত হচ্ছে। ইআরএলের ট্যাংকে ক্রুড অয়েল মজুদ থাকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন। এর বাইরে এসপিএমের পাইপলাইনে কিছু ক্রুড অয়েল রাখা ছিল যা ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের শুরুতে হরমুজ প্রণালিকেন্দ্রিক সংকটের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল ইআরএলের প্ল্যান্টে।

সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ক্রুড অয়েলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। এরপর এমটি নিনেমিয়া জাহাজে ক্রুড অয়েল আসার পর ৮ মে পুনরায় চালু হয়েছিল ইস্টার্ন রিফাইনারি। অবশ্য যুদ্ধকালীন জ্বালানি সংকট সামাল দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করে সরকার।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের বার্ষিক ৭২ লাখ টন চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের চাহিদা মেটাতে ৯২ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। বাকি ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস ও কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পাওয়া যায়। জ্বালানি চাহিদার তালিকায় ডিজেল শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে ফার্নেস অয়েল, পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন এবং প্লেন চলাচলে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল।

বাবার জানাজায় যাওয়ার পথেই ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল জিকুর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে শেষবারের মতো প্রিয় মুখটি দেখতে বাড়ির পথে ছুটে যাচ্ছিলেন ছেলে। কিন্তু সেই শেষ দেখা আর হলো না। পথেই ঘাতক ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান নূর আলম জিকু (৪৫)। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা-ছেলের মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার লালনগর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের আলামপুর ইউনিয়নের স্বস্তিপুর এলাকায় জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নূর আলম জিকু কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার লালনগর গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ গ্রামে মারা যান জিকুর বাবা জসিম উদ্দিন। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে শেষবারের মতো বাবাকে দেখতে কর্মস্থল মাগুরা থেকে ভায়রা ভাইয়ের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন জিকু।

পথিমধ্যে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের স্বস্তিপুর এলাকায় পৌঁছালে একটি বালিবাহী ট্রাককে ওভারটেক করার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের নিচে চলে যায়। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান জিকু এবং গুরুতর আহত হয় তার ভায়রাভাই।দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।

কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. মহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কুষ্টিয়া-হ ১৬-৬৬৪৯ সিরিয়ালের মোটরসাইকেলের আরোহী নূর আলম জিকু ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা গেছেন। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।ঘটনার পর পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ