আজঃ রবিবার ৩ মে, ২০২৬

হাসানুল করিম মানিকের স্মরণসভায় মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী

শহীদ ছাত্রলীগ নেতাদের আত্মত্যাগেই মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি আজ রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

শহীদ ছাত্রনেতা হাসানুল করিম মানিকের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে যে সকল ছাত্রলীগ নেতা নিজের জীবনকে বাঁজি রেখে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে শরিক হয়ে দেশ, দল, জাতিকে পুনরুদ্ধারে অবদান রেখে গেছেন তাঁরাই আমাদের আদর্শিক চেতনার ভিত্তির সোপান।
ওমরগণি এমইএস কলেজে ছাত্র সংসদের ভারপ্রাপ্ত ভিপি হাসানুল করিম মানিকের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ স্পৃহায় প্রতিরোধ যুদ্ধে পুরোভাগে ছিলেন তরুণ ও যুবকরা। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অনেক নিবেদিত প্রাণকর্মী যাঁরা শহীদ হয়েছেন তাঁদের নামগুলো বিস্মৃত প্রায় হলেও তাঁরাই আমাদের অস্তিত্বের অহংকার। স্বৈরাচার বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এঁদের অবদানের কথা এখনো স্মৃতির পাতায় জ্বলজ্বল করে।
মেয়র বলেন, ছাত্রলীগ নেতা হাসানুল করিম মানিকের মত আরো অনেক শহীদ ছাত্রনেতার মুখগুলো এখনো চোখের সামনে ভেসে ওঠলে আঁতকে ওঠি। আমরা কোথায় ছিলাম আর এখন কোথায় আছি। এখন যেখানে আছি সেই অবস্থানটা তৈরি হয়েছে শহীদ ছাত্রলীগ নেতাদের আত্মত্যাগ ও আত্ম বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। তাঁদের এই আত্ম বিসর্জনের কথা ইতহিাসের পাতায় অবশ্যই স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
তিনি আরো বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে এমইএস কলেজ ছিল ছাত্রলীগের একটি প্রতিবাদী দুর্গ। এই দুর্গের উপর বার বার হামলা এসেছে। বর্বরোচিত হামলায় শহীদ হয়েছেন রবিউল হাসান বেলাল, চন্দন ভোমিক, মইনুল করিম, মহিম উদ্দিন, কাসেম, কায়সার, এনাম, মনসুর, শহীদ, পুলক, রাসেল, বাপ্পিদের মত প্রথম সারির সাহসী ছাত্রলীগ নেতাগণ। ঐ সময়ের হামলা ও মামলায় নির্যাতিত, নিপীড়িত অনেক ছাত্রনেতা এখনো বেঁচে আছেন। তাঁদের যথার্থ মূল্যায়ন অবশ্যই হওয়া উচিত। যদি না হয় তাহলে আমরা বিবেকের কাছে দায় থাকব।
শহীদ ছাত্রনেতা হাসানুল করিম মানিক স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের সভাপতিত্বে ও সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাড. এ.এম কুতুব উদ্দিন চৌধুরী ও পংকজ রায়ের যৌথ সঞ্চালনায় স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন-চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. মো. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইব্রাহিম হোসনে চৌধুরী বাবুল বলেন, আমি খুব কাছ থেকে শহীদ ছাত্রলীগ নেতা হাসানুল করিম মানিককে দেখেছি। এই দুঃসাহসী ছাত্রলীগ নেতা আমার প্রতিবেশী ছিল। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে কোনো কঠিন চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলার হিম্মত রাখতো। মৃত্যু তাঁর কাছে ছিল অতি তুচ্ছ। মানিক আমাদের কাছে ত্যাগ ও আত্ম বিসর্জনের একজন ধ্রুবতারা।
মফিজুর রহমান বলেন, প্রয়াত জননেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী’র নির্দেশনায় আমরা রাজপথ কাঁপানো কর্মী ছিলাম। এই সাহসী কর্মীদের মধ্যে অন্যতম হাসানুল করিম মানিক। মানিকের মত যাঁরা রাজপথে সক্রিয় ছিল তাঁরা কখনো কিছু পাওয়ার জন্য রাজনীতি করেনি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যে বাংলাদেশ পাকিস্তানী ভাবধারায় পরিচালিত হচ্ছিল সেই কালো অধ্যায় থেকে মুক্তি পেয়ে আলোকোজ্জ্বলে ফিরে আসুক। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ আলোর পথের অভিযাত্রী। এই অভিযাত্রায় হাসানুল করিম মানিকসহ আরো সে সকল ছাত্রলীগ নেতা শহীদ হয়েছেন তাঁরা আমাদের অবশ্যই ভয় ও কঠিনকে জয় করার শক্তি যোগাবে।
স্মরণসভায় আরো বক্তব্য রাখেন এমইএস কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মো. ইউনুছ, সাবেক জিএস কেবিএম শাহজাহান, এমইএস কলেজ ছাত্রলীগ নেতা জসিম উদ্দিন খন্দকার, কোতোয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মশিউর রহমান রোকন, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম আর আজিম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দেবাশীষ নাথ দেবু, মহানগর যুবলীগের সহ-সভাপতি নুরুল আনোয়ার, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মনোয়ার জাহান মনি, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য শিবু প্রসাদ চৌধুরী, মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সামদানি জনি, ছাত্রলীগ নেতা মনিরুল ইসলাম, সৌরভ রায়, জুবাইদুল আলম আশিক, জাহিদ হাসান সাইমুন, আবদুল্লাহ আল সাইমুন, অর্ণব দে, হাবিবুর রহমান সুজন, এইচ.এম জাহিদ, মোছাঃ তুস্মি।
উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মুহিব উল্লাহ, আবু হানিফ, নাজমুল আহসান, পিংকু দেব রায়, ইকবাল করিম সোহান, খায়নাত মোরশেদ কনক, মো. জসিম উদ্দিন, হাজী সেলিম, বিপ্লব মিত্র, রাজীব দত্ত রিংকু, আসিবুর রহমান মুন্না, খোকন চন্দ্র তাঁতী, নুরুল আলম মিয়া, জসিম উদ্দিন, নুর উদ্দিন বাহার বাবু, ফজলুল কবির সোহেল, ইকবাল আহমদ ইমু, সৌরভ বিকাশ বড়ুয়া বিতান, মোরশেদ আলম, তসলিম আলম, কাজী দেলোয়ার হোসেন, যুব মহিলা লীগ নেত্রী সোনিয়া আজাদ, মো. ইফতু, মো. মাসুদ, মো. জাহেদ, আলী রেজা পিন্টু, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. দেলোয়ার, মো. জহির উদ্দিন, জয় শংকর, মো. হাবিব, শ্রমিক নেতা তোফাজ্জল হোসেন জিকু, সামির সাকিব চৌধুরী, কামরুল হুদা পাবেল, সাব্বির সাকিব, শুভ দত্ত প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা না গেলে উন্নয়ন টেকসই হবে না।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও জীবনমান নিশ্চিত করা না গেলে উন্নয়ন টেকসই হবে না বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে মে দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য বিলীন হয়ে যাবে।শিকাগো শহরে শ্রমিকরা তাদের রক্তের বিনিময়ে যে আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন, সেই চেতনা আজও আমাদের সামনে প্রাসঙ্গিক। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনো আমরা সব শ্রমিকের ন্যায্য দাবি পূরণ করতে পারিনি।

তিনি শুক্রবার (১ মে) দুপুরে নগরীর টাইগার পাস মোড়ে মহান মে দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম হালকা মোটরযান চালক শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, প্রতিটি সেক্টরেই শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। রাস্তা নির্মাণ থেকে শুরু করে ভবন, নালা-নর্দমা পরিষ্কার, নগরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখার প্রতিটি কাজে শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রম রয়েছে। আজ আমরা যে উন্নত অবকাঠামো ও নগরজীবন উপভোগ করছি, তা শ্রমিকদের ঘাম ও শ্রমের ফল।

তিনি আরও বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবেও জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করেন। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে আমরা দিন-রাত কাজ করছি। কোথাও পানি জমলে বা কোনো সমস্যা হলে দ্রুত সেখানে ছুটে যাই, যাতে মানুষের কষ্ট কমানো যায়।

রুট লেভেলের শ্রমিকদের গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, তাদের ন্যায্য মজুরি ও জীবনমান নিশ্চিত করা না গেলে উন্নয়ন টেকসই হবে না। গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বকেয়া থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিকরা অনেক সময় বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামে, যা আমাদের জন্য দুঃখজনক।


চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে প্রায় ১২০০ অস্থায়ী শ্রমিককে স্থায়ী করার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এটি ছিল তাদের দীর্ঘদিনের দাবি। ঝুঁকি নিয়েই আমরা এটি বাস্তবায়ন করেছি, কারণ তারা দীর্ঘদিন অসহায় অবস্থায় ছিলেন।

এ সময় তিনি শ্রমিকবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। মেয়র বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য পাঁচটি আবাসন নির্মাণে ৩০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং সিটি কর্পোরেশনের জন্য ৬০ কোটি টাকার সরকারি অনুদান শ্রমিকদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে শ্রমিকদের ৫ হাজার টাকা করে বোনাস প্রদানকেও তিনি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বক্তব্যের শেষে মেয়র একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করতে হবে। তিনি বলেন, এই নীতিকে বাস্তবে প্রয়োগ করা গেলে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হবে এবং তারা দেশের উন্নয়ন ও একটি সুন্দর চট্টগ্রাম গড়তে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

চট্টগ্রাম হালকা মোটরযান চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাজী মোহাম্মদ আবু ফয়েজের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমির হোসেনের পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর চৌধুরী, রাজনীতিবিদ তোফাজ্জল হোসেন, মিল্টন ডেকোরেটারসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাজেদুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ মানবাধিকার ও পরিবেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এস এম সামশুল হক। বক্তব্য রাখেন মে দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক শামসুল ইসলাম আরজু, সদস্য সচিব মো. সোলাইমান সুমন, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ আলম ফিরোজী, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সংগঠনের নেতা কে এম শহীদুল্লাহ, কাজল ইসলাম, মাঈন উদ্দিন তাপস, সাইফুল ইসলাম শাহীন, মো. হাসান, মিজানুর রহমান, জসিম উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, রাসেল হাওলাদার, ইয়াছিন মিয়াজি, মনির হোসেন, মো. সোহাগ, আবদুস সালাম, মো. শফি, জসিম উদ্দিন, দেলোয়ার হোসেন, কাজী গোলাম মোস্তফা, এম এ হাকিম, এস এম ফজলুল হক, ওয়াজেদ আলী ওমর, ইমাম হোসেন মাসুদ প্রমুখ।

শিক্ষা বিভাগে আগুনের ঘটনার পেছনে কারা জড়িত? দেখা যাক তদন্তে কি বেড়িয়ে আসছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগে আগুনের ঘটনার পেছনে কারা জড়িত? দেখা যাক তদন্তে কি বেড়িয়ে আসছে।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ