আজঃ বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬

শেখ হাসিনা সরণির মূলসড়কের পরিবর্তে সার্ভিস রোডে বিআরটিসি বাস চলাচলের দাবি

মাহাবুবুর রহমান রনি, রূপগঞ্জ(নারায়ণগঞ্জ)প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পূর্বাচলের শেখ হাসিনা সরণির কুড়িল বিশ্বরোড-ভুলতা গাউছিয়া রোডের মূলসড়কের পরিবর্তে পার্শ্বসড়ক বা সার্ভিস রোডে বিআরটিসি আর্টিকুলেটেড বাস চলাচলের দাবি জানিয়েছে যাত্রীরা। মূলসড়কে চলাচলকারী বাসে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা উঠা-নামা করছে। বড় কোন দুর্ঘটনার পূর্বেই মূলসড়কের পরিবর্তে পার্শ্বসড়ক দিয়ে অভ্যন্তরিণ যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার দাবিও জানিয়েছে এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিআরটিসি আর্টিকুলেটেড বাস পূর্বাচলের তিনশ’ ফুট সড়ক নামে পরিচিত শেখ হাসিনা সরণির পার্শ্বসড়ক বা সার্ভিস রোড দিয়ে চলাচল করে আসছিলো। গত কয়েকমাস ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন বিগ্রেডের সদস্যরা সার্ভিস রোডের পাশ থেকে মূলসড়কের পাশে টিকিট কাউন্টার স্থাপন করে। তাতে সার্ভিস রোড পার হয়ে টিকিট কাউন্টারে যেতে শিশু-কিশোর, ছাত্র-ছাত্রী, মহিলা ও বয়স্ক যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত যাত্রীরা সার্ভিস রোড পার হয়ে কাউন্টার থেকে টিকিট ক্রয় করছেন। কেউবা বাসে উঠছেন। আবার কেউবা বাস থেকে নামছেন। বাসে উঠার আগে পার্শ্বসড়ক পার হয়ে কাউন্টারে আসতে হচ্ছে । বাস থেকে নামার পরে যাত্রীরা পার্শ্বসড়ক পার হয়ে গন্তব্যে যাচ্ছে। এ সমস্যায় বাধ্য হয়ে উল্টো পথে রিক্সা ও অটো রিক্সা চলাচল করছে।
শেখ হাসিনা সরণির জলসিঁড়ি, ল্যাংটার মাজার, শেখ হাসিনা ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও মস্তুল এলাকায় মূলসড়কের পাশে বিআরটিসি বাসের টিকিট কাউন্টার রয়েছে। এই চার স্থানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা পার্শ্বসড়ক বা সার্ভিস রোড পার হয়ে মূল সড়কে এসে বাসে উঠেন।
বিআরটিসির ট্রাফিক ইনচার্জ আমির হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা সরণিতে কোন গতি রোধক নেই। সিগনালবিহীন এ সড়কের পথে নেই কোন ট্রাফিক ব্যবস্থা। চৌদ্দ লেনের এ সড়কের মাঝখানে চার লেন করে আসা যাওয়ার জন্য আট লেনের মূল সড়ক রয়েছে। দুই পাশে আরো তিন লেন করে ছয় লেনের পার্শ্বসড়ক বা সার্ভিস রোড রয়েছে। মূলসড়কের গাড়ি খুব দ্রæত চলাচল করে। আর তিন লেনের পার্শ্বসড়ক বা সার্ভিস রোড পার হয়ে যাত্রীদের বিআরটিসির বাস কাউন্টার থেকে টিকিট ক্রয় করে বাসে উঠা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মূলসড়কের পরিবর্তে পার্শ্বসড়ক বা সার্ভিস রোডে যাত্রীবাহী অভ্যন্তরিণ পরিবহন চলাচল করা প্রয়োজন।
বিআরটিসি বাস যাত্রী পূর্বাচলের বাঘবের গ্রামের হারুনুর রশিদ বলেন, জলসিঁড়ি চৌরাস্তার উত্তর ও দক্ষিণ পাশে অটোরিক্সা স্ট্যান্ড রয়েছে। এখানে বাসের টিকিট কাউন্টার ও বাস স্ট্যান্ড স্থাপন করলে যাত্রীরা সহজেই বাসে উঠা-নামা করতে পারবে।
এ ব্যাপারে কুড়িল বিশ্বরোড-ভুলতা-গাউছিয়া সড়কের বিআরটিসি বাস পরিচালনা সহায়তাকারী মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, রাজউক চেয়ারম্যান, ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন বিগ্রেডের মহাপরিচালক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী, রাজউকের প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কোন সুফল হয় নি।
শেখ হাসিনা সরণিতে দায়িত্বরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন বিগ্রেডের একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, শেখ হাসিনা সরণির মূল সড়কের উভয় পাশে প্রয়োজনীয় স্থানে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। এই যাত্রী ছাউনির যথাযথ ব্যবহার এবং রোদ বৃষ্টি থেকে নিরাপদে থাকার জন্য যাত্রী ছাউনির পাশেই বিআরটিসি বাসের টিকিট কাউন্টার স্থাপন করা হয়েছে। তবে পার্শ্বসড়ক বা সার্ভিস রোড পার হয়ে যাত্রীদের বাসে উঠা-নামা সত্যিই ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি অবশ্যই কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখবেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ফুটপাতে উদ্ধার নবজাতকের চিকিৎসা শেষে জিম্মায় দিল পুলিশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানা এলাকায় পরিত্যক্ত এক নবজাতককে উদ্ধার করে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে আইনি প্রক্রিয়ায় নিরাপদ জিম্মায় দিয়েছে পুলিশ।

কোতোয়ালী থানা পুলিশ জানায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কোতোয়ালী থানাধীন ব্রিজঘাট সংলগ্ন এস আলম বাস কাউন্টারের বিপরীত পাশের ফুটপাতে পরিত্যক্ত অবস্থায় একদিন বয়সী একটি ছেলে নবজাতক উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটিকে গামছা ও তোয়ালে জড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দুর্বল থাকায় কোতোয়ালী থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) নূরে আল মাহমুদ জানান, প্রায় ২০ দিনের চিকিৎসা শেষে শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশুটিকে হাটহাজারী উপজেলার চিকনণ্ডী ইউনিয়নের বাদামতল এলাকার বাসিন্দা জেসমিন আক্তারের জিম্মায় দেওয়া হয়। শিশুটির সার্বিক খোঁজখবর নিয়মিত রাখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

পথশিশুদের আইন দিয়ে নয় আদর দিয়ে মূলধারায় ফিরিয়ে আনুন – আমীরুল ইসলাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পথশিশুদের প্রতি সহমর্মিতা ও ভালোবাসা প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর জোনের ডিসি আমীরুল ইসলাম। তিনি বলেন, পথশিশুরা আমাদেরই সন্তান। অযত্ন ও অবহেলায় বেড়ে উঠলেও এদের মধ্যেও রয়েছে অসীম মেধা ও সম্ভাবনা। সঠিক পরিচর্যা ও দিকনির্দেশনা পেলে তারাও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে “আমরা চাটগাঁবাসী” সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত পথশিশু ও কিশোরদের জন্য ইফতার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, বরং ভালোবাসা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে পথশিশুদের কাছে টানতে হবে। তাদের পাশে দাঁড়াতে পারলে সমাজে অপরাধ প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল এবিএম ইমরানের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি গোলাম মওলা মুরাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমী, পাঁচলাইশ থানার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম এবং প্রোগ্রামের স্পন্সর ওয়াহিদ ইলেক্ট্রিশিয়ান্স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার অধ্যক্ষ মো. আব্দুল বাতেন।

আমরা চাটগাঁবাসীর যুগ্ম সম্পাদক জানে আলম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পাঁচলাইশ থানার সেকেন্ড অফিসার নুরুল আবসার, স্বর্ণলতা স্কুলের উদ্যোক্তা মোহাম্মদ রবিউল হোসেন, আরটিআর তারেক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠক তাহসান হাবিব, অধরা মেঘ কলি ও মোঃ আলীসহ অনেকে।অনুষ্ঠানে পথশিশুদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয় এবং তাদের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।অনুষ্ঠান শেষে ডিসি মহোদয় বাছাইকৃত শিশু-কিশোরদের নিজ কার্যালয়ে তুলে এনে ঈদের জামা উপহার দেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ