টিআইসিতে শিল্পী রিষু তালুকদারের একক নজরুলের গানে মুগ্ধ দর্শক-শ্রোতা

বাগীশ্বরীর নজরুল জয়ন্তী অনুষ্ঠানে বক্তারা : নজরুল সংগীত মানুষের ভাবনাকে উন্নত করে

যীশু সেন :

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নজরুলের সৃষ্টি মর্মবাণী আমাদের জীবনে সত্য ও সুন্দরের পথ চলার দিক নির্দেশিকা দেয়। নজরুল সংগীত শোনলে মানুষের ভাবনা উন্নত হয় এবং উৎসাহ ও রোমাঞ্চ জাগে। তাঁর গানের ভাষা, সাহিত্যিকথা এবং দেশপ্রেমের মেলবন্ধন খুঁজে পাওয়া যায়। নজরুলের চিন্তা চেতনা প্রধানত দীর্ঘস্থা, স্বাধীনতা, দেশপ্রেম, মানবতা, ধর্ম, সমাজতান্ত্রিক পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয়ে ভরপুর। নজরুল আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার অনন্য বাতিঘর।
গত ২৫ মে শনিবার সন্ধ্যা ছয়টায় থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তন চট্টগ্রাম (টিআইসি) তে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকীতে বাগীশ্বরী সঙ্গীতালয়ের অধ্যক্ষ, শাস্ত্রীয় সংগীত গ্রন্থ প্রণেতা, বাংলাদেশ বেতার ও টিভি শিল্পী রিষু তালুকদারের একক সংগীতানুষ্ঠান ” সুরে ও বাণীর মালা” অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় বক্তারা একথা বলেন।
নজরুল জয়ন্তী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন আমন্ত্রিত অতিথি উদ্বোধক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: আবু তাহের।

প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি বোধন আবৃত্তি পরিষদ চট্টগ্রাম’র সভাপতি কবি সোহেল আনোয়ার এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগীতশিল্পী রিয়াজ ওয়ায়েজ। বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের সভাপতি লায়ন কৈলাশ বিহারী সেনের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নজরুল জয়ন্তী উদযাপন পরিষদের সমন্বয়ক ও বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক যীশু সেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বাচিকশিল্পী বিপ্লব কুমার শীল। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাগীশ্বরী নজরুল জয়ন্তী উদযাপন পরিষদের আহবায়ক প্রকৌশলী রিমন সাহা, সদস্য সচিব প্রিয়তোষ নাথ, ব্যাংকার উৎপল চক্রবর্তী, শিক্ষক সমীরণ সেন, শিক্ষক পলাশ দে, এড. প্রবীর ভট্টাচার্য, আয়কর আইনজীবী দিলীপ ভট্টাচার্য,
সানি ধর, সংগঠক মহিউদ্দিন ইমন, চুমকি সেন, বৃষ্টি ঘোষ, অমর্ত্য চক্রবর্তী, নয়ন গুহ সহ অসংখ্য গুণী সংগীত পিপাসুবোদ্ধারা।
সংগীতানুষ্ঠানে ছিল একক সংগীত, একক আবৃত্তি, সমবেত সংগীত ও দলীয় নৃত্য। মুলতঃ দর্শকদের মুল আকর্ষণ ছিলো শিল্পী রিষু তালুকদারের একক সংগীতানুষ্ঠান। তবে অনুষ্ঠানের ফাঁকেই একক আবৃত্তিতে আবৃত্তিশিল্পী সোহেল আনোয়ার তার একক পরিবেশনায় বুঝিয়ে দেন নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় কিভাবে ভেদাভেদহীন একটি সভ্যতা বেড়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে শিল্পী রিষু তালুকদার পরদেশী মেঘের ঘনঘটা কিংবা তুুমি যদি রাধা হতে শ্যাম, আমারি মতন…। এই গানগুলো শিল্পীর সুরেলা কন্ঠের সাথে নুপুরের ছন্দে দলীয় নৃত্যে দেখে মুহুর্মুহু করতালিতে শিল্পীকে অভিনন্দন জানালেন দর্শক-শ্রোতারা। শিল্পী যেন এক পূর্ণিমার আলোয় মনোজ্ঞ সংগীতানুষ্ঠান উপহার দেন। এসময় সমঝদার শ্রোতারা কখনো কখনো শিল্পীর সাথে কণ্ঠ মেলান। এসময় শ্রোতারা শিল্পীর মনের বাঁক ছুঁয়ে গেয়ে উঠে “মোরে ভালোবাসায় ভুলিয়ো না, পাওয়ার আশায় ভুলিয়ো.., পদ্মার ঢেউরে মোর শুন্য হৃদয় পদ্মা নিয়ে যা, যা রে…দোলন চাঁপা বনে দোলে, দোল-পূর্ণিমা রাতে চাঁদের সাথে…, আধখানা চাঁদ হাসিছে আকাশে, আধখানা চাঁদ নিচে… এমনি অনেক নজরুল গীতিতে। কিন্তু শ্রোতারা বাড়ি ফিরে যেতেই গুণগুণ করেন শিল্পীর শেষ পরিবেশনা আরেক নজরুলগীতি ” আমায় নহে গো ভালবাস, শুধু ভালবাস মোর গান…। শিল্পী রিষু তালুকদারের একক নজরুলের গানে মুগ্ধ দর্শক-শ্রোতা।
এমনি মন্ত্রমুগ্ধকর সংগীতের রাতে সুরের রোশনাই বাগীশ্বরী সংগীতালয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত প্রত্যেক অতিথি শাস্ত্রীয় সংগীতের গ্রন্থ, ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্মারক সম্মাননা তুলে দেন।

নৃত্যে অংশগ্রহণে ঘুঙুর নৃত্যকলা কেন্দ্র’র দলপ্রধান স্বপন দাশ, “নাট্যশাস্ত্রম’র হৃদিতা দাশ ও সুরতীর্থ’র সঞ্চিতা দস্তিদারের দলপ্রধান হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া।যন্ত্রে সহযোগিতায় ছিলেন কীবোর্ডে নিখিলেশ বড়ুয়া, বেহেলায় শ্যামল চন্দ্র দাশ, তবলায় প্রীতম ভট্টাচার্য ও অক্টোপ্যাডে রনি চৌধুরী।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাংবাদিকের কাজ ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা -কাদের গনি চৌধুরী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেছেন- রাষ্ট্র ও ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা এবং তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা সাংবাদিকতার কাজ। এটি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনগণের অধিকার রক্ষা করে এবং সমাজে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।২ আগস্ট রোববার দুপুরে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আয়োজিত সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব বলেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও স্থানীয়দের সংঘর্ষে ২০ জন আহত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজধানীতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। নেপচুন এক্সেসরিজ নামে একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হয়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায়।ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন এক জরুরি বার্তায় গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

জানা যায়, উত্তর সিটির ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরখান রাজাবাড়ি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।ডিএনসিসির তথ্য অনুযায়ী, হামলায় চারজন গুরুতর আহতসহ ১৫ থেকে ২০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হন। গুরুতর আহত চারজনকে উত্তরা বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ